Blog

  • আজ নতুন বাংলাদেশের প্রথম নববর্ষ- প্রধান উপদেষ্টা

    আজ নতুন বাংলাদেশের প্রথম নববর্ষ- প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে। এ সুযোগ যেন আমরা না হারাই। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই হোক এবারের নববর্ষে আমাদের অঙ্গীকার।

    সোমবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীকে নতুন উদ্যমে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, পহেলা বৈশাখ সম্প্রীতির দিন, মহামিলনের দিন। আজকে সবাইকে আপন করে নেওয়ার দিন। এবারের নববর্ষ, নতুন বাংলাদেশের প্রথম নববর্ষ।

    আসুন, আমরা বিগত বছরগুলোর গ্লানি, দুঃখ-বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে, নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে চলি। চলুন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

    দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নববর্ষ ১৪৩২ আমাদের সবার জন্য শুভদিনের সূচনা করুক। নববর্ষ ১৪৩২ আমাদের সকলের জন্য নতুন ও গভীর আনন্দের উন্মোচন করুক—এই কামনা করছি।” তথ্যসূত্র: বাসস

  • সাটুরিয়ার হরগজে প্রবাসীর স্ত্রীর ফাসঁ নিয়ে আত্মহত্যা

    সাটুরিয়ার হরগজে প্রবাসীর স্ত্রীর ফাসঁ নিয়ে আত্মহত্যা

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার হরগজ নদীর উত্তর পাড় এলাকায় প্রবাসী স্বামীর ওপর অভিমান করে মোসাম্মৎ ইতি আক্তার (২৫) নামে এক পোশাক শ্রমিক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। রবিবার (১৩ এপ্রিল) বিকাল ৫টার দিকে হরগজ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইতি আক্তার প্রবাসী মো. লাবু মিয়ার স্ত্রী জানা গেছে। ইতি-লাবু দম্পতির ইফাত (৭) নামের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুপুরের খাবার শেষে নিজ ঘরে ঘুমাতে যায় ইতি। শ্বশুর মোহাম্মদ আলী নাতি ইফাতকে ডাকতে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখে ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছে।

    মোহাম্মদ আলীর ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এসে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে লাশ নামিয়ে ইতিকে মৃত দেখতে পান। থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

    উল্লেখ্য যে, ইতি আক্তার গোলড়া আকিজ টেক্সটাইলে চাকরি করতেন। দীর্ঘ দিন যাবৎ প্রবাসী স্বামীর সাথে তার মনোমালিন্য চলছিল।

    সাটুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ শাহীনুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। লাশের প্রাথমিক সুরতহাল করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

     

  • সাটুরিয়ার দরগ্রাম হতে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    সাটুরিয়ার দরগ্রাম হতে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় অপারেশন ডেভিল হান্টে মো. বাদশা মিয়া (৪০) নামের এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। রবিবার (১৩ এপ্রিল) উপজেলার দরগ্রাম গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মো. বাদশা মিয়া সাটুরিয়া থানার দরগ্রাম ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ওই গ্রামের মৃত আব্দুল লতিফের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থাণীয় সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে মানিকগঞ্জ সদরে ভাঙচুর মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, যুবলীগ নেতা মো. বাদশা মিয়াকে মানিকগঞ্জ সদর থানার নাশকতা মামলায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানোহয়েছে।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সতর্ক বার্তা

    যুক্তরাষ্ট্রে ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সতর্ক বার্তা

    ভিসাপ্রত্যাশী বাংলাদেশিদের সতর্ক করে বিশেষ বার্তা দিয়েছে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। ভিসা জালিয়াতি করলে স্থায়ীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দরজা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    রবিবার (১৩ এপ্রিল) ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এই বার্তা দেওয়া হয়েছে।

    এতে বলা হয়েছে, ভিসা জালিয়াতির পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর। মিথ্যা বলা বা ভুয়া নথিপত্র জমা দিলে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আইনের আওতায় ভিসা স্থায়ীভাবে বাতিল হতে পারে।  এর অর্থ হচ্ছে, আপনি আর কখনো যুক্তরাষ্ট্রে যেতে পারবেন না।

  • সাটুরিয়ায়, ১৪৩২ বর্ষবরণ উপলক্ষে লোকজ বৈশাখী মেলার আয়োজন

    সাটুরিয়ায়, ১৪৩২ বর্ষবরণ উপলক্ষে লোকজ বৈশাখী মেলার আয়োজন

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় নতুন বর্ষবরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখকে ঘিরে আয়োজিত হচ্ছে গ্রামীণ বৈশাখী মেলা। উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ৬ ইউনিয়নে আয়োজন করা হচ্ছে এই মেলার। উপজেলা‌ প্রশাসন কর্তৃক বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে শোভাযাত্রা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের চিত্রাংকন ও রচনা প্রতিযোগিতা এবং পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান, দেশীয় ঐতিহ্য বাহী লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

    বরাইদ ইউনিয়নের ছনকা মোল্লা পাড়া মাঠে লোকজ মেলা ও ঘৌড় দৌড়ের আয়োজন করা হয়েছে। সাভার হামজা মাঠে, দিঘলীয়া ইউনিয়নে প্রফিল্ল ঋষিপাড়ায়, বালিয়াটি ইউনিয়নে ভাটারা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, বাহ্রা ঋষিপাড়ায়, দরগ্রাম ইউনিয়নে সাফুল্লী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেবারিয়া গ্রামে তিল্লী ইউনিয়নে পশ্চিম চরতিল্লী, ধানকোড়া ইউনিয়নে খল্লী দাসপাড়া গ্রামীন লোকজ মেলার আয়োজন করে স্থানীয় গ্রামবাসী।

    এসব মেলায় দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসে। মেলাকে সামনে রেখে অনেক ব্যবসায়ী কয়েক মাস আগে থেকেই প্রস্তুতি নেন। মেলায় মৃৎ শিল্পসহ অনেক লোকজ শিল্প পসরা বসে। যদিও এসব মেলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো জৌলুস। শহুরে মেলা জাঁকজমক হলেও গ্রামীন এসব মেলায় লোকসমাগম কম হয়।

    মেলা স্থান এবং আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় বাঙ্গালীর প্রাণের স্পন্দন বৈশাখী উৎসব। ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে এক কাতারে এসে দাঁড়ায় এ উৎসবে। মেলায় নাগরদোলা, সাকার্স, যাত্রাপালা, পুতুল নাচ, লাঠি খেলা, ঘৌড় দৌড় থাকতো। নতুন প্রজন্ম ভুলতে বসেছে। নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এ মেলার আয়োজন। সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, বৈশাখী বর্ষবরণ উৎসব বাঙ্গালীর প্রাণের উৎসব। সকল ধর্ম, সকল জাতি এক কাতারে এসে উৎসব পালন করে।

    উপজেলা প্রশাসন থেকে বর্ষবরণের নানা আয়োজন নেয়া হয়েছে। সাটুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিনুল ইসলাম জানান, উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে বর্ষবরণ উপলক্ষে লোকজ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা নেই। তবুও আমরা সতর্ক রয়েছি।

  • ‘বৈশাখ’ বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব

    ‘বৈশাখ’ বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব

    ‘বৈশাখ’ বাঙ্গালী জাতির সার্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসব। সংস্কৃতি সম্পর্কে বলা যায়- কোন স্থানের মানুষের ভাষা, আচার-ব্যবহার, জীবিকা, সঙ্গীত, নৃত্য সাহিত্য, সামাজিক সম্পর্কীত শিক্ষা-দীক্ষা, রীতি-নীতির মাধ্যমে যে, অভিব্যক্তি প্রকাশ কর হয় তাই সংস্কৃতি। তাই সংস্কৃতিকে way of life বলা হয়। জাতী ও জাতীয়তার সাথে সংস্কৃতির সম্পর্ক নিরবিচ্ছিন্ন। একই সংস্কৃতির পরিমন্ডলে যেমন বিভ্ন্নি ধর্মের লোক থাকতে পারে, ঠিক তেমনী ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠণে একটি অভিন্ন সংস্কৃতি গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুস্তকের ভাষায়, একই সংস্কৃতির সহজাত স্রোতধারায় বহু ধর্মের সংমিশ্রণে একটি অভিন্ন জাতীয়তা তৈরী হয় যা চিরাচরিৎ ধর্মীয় ধারনাকে বহুলাংশে মানবিক করে তুলে।

    আর ধর্মীয় সংজ্ঞায় বলা হয়েছে- শয়তানের উপর জয়যুক্ত হওয়া এবং আত্মায় সত্যের আসন প্রতিষ্ঠা করাই ধর্ম। নিয়ম পালনের সাথে, জীবনের কদর্যতা সম্পর্কে সচেতন হওয়া প্রত্যেকটি মানুষের পবিত্র দায়িত্ব। সংস্কৃতিতে কদর্যতা থাকলেও বির্বতন যুগধারায় তা মানবিক পথে ধাবমান। তাই জ্ঞানীরা বলেন, ধর্ম হলো মৌলিক আর সংস্কৃতি তার দর্শন। তাই দর্শন বিহীন ধর্ম অসম্পুর্ণ।

    বৈশাখের সাথে ধর্মের সংশ্রাব অর্থহীন। মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থের কোথায় বৈশাখি উৎসব পালনের কথা উল্লেখ্য নাই। তবে বাঙ্গালী জাতির সংস্কৃতিতে বৈশাখী উৎসব পালন সার্বজনীন।

    ইতিহাস ধারা থেকে জানা যায়, মুঘল সম্রাট আকবরের শাসনামলে বাংলা-উড়িষ্যায় এলাহী সন, মৌসুমী বা ফসলী সনের চালু ছিল। ঘরে ঘরে ফসল তুলার সাথে খাজনা আদায় ব্যাপক প্রচলন ছিল। এই জন্য সম্রাট আকবর জ্যোতিষ শাস্ত্রবিদ আমির ফতেউল্লাহ সিরাজীকে দিয়ে হিজরী সনের সাথে সামাঞ্জস্য রেখে তারিখ-ই-এলাহী সনের প্রচলন করেন যা পরবর্তীতে বৈশাখী উৎসব হিসাবে ভারতীয় উপমহাদেশে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।

    বৈশাখী উৎসব আজ বাংলা ভাষা-ভাষী বাঙ্গালীদের প্রাণের উৎসব। বৈশাখ শব্দটির উৎপত্তিতে সনাতন ধর্মের হৃদিত্ব রয়েছে। বাংলা ভাষার প্রাণকোষ বাংলা ব্যাকরণে বৈশাখ শব্দটির উল্লেখ্য পাওয়া যায় এই ভাবে-বৈশাখ+ষ্ণ, অস্তার্থে ।২।, মন্থণ দন্ড। বিশাখা+ষ্ণ। বি; পু। বিশাখা নক্ষত্রযুক্ত পুর্ণমা।

    ইতিহাস বিদূত, বাংলাদেশের আদি জনগোষ্ঠিরা বহুকাল আগে থেকেই বৈশাখী উৎসব পালন করে আসছে। মূলতঃ আদি জনগোষ্ঠিরা বৈশাখী উৎসবকে বৈসাবি উৎসব হিসাবে পালন করত। বর্ণ বেদে তারা আলাদা আলাদা ভাবে, আলাদা আলাদা নামে এই উসৎব পালন করত। যেমন মারমা-রা, সাংগ্রাই, ত্রিপুরা-রা, বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যা-রা, বিষ্ণু এবং চাকমারা বিজু উৎসব হিসাবে পালন করত। এই সকল উৎসবকে সম্মিলিত ভাবে বৈসাবি বলা হয় যা আজও তাদের সমাজে চেতনা ধর্মী উৎসব হিসাবে পালন করছে।

    যুগ-যগান্তরের ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয়, বৈশাখ বা বৈসাবি উৎসব পালনের সাথে বৈদিক জাতি-গোষ্ঠির পুরান, বেদ বা সনাতন ধর্মের সংশ্রাব রয়েছে। হিন্দুরা বহুকাল আগ থেকেই বৈশাখি উৎসবকে তাদের ধর্মীয় উৎসব হিসাবে পালন করে আসছে।

    উল্লেখ্য যে, পহেলা বৈশাখ যেমন বাঙ্গালীর হৃদয়ে নতুন উদ্বিপনা জাগিয়ে তুলে তেমন বর্গাচাষীদের জন্য এই দিনটি যন্ত্রণাদায়ক হিসাবে পরিচিত ছিল। সেই সময়ে এই দিনটিকে সম্পাদন করা হতো রাজস্ব আদায়ের দিন হিসাবে। প্রজারা বকেয়া খাজনা পরিশোধ করে জমিদার বাড়ীতে মিষ্টি মুখ করতো।

    এখন সেই যুগের আবসান হয়েছে। পহেলা বৈশাখ এখন বাঙ্গালীর সার্বজনীন উৎসব হিসাবে পরিচিত পেয়েছে। এখন বৈশাখের লৌকিকতা পরিবার থেকে আরম্ভ। আত্মীয়-বন্ধু, ধর্ম-বর্ন নির্বিশেষে প্রতিবেশী সুহৃদজনকে শুভেচ্ছা ও কুশল জানানো, ছোট-বড়দের মধ্যে নবর্বষে আয়োজিত বৈশাখী মেলায় মিলন বন্ধন গড়ে উঠে। শিশু-কিশোরেরা চরকি, নাগরদোলা, বাঁশি আর তালপাতার রকমারি খেলনা নিয়ে মেতে উঠে। কিশোরীরা ব্যস্ত চূড়ি, ফিতা, চুলের ক্লিপ, আলতা, কাজল ইত্যাদি কেনার জন্যে।

    মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, সদস্য- জাতীয় নাগরিক কমিটি, মানিকগঞ্জ জেলা শাখা।
  • সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

    সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

    আগামী ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ঐকমত্য কমিশনের দুই সদস্যের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই তাগিদ দেন।

    শনিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, আজ বিকালে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ এবং সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে প্রফেসর আলী রীয়াজ ও ড. বদিউল আলম মজুমদার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। তারা জানান, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা চলমান রয়েছে।

    শনিবার পর্যন্ত মোট ৮টি দলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা আছে।

    তারা আরো জানান, সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে জনমত যাচাই এবং সে বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

    এ সময় কমিশনের সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা তথা সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।

     

  • মির্জাপুরের ৬০ লাখ টাকা নিয়ে সন্তানসহ প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

    মির্জাপুরের ৬০ লাখ টাকা নিয়ে সন্তানসহ প্রেমিকের সঙ্গে উধাও প্রবাসীর স্ত্রী

    টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের স্বামীর পাঠানো ৬০ লাখ টাকা ও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারসহ সন্তান নিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে উধাও হয়েছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী। এ ঘটনায় স্ত্রী ও পুত্রকে পাওয়ার আশায় দেশে ফিরেছেন স্বামী টুটুল মিয়া। এ ঘটনায় মামলার ২৯ দিনেও স্ত্রী-সন্তানকে খুঁজে পাননি তিনি। টুটুল মিয়া জানান, তার গ্রামের বাড়ি মির্জাপুর উপজেলার নরদানা গ্রামে।

    প্রায় ১০ বছর আগে একই উপজেলার মহদীনগর গ্রামের ছানোয়ার হোসেনের মেয়ে সালমা আক্তারের সঙ্গে পারিবারিকভাবে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাদের এক পুত্র সন্তান হয়।  পরিবারের খরচ যোগাতে স্ত্রী-পুত্রকে বাড়িতে রেখে তিনি সৌদি আরবে চলে যান। বিদেশ থেকে এ পর্যন্ত তার স্ত্রীর নামে ব্যাংকে ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ৬০ লাখ টাকা পাঠান। এছাড়া বিপুল পরিমাণ স্বর্ণালংকারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাঠান।

    তিনি বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে তার স্ত্রী সালমা আক্তার নরদানা গ্রামের জয়নাল মিয়ার ছেলে বখাটে আব্দুল কাদের মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

    তিনি আরও জানান, বিদেশ থেকে পাঠানো তার সমস্ত টাকা ও স্বর্ণা-লংকার নিয়ে স্ত্রী সালমা আক্তার তার বাবার বাড়িতে পাকা ঘর ও জমি ক্রয় করেছে। এছাড়া সালমার ভাইয়ের জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা খরচ করেছেন। তার পাঠানো টাকা দিয়ে প্রেমিক আব্দুল কাদের মিয়ার বাড়িতে পাকা ঘরসহ তাকে বরাটী বাজারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে দেন সালমা।

    কৌশলে তার জমানো সব টাকা নেওয়া শেষ হলে ৫ বছরের ছেলেকে গত ১৮ মার্চ সালমা আক্তার প্রেমিক আব্দুল কাদেরকে নিয়ে পালিয়ে যান।

    জানা যায়, টুটুল মিয়া বিদেশ থাকায় তার বোন তাসলিমা আক্তার বাদী হয়ে সালমার বাবা ছানোয়ার হোসেন, মা লাখী বেগম ও ভাই ইমনের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মামলা করেন করেন। মামলার ২৯ দিন পার হলেও পুলিশ সালমা ও ছেলেকে উদ্ধার করতে পারেনি। এছাড়া প্রেমিক প্রতারক আব্দুল কাদেরও গ্রেফতার হয়নি।

    মামলার বাদী তাসলিমা আক্তার বলেন, আমার ভাই বিদেশ থাকায় আমি বাদী হয়ে মামলা করেছি। ভাইয়ের প্রায় ৬০ লাখ টাকা, বিপুর পরিমাণ স্বর্ণালংকার ও ৫ বছরের শিশুপুত্রকে নিয়ে তার স্ত্রী সালমা আক্তার প্রেমিক আব্দুর কাদেরের সঙ্গে পালিয়ে গেছেন। স্ত্রী ও শিশু পুত্রের শোকে ভাই এখন দেশে এসেছেন। আমরা পুলিশের কাছে ন্যয় বিচার দাবি করছি।

    এ প্রসঙ্গে পালিয়ে যাওয়া সালমা আক্তার ও তার প্রেমিক আব্দুল কাদেরের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।

    এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, থানায় অভিযোগ হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের উদ্ধারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।

  • সাটুরিয়ার  বরাঈদ-ছনকায় ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

    সাটুরিয়ার  বরাঈদ-ছনকায় ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল

    নিজেস্ব প্রতিবেদকঃ ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর চলমান বর্বর নৃশংসতম হত্যা ধ্বংসযজ্ঞের প্রতিবাদ, ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের  প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং ইজরাইলি পন্য বয়কটের আহবান  জানিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার. ছনকা এলাকার বাসিন্দারা।

    শনিবার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় ছনকা বাজার এলাকায় আশেপাশের বিপুল সংখ্যক  জনতা  এ  বিক্ষোভ করেছেন।  এতে  বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, খতিব, মোয়াজ্জিন, স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ছাত্র – শিক্ষক , রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমর্থক , পেশাজীবী, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বয়সী শ্রেণী ও পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ  কর্মসূচিতে অংশ নেয়।

    লংমার্চ ফর গাজা সফল করতে বিক্ষোব মিছিলে ছনকা বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মুফতি আবুল হাসান ইমরানের সভাপতিত্বে  বক্তব্য রাখেন আবদুর রহমান খান উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারূী শিক্ষক মাওলানা আমিনুর রহমান, বণিক সমিতির সহ সেক্রেটারী য্যবদল নেতা জয়নাল আবেদীনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন  মাওলানা হাবিবুর  রহমান বাদশা, সাবেক ইউপি সদস্য  আহমদ আলী, ও রফিকুল ইসলাম প্রমূখ।

    বিভিন্ন  লিখা ব্যানারসহ ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ, ইসরাইল  নিতাপ যাক, ইহুদি পণ্য বয়কট ইত্যাদি শ্লোগানে শ্লোগানে সভা শেষে  একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল মসজিদ এলাকা থেকে শুরু হয়ে বাজারের  গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

    বিক্ষোভ সভায় বক্তাগণ, গাজায়  নারকীয় বর্বরতম হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেন।বক্তাগণ  অবিলম্বে ইসরাইলি বর্বরতার অবসান নিশ্চিতের জন্য জাতিসংঘ এবং ওআইসি কে সক্রিয় ভূমিকা পালনেরআহ্বান  জানান। ঢাকায় আজকের মার্চ ফর গাজা কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন।

  • জাজিরায় নিষেধাজ্ঞার ৪ চার বছর পরে সক্রিয় বিবাদী

    জাজিরায় নিষেধাজ্ঞার ৪ চার বছর পরে সক্রিয় বিবাদী

     

    ॥ শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ জাজিরা উপজেলা সদরের আক্কেল মাহমুদ মুন্সী কান্দি গ্রামের অজুফা বিবি ও মাইনদ্দিন চৌকিদারদের মধ্যে দেওয়ানী আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। সেই মামলায় উভয় পক্ষকে নিজ নিজ অবস্থানে থাকার জন্য আদালত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ৪ বছর পরে বিরোধীয় জমিতে ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছে বিবাদী পক্ষ।

    অভিযোগকারী বাদী অজুফা বেগম জানায়, পৈত্রিক সম্পত্তির দাবীতে সে আদালতে মামলা করেছে। জমির উপরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ শুরু করেছে বিবাদী পক্ষ। আদালতে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত নালিশী জমিতে কেউ যেন কাজ করতে না পারে এমন দাবী জানিয়েছেন বাদী অজুফা বেগম।

    বিবাদী মাইনদ্দিন চৌকিদারের ছেলে দেলোয়ার হোসেন জানায়, ৫ বছর পূর্বে বহুতল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছি। মামলার কারণে দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ ছিল।

    এখন জাজিরা থানার ওসি, স্থানীয় সালিশ ইউনুছ বেপারী, শামসু বেপারী, হালেম বেপারী, মিলন চৌকিদারসহ অনেকে আমাকে নির্মাণ কাজ শুরু করতে বলেছে। তাই পুণ:রায় নির্মাণ শুরু করেছি। আদালতের আদেশে যদি বাদী পক্ষ যদি জমি পায় দিয়ে দিব।

    হুকুম দাতা মিলন চৌকিদার জানায়, সে বিরোধীয় জমির নারী নক্ষত্র জানে। ১৯৬৫ সাল থেকে জমি বিবাদীদের দখলে তাই সে বিরোধীয় জমিতে বিবাদীকে ভবন নির্মাণের হুকুম দিয়েছেন।

    এই বিষয়ে জজিরা থানা অফিসার ইনচার্জ দুলাল আখন্দ বলেন, সে ভবন নির্মাণের কোন আদেশ প্রদান করেনি। পুলিশ উপ-পরিদর্শক কায়কোবাদ ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। বিষয়টি সেই বলতে পারবে।

    পুলিশ উপ-পরিদর্শক কায়কোবাদ জানায়, সে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। চাকুরীতে সে নবিন তাই আদালতের বিষয়টি তার জানা ছিল না। সে কোট পুলিশ পরিদর্শকসহ অনেক সিনিয়র অফিসারদের সাথে আলোচনা করে কোন সিদ্ধান্ত পায়নি। তাই নির্মাণ কাজ বন্ধ করতে পারেনি।