Category: ঢাকা বিভাগ

  • মানিকগঞ্জে পাল্টাপাল্টি হামলায় আবুল সরকারের তিনভক্তসহ আহত ৪

    মানিকগঞ্জে পাল্টাপাল্টি হামলায় আবুল সরকারের তিনভক্তসহ আহত ৪

    মানিকগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার বাউলশিল্পী আবুল সরকারের ভক্ত-অনুরাগীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে তিন ভক্ত-অনুরাগীসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন।

    ‘মানিকগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা’ ব্যানারে থাকা একদল ব্যক্তি এবং আবুল সরকারের ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে এ ঘটনা ঘটে।

    আহত ভক্তরা হলেন জেলার শিবালয়ের শাকরাইল গ্রামের আবদুল আলীম (২৫), সিঙ্গাইরের তালেবপুর গ্রামের আরিফুল ইসলাম (২৯) ও হরিরামপুরের কামারঘোনা গ্রামের জহিরুল ইসলাম (৩২)।

    পুলিশ, আহত ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে জেলা শহরে বাউলশিল্পী আবুল সরকারের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করে ‘মানিকগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা’ ব্যানারে থাকা একদল ব্যক্তি। একই সময়ে আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধনের আয়োজন করেন তাঁর ভক্তরা।

    সকাল ১০টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে ‘মানিকগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা’ ব্যানারে একদল ব্যক্তি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। তাঁরা শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জেলার প্রধান ডাকঘর কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেন।

    অন্যদিকে মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আবুল সরকারের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচির আয়োজন করেন তাঁর ভক্ত-অনুরাগীরা। কিন্তু অন্য পক্ষের মিছিলের কারণে তাঁরা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে কর্মসূচি পালন না করে দক্ষিণ সেওতা এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দক্ষিণ পাশে জড়ো হন। সেখানে আবুল সরকারের ভক্ত-অনুসারীদের অবস্থানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

    একপর্যায়ে বেলা পৌনে ১১টার দিকে ‘মানিকগঞ্জ জেলার সর্বস্তরের আলেম-ওলামা ও তৌহিদী জনতা’ ব্যানারে থাকা ব্যক্তিদের হামলায় আবুল সরকারের তিন ভক্ত-অনুরাগী আহত হন।

    পাশাপাশি আবুল সরকারের ভক্ত-অনুরাগীদের হামলায় আবদুল আলীম আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে আহত ব্যক্তিদের জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

     

  • ইসলামী শিক্ষাই অপরাধ কমাবে: ওসি আল মামুন

    ইসলামী শিক্ষাই অপরাধ কমাবে: ওসি আল মামুন

    সাটুরিয়া থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.আর.এম আল মামুন বলেছেন, বিগত সরকারের সময়ে অনেক ওলামায়ে কেরাম অন্যায়ভাবে হয়রানির শিকার হয়েছেন। পরে দেখা গেছে—অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা ছিল না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যেখানে ইসলামের খেদমতে নিয়োজিত, সেখানে কেউ জঙ্গি হয় না। তারপরও খোঁজখবর রাখা পুলিশের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

    বাছটি বৈলতলা মোকদমপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানা পরিচালিত শহীদ স্মৃতি প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠানে আজ রবিবার (২৩ নভেম্বর) প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি আরও বলেন, “মাদ্রাসা কীভাবে চলছে, এখানে সুবিধা–অসুবিধা কী—এসব বিষয়ে হুজুরদের ও পরিচালনা পরিষদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা আমাদের দায়িত্ব। ইসলামের শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ যদি মানুষ অর্জন করে, তাহলে অপরাধপ্রবণতা কমে যায়। অপরাধ, মামলা, হামলা, চুরি, ডাকাতি, মাদক—এসব কিছুর মূলে রয়েছে ইসলামী শিক্ষার অভাব।”

    সাম্প্রতিক ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রসঙ্গ তুলে ওসি আল মামুন বলেন, “আমরা দ্বীনি শিক্ষা কোথায় পাবো? মাদ্রাসা হচ্ছে দ্বীনি শিক্ষার কারিগর। এখান থেকে যে শিশুরা বের হবে, তারা সমাজকে সঠিক পথে দিকনির্দেশনা দেবে।”

    ওসি আল মামুন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “সবসময় হুজুরদের থেকে শিখবে। ইসলামের দায়ভার আলেম সমাজের ওপর। সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা থেকেও ভালো শিক্ষা পাওয়া যায়, কিন্তু দ্বীনি বিষয়ে আমাদের সবাইকে আলেমদের কাছেই যেতে হয়।”

    অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শহীদ স্মৃতি প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসার অবৈতনিক মহা-পরিচালক ও বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)-এর আন্তর্জাতিক সম্পাদক হাবিবুল্লাহ মিজান। স্বাগত বক্তব্য দেন পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামসুর রহমান পিন্টু।

    অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মাদ্রাসার মোহতামিম হাফেজ কারী আব্দুর রহমান। এ ছাড়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক হাফেজ আমির হামজা সিয়াম, মুফতী আলমগীর হুসাইন, সহকারী শিক্ষিকা তাসলিমা আক্তার, পারভীন আক্তার, তাসলিমা বেগম, লায়লা আক্তার, দেড় শতাধিক শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

    প্লে, নার্সারি, প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণী—মোট পাঁচ বছর সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি আরবি ভাষা ও প্রাথমিক দ্বীনি শিক্ষায় পাঠ সম্পন্ন করার পর শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে অবস্থিত আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম পরিচালিত নূরানী তা’লীমুল কুরআন বোর্ডের অধীনে বোর্ড পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরবর্তীতে নারী শিক্ষার্থীরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহে এবং পুরুষ শিক্ষার্থীরা অত্র প্রতিষ্ঠানের হেফজ বিভাগে আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি হয়।

    গত বছর উত্তীর্ণের হার ছিল শতভাগ। মোট আটজন পরীক্ষার্থীর মধ্যে তিনজন গোল্ডেন এ প্লাস পেয়ে উপজেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে শহীদ স্মৃতি প্রি-ক্যাডেট মাদ্রাসা।

  • সারাদেশে ভূমিকম্প, নিহত ৩, আহত ৮৫

    সারাদেশে ভূমিকম্প, নিহত ৩, আহত ৮৫

    রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে ৩ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হওয়ার প্রাথমিক ও অনানুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেছে।  স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, সব হাসপাতালের জরুরি মেডিকেল টিম মাঠে নেমেছে এবং ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. এ এইচ এম মইনুল আহসান টেলিফোনে প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য জানিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট সব হাসপাতালকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মিটফোর্ড) ৩ জন নিহত হয়েছেন। তাদের একজন রাফিউল ইসলাম। তিনি সলিমুল্লাহ মেডিকেলের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। আহত অন্তত ১০ জন সেখানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন অন্তত ১০ জন। শহীদ গাজীপুরে তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০ জন ও নরসিংদী জেলা হাসপাতালে ৪৫ জন আহত অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন।

    আহতদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া নরসিংদীর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে আহত ১০ জন চিকিৎসাধীন আছেন।

    স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভূমিকম্প পরবর্তী পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে মনিটর করছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত সব হাসপাতালকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।

    শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল নরসিংদী শহর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার দূরে মাধবদীতে।

    ভূমিকম্পের পরে রাজধানীতে বিভিন্ন ভবন হেলে পড়া এবং ভবনে ফাটল দেখা দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

  • নারীদের সুরক্ষায় তারেকের ৫ প্রস্তাবনা

    নারীদের সুরক্ষায় তারেকের ৫ প্রস্তাবনা

    অনলাইন এবং অফলাইনে নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিএনপি পাঁচটি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেবে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) তারেক রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এই বিষয়ে জানান।

    নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিএনপি পাঁচটি জরুরি অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের কথা…

    ১. একটি জাতীয় অনলাইন সুরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে- যেখানে সাইবার বুলিং, হুমকি, ব্যক্তিগত তথ্য এবং ফাঁস হওয়া তথ্যের বিষয়ে অভিযোগ করতে নারীদের জন্য একটি দ্রুত, সহজ উপায়, যা ২৪/৭ হটলাইন, একটি অনলাইন পোর্টাল এবং দ্রুত এবং সম্মানের সঙ্গে কাজ করে এমন প্রশিক্ষিত কর্মীদের দ্বারা পরিচালিত হবে।

    ২. জনজীবনে নারীদের জন্য সুরক্ষা প্রোটোকল— যেখানে সাংবাদিক, শ্রমিক, শিক্ষার্থী বা সম্প্রদায়ের নেতা হিসেবে আক্রমণের সম্মুখীন হওয়া নারীরা স্পষ্ট জাতীয় নির্দেশিকা, দ্রুত আইনি ও ডিজিটাল সহায়তা এবং নিরাপদে অভিযোগ জানাতে পারবে। জনজীবনে অংশগ্রহণের জন্য কোনো নারীকে চুপ করিয়ে রাখা উচিত নয়।

    ৩. ডিজিটাল সুরক্ষা শিক্ষা— স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ওরিয়েন্টেশনের সময় ব্যবহারিক ডিজিটাল-নিরাপত্তা দক্ষতা শেখানো উচিত। প্রশিক্ষিত শিক্ষকরা ‌‘নিরাপত্তা কেন্দ্রবিন্দু’ হিসেবে কাজ করেন এবং বার্ষিক সচেতনতামূলক প্রচারণা তরুণদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ডিজিটাল বিশ্বে নেভিগেট করতে সহায়তা করে।

    ৪. সহিংসতা ও হয়রানির বিরুদ্ধে শক্তিশালী সম্প্রদায়-স্তরের প্রতিক্রিয়া— কমিউনিটি হেল্প ডেস্ক, নিরাপদ পরিবহন রুট, উন্নত রাস্তার আলো এবং ট্রমা-সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়াশীলরা নারীদের জন্য দৈনন্দিন জীবনকে আরও নিরাপদ করে তুলতে পারে।

    ৫. নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণের জন্য দেশব্যাপী চাপ— নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ, পরামর্শক নেটওয়ার্ক এবং স্কুল, অফিস ও কর্মক্ষেত্রে নারীদের নেতৃত্ব সম্পূর্ণরূপে অবদান রাখতে সক্ষম করতে পারে। যখন নারীরা এগিয়ে যায়, তখন সমগ্র জাতি তাদের সঙ্গে এগিয়ে যায়।

    তারেক রহমান বলেন, আমাদের রাজনীতি, ধর্ম, জাতি বা লিঙ্গ যাই হোক না কেন, বাংলাদেশি হিসেবে একটি সত্যে আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই যেখানে নারীরা নিরাপদ, সহযোগিতা প্রাপ্ত এবং ক্ষমতায়িত হবে।

     

  • খ্যাতিমান বাউল শিল্পী আবুল সরকার গ্রেফতার

    খ্যাতিমান বাউল শিল্পী আবুল সরকার গ্রেফতার

    মানিকগঞ্জ সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী ইউনিয়নের বাউল শিল্পী মহারাজ আবুল  সরকারকে গতকাল বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করেছে ডিবি পুলিশ। তার বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম ও মহান আল্লাহকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য প্রদানের অভিযোগ রয়েছে।

    জানা যায়, গত ৪ নভেম্বর মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ‘জাবরা খালা’ পাগলীর মেলায় গান পরিবেশনকালে তিনি ইসলাম ধর্ম ও মহান আল্লাহকে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেন। সেই সময় আল্লাহ তা‘লা পৃথিবীতে সর্ব প্রথম কি সৃষ্টি করেছেন তা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে, ঘিওর বন্দর মসজিদের ইমাম মুফতি মোঃ আব্দুল্লাহ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

    এই মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে মাদারীপুর থেকে তাঁকে আটক করে বলে জানান ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ কহিনুর ইসলাম।

    তিনি বলেন, ‘বাউল শিল্পী আবুল সরকার গান পরিবেশনকালে আল্লাহ তায়ালা ও ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তিমূলক কথা বলেছেন বলে মামলায় অভিযোগ রয়েছে।

    মহারাজ আবুল সরকারকে আটকের পর বিকেলে মানিকগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁকে জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

    উল্লেখ্য, মহারাজ আবুল সরকার ‘বাংলাদেশ বাউল সমিতির’ সভাপতি ও  একজন খ্যাতমান বাউল শিল্পী হিসাবে দেশ-বিদেশে সু-পরিচিত।

  • সাবেক আইজিপি মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড

    সাবেক আইজিপি মামুনের ৫ বছরের কারাদণ্ড

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হওয়ায় সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

    আজ সোমবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ছয় অধ্যায়ে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পড়া শুরু করেন বিচারিক প্যানেলের সদস্য বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলের অপর সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ।

    ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শেষে দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে এ রায় ঘোষণা করেন ট্রাইব্যুনাল।

    এ মামলায় পলাতক রয়েছেন শেখ হাসিনা ও কামাল। তবে গ্রেপ্তার হয়ে বছরখানেক ধরেই কারাগারে রয়েছেন সাবেক আইজিপি মামুন।

  • ঢাকা-গোপালগঞ্জসহ চার জেলার নিরাপত্তার দায়িত্বে বিজিবি

    ঢাকা-গোপালগঞ্জসহ চার জেলার নিরাপত্তার দায়িত্বে বিজিবি

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

    এরই মধ্যে ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুর জেলার সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    রবিবার (১৬ নভেম্বর) বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    তিনি জানান, রাজধানীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরেও বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

  • ঢাকায় সমাবেশে আহত শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তার মারা গেছেন

    ঢাকায় সমাবেশে আহত শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তার মারা গেছেন

    ঢাকায় শিক্ষকদের তিন দফা দাবির আন্দোলনে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হওয়া ফাতেমা আক্তার (৪৫) নামে সেই শিক্ষিকা মারা গেছেন।

    রবিবার (১৬ নভেম্বর) সকাল ১০টায় তিনি রাজধানী একটি হাসপাতালের আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা জান। তিনি চাঁদপুর মতলব উত্তরের ৫ নম্বর ঝিনাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন।

    তিনি মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌর এলাকার গ্রামের ঘনিয়ারপাড় গ্রামের বাসিন্দা সুরুজ মোল্লার মেয়ে ও ঠাকুরচর গ্রামের ডিএম সোলেমাননএর স্ত্রী।

    এর আগে, গত ৮ নভেম্বর সমাবেশের এক পর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে তিনি প্রচণ্ড আতঙ্কে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন এবং ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়েন।

    চাঁদপুরের মতলব উত্তরের শিক্ষকরা জানান, ফাতেমা আক্তার আন্দোলনের দিন শহীদ মিনারের সামনেও সক্রিয় ছিলেন। সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ শুরু হলে তিনি প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে পড়েন। সেখান থেকে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। কয়েকদিন ধরে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আজ মারা গেছেন।

    রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঠাকুরচর গ্রামে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

     

  • মানিকগঞ্জে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ

    মানিকগঞ্জে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের অভিযোগ

    মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরি ইউনিয়নের সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ দাসের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ,দুর্নীতি ও বিভিন্ন প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

    সম্প্রতি এ বিষয়ে শিক্ষক,কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। আজ (১৬ নভেম্বর) শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন,বানিয়াজুরি ইউনিয়নের সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী শিক্ষক মো: মোনায়েম খান।

    ​অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে,২০২৪-২৫ অর্থবছরে বানিয়াজুরি ইউনিয়নের সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রশাসনিক ব্যয়ের জন্য বরাদ্দকৃত ৪ লাখ ৬৭ হাজার টাকার মধ্যে ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৭০০ টাকা ২১টি ভুয়া খাতে উত্তোলন করা হয়েছে।​কর্মচারীদের পোশাক বাবদ ১৫ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও,সেই অর্থ কর্মচারীরা পাননি। প্রতিষ্ঠানে পানি সরবরাহ ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও ২৫ হাজার টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।

    ​বইপত্র,রসায়ন দ্রব্য, আসবাবপত্র এবং কম্পিউটার খাতে মোট ১ লাখ টাকা খরচ দেখানো হলেও বাস্তবে কোনো ব্যয় করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ভর্তি বাবদ ৬২ হাজার ৬৯৭ টাকার হিসাব না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তা আত্মসাৎ করেছেন বলে জানা গেছে।

    অপর দিকে ​শিক্ষক-কর্মচারীরা এই দুর্নীতি ও অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    এই বিষয়ে বানিয়াজুরি ইউনিয়ন সরকারি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রবীন্দ্রনাথ দাসের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেন। অধ্যক্ষ জানান,তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

  • বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন

    বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন

    প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সেবায় বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা নিয়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মুন্নু ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন। শনিবার (১৫ নভেম্বর) মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার রাজিবপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বিনামূল্যে এই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

    দিনব্যাপী এই স্বাস্থ্য সেবায় এলাকার দুই সহস্রাধিক নারী-পুরুষ ও শিশু চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। রোগীরা বিনামূল্যে চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র পান।

    এ সময় মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি অ্যান্ড অবস্, অর্থোপেডিক্স, কার্ডিওলজি, নাক, কান ও গলা (ইএনটি), ডেন্টাল, স্ক্রিন অ্যান্ড ভিডি (চর্ম ও যৌন), চক্ষু এবং শিশু ও অনবজাতক মোট দশটি বিভাগে দুজন করে ২০ জন কনসালটেন্স এই স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করেন। প্রতি বিভাগে কনসালটেন্সদের সাথে দুই থেকে তিন জন করে সেবিকা সহায়তা করেন।

    স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেছেন হাসপাতালের অ্যাডমিনিস্ট্রেশন এবং মার্কেটিং টিমের অর্ধ শতাধিক সদস্য। পাশাপাশি কাজ করেছে জেলা ছাত্রদলের স্বেচ্ছাসেবক টিম।

    ফাউন্ডেশন-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়– সেবা নিতে আসা রোগীদের পরবর্তীতে হাসপাতালের যে কোন সেবা স্বল্পমূল্যে দেওয়া হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ৩০ শতাংশ, অপারেশনে ৩০ শতাংশ ছাড় পাশাপাশি ছাড় পাবে বেড ভাড়ায়। গরিব রোগীদের জন্য বিনামূল্যে হাসপাতালে সকল ধরনের সেবা প্রদান করা হবে।

    সকালে মুন্নু মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. আব্দুল করিম এই ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্পের উদ্বোধন করেন। এ সময় মুন্নু হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ডা. জুলফিকার আহমেদ আমিন, ভাইস প্রিন্সিপাল প্রফেসর ডা. বোরহান উদ্দিন আহমেদ, অর্থপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. মনিরুজ্জামান মানিক, ডেন্টাল সার্জন ডা. কুদরত-ই হাসান, সার্জারি বিশেষজ্ঞ এসিস্টেন্ট প্রফেসর ডা. জেসমিন আরেফিন সহ বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

    মুন্নু মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. আব্দুল করিম বলেন, মুন্নু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। সেবার ব্রত নিয়েই হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এই হাসপাতালে মানিকগঞ্জবাসীর জন্য সারা জীবন স্বল্প মূল্যে সেবা দেওয়া হবে।

    স্বাস্থ্য সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্যই এই মেডিক্যাল ক্যাম্পের কার্যক্রম। পর্যায়ক্রমে এ কার্যক্রমের সুফল পাবে পুরো জেলাবাসী। জেলার প্রতিটা এলাকায় চলবে এই বিনামূল্যে স্বাস্থ্য সেবা।