Category: ঢাকা বিভাগ

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে আটক-৩

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে আটক-৩

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সোনামসজিদ সীমান্তে বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে মাদকদ্রব্য ও নগদ টাকাসহ ৩ জন আটক হয়েছে।

    আটককৃতরা হচ্ছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ পিরোজপুর গ্রামের মোঃ হাবিবুর রহমানের ছেলে মোঃ আমীর হোসেন ও মোঃ বাহাদুর হোসেন (২৫), একই এলাকার মোঃ জমির হোসেনের স্ত্রী মোসাঃ জেসমিন (২৫)। ৫৯ বিজিবির এক প্রেসনোটে জানানো হয়, সোমবার (২১ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে অত্র ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ সোনামসজিদ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৮৫/ ২-এস হতে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানাধীন শাহাবাজ পুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামস্থ মোঃ আমীর হোসেন এর বাড়ীতে বিজিবি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালাানো হয়।

    অভিযানে ৩ জনকে আটকসহ ৮৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল, ৫৬৫ পিস ইয়াবা এবং নগদ ১১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। আসামীসহ জব্দকৃত মাদকদ্রব্য এবং নগদ টাকার ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে মহানন্দা ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় অপারেশনাল কার্যক্রম বৃদ্ধি করাসহ প্রয়োজনে আরো অধিক পরিমাণে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২০, আহত ১৭১

    মাইলস্টোনে বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২০, আহত ১৭১

    রাজধানীর উত্তরা দিয়াবাড়ির মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে এ পর্যন্ত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ১৭১ জন।

    সোমবার (২১ জুলাই) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) হতাহতের এ সংখ্যা জানিয়েছে। আইএসপির হাসপাতালে হতাহতদের তালিকাও প্রকাশ করেছে।

    তালিকা অনুযায়ী- কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে আহত ৮ জন, (নিহত নেই) জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে আহত ৭০, নিহত ২; ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহত ৩, নিহত ১; সিএমএইচ-ঢাকা আহত ১৭, নিহত ১২; কুর্মিটোলা জেনারেল হসপিটালে আহত ১, নিহত ২; উত্তরার লুবনা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড কার্ডিয়াক সেন্টারে আহত ১১, নিহত ২; উত্তরা আধুনিক হসপিটালে আহত ৬০, নিহত ১; উত্তরা ক্রিসেন্ট হাসপাতাল আহত ১, নিহত নেই।

    এর আগে, দুপুর ১টা ৬ মিনিটে বিমান বাহিনীর একটি ‘এফ-৭ বিজেআই’ প্রশিক্ষণ বিমান উড্ডয়নের পরপরই বিধ্বস্ত হয়। বিমানটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবনে আছড়ে পড়ে এবং তাতে আগুন ধরে যায়।

  • জনবিরল এলাকায় নিয়ে যাবার সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়- আইএসপিআর

    জনবিরল এলাকায় নিয়ে যাবার সময় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়- আইএসপিআর

    বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি এফটি-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান নিয়মিত প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে আজ সোমবার (২১-৭-২০২৫) বেলা ০১টা ০৬ মিনিটে ঢাকার কুর্মিটোলাস্থ বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ঘাঁটি এ কে খন্দকার থেকে উড্ডয়নের পর যান্ত্রিক ত্রুটির সম্মুখীন হয় (যার বিস্তারিত তদন্তসাপেক্ষে জানানো হবে)।

    দুর্ঘটনা মোকাবেলায় এবং বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে উক্ত বিমানের বৈমানিক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মোঃ তৌকির ইসলাম বিমানটিকে ঘনবসতি এলাকা থেকে জনবিরল এলাকায় নিয়ে যাবার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত বিমানটি ঢাকার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের দোতলা একটি ভবনে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত হয়েছে।

    এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় বৈমানিকসহ ১৯ জন নিহত এবং ১৬৪ জন আহত হয়েছেন। আহত সকলকে বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টারসহ অ্যাম্বুলেন্সের সহায়তায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) এবং নিকটস্থ হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য দ্রুত স্থানান্তর করা হচ্ছে।

    উক্ত অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনী গভীরভাবে মর্মাহত এবং হতাহতদের সর্বাত্মক চিকিৎসাসহ সার্বিক সহযোগিতায় তৎপর রয়েছে।

    বিমান বাহিনী প্রধান সরকারি সফরে দেশের বাইরে থাকায়, সহকারী বিমান বাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও উদ্ধারকারী দল দুর্ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।

     

  • মাইলস্টোনে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করাবে সরকার

    মাইলস্টোনে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করাবে সরকার

    রাজধানীর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় আহত সবার চিকিৎসা সরকার করাবে বলে ঘোষণা করেছে।

    সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. মঈনুল আহসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানান, সকল বেসরকারি হাসপাতালে এই দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের চিকিৎসা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্রদান করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।

    এতে বলা হয়, যেকোনো ধরনের অপারগতায় রোগীকে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউট অথবা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

  • মাইলস্টোনে বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের পাইলট নিহত

    মাইলস্টোনে বিধ্বস্ত যুদ্ধবিমানের পাইলট নিহত

    রাজধানীর উত্তরায় প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলাম সাগর নিহত হয়েছেন। আজ সোমবার বিকালে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এই তথ্য জানিয়েছে।

    তৌকির ৭৬ বিএএফএ কোর্সের বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা ছিলেন। এফ-৭ বিজিআই যুদ্ধবিমানটি বিধ্বস্তের পর তাকে উদ্ধার করে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। এদিকে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত দেড় শতাধিক।

    প্রসঙ্গত, সোমবার দুপুর ১টার পর রাজধানীর উত্তরায় দুর্ঘটনায় পড়ে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান। বিমানটি উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে গিয়ে পড়ে এবং বিধ্বস্ত হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিমান ও স্কুল ভবনটিতে আগুন ধরে যায়। যে ভবনে এটি বিধ্বস্ত হয় সেখানে বহু স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থী ছিল বলে জানা গেছে।

  • গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে হলে মৌলিক সংস্কার করতে হবে-আখতার হোসেন

    গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে হলে মৌলিক সংস্কার করতে হবে-আখতার হোসেন

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, “এ দেশে গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে হলে মৌলিক সংস্কার করতে হবে। নির্বাচনে উচ্চ কক্ষে যারা পিআর চায় না তারা জাতির সঙ্গে প্রতারণা করে।

    ”শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজ-ধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আখতার হোসেন বলেন, “শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য গণঅভ্যুত্থান হয় নাই।ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করে নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্বাণে জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে। বাংলাদেশে শুধু নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। ১৪, ১৮, ২৪-এর নির্বাচন গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে পারেনি।

    ”তিনি বলেন, “এ দেশের মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সব ধর্মের মানুষ শান্তিতে বসবাস করবে জুলাই অভ্যুত্থানে এটা আমাদের প্রত্যাশা। বাংলাদেশের মানুষের ওপরে আওয়ামী লীগ এবং তার দোসররা যে অপরাধ সংগঠিত করেছে, সেটাকে যদি বিচারের আওতায় আনা না হয় তাহলে চব্বিশের শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করা হবে।”

    এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, “আর যেন ফ্যাসিবাদ এবং স্বৈরাচার জন্ম দিতে না পারে এজন্য আওয়ামী লীগকে অবিলম্বে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।”

  • ফ্যাসিবাদ যেন পুনর্বাসনের সুযোগ না পায়-তারেক রহমান

    ফ্যাসিবাদ যেন পুনর্বাসনের সুযোগ না পায়-তারেক রহমান

    ফ্যাসিবাদ যেন পুনর্বাসনের সুযোগ না পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৯ জুলাই) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে এক স্মরণসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। জুলাই আন্দোলনে শহীদ ছাত্রদের স্মরণে ছাত্রদলের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা এই সভার আয়োজন করে।

    তারেক রহমান বলেন, জাতীয় নির্বাচন আসন্ন। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের কোনো আবেগতাড়িত ও ভুল সিদ্ধান্তের কারণে রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো চরমপন্থা বা ফ্যাসিবাদ পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ না পায়, সে ব্যাপারে দেশবাসীকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

    তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো একটি অংশের সহায়তায় কেউ কেউ দেশে উদ্দেশ্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে কি না- এ বিষয়ে জনমনে জিজ্ঞাসা রয়েছে। রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত না হলে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব কিনা, সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে গেলে দেশে এমন এক নির্বাচনী ব্যবস্থা থাকা জরুরি, যেখানে প্রতিটি ভোটার নির্ভয়ে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। দেশে জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা না গেলে আমাদের কোনো আয়োজনই কিন্তু কাজে আসবে না, টেকসই হবে না।

    পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারকে আরও স্বচ্ছ ও সাহসী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গণতন্ত্রে বিশ্বাসী জনগণ আপনাদের (সরকার) পাশে থাকবে। গণতন্ত্রে বিশ্বাসী রাজনৈতিক দলগুলো আপনাদের পাশে থাকবে, যদি আপনাদের ভূমিকা আরও স্বচ্ছ এবং সাহসী হয়।

    তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালের মতো ২০২৪ সালের শহিদরাও স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। গণঅভ্যুত্থানে শহিদরা জাতির গৌরব। তাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়ার মধ্য দিয়েই তাদের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো সম্ভব। আর তা শুরু হবে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।

    স্মরণসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আবদুল মঈন খান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ অনেকেই বক্তব্য দেন।

  • নতুন ব্যবস্থাপনায় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে-ডা. শফিকুর রহমান

    নতুন ব্যবস্থাপনায় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে-ডা. শফিকুর রহমান

    চব্বিশে জীবন বাজি রে‌খে যা‌দের ত‌্যা‌গের বি‌নিম‌য়ে ফ‌্যা‌সিবা‌দের পতন এবং দেশ ও জা‌তির মু‌ক্তি হ‌য়ে‌ছে অহঙ্কার করে তা‌দের তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল না করতে রাজ‌নৈ‌তিক দ‌লের প্রতি আহ্বান জা‌নি‌য়ে‌ছেন বাংলা‌দেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

    শনিবার (১৯ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত জাতীয় সমাবেশে তি‌নি ব‌লেন, “আবু সাইদরা য‌দি বুক পেতে না দাঁড়াতো, এ জাতির মুক্তির জন্য যদি বুকে গুলি লুফে না নিতো হয়তো এই বাংলাদেশ আর দেখতাম না। ইতিমধ্যে আরো জীবন হয়তো ফ্যাসিবাদিদের হাতে চলে যেতো।”

    শ‌ফিকুর রহমান ব‌লেন, “চব্বিশে জীবন বাজি রাখা যুদ্ধ যদি না হতো, তাহলে আজকে যারা বিভিন্ন দাবি দাওয়া পেশ করছেন, তারা তখন কোথায় থাকতেন। তাই আসুন, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে এই নেয়ামত পে‌য়ে‌ছি, তাদের যেন অবজ্ঞা না করি। অবহেলা না করি। শিশু বলে যেনো তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল না করি। অহঙ্কার করে যাতে অন্য দলকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্ল না করি। অরাজনৈতিক ভাষায় কথা না বলি। এগুলো যদি আমরা পরিহার করতে না পারি।

    কিংবা যারা প‌রিহার কর‌তে পারবেন না তাদের বুঝতে হবে, ফ্যাবিবাদের রুপ তাদের মধ্যে নতুন করে বাসা বেঁধেছে।“আমরা আশা করব, আমরা কেউ এগুলো করব না।

    রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার রক্ষা করে জাতীয় ঐক্যের বীজ এক সাথে রোপন কর‌বে,” ব‌লেন তি‌নি। চব্বিশের লড়াই‌য়ে শহীদ হ‌তে না পারায় আফ‌সোস ক‌রে জামায়া‌তের আমির ব‌লেন, “আমি অভিজাত শ্রেণির হয়ে কথা বলতে আসিনি। আজীবন সকল রক্তচক্ষুতে উপেক্ষা করেছি। জেল জুলুম পরোয়া করি নাই। আফসোস, ২৪ সালে জাতিকে মুক্তি দিতে গিয়ে যারা জীবন দিয়ে শহীদ হয়ে গেলো আমি তাদের একজন হতে পারলাম না।”“দোয়া চাই।

    ইনসাফের ভিত্তিতে একটি দেশ গড়ে তোলার জন্য আগামীতে যে লড়াই হবে সেই লড়াইয়ে আল্লাহ আমাকে একজন শহীদ হিসাবে কবুল করেন, আল্লাহর কা‌ছে এমন প্রার্থনা ক‌রেন,” জামায়াত আমির।

    শিশু, তরুণ-যুবক‌দের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “যুবকদের আমরা বলতে চাই, তোমাদের সাথে আমরা আছি। আজ জামায়াতের আমির হিসাবে কথা বলতে আসিনি। আমি এসেছিতো ১৮ কোটি মানুষের একজন হয়ে কথা বলতে এসেছি। আমি শিশুদের বন্ধু, ‍যুবকদের ভাই। বয়স্কদের সহযোদ্ধা। বোনদের ভাই। তাদের মুক্তির জন্য দায়িত্ব নিয়ে এখানে দাঁড়িয়েছিলাম।”

    “আমি বলতে চাই, বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণির মুক্তির জন্য আমাদের লড়াই নয়। রাস্তার একজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী, চা বাগানের একজন শ্রমিক, রক্ত পানি ঘাম ঝড়ানো রিকশাচালক ভাই। মাঠে ময়দানে মুখে একমুটো ভাত তুলে দিতে চায় সেই কৃষক ভাই। তাদের হয়ে কথা বলতে এসেছি।”

    “আল্লাহ যতক্ষণ হায়াত দিয়েছেন ততক্ষণ কথা বলব। বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে,” ব‌লে ঘোষণা দেন জামায়াত আমির।

    “সব গণ-হত্যার বিচার দা‌বি ক‌রে শ‌ফিকুর রহমান ব‌লেন, “পল্টন গণহত্যা, শাপলা গণহত্যা, সারা দেশের গণহত্যা, পিালখানার গণহত্যা, ২৪ এর গণহত্যা–এই সকল গণহত্যার বিচার বাংলার মাটিতে নিশ্চিত করতে হবে। এদের বিচারের দৃশ্যমান প্রক্রিয়া শুরু না হওয়া পর্যন্ত পুরনো ব্যবস্থাপত্রে এই বাংলাদেশ আর চলবে না।”

    তি‌নি ব‌লেন, “এতগুলো মানুষে এমনি এমনি জীবন দেয়নি। জীবন দিয়েছেন জাতির মুক্তির জন্য।যারা বস্তাপচা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশকে আবার গড়তে চান তাদেরকে আমরা বলি জুলাইয়ে যুদ্ধ করে যারা জীবন দিয়েছে শক্তি থাকলে তাদের জীবন ফেরত এনে দেন। পারবেন না। কাজেই নতুন ব্যবস্থাপনায় নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।”

    “মা, শিশু-কিশোর, যুবক, বোন, শ্রমিক, ছাত্র, জনতা, ব্যবসায়ী সবাইকে যে দেশ যে সংবিধান যে রাষ্ট্র নিরাপত্তা দিতে পারবে সেই নতুন বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই,” ব‌লেন জামায়াত আমির।

    জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে, দলের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জাতীয় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম, নায়েবে আমির সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, নায়েবে আমির সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ, হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমেদ আবদুল কাদের, গণ-অধিকার পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক নুর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, নেজামে ইসলামের মহাসচিব মুসা বিন ইযহার, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, শহীদ পরিবারের সদস্য, কয়েকজন পঙ্গু জুলাই যোদ্ধা।

  • নতুন প্রজন্মের প্রথম ভোট, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হোক: পরওয়ার

    নতুন প্রজন্মের প্রথম ভোট, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হোক: পরওয়ার

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার ব‌লে‌ছেন,  বিগত বছরগুলোতে “জামায়াতে ইসলামীর  ওপর, তথা ইসলামি শক্তির ওপর যে জুলুম-নিপীড়ন চালানো হয়েছে, তারই প্রতিবাদে এই গণবিস্ফোরণ ঘটেছে।”

    বৃদ্ধ বয়সে দলটির নেতাদের কারাগারে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, “মজলুম বৃদ্ধ নেতাদের কারাগারে তিলে তিলে হত্যা করা হয়েছে। নিবন্ধন ও প্রতীক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ক্রসফায়ার, রিমান্ড, আয়নাঘরে হাজার হাজার লোককে কারারুদ্ধ করা হয়েছে। দুনিয়া জানে—বাংলাদেশের মধ্যে সবচেয়ে মজলুম দল হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী।”

    সংগঠনটির আমির ডা. শফিকুর রহমানকে মানবিক নেতা উল্লেখ করে তি‌নি বলেন, “বন্যার্ত মানুষদের সাহায্য করতে তিনি নির্দেশ দিলেন। পূজার সময় হিন্দুধর্মাবলম্বীদের পাশে থেকে নিরাপত্তা দিতে বললেন।”

    বাংলাদেশে সুশাসনের একটি শক্ত ভিত্তি গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মের প্রথম ভোট দাঁড়ি পাল্লায় দেওয়ার আহ্বান জা‌নি‌য়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, “আমরা একটি সুশাসনের রাষ্ট্র কায়েম করতে চাই। নতুন প্রজন্মের প্রথম ভোট, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে হোক।”

     

  • মানিকগঞ্জে পথসভায় নাহিদ ইসলাম ` আমরা দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়েছি’

    মানিকগঞ্জে পথসভায় নাহিদ ইসলাম ` আমরা দ্বিগুণ শক্তিশালী হয়েছি’

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘গোপালগঞ্জে যারা আক্রমণ করেছে, তারা জানে না যে এই আক্রমণ আমাদের আরও দ্বিগুণ শক্তিশালী করেছে। এর প্রমাণ আমরা ফরিদপুরে দিয়েছি, রাজবাড়ী দিয়েছি, এই মানিকগঞ্জে দিচ্ছি।’

    বৃহস্পতিবার রাতে মানিকগঞ্জে আয়োজিত পথসভায় নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের ভাষাশহীদ রফিক চত্বরে এ পথসভার আয়োজন করা হয়।

    নির্বাচনমুখী একটি দলের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা কেন গোপালগঞ্জে গেলাম তা নিয়ে তারা প্রশ্ন করেছেন। আওয়ামী লীগ যদি মাথা উঁচু করার চেষ্টা করে, বিপ্লবী ছাত্র-জনতা আবার তাদের পরাস্ত করবে।

    আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি গোপালগঞ্জের প্রতিটি গ্রামে প্রোগ্রাম করব ইনশা আল্লাহ।’ তিনি বলেন, ‘আমরা অনেক আগেই জানিয়েছিলাম, গোপালগঞ্জে প্রোগ্রাম করব। কিন্তু সরকার যথাযথ ব্যবস্থা না করার করণেই আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা করেছে।’

    রাজনৈতিক দল গঠনের কারণ সম্পর্কে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমরা নতুন বন্দোবস্তের কথা বলেছিলাম। আমরা এখনো সেটাই বলছি। গণ-অভ্যুত্থানে আমাদের সঙ্গে হয়তো অনেকেই ছিল, অনেক অংশীদার ছিল; কিন্তু সবার স্বার্থ এক ছিল না। শেখ হাসিনা পতনে সবাই এক ছিল।

    কিন্তু নতুন রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবাই এক ছিল না। অনেকেই চেয়েছিল পুরোনো রাষ্ট্র, পুরো-নো সিস্টেমে ক্ষমতায় যাবে। আমরা সেটা বিরোধিতা করেছিলাম। ফলে আমাদের নতুন রাজনৈতিক দল করতে হয়েছে।’

    নাহিদ ইসলাম বলেন, নতুন বাংলাদেশে কোনো একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা থাকবে না। জাতীয় সংসদ দুই কক্ষবিশিষ্ট করতে হবে। পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এতে ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরি হবে, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ হবে।

    এনসিপির এই নেতা বলেন, ‘বিগত সময়ে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষ, ছাত্র-আলেমদের ওপর নির্যাতন করেছে। শুধু ইসলাম পালনের কারণে জুলুম করা হয়েছে।

    সনাতন ধর্মের ভাইদের বলব, আপনারা কোনো বিশেষ দলের সম্পদ নন, আপনারা বাংলাদেশের জনগণ। সমান অধিকার ভোগ করেন। আওয়ামী লীগই হিন্দুদের জমি দখল করেছে।’