Category: ঢাকা বিভাগ

  • আজ থেকে সারাদেশে চিরুনী অভিযান শুরু

    আজ থেকে সারাদেশে চিরুনী অভিযান শুরু

    অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের ধরতে আজ থেকেই বিশেষ বা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

    রোববার (১৩ জুলাই) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    উপদেষ্টা বলেন, খুন, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, সন্ত্রাস, অপহরণ, নারী নির্যাতন, মব সহিংসতা, মাদক চোরাচালানসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

    পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার যে কোনো সময় চিহ্নিত অপরাধী ও সন্ত্রাসীদের ধরতে বিশেষ বা চিরুনি অভিযান এখন থেকেই পরিচালনা করতে পারে। এক্ষেত্রে সাধারণ জনগণসহ সবার সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। সরকার জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী যে কোনো কার্যক্রম কঠোর হাতে দমন করবে।

    সভায় মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাগ্রহণ; চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও সংঘবদ্ধ দুষ্কৃতিকারীদের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টিকারী ও উসকানিনিমূলক সাইবার প্রচারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ; নারী ও শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইনগত ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

     

  • মানিকগঞ্জে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে পিতার মৃত্যুদণ্ড

    মানিকগঞ্জে নিজ মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে পিতার মৃত্যুদণ্ড

    মানিকগঞ্জ পৌরসভার পূর্ব দাশড়া এলাকায় নিজের নয় বছরের মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে আসামি আনোয়ার হোসেন (৪৫) কে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

    রবিবার (১৩ জুলাই) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম এ হামিদ এই রায় দেন।

    মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আনোয়ার হোসেনের বাড়ি যশোরের কোতয়ালি উপজেলা। মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার পূর্ব দাশড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে থাকতেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

    আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ৩১ আগস্ট রাতে মানিকগঞ্জ পৌর এলাকায় ভাড়া বাসায় আসামি মেয়েকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় শিশুটির মা (আসামির স্ত্রী) বাদী হয়ে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে আনোয়ার হোসেনকে আসামি করে মানিকগঞ্জ সদর থানায় মামলা করেন।

    মামলাটি তৎকালীন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রকিবুজ্জামান নিজে তদন্ত করেন। ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগপত্র দেন।

    রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) হুমায়ুন কবির।

    তিনি জানান, মামলার নথিপত্র ও সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক আনোয়ারকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন। ভুক্তভোগী কিশোরী আদালতে জবানবন্দিতে ধর্ষকের ফাঁসি দাবি করেছে।

  • মানিকগঞ্জে পরকীয়ায় ধরা বিএনপির নেতা !

    মানিকগঞ্জে পরকীয়ায় ধরা বিএনপির নেতা !

    মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতাকে নারীসহ সারারাত গাছে বেঁধে রাখা হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  এক পরনারীর ঘর থেকে গভীর রাতে বিবস্ত্র অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে আটক মো. সিরাজুল ইসলাম মুনজেল (৪৫) নামে ধামশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক। ইতোমধ্যেই ঘটনাটি নিয়ে দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার বেশ কিছু ছবি ও ভিডিও  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

    শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে এই বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ আর এম আল-মামুন। শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে দৌলতপুর উপজেলার ধামশ্বর এলাকার চর দেশগ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে।

    স্থানীয়রা আরও জানান, উপজেলার  চর দেশগ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে সিরাজুল ইসলাম মনজেলের অবৈধ সম্পর্ক চলছিল দীর্ঘদিন যাবৎ। এই বিষয় নিয়ে গ্রামবাসীর মধ্যে চলছিল কানাঘুষা। গতরাতে মনজেল গ্রামের কয়েকজন লোক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে প্রবেশ করতে দেখেন। দীর্ঘ সময় পর স্থানীয়রা হাতে-নাতে তাকে আটক করে এবং শনিবার ভোররাত পর্যন্ত গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। অভিযুক্ত সিরাজুল ইসলাম মুনজেল উপজেলার ধামশ্বর ইউনিয়নের গালা এলাকার মৃত শিরজন আলীর ছেলে। প্রবাসীর স্ত্রী দুই সন্তানের জননী ও সিরাজুল ইসলাম মনজেল দুই সন্তানের জনক।

    ধামশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান পিন্টু ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে জানান, শুক্রবার রাত দুইটার দিকে এলাকাবাসী মুনজেল ও ওই নারীকে গাছের সাথে বেঁধে রাখেন। তারা দুজনেই অনৈতিক সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। ওই নারীর প্রবাসী স্বামী এখন আর এই নারীকে নিয়ে সংসার করবে না বলে বিদেশ থেকে মোবাইল ফোনে জানিয়েছেন বলে জানান এই নেতা।

    তবে অভিযুক্তরা পরস্পর পরস্পরকে বিয়ে করতে রাজি আছেন বলে জানা গেছে। এখন সামাজিকভাবে বিষয়টা মীমাংসার চেষ্টা চলছে। দলীয়ভাবে আজীবনের জন্য তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

    দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ আর এম আল-মামুন  জানান, এই বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান ও গণ্যমান্যরা বিষয়টি  মীমাংসা করার চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় কেউ কোন অভিযোগ করেননি। সবশেষ জানা গেছে, সামাজিকভাবে তাদের বিয়ে দেয়া হয়েছে।

  • শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসে যুবদল নেতার ৫ কোটি টাকা চাদাঁ দাবি

    শরীয়তপুর সুপার সার্ভিসে যুবদল নেতার ৫ কোটি টাকা চাদাঁ দাবি

    ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় শরীয়তপুর সুপার সার্ভিস নামের একটি পরিবহনের একাধিক বাস ভাঙচুর ও শ্রমিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। বাস মালিকদের দাবি চাঁদার ৫ কোটি টাকা না পেয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকার সাবেক যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান ফাহিম ও তার অনুসারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

    এতে যাত্রীদের চরম ভোগান্তি, অন্যদিকে ব্যবসায় লোকসান গুনতে হচ্ছে বাস মালিকদের।

    শ্রমিকনেতারা জানান, গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর যাত্রাবাড়ীতে শরীয়তপুরের বিভিন্ন পরিবহন থেকে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করে আসছেন স্থানীয় যুবদল নেতা মুশফিকুর রহমান ফাহিম।

    সম্প্রতি তিনি শরীয়তপুরের পরিবহন থেকে পাঁচ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে যাত্রাবাড়ীতে শরীয়তপুরের কোনো পরিবহন ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে জানান যুবদলের সাবেক এই নেতা।

    এই বিপুল পরিমাণ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ৯ জুলাই থেকে যাত্রাবাড়ী থেকে শরীয়তপুরের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেন যুবদল নেতা ফাহিম ও তাঁর লোকজন।

    এখন পর্যন্ত দোলাইপাড় ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় ফাহিম ও তাঁর লোকজন শরীয়তপুরের প্রায় ২৫টি গাড়ি ভাঙচুর এবং ১০ জন শ্রমিককে আহত করে বলে অভিযোগ করেন পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ।

    এ ঘটনায় শরীয়তপুর জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে ঢাকা মেট্রো-পলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

    এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, ‘আমি শরীয়তপুরে নতুন যোগদান করেছি। মিডিয়ার মাধ্যমে আমি বিষয়টি আজকেই জানলাম। আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। এ বিষয়ে আমার আইনগতভাবে যা করণীয় আমি তা-ই করব।

  • ১৮ বিচারককে বাধ্যতামূলক অবসর

    ১৮ বিচারককে বাধ্যতামূলক অবসর

    ১৮ বিচারককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ ক্রমে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসের এ সদস্যদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বৎসর পূর্ণ হওয়ায় তাদের অবসর দিয়ে বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    জনস্বার্থে তাদেরকে ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ৪৫ ধারার বিধান মতে চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। এ বিচারকরা বিধি অনুযায়ী অবসরজনিত সুবিধাদি পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়। অবসরে পাঠানো বিচারকদের মধ্যে ১৫ জন জেলা জজ, দুজন অতিরিক্ত জেলা জজ ও একজন যুগ্ম জেলা জজ রয়েছেন।

    বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো বিচারকদের মধ্যে রয়েছেন- আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা ও দায়রা জজ) বিকাশ কুমার সাহা, রাজবাড়ীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) শেখ মফিজুর রহমান, কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. মাহবুবার রহমান সরকার, কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) শেখ গোলাম মাহবুব, গাইবান্ধার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. মজিবুর রহমান, ভোলার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. এহসানুল হক, খুলনার জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. জুয়েল রানা, সিলেটের সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) মো. মনির কামাল, পটুয়াখালীর বিশেষ জজ (জেলা জজ) সহিদুল ইসলাম, দিনাজপুরের বিশেষ জজ (জেলা জজ) আল মাহমুদ ফয়জুল কবীর।

    এছাড়া টাঙ্গাইলের জেলা জজ মো. নাজিমুদ্দৌলা, ঠাকুরগাঁয়ের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা জজ) এ কে এম মোজাম্মেল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক (জেলা জজ) ফজলে এলাহী ভূইয়া, আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা জজ) আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান, বরিশালের প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালের সদস্য (জেলা জজ) মো. রুস্তম আলী, আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা (জেলা জজ) মো. নুরুল ইসলাম, পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ এ কে এম এনামুল করিম এবং আইন ও বিচার বিভাগের সংযুক্ত কর্মকর্তা (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ হোসেনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

  • অনলাইন জুয়া ও মোবাইল গেমিংয়ে আসক্ত শিশু-কিশোররা

    অনলাইন জুয়া ও মোবাইল গেমিংয়ে আসক্ত শিশু-কিশোররা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ অনলাইনে জুয়া ও মোবাইল গেমিংয়ে আসক্ত হয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে শিশু-কিশোর এবং বিভিন্ন বয়সী যুবকরাও। জেলার শিশু-কিশোররা পড়াশোনা বাদ দিয়ে দিনের সিংহভাগ সময়ই তারা ব্যয় করছে গেমিংয়ের পিছনে।

    এছাড়া অনলাইনের রেটিং সাইট গুলোতেও রয়েছে তাদের অবাধ চলাচল। অনেকেই জুয়ার-টাকা যোগাড় করতে অল্প বয়সেই পড়াশোনা বাদ দিয়ে জড়িয়ে পড়েছে চুরি, ছিনতাই সহ নানা অপকর্মে। শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শহর থেকে গ্রামের প্রায় সবখানেই কিশোররা দল বেঁধে মোবাইলে ঝুঁকি থাকার দৃশ্য।

    যে বয়সে মাঠে খেলাধুলা করার কথা, সেখানে তারা ডুবে    রয়েছে মোবাইল গেমের নেশায়। শিশু-কিশোরদের প্রচন্ড আসক্তি বেড়েছে মোবাইল গেমিংয়ের প্রতি। বাবা-মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘণ্টার পর ঘন্টা সময় কাটাচ্ছে মেবাইল গেমের পিছনে।

    মোবাইলে গেম খেলতে গিয়ে কেউ কেউ খরচ করছে হাজার হাজার টাকাও। অনলাইন বাজি খেলার সংখ্যাটাও কম নয়। বিভিন্ন ধরনের রেটিং সাইট তৈরি হচ্ছে কিশোরদের টার্গেট করে। দ্রুত সময়ে কয়েকগুণ টাকার প্রলোভনে পা দিচ্ছে অনেকেই এই গেইমে।

    মোবাইল গেমিং ও জুয়ায় আসক্ত একাধিক তরুণ জানায়, গেমিংয়ের আপডেট ভার্সন ইন্সটলেশনের জন্য তারা মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করে থাকে। টপ-আপ করার নামে ধাপে ধাপে অর্থ ব্যয় করে কিনতে হয়। গেমসের এক একটি ফিচার সুবিধা।

    এসব টাকা যোগাড় করতে অনেকে পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নেমে পড়েছে। কেউ কেউ দামি মোবাইল কেনার আশায় পাড়ি জমিয়েছে রাজধানী ঢাকায়। উঠতি বয়সীদের এমন মোবাইল আসক্তিতে শংকায় অভিভাবকরাও।

    আগামী প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষায় সরকারী পদক্ষেপের দাবি অভিভাবকদের। তাদের বেশিরভাগ মোবাইল গেম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হলেও, ভিপিএন নামের একটি সফটওয়ারের মাধ্যমে তাতে যুক্ত থাকে এসব শিশু-কিশোর ও কিশোরিরাও।

    একজন অভিভাবক জানান, অনলাইন জুয়া বা মোবাইল গেমিংয়ে আসক্ত হয়ে শিশু-কিশোর তাদের মেধা শক্তি হারাচ্ছে।  নতুন এ মোবাইল গেমিং আতংক থেকে ‘রক্ষা’ পেতে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারী প্রয়োজন বলে মনে করেছেন ওই অভিভাবক।

    এদিকে, অনেকেই এ খেলায় আসক্ত হয়ে বসতবাড়ি, জমিসহ সব কিছু খুঁইয়েই ঋণের বোঝা নিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছে অনেকেই।

  • শাপলা না হলে, ধানের শীষও প্রতীক হতে পারবে না: সারজিস

    শাপলা না হলে, ধানের শীষও প্রতীক হতে পারবে না: সারজিস

    জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম তার ব্যক্তিগত ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের এক স্ট্যাটাসে বলেছেন, শাপলা জাতীয় প্রতীক নয়। জাতীয় প্রতীকের একটি অংশ। একইভাবে ধানের শীষ, পাট পাতা এবং তারকাও জাতীয় প্রতীকের অংশ। শাপলা যদি রাজনৈতিক দলের প্রতীক না হতে পারে তাহলে ধানের শীষও প্রতীক হতে পারবে না।

    আর যদি জাতীয় প্রতীকের যে কোনো একটি অংশ রাজনৈতিক দলের প্রতীক হতে পারে তাহলে শাপলাও হতে পারবে। জাতীয় ফুল হিসেবে শাপলার প্রতীক হতে আইনগত বাধা নেই। কারণ জাতীয় ফল কাঁঠাল অলরেডি মার্কা হিসেবে আছে। আর যদি মার্কা দেখেই ভয় পান তাহলে সেটা আগে থেকেই বলেন!

    এর আগে, নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে জাতীয় প্রতীক ‘শাপলা’কে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালার তফসিলভুক্ত না করার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, নতুন প্রস্তাবিত প্রতীক তালিকায় শাপলা রাখা হচ্ছে না। নির্বাচনী প্রতীক হিসেবে আমাদের শিডিউলভুক্ত হচ্ছে না। আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। জাতীয় প্রতীক শাপলা ও জাতীয় পতাকার বিষয়ে সুস্পষ্ট আইনে বলা রয়েছে।

    সংবিধানে জাতীয় প্রতীক ও জাতীয় পতাকার কথা বলা হয়েছে। এ দুটোর মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার জন্য আইন করা হয়েছে; একটা বিধিমালা করা হয়েছে। কোনো ব্যাপারে জাতীয় ফুল, জাতীয় পাখির ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নেই।

     

  • টাঙ্গাইলে ম্যাটস ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে ম্যাটস ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    টাঙ্গাইলে নিশাদ সাদিয়া তুন্না (২১) নামে ম্যাটসের (মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল) এক ছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৯ জুলাই) ম্যাটসের হোস্টেল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    নিশাদ সাদিয়া তুন্না কুড়িগ্রামের ফুলকুমার গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের মেয়ে। নিশাত ম্যাটসের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। এসময় একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভীর আহমেদ  বলেন, ‘খবর পেয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি নিজের ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এসময় একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে।’

    এ ব্যাপারে ম্যাটসের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ডা. সানজিদা আক্তার বলেন, ‘নিশাত ও তার এক সহপাঠী হোস্টেলের একটি রুমে থাকতেন। ঘটনার দিন তিনি অন্য রুমে একা থাকার জন্য চলে যান। পরে সকালে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেই।’

  • শরীয়তপুরে টানা বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সর্বত্রই

    শরীয়তপুরে টানা বৃষ্টির পানিতে সয়লাব সর্বত্রই

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি : টানা চার দিনের বৃষ্টিতে শরীয়তপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। জেলা শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। পৌরসভার নিন্মাঞ্চলের অনেকের বসত ঘরেও ঢুকে পড়েছে বৃষ্টির পানি।

    শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের সামনে পানি জমে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। সিভিল সার্জন অফিসের সামনে হাঁটু পানি জমে নিচতলায় পানি ঢুকে পরায় কর্মচারীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

    এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে নিন্ম আয়ের মানুষ পড়েছে বিপাকে। সড়কে যানবাহন চলাচল করছে তুলনামূলক কম। স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল খুবই কম। ব্যবসা বানিজ্যেও পড়েছে বিরুপ প্রভাব।

    পৌর নাগরিকদের দাবী জেলা শহরে সুষ্ঠু ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা, পৌরসভার অধিকাংশ এলাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অধিকাংশ খাল ও জলাশয় ভরাট করে ফেলায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

    পৌর কর্তৃপক্ষের দাবী প্রয়োজনীয় বরাদ্দ না থাকার কারণে সব এলকায় এখনও ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা যায়নি। তবে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে যে সব এলাকায় জলাবদ্ধার সৃষ্টি হয়েছে ওই সব এলাকায় পৌরবাসীর কথা মাথায় রেখে শ্রমিকদের মাধ্যমে দ্রুত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    শরীয়তপুর পৌরসভা ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, ১৯৮৫ সালে শরীয়তপুর পৌরসভা যাত্রা শুরু করে। ২৪ দশমিক ৭৫ বর্গকিলোমিটারের এই পৌরসভা ২০০৫ সালে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত হয়।

    ২০২৫ সাল পর্যন্ত এই পৌরসভায় মোট ড্রেনেজ হয়েছে ১০ কিলোমিটার, কাজ চলমান জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে ৬৭০ মিটার ও পালং স্কুল এলাকা থেকে শাবনুর মার্কেট পর্যন্ত ৬৬০ মিটার। ২০২১ সালের জরিপ অনুযায়ী ৭০ হাজার ৫শ জনসংখ্যার এই পৌরসভায় মোট ভোটর রয়েছে ৩৯ হাজার ৭৯ জন।

    গত রবিবার থেকে শরীয়তপুরে অবিরাম ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। টানা এই বৃষ্টিতে পৌরসভার অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘরের বাহির হয় না। কর্মহীন হয়ে পড়ায় দুঃশ্চিন্তায় সময় কাটাচ্ছেন অনেকে।

    সরেজমিনে দেখা গেছে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মাঠ, সিভিল সার্জন অফিস, শরীয়তপুর মডেল টাউনের পশ্চিম পাশের্^ চর পালং এলাকার কয়েকটি বাড়ির ঘরের মধ্যে পানি ঢুকে পরেছে।

    পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর বালুচড়া, পুরান হাসপাতাল রোড, শরীয়তপুর পার্ক, শিল্পকলা, সদর ভূমি অফিসের উত্তর পাশ দিয়ে পাহাড় বাড়ি রোড, তুলাসার, নিরালা আবাসিক এলাকা, শান্তিনগর ও বেপারী পাড়াসহ পৌরসভার নিন্মাঞ্চলগুলো বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে।

    চরপালং এলাকার মজিবুর মাদবর বলেন, আমাদের এলাকাটি নিচু হওয়ায় বৃষ্টি হলেই বিভিন্ন এলাকার পানি জমে ঘরবাড়ি তলিয়ে যায়। শহরের আশে পাশের খালগুলো খনন না করা হলে এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা না হলে আমাদের এই দুর্ভোগ কমবে না।

    শরীয়তপুর সিভিল সার্জন অফিসের জেলা স্বাস্থ্য তত্বাবধায়ক এম এম হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের ভবনের কোন দিক দিয়ে পানি নিষ্কানের ব্যবস্থা নেই। ভারি বৃষ্টি হলেই জলবদ্ধতা দেখা দেয়। সিভিল সার্জন অফিসের নিচ তলায় বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে আমাদের অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।

    জেলা বিডি ক্লিনের উপদেষ্টা এডভোকেট মো. মাসুদুর রহমান বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিপাতে পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এর একমাত্র কারণ অপরিকল্পিত নগরায়ণ, খাল দখল ও ভড়াট হওয়ার হওয়া।

    পৌর কর্তৃপক্ষ ও প্রশানের হস্তক্ষেপে খাল উদ্ধার করে পানিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরশন হবে। অন্যথায় এই জলাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হবে না।

    শরীয়তপুর সদর হাসাপালের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. মো. রফিকুল ইসলাম মামুন বলেন, একটু ভারি বৃষ্টিপাত হলেই শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল ও সিভিল সার্জন অফিসের সামনে পানি জমে জলা বদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

    এর মূল কারণ হচ্ছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকা। এ বিষয়ে আমরা শরীয়তপুর গণপূর্ত বিভাগ জানিয়েছি। আশা করছি দ্রুত সময় তারা এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

    শরীয়তপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ওয়াহিদ হোসেন বলেন, পৌরসভার ড্রেনেজ করার জন্য অর্থ বরাদ্দ না থাকা আমরা এখনও প্রতিটি এলাকায় ড্রেনেজ ব্যবস্থা করতে পারিনি। অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও খাল ভড়াট করার কারণে শহরের কিছু নিঁচু এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

    বর্তমানে পৌরসভা উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পৌর এলাকার পালং স্কুল থেকে শাবনূর মার্কেট ও চৌরঙ্গী থেকে মারকাজ মসজিদ পর্যন্ত রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। সেই ক্ষেত্রেও ড্রেন করার জন্য কিছু কিছু বাড়ির মালিকরা বাঁধা দেওয়ায় ড্রেন করতে বেগ পেতে হয়।

    পৌরবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের জন্য ১০ জন শ্রমিক সমন্বয়ে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরে রাস্তায় জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করছেন। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই জলাবদ্ধতা দুর করা সম্ভব হবে।

  • মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় গ্রেফতার ৪

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ায় গ্রেফতার ৪

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া থানায় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মহিলা সহ চার জনকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, গোলাম রাব্বির স্ত্রী আজরিন আক্তার (১৯), মা- রোজিনা বেগম (৪৫) পিতা- মো: আছর উদ্দিন (৫০) ছোট ভাই রিফাত ইসলাম (১৭) সর্ব সাং উত্তর কাউন্নরা ।

    এক পর্যায়ে আসামী গোলাম রাব্বীর মা রুজিনা আক্তার ও তার স্ত্রী আজরিন আক্তার  প্রিজনভ্যান গাড়ীর সামনে শুয়ে পড়ে। পরে সাটুরিয়া থানা পুলিশ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    সাটুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শাহিনুল ইসলাম ঘটনা সত্যতা স্বীকার করে জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকী আসামীদের গ্রেপ্তার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।