Category: সারাদেশ

  • ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হবে

    ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হবে

    ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ। নির্বাচনের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আগামী ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    বুধবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    তিনি বলেন, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে পারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

    আগামী ১ নভেম্বর থেকে নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক পদায়ন শুরু হবে। তবে এবারের নির্বাচনে গত তিনটি নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করা কর্মকর্তাদের আর রাখা হবে না বলে জানান তিনি।

    দেশব্যাপী নিরাপত্তা জোরদার ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক মহলে নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে বলেও প্রেস সচিব উল্লেখ করেন।

  • ঐকমত্য নয় জাতীয় বিভাজন তৈরির ঝুঁকি হয়েছে- সালাহউদ্দিন

    ঐকমত্য নয় জাতীয় বিভাজন তৈরির ঝুঁকি হয়েছে- সালাহউদ্দিন

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ঐকমত্য নয়, বরং ‘জাতীয় অনৈক্য’ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, “কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায়–সম্পর্কিত যেসব সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দিয়েছে, সেখানে স্বাক্ষরিত সনদের বাইরের অনেক বিষয় যুক্ত করা হয়েছে। এতে কমিশনের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।”

    মঙ্গলবার বিকেলে সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সালাহউদ্দিন আহমদ এসব মন্তব্য করেন।

    তিনি আরও জানান, জুলাই জাতীয় সনদে মোট ৮৪টি দফা রয়েছে। সেখানে বিএনপি এবং অন্যান্য দলের ভিন্নমত বা নোট অব ডিসেন্ট স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল।

    দলগুলো চাইলে এসব বিষয় নির্বাচনী ইশতেহারে তুলে ধরে জনম্যান্ডেট পেলে বাস্তবায়ন করতে পারবে। কিন্তু কমিশনের সুপারিশমালায় নোট অব ডিসেন্টের কোনো উল্লেখ রাখা হয়নি।

    সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “যে সনদে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে, তার বাইরের অনেক পরামর্শ যুক্ত করা হয়েছে। এতে ঐকমত্য নয়, বরং মতবিরোধই সৃষ্টি হবে।”

    তিনি আরো উল্লেখ করেন, গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব এবং “সংবিধান সংস্কার পরিষদ” নামের নতুন ধারণা কমিশনের আলোচনায় ছিল না। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পুনরায় আলোচনার প্রয়োজন হতে পারে।

    অবশেষে তিনি কমিশনের কার্যক্রম শেষ করার জন্য ধন্যবাদ জানান, তবে বলেন, “নতুন বিষয় সংযুক্ত করার এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় ঐকমত্য নয়, বরং বিভাজনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।”

  • গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের পরামর্শ

    গণভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের পরামর্শ

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়নে সরকারের উচিত গণভোটের আয়োজন করা। একইসঙ্গে এ বিষয়ে দ্রুত আদেশ জারি করারও সুপারিশ করা হয়েছে।

    মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ধাপগুলো তুলে ধরেন তিনি।

    অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, কিছু সুপারিশ আছে, যেগুলো বাস্তবায়নে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন, সেগুলো গণভোটের মাধ্যমেই হওয়া উচিত। যেসব বিষয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব, সরকার তা দ্রুত করবে।

    এছাড়া, যেসব বিষয়ে ভিন্নমত নেই এবং দাপ্তরিক নির্দেশেই কার্যকর করা যায়, সেগুলোও দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, তিন ধারায় জুলাই সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকারের দৃঢ় পদক্ষেপ প্রয়োজন।

  • সাটুরিয়ায় বাঁশের সাঁকো থেকে পিছলে পড়ে শিশুর মৃত্যু !

    সাটুরিয়ায় বাঁশের সাঁকো থেকে পিছলে পড়ে শিশুর মৃত্যু !

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার গাজীখালিতে বাঁশের সাঁকো থেকে পিছলে পড়ে ইয়াসিন মাহমুদ মুরাদ (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

    ইয়াসিন মাহমুদ মুরাদ সাটুরিয়া সদর ইউনিয়নের বৈলতলা গ্রামের মো. জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।

    জানা গেছে, বৈলতলা মুকদমপাড়া হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে বাড়ি এসে ইয়াসিন মাহমুদ মুরাদ খেলতে বাইরে যায়। খেলার এক পর্যায়ে বাড়ির পেছনের গাজিখালী নদীর বাঁশের সাঁকোতে গেলে, হঠাৎ পিছলে নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা ঘনালেও পরিবার ও আশপাশের লোকজন খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পায়নি।

    পরদিন (২৮ অক্টোবর) সকাল ৬টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা খোরশেদ আলমনদীতে গেলে পানিতে ইয়াসিন মাহমুদ মুরাদের দেহ ভাসতে দেখতে পান। তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে লাশটি উদ্ধার করে।

  • তুরস্কে ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প !

    তুরস্কে ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প !

    তুরস্কের পশ্চিমাঞ্চলীয় সিনদিরগি শহরে ৬.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যার ফলে একাধিক ভবন ধসে পড়েছে এবং কম্পনটি গ্রীস পর্যন্ত অনুভূত হয়েছে।

    তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার রাত ১০টা ৪৮ মিনিটে সংঘটিত হয়  (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা ৪৮ মিনিট)। যার গভীরতা ছিল প্রায় ৬ কিলোমিটার। এর পরপরই একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে।

    সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রেস্টুরেন্টে খাওয়া-দাওয়া করা লোকজন ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে দৌড়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন দোকানের ভিডিও ফুটেজেও দেখা যায়, আলো দুলছে এবং আসবাবপত্র কাঁপছে।

    একজন গেমার লাইভ ভিডিও চলাকালীন তার প্রতিক্রিয়া ধারণ করেন, যেখানে তাকে ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিতে দেখা যায়, কক্ষটি প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে কাঁপতে থাকে।

    এটি গত তিন মাসে দ্বিতীয়বারের মতো এলাকাটি ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল। তুরস্কের অর্থনৈতিক রাজধানী ইস্তাম্বুল ও জনপ্রিয় পর্যটন নগরী ইজমির-এও কম্পন অনুভূত হয়েছে।

    তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। বালিকেসিরের গভর্নর ইসমাইল উস্তাওগ্লু জানিয়েছেন, কমপক্ষে ২২ জন আহত হয়েছেন।

    তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়েরলিকায়া জানান, তিনটি ধ্বংসপ্রাপ্ত ভবন পূর্ববর্তী ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে খালি ছিল। এছাড়া একটি দুই তলা দোকানও সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।

    গভর্নর উস্তাওগ্লু আরও জানান, মসজিদ, স্কুল ও ক্রীড়া হলগুলো উন্মুক্ত রাখা হয়েছে, যাতে বাসিন্দারা নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারেন।

    সিনদিরগি শহরটি পাহাড়বেষ্টিত, ইজমির থেকে প্রায় ১৩৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত।

    তুরস্ক তিনটি টেকটোনিক প্লেট — অ্যানাটোলিয়ান, অ্যারাবিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেট — এর সংযোগস্থলে অবস্থিত, যা দেশটিকে ভূমিকম্পপ্রবণ করে তুলেছে।

    ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আনতাকিয়া শহরে ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রায় ৫৩ হাজার মানুষ মারা যান এবং লক্ষাধিক ভবন ধসে পড়ে। ঐ সময় ভূ-স্তর প্রায় ১০ ফুট পর্যন্ত সরে যায়, বিশেষজ্ঞরা জানান।

    এ বছরের জুলাই মাসেও একই এলাকায় ৫.৮ মাত্রার** ভূমিকম্পে একজন নিহত ও অন্তত ৬৯ জন আহত হয়েছিলেন।

    সূত্র: ডেইলি মেইল

  • মানিকগঞ্জে গার্মেন্টস কারখানার সিওও কর্তৃক সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছনার ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ

    মানিকগঞ্জে গার্মেন্টস কারখানার সিওও কর্তৃক সরকারি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছনার ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টার অভিযোগ

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় তারাসিমা অ্যাপারেলস লিমিটেডের প্রোডাকশন সিওও কর্তৃক একজন সরকারি কর্মচারীকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

    অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন তারাসিমা অ্যাপারেলস লিমিটেডের দুই কর্মকর্তা, একজনের নাম হাবিবুর রহমান হাবিব বলে জানা যায়। তাঁরা শ্রীলঙ্কার নাগরিক ও ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রোডাকশন সিওও শাশাংকা জয়া উইকরমাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাটি মিটমাট করার জন্য বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে যোগাযোগ করছেন।

    ২৭( অক্টোবর) সোমবার তাদেরকে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজি ইডি) কার্যালয়ে তাদের দেখা যায়। ​জানা যায়,সম্প্রতি ঢাকা-আরিচামহাসড়কের নয়াডিঙ্গি এলাকায় একটি সেতুর কাজের কারণে তারাসিমা অ্যাপারেলস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ তাদের কারখানার ব্যবহৃত পানি পরিশোধন ও নিষ্কাশনের পাইপলাইন সরাতে ও মেরামতের অনুমোদনের জন্য উপজেলা প্রকৌশলী অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর কাছে আবেদন করে।

    এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার মো: আব্দুল আলীম তদন্তের জন্য কারখানার ভেতরে যান। ​কারখানা কর্তৃ-পক্ষের সঙ্গে আলোচনার সময় হঠাৎ করেই প্রোডাকশন সিওও সেখানে উপস্থিত হয়ে সরকারি কর্মচারীর সঙ্গে অত্যন্ত রূঢ় ও আপত্তিকর ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন।

    পরিস্থিতি একপর্যায়ে সহিংস রূপ নেয় যখন সিওও উপস্থিত লোকজনের সামনেই সরকারি কর্মচারীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এমনকি তাঁর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তাঁকে কারখানা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    ​তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, শ্রীলঙ্কার নাগরিক শাশাংকা জয়া উইকরমা কুমিল্লার বারিদি গার্মেন্টস লিমিটেড-এর ওয়ার্ক পারমিটে বাংলাদেশে এসেছেন এবং ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বিটপি গ্রুপের তারাসীমা অ্যাপারেলস লিমিটেড-এ প্রোডাকশন সিওও হিসেবে কর্মরত আছেন।

    এ বিষয়ে উক্ত কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তারা বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ মিথ্যা। আমরা শাশাংকা জয়া উইকরমাকে জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে দেখা করার জন্য নিয়ে গিয়েছিলাম।

  • নির্বাচনী জোট নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি: সারজিস

    নির্বাচনী জোট নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি: সারজিস

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, কোনো দলের সঙ্গে নির্বাচনী জোটের বিষয়ে এনসিপি এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।

    তবে যারা জুলাই সনদের প্রতিটি সংস্কার বাস্তবায়নে এবং জুলাই শহীদ পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করবে, প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে জোট গঠন করা যেতে পারে।‎

    সোমবার(২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে মানিকগঞ্জ শহরের সিটি ড্রিম কনভেনশন সেন্টারে জেলা নাগরিক পার্টির সাংগঠনিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    ‎সারজিস আলম আরও বলেন, নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। ফেব্রুয়ারিতেও নির্বাচন হতে পারে। কিন্তু তার আগে সরকারকে জুলাই সনদের আইনগত ভিত্তি দিতে হবে, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং দৃশ্যমান বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ হতে হবে। তাহলে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আমাদের কোনো সমস্যা থাকবে না।‎

    সারজিস বলেন, শাপলা প্রতীক না দেয়ার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন আইনগত ভিত্তি দেখাতে পারেনি। নির্বাচন কমিশন যদি তাদের মন মত স্বেচ্ছা-চারি আচরণ করে বলে থাকে যে এনসিপি শাপলা প্রতীক পাবে না।

    তাহলে ওই স্বেচ্ছাচারি নির্বাচন কমিশন আগামীর বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে পারবে না। তাদের ওপর দেশের মানুষের আস্থা থাকবে না এবং এনসিপিরও নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা থাকবে না। আর গণভোট জুলাই সনদের পক্ষে আসলে এনসিপি যে কোনো দিন স্বাক্ষর করবে।

    ‎সারজিস আলম আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন নিশ্চয় কোন ব্যক্তি হোক, কোন প্রতিষ্ঠান হোক বা কোন রাজনৈতিক দল হোক, তাদের দ্বারা প্রভাবিত হচ্ছে। এজন্য নির্বাচন কমিশন তাদের সত্তা, স্বাধীনতা ও সক্রিয়তা বজায় রাখতে পারছেন না।‎

    এ সময় এনসিপির ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, এনসিপির মানিকগঞ্জ জেলার প্রধান সমন্বয়কারী জাহিদ তালুকদার ও যুগ্ম-সমন্বয়কারী এ.এইচ.এম মাহফুজসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।‎

  • সিটি ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ

    সিটি ইউনিভার্সিটি বন্ধ ঘোষণা, শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ

    সিটি ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ সব একাডেমিক কার্যক্রম আগামী ২৮ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীকে সোমবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে হল ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

    ঘটনার পেছনে গত রোববার দিবাগত রাতে সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা রয়েছে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা থেকেই উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, এবং এতে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনে ড্যাফোডিলের এক শিক্ষার্থীর ওপর সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী মোটরসাইকেল থেকে থুথু নিক্ষেপ করেন। এ নিয়ে উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।

    রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় ৪০–৫০ জন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের একটি বাসায় হামলা ও ভাঙচুর চালান।

    ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও পুলিশ তাদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানায়। এরপর শিক্ষার্থীরা ব্যাচেলর প্যারাডাইসের সামনে অবস্থান করেন।

  • আশুলিয়ায় থুতু ফেলাকে কেন্দ্র করে সিটি ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ !

    আশুলিয়ায় থুতু ফেলাকে কেন্দ্র করে সিটি ও ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ !

    সাভারের আশুলিয়ায় সিটি ইউনিভার্সিটি ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। এতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বর্তমানে খাগান এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

    রবিবার (২৬ অক্টোবর) মধ্যরাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হওয়া সংঘর্ষ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে সিটি ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাস। শিক্ষকদের অভিযোগ, সংঘর্ষ থামাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সহায়তা তারা পাননি।

    সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকালে সাভারের বিরুলিয়া এলাকায় সিটি ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসের ফটকে দেখা যায় আগুনে পোড়ার দৃশ্য। বাইরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে কাঁচ, কাঠসহ ভাঙা বিভিন্ন জিনিসপত্র। ভাঙচুর করা অবস্থায় ছিল পাঁচটি যানবাহন। অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে অন্তত তিনটি বাস, পাঁচটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকারে।

    বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনেও চালানো হয়েছে ধ্বংসযজ্ঞ। পুরো ভবনের জানালার থাই গ্লাস ভাঙা অবস্থায় দেখা যায়। ভেতরের প্রায় প্রতিটি ফ্লোরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায় কাগজপত্র ও ভাঙা আসবাবপত্র।

    শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল রবিবার সন্ধ্যার পর ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ভাড়া বাসা ‘ব্যাচেলর প্যারাডাইস হোস্টেল’-এর পাশে বসে ছিলেন সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। এক শিক্ষার্থী থুতু ফেললে অসতর্কতাবশত সেই থুতু মোটরসাইকেলযোগে যাওয়া ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থীর শরীরে লাগে। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়।

    পরে রাত ৯টার দিকে সিটি ইউনিভার্সিটির প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র ও ইট-পাটকেল নিয়ে ড্যাফোডিল শিক্ষার্থীদের ভাড়া করা ওই বাসায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।

    এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন। একপর্যায়ে তারা সিটি ইউনিভার্সিটির দিকে অগ্রসর হন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ইট নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

    এ সময় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হন। তারা সিটি ইউনিভার্সিটির প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। এরই মধ্যে সিটি ইউনিভার্সিটি সংলগ্ন এলাকায় পৃথক একটি স্থানে সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ড্যাফো-ডিলের এক শিক্ষার্থীকে মারধর করেন।

    পরে ড্যফোডিলের শিক্ষার্থীরা সিটি ইউভার্সিটি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এ সময় ক্যাম্পাসে দাঁড় করিয়ে রাখা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি বাস, দুটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেটকারে আগুন দেওয়া হয়। একটি বাস, দুটি প্রাইভেটকার, একটি মোটরসাইকেল, প্রশাসনিক ভবন ভাঙচুর করা হয়।

    এ সময় উভয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষ নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিটি ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘ড্যাফোডিলের এক ছাত্রের গায়ে থুতু লাগা থেকে ঘটনার শুরু। পরবর্তীতে ওই ছাত্র সরিও বলেছে। তারা বিষয়টিকে সেভাবে নেয়নি, তাকে সেখানে মারধর করে। এরপর তাকে আটকে রাখে। যখন বিষয়টা আমাদের কাছে আসে, তখন আমরা এগোই। এভাবেই প্রথম অবস্থায় হয়। আমরা ঢিল ছুড়েছি।”

    তিনি বলেন, “ক্যাস্পাসের ভেতরে গেলে দেখবেন, অ্যাকাউন্টসে কোনো টাকা নাই, পাঁচটা গাড়ি ভাঙছে। প্রত্যেকটা রুমে রুমে সব ভাঙছে। কিছুই নাই। এগুলা কী ধরনের আচরণ। একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা এটা কীভাবে পারে।”

    একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘ঘুমন্ত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তারা অস্ত্র নিয়ে আসে। মেয়েদের হলের কলাপসিবল গেটে ভাঙচুরের চেষ্টা করে, ইট ছুড়ে মারে। সেগুলো মেয়েদের গায়ে লেগেছে। আমাদের পুরো ক্যাম্পাস ভাঙচুর করেছে।”

    সিটি ইউনিভার্সিটির টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘‘রাত ১২টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত প্রশাসনের অনেক সহযোগিতা চেয়েছি আমরা। ওরা এসে পুরো ক্যাম্পাসে আগুন দিয়ে ধ্বংস করে দিয়েছে। শতশত ছাত্রকে মেরে আহত করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা পাইনি।

    ড্যাফোডিলের ছেলেরা এখান পর্যন্ত এসে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছিল। কেউ রক্ষা করতে আসেনি। টানা হামলা হয়েছে, কিন্তু কেউ আসেনি। আমরা সবাই নিরাপত্তাহীনতায় আছি।”

    সিটি ইউনিভার্সিটির প্রক্টর অধ্যাপক আবু জায়েদ বলেন, ‘‘ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, সেটি এখনো আমরা নিশ্চিত নই। ছাত্রদের মারামারি থেকে ক্যাম্পাস পুড়িয়ে দেয়ার ঘটনা হতে পারে? এটি পরিকল্পিত। আমাদের শিক্ষার্থী আহতের সংখ্যা আনুমানিক অর্ধশতাধিক হতে পারে।”

    ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির এক্সটার্নাল অ্যাফেয়ার্সের পরিচালক সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘অসতর্কতাবশতই সিটি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের ফেলা থুতু ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীর শরীরে লাগে। সেখানে সরি বলে বিষয়টি সমাধান হয়ে যেত। কিন্তু, রাতে এসে ড্যাফোডিলের শিক্ষার্থীদের মেসে ভাঙচুরের ঘটনাটি কাম্য নয়। আমরা চেষ্টা করছি বিষয়টি সমাধানের।

    ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম আ্যান্ড অপস) মো. আরাফাতুল ইসলাম বলেন, ‘‘শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। ঝগড়া-বিবাদ, ভাঙচুর যা হয়েছে, রাতেই হয়ে গেছে। ঘটনাটি কেন ঘটল, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, তবে পরিবেশ কিছুটা থমথমে।”

  • মানিকগঞ্জে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ভুয়া আইনজীবী আটক

    মানিকগঞ্জে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ভুয়া আইনজীবী আটক

    হত্যা মামলার আসামীকে জামিন পাইয়ে দেয়ার প্রলোভনে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে মানিকগঞ্জে এক ভুয়া আইনজীবীকে আটক করা হয়েছে।

    রবিবার বেলা তিনটার দিকে মানিকগঞ্জ আদালত চত্বর থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জেলা আইনজীবী সমিতির কয়েকজন সদস্য ও ভুক্তবোগীর স্বজনরা।

    আটককৃত ভুয়া আইনজীবীর নাম স্বপন মিয়া। মানিকগঞ্জ জেলার দৌলত-পুর উপজেলার মীর হাটাইল গ্রামের নাজিমুদ্দিনের ছেলে।

    জানা গেছে, হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত এক আসামীর জামিন পাইয়ে দেয়ার কথা বলে এক লাখ সাত হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে স্বপন মিয়া। এরপর হাইকোর্টের একটি ভুয়া জামিননামা বানিয়ে আসামীর জামিন হয়েছে দাবি করে আরো পঁচিশ হাজার টাকা দাবি করে সে। তার কথাবার্তা সন্দেহজনক হলে অন্যান্য আইনজীবীদের সহায়তায় ভুয়া আইনজীবীকে আটক করে আসামীর স্বজনরা।

    এ ব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আমান উল্লাহ বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।