Category: সারাদেশ

  • প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার উদ্যোগে দুইদিনব‌্যাপী বাৎসরিক আনন্দভ্রমণ

    প্রেসক্লাব সাটুরিয়ার উদ্যোগে দুইদিনব‌্যাপী বাৎসরিক আনন্দভ্রমণ

    প্রকৃ‌তির অপূর্ব লীলাভূমী জগ‌দ্বিখ‌্যাত তুল‌সিমালার ‌আঁতুড়ঘর ভূতপূর্ব দশ কা‌হো‌নিয়া সীমান্ত জেলা শেরপুর ও জামালপু‌র জেলার বি‌ভিন্ন দর্শনীয় এবং ঐতিহা‌সিক স্থান ও নিদর্শন প‌রিদর্শ‌নের মধ‌্য দি‌য়ে মা‌নিকগঞ্জ জেলার সাটু‌রিয়া উপ‌জেলার প্রেসক্লাব সাটু‌রিয়ার দুইদিনব‌্যাপী আনন্দভ্রমণ অনু‌ষ্ঠিত হ‌য়ে‌ছে।

    এতে সদস‌্যদের মা‌ঝে আরোও সৌহার্দ‌্য ও ভ্রাতৃত্ব‌বোধ বৃ‌দ্ধি পাওয়ায়, তাঁ‌দের পেশাগত দা‌য়িত্ব পাল‌নের ক্ষে‌ত্রে সকল‌কে ন‌্যায় ও স‌ত্যের সা‌মিয়ানায় নি‌য়ে এসে দেশ ও জা‌তির কল‌্যা‌ণে নি‌বে‌দিতপ্রাণ হ‌য়ে, নিরলসভা‌বে, বস্তু‌নিষ্ঠ সংবাদ প‌রি‌বেশ‌নে উদ্বুদ্ধ ক‌রে‌ছে।

    গত ২১ অ‌ক্টোবর মঙ্গলবার সকাল ৮টায় প্রেসক্লাব সাটু‌রিয়ার পা‌শে অব‌স্থিত ডাকবাং‌লো থে‌কে প্রবীণ সাংবা‌দিক মোঃ ইউনুস আলীর দোয়া ও মোনাজা‌তের মধ‌্য দি‌য়ে যাত্রা শুরু ক‌রে ক্লা‌বের সদস‌্যবৃন্দ। সে সময় অজানা ভুব‌নে ছু‌টে চলার এক প্রাণবন্ত আব‌হের অ‌ভিব‌্যক্তি ফু‌টে ও‌ঠে সকলের মাঝে।

    প‌থিম‌ধ্যে গাজীপু‌রের কা‌লিয়া‌কৈ‌রে এক‌টি রেললাইনের পা‌শে অত‌্যন্ত চমৎকার প্রাকৃ‌তিক প‌রি‌বে‌শে সকা‌লের নাস্তাগ্রহণ শে‌ষে, প্রকৃ‌তির রূপ-রস-গ‌ন্ধে মো‌হিত হ‌য়ে, নি‌জে‌দের অ‌ভিজ্ঞতার ঝু‌লি‌তে দৃ‌ষ্টিনন্দন স্মৃ‌তি-জাগা‌নিয়া ফ‌টো‌সেশ‌নে অংশগ্রহণ ক‌রেন সক‌ল সদস্যবৃন্দ।

    দু’পা‌শে গজারীর ব‌নের মাঝখান দি‌য়ে বিশাল কা‌লো অজগর সা‌পের ম‌তো হে‌লেদু‌লে চ‌লে যাওয়া পিচঢালা রাস্তায় দ্রুত ছু‌টে চ‌লে তা‌দের‌কে বহনকরা গাড়ী‌টি। প্রকৃ‌তির নি‌বিড় সা‌ন্নিধ‌্য পাবার লোভ সংবরণ কর‌তে না পে‌রে, গাড়ী থে‌কে নে‌মে গজারীর ব‌নের ভেত‌রে ক্ষা‌ণিকটা সময় কা‌টি‌য়ে, সহকর্মী‌দের সা‌থে ক‌্যা‌মেরায় ফ্রেমব‌ন্দি হ‌য়ে আবা‌রোও গন্ত‌ব্যের উদ্দে‌শ্যে রওয়ানা হন সক‌লেই।

    সক‌লের মনটাও ততক্ষ‌ণে বেশ চাঙা। শত কর্মব‌্যবস্তার মা‌ঝেও এ যে‌নো এক দুর্লভ পাওয়া। দুরন্ত গ‌তি‌তে গাড়ী ছু‌টে চ‌লে সাম‌নের পা‌নে, আর পেছ‌নে প‌ড়ে থা‌কে অজানা অ‌চেনা গ্রাম, স্কুল-ক‌লেজ, হাটা-বাজারসহ আরও কত কি!

    সময় গ‌ড়ি‌য়ে দুপুর। প্রেসক্লাব সাটু‌রিয়ার কলম‌সৈ‌নিক‌দের নি‌য়ে গাড়ী‌টি তখন ময়মন‌সিং‌হে পৌ‌ছে গি‌য়ে‌ছে। ত্রিশা‌লে অব‌স্থিত জাতীয় ক‌বি কাজী নজরুল বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ে যাত্রা‌বির‌তি।

    বি‌দ্রোহী ক‌বির স্মৃ‌তিচারণ ক‌রে বিশ্ব‌বিদ‌্যাল‌য়ের ক‌্যাম্পা‌সে বি‌ভিন্ন জায়গা প‌রিদর্শনকা‌লে তাঁর লেখা ক‌বিতা, গান ছি‌লো প্রায় সকল সদ‌স্যেরই মু‌খে মু‌খে। চো‌খের সাম‌নে যে‌নো জীবন্ত হ‌য়ে দেখা দি‌চ্ছি‌লো বার বার দুখু মিয়া থে‌কে জাতীয় ক‌বির মর্যাদায় ভূ‌ষিত হওয়া চিরঞ্জীব নজরুল।

    ময়মন‌সিংহ মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ হাসপাতাল প‌রিদর্শন শে‌ষে মধ‌্যাহ্ন‌ভোজের পর, শেরপু‌রের ঝিনাইগাতী‌র উদ্দে‌শে আবা‌রোও ছু‌টে চলা। প‌থিম‌ধ্যে পাঙাস মাছ চা‌ষের ঘের দেখার জন‌্য শেরপু‌রের তেঘ‌রি হাজীবাড়ী এলাকায় যাত্রা‌বির‌তি ক‌রে কিছুটা সময় কাটা‌নোর পর পুনরায় গন্ত‌ব্যের উদ্দে‌শ্যে যাত্রা।

    গাড়ীর অভ‌্যন্ত‌রে দীর্ঘসময় এক‌ত্রে কাটা‌নোর সু‌যো‌গে, নি‌জে‌দের ম‌ধ্যে বি‌ভিন্ন বিষ‌য়ে ক‌থোপকথন, অ‌ভিজ্ঞতা ভাগাভা‌গি ক‌রে নেয়াটা খুবই উপ‌ভোগ‌্য হ‌য়ে উঠে। বিকেল গ‌ড়ি‌য়ে সন্ধ‌্যা নামার প্রাক্কা‌লে প্রকৃ‌তি ধরা দেয় এক মোহনীয় রূ‌পে! দু’‌চোখ জু‌ড়ি‌য়ে যায় প্রিয় মাতৃভূ‌মির এমন সৌন্দর্য‌্য অব‌লোকন ক‌রে।

    স্থানীয় এক‌টি রে‌স্তোরায় স্ন‌্যাকস গ্রহণ ক‌রে অব‌শে‌ষে সন্ধ‌্যর কিছুটা প‌রে আমরা পৌছে যাই আমা‌দের গন্তব‌্য শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী‌তে। পূর্ব থে‌কেই সংরক্ষণ করা সুস‌জ্জিত রু‌মে পৌ‌ছে ‌ফ্রেশ হ‌বার পর সারা‌দি‌নের ভ্রম‌ণের ক্লা‌ন্তি কোথায় মি‌লি‌য়ে যায়, তা টেরই পাওয়া গে‌লোনা।

    টানা দুইঘন্টা বিশ্রাম নেবার পর বাইরে বে‌রি‌য়ে স্থানীয় মুখ‌রোচক রা‌তের খাবার শে‌ষে পুনরায় রু‌মে এসে গল্প করা শে‌ষে ঘুমু‌তে যাবার মধ‌্য দি‌য়ে শেষ হয় আনন্দভ্রম‌ণের আনন্দময় প্রথম দিন‌টি।

    প‌রের‌দিন প্রত‌্যু‌ষে ঘুম থে‌কে জে‌গে ফ্রেশ হ‌য়ে, ৪২ বছ‌রের পুর‌নো স্থানীয় রে‌স্তোরায় জগ‌দ্বিখ‌্যাত তুল‌সিমালা ধা‌নের চা‌লের খিঁচু‌ড়ি খাবার উদ্দে‌শ্যে রওয়ানা ক‌রে সক‌লে।

    পেটপু‌রে অত‌্যন্ত সুস্বাদু খিঁচু‌ড়ি দি‌য়ে নাস্তা সে‌রে গজনী অবকাশ কেন্দ্র প‌রিদর্শ‌নে যাবার তর যে‌নো আর সইছি‌লোনা কা‌রোরই। গামারী আর গজারী ব‌নের মাঝখান দি‌য়ে চল‌তে চল‌তে আমরা পৌ‌ছে যাই গজনী অবকাশ কে‌ন্দ্রে।

    অবকাশ কেন্দ্রটির বি‌ভিন্ন দর্শনীয় স্থান প‌রিদর্শনকা‌লে উচ্ছ্ব‌সিত হ‌য়ে বার বার সক‌লেই বল‌ছি‌লো, আমার এ দেশ এতো সুন্দর! স‌ত্যিই এক ম‌নোমুগ্ধকর প‌রি‌বেশ ছি‌লো গজনী অবকাশ কেন্দ্র।

    আকাশচু‌ম্বি প‌রিদর্শন টাওয়ার থে‌কে পার্শবর্তী প্রতি‌বেশী দেশ ভার‌তের মেঘালয় দেখা যা‌চ্ছিল আবছায়ায়। গা‌রো মা পল্লী‌তে, গা‌রো মা এবং তাঁর পি‌ঠেশিশুসন্তান‌ কে বহন করার প্রতী‌কি মূ‌র্তি‌তে গা‌রো মা সহ সকল মা‌কে সন্মান জানা‌নোর বিষয়‌টি আপ্লুত ক‌রে‌ছি‌লো সবাইকে। গজনী অবকাশ কেন্দ্র থে‌কেজামালপু‌রের লাউচাপড়া অবকাশ কে‌ন্দ্র প‌রিদর্শ‌নে যায় প্রেসক্লাব সাটু‌রিয়ার সদস‌্যরা।

    অবকাশ‌কে‌ন্দ্রের বি‌ভিন্ন স্থান প‌রিদর্শন শে‌ষে জামালপু‌রের বক‌শিগ‌ঞ্জের-‌মেলান্দগঞ্জ সীমান্ত দেখ‌তে যাবার প‌থিম‌ধ্যে বণ‌্যহা‌ঁতির পথ‌রোধ ক‌রে দাঁ‌ড়ি‌য়ে থাকার খব‌রে ‌কিছুটা ভীত-সন্ত্রস্ত হ‌য়ে পর‌লেও, অদম‌্য কৌতুহলব‌শে গাড়ী থে‌কে নে‌মে নিরাপদ দুর‌ত্বে দাঁ‌ড়ি‌য়ে বণ‌্য হাঁ‌তি দেখে সবাই।

    সীমা‌ন্তে পৌছে খুব কাছ থে‌কে প্রতি‌বেশী দেশ ভার‌তের মেঘালয় রা‌জ্যের মেলান্দগঞ্জ সীমান্ত দূর থে‌কে দে‌খে সবাই। বক‌শিগ‌ঞ্জে দুপু‌রের খাবার গ্রহণ শে‌ষে ফেরার প্রস্তু‌তি গ্রহণ শুরু হয়।

    টাঙ্গাইলের মুধুপু‌রে যাত্রা‌বিরতী‌তে পাহাড়ী আনার‌সের সু‌মিষ্ট রসা‌লো স্বাদ নি‌তে ভু‌লেনা কেউ। কা‌লিহাতী‌তে চা প‌া‌নের বির‌তি শে‌ষে প্রেসক্লাব সাটু‌রিয়ার উদ্দে‌শ্যে যাত্রা ক‌রে রাত ৯টায় সাটু‌রিয়ায় ফি‌রে আসার মধ‌্য দি‌য়ে শেষ হয় আনন্দভ্রমণ, অ‌র্জিত হয় এক দারুণ অ‌ভিজ্ঞতা।

  • জুতা পরে মসজিদে গিয়ে কটাক্ষের মুখে সোনাক্ষী

    জুতা পরে মসজিদে গিয়ে কটাক্ষের মুখে সোনাক্ষী

    বিয়ে হওয়ার পর থেকেই নানা কারণে সমালোচনার মুখে বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা ও তার স্বামী জাহির ইকবাল। এবার নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন এই দম্পতি—সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবু ধাবিতে অবস্থিত ঐতিহাসিক শেখ জায়েদ মসজিদের সামনে তোলা কিছু ছবি ঘিরে।

    সম্প্রতি সোনাক্ষী ও জাহির এই মসজিদ পরিদর্শনে যান এবং নিজেদের সফরের কিছু মুহূর্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন। তবে ছবি গুলোর একটিতে দেখা যায়, তারা দু’জনেই জুতো পায়ে মসজিদের চত্বরে হাঁটছেন। ছবিটি প্রকাশ হতেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।

    নেটিজেনদের অনেকেই সেই ছবিটি আলাদাভাবে শেয়ার করে সোনাক্ষী-জাহির দম্পতির ধর্মীয় অবমাননার অভিযোগ তুলে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেন—“এটা অসম্মানজনক”, “পবিত্র স্থানে জুতো পায়ে কেন? এমন নানা তীর্যক মন্তব্যে ভরে যায় কমেন্ট বক্স।

    বিতর্ক যখন চরমে, তখনই মুখ খোলেন অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহা। এক পোস্টে তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে লেখেন, আপনারা দয়া করে ভালো করে দেখুন। আমরা মসজিদের বাইরে জুতো পরে হেঁটেছিলাম। মসজিদের মূল ভবনের ভেতরে জুতো পায়ে যাইনি।

    তিনি আরও লেখেন, মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করার আগেই নির্দিষ্ট জায়গায় জুতো খুলে রেখেছিলাম আমরা। এটুকু বোধ আমাদের আছে। এবার আপনারা থামুন। নিজের কাজে মন দিন।”

     

  • জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রয়োজন-আব্দুল্লাহ তাহের

    জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রয়োজন-আব্দুল্লাহ তাহের

    এখন জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। তিনি বলেছেন, দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে বহু দলের পরিশ্রমে আমরা যে ঐকমত্যে পৌঁছেছি তাতে অনেকে সই করেছে। এখন প্রয়োজন জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি।

    বুধবার (২২ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মা’ছুম ও রফিকুল ইসলাম খান।

    তাহের বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিয়ে আদেশ কে দেবেন এটা নিয়ে নানা প্রশ্ন আছে। আমরা চাই এটা প্রধান উপদেষ্টা দেবেন। আইনগত ব্যত্যয় না ঘটলে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সাংবাধিনাকি আদেশ জারি করে জুলাই সনদের আইনের ভিত্তি ঘোষণা দিতে পারেন।

    তাহের আরও বলেন, গণভোটের ব্যাপারে বলেছি। বিএনপিও গণভোটে রাজি হয়েছে। তবে বিএনপি জটিলতা তৈরি করেছে। তারা চাচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের দিন গণভোট হোক। কিন্ত গণভোট হলো সংস্কারের সঙ্গে জড়িত, এটাকে জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে মেলানো যাবে না।

    তিনি আরও বলেন, বিএনপি অজুহাত দেখাচ্ছে গণভোটের সময় নেই। কিন্ত গণভোটের যথেষ্ট সময় আছে। নভেম্বরেই সেটা করা যাবে। এই গণভোট হলেই তাহলে জনগণের সিদ্ধান্ত নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে নির্বাচন হবে, নয়তো আগের মতোই হবে।

    আব্দুল্লাহ তাহের বলেন, আমরা উপদেষ্টাকে জানিয়েছি, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হলে এই পরিশ্রম পণ্ডশ্রম হবে। ড.ইউনূস এ ব্যাপারে আশ্বাস দিয়েছেন। একটা আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি হবে বলে প্রধান উপদেষ্টা জানিয়েছেন।

  • জুলাই সনদ শুধু কাগজে নয়, বাস্তবায়নের নির্ভরযোগ্যতা থাকতে হবে

    জুলাই সনদ শুধু কাগজে নয়, বাস্তবায়নের নির্ভরযোগ্যতা থাকতে হবে

    জুলাই সনদ শুধু কাগজে নয়, বাস্তবায়নের নির্ভরযোগ্যতা থাকতে হবে। বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিষ্কার না হলে স্বাক্ষর অর্থহীন হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

    বুধবার (২২ অক্টোবর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে জুলাই গণহত্যা-বিচার, ‘জুলাই সনদ’, নির্বাচন কমিশন, জন প্রশাসন, উপদেষ্টা পরিষদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ধারণাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, “প্রথমে কখন, কীভাবে ও কার মাধ্যমে এই সনদ বাস্তবায়িত হবে, তার একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে। এরপরই আমরা সিদ্ধান্ত নেব, স্বাক্ষর করব কি না।”

    নাহিদ ইসলাম বলেন, “প্রথমে কখন, কীভাবে ও কার মাধ্যমে এই সনদ বাস্তবায়িত হবে, তার একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে। এরপরই আমরা সিদ্ধান্ত নেব, স্বাক্ষর করব কি না।”

    তিনি আরো বলেন,“সনদ বাস্তবায়নে যদি সংবিধানবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়, তবে তার বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতে এই সনদ কার্যকর করতে হবে এবং প্রয়োজনে গণভোটের ব্যবস্থা রাখতে হবে।”

    এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, “বর্তমান নির্বাচন কমিশন কি সত্যিই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারছে, সেটি স্পষ্ট নয়। কিছু ক্ষেত্রে দলীয় প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “সরকারের দায়িত্ব হলো সবার জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা।”

    নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে নই। তবে বর্তমান সরকার যেন নিরপেক্ষভাবে তত্ত্বাবধায়ক-সদৃশ দায়িত্ব পালন করে, সেটাই আমরা চাই।”

    তিনি আরো বলেন, “যেহেতু জুলাই সনদ এখনও আলোচনার পর্যায়ে, তাই এখনই নতুন সরকার বা উপদেষ্টা পরিষদ সম্পূর্ণ পরিবর্তন করা আইনগতভাবে উপযুক্ত নয়। এ বিষয়ে এনসিপি সংবিধান সংস্কার, গণভোট এবং আইন প্রক্রিয়ার রূপরেখা চেয়েছে।”

    নির্বাচন কমিশন এনসিপিকে নিবন্ধন ও ‘শাপলা’ প্রতীক না দেয়, তবে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে জানিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, “এটি শুধু প্রতীকের বিষয় নয়, বরং কমিশনের ন্যায্যতা ও নিরপেক্ষতার প্রশ্ন।”

    বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের মামলার প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ ইসলাম প্রশ্ন তোলেন,“নির্বাচন কমিশন কি নির্বাচনের প্রস্তুতিতে যথেষ্ট কার্যকর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।”

  • গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসদাচরণ’

    গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসদাচরণ’

    জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যকে ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসদাচরণ’ বলে নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। এনসিপি নেতারা বলেছেন, গোলাম পরওয়ারের মন্তব্য রাজনৈতিক শিষ্টাচারবিরোধী এবং এতে দুই দলের সম্পর্কের টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

    ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে। পোস্টটিতে তিনি দাবি করেন, “জামায়াতে ইসলামী পিআর পদ্ধতি নিয়ে যে তথাকথিত আন্দোলন শুরু করেছিল, সেটি ছিল এক সুচিন্তিত রাজনৈতিক প্রতারণা।”

    তিনি আরও বলেন, “সেই আন্দোলন পরিকল্পিতভাবে করা হচ্ছিল ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়া ও জাতীয় আলোচনাকে গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র ও সংবিধান পুনর্গঠনের আসল প্রশ্ন থেকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই।”

    এরপর জামায়াতে ইসলামী পক্ষ থেকে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের সমালোচনা করা হয়। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, “রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সময় শিষ্টাচার বজায় রাখা উচিত।”

    তবে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় যখন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার সাতক্ষীরায় দলীয় এক সমাবেশে বলেন, “একটা দল ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে বলেছে, আমরা সংস্কার বা অভ্যুত্থানে কোনও ভূমিকা রাখিনি।

    আরে বাবা, তোমরা নতুন ছাত্রদের দল। রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে পাল্লা দিতে গেলে আরও বহুদূর যেতে হবে। জন্ম নিয়েই বাপের সঙ্গে পাল্লা দিও না।”

    তার এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার ঝড় ওঠে এবং এনসিপির পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন বিবিসি বাংলাকে বলেন, “জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্য শুধু অসৌজন্যমূলক নয়, রাজনৈতিক ঔদ্ধত্যপূর্ণও বটে। ওনারা আমাদের বাবা দাদাদের বয়সী, ওনাদের কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়।”

    অন্যদিকে দলটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, “রাজনীতিতে কারও বাপ হতে চাওয়ার মানসিকতা এক ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিগত সমস্যা।

    গণঅভ্যুত্থানই এখনকার সব রাজনৈতিক দলের বাপ—কারণ এনসিপির জন্ম সেই প্রেক্ষাপটে। বিপদের সময় অন্যের নেতৃত্বে কাজ করে, পরে নেতৃত্বের দাবি করা রাজনৈতিক বালখিল্যতা ছাড়া কিছু নয়।”

    তবে জামায়াতে ইসলামী এ নিয়ে ভিন্ন অবস্থান জানিয়েছে। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জোবায়ের বলেন, “মিয়া গোলাম পরওয়ার কোনও নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির নাম নেননি।

    তিনি স্নেহের অবস্থান থেকে কিছু পর্যবেক্ষণ করেছেন। আমরা সবাই ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সহযোদ্ধা এবং দেশ গঠনে একসঙ্গে কাজ করছি।”

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরওয়ারের বক্তব্য ও এনসিপির প্রতিক্রিয়া দুই দলের সম্পর্কের উষ্ণতা কমিয়ে দিতে পারে।

    বিশেষ করে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতিতে একসঙ্গে অবস্থান করা এই দুই দলের মধ্যে সাম্প্রতিক মন্তব্য বিনিময় নতুন বাস্তবতা তৈরি করতে পারে।

  • জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

    জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি

    জাপানের ইতিহাসে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কট্টরপন্থি রক্ষণশীল ব্যক্তিত্ব সানায়ে তাকাইচি নির্বাচিত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) দেশটির পার্লামেন্টে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। খবর বিবিসির।

    জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষ- উভয় কক্ষেই তাকাইচি সংখ্যা-গরিষ্ঠতা অর্জন করেছেন। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী তাকাইচি নিম্নকক্ষে পেয়েছেন ২৩৭ ভোট, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ২৩৩ ভোটের চেয়ে বেশি।

    তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ডেমোক্রেটিক পার্টি অব জাপানের প্রার্থী ইউশিহিকো নোদা পেয়েছেন ১৪৯ ভোট। রান অফ ভোটের পর, পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষও তাকাইচিকে জাপানের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করেছে।

    উচ্চকক্ষে তাকাইচি ১২৫ ভোট পেয়েছেন, যা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য তার প্রয়োজনীয় ভোটের চেয়ে একটি বেশি।

    বিবিসির প্রতিবেদনে বলছে, জাপানে এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, কারণ ইতিহাসে এই প্রথমবার দেশটি শীর্ষপদে একজন নারীকে নির্বাচিত করেছে। পুরুষ নেতৃত্বাধীন জাপানের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায় শুরু করতে যাচ্ছেন তাকাইচি।

     

  • স্রোতস্বিনী’

    স্রোতস্বিনী’

    হে স্রোতস্বিনী’,
    তুমাকেই খোজেঁ মরি
    জগৎ প্রবাহদ্বারে
    করুনার ভিক্ষা মাগি- ‘হে প্রিয়’
    দাও, বাহু দু‘খানি বাড়িয়ে।।

    তুমারী তরে ভিখারী আমি
    আজ, রাজন-রজত ঘুরি,
    স্বপ্ন দেখি, অ-দেখারে
    মানস- কল্পনা জুড়ি।।

    হে প্রিয় মোর, আধাঁরের-আলো
    – প্রদীপান্ত আশা,
    অশুচিতার-শুচীপত্র
    -বিশ্বাস-ভালবাসা।।

    মনিকা তব, তোমা-নগ্ন বক্ষে শুয়ে
    চির-নিদ্রায়-কেটে যাক
    মহাকাল, মহাযুগের বৈরীতা –
    মিলন মহীরূহে।।

    ধূ‘সর বীনার তার
    এই ধরা পরাগ দুলে,
    মিলডীর বিতান ছড়াক
    ধূপ- নহর তুলে।।

    ভালবেসে তুমি-আমি
    ফিরে যাই, মৃত্যুর কাছাকাছি
    যেথায়, বিপন্ন ধারা বয়ে-
    আসা-যাওয়ার, কালস্রোত।।

     

     

  • টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হামিদুল হকের ইন্তেকাল

    টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হামিদুল হকের ইন্তেকাল

    টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হামিদুল হক মোহন মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ছেলে মিল্টন হক।

    মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী এবং রাজনৈতিক অনুরাগী রেখে গেছেন তিনি।

    মিল্টন হক বলেন, টাঙ্গাইল-৬ (দেলদুয়ার-নাগরপুর) আসনেমনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে প্রতিদিনের মতো সোমবারও (২০ অক্টোবর) গণসংযোগে বের হয়ে ছিলেন। দেলদুয়ার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করে বিকালে দেউলী ইউনিয়নে পথসভা করে বাড়ি ফিরছিলেন। এমন সময় গাড়িতেই তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এই অবস্থায় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হামিদুল মোহনের মৃত্যুতে টাঙ্গাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি টাঙ্গাইল শহরের কলেজ পাড়ায় বসবাস করতেন। তবে তার গ্রামের বাড়ি জেলার দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ইউনিয়নের মঙ্গলহোড় গ্রামে। একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

    কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবালসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা হামিদুল মোহনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।

  • বগুড়ায় এনসিপির অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণ

    বগুড়ায় এনসিপির অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণ

    বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা।সোমবার (২০ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে জেলা পরিষদের সামনে এই ঘটনা ঘটে। সে সময় জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে এনসিপির জেলা সমন্বয় সভা চলছিল। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সারজিস আলম।

    বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) হুসেইন মোহাম্মদ রায়হান বলেন, ‘‘ককটেল বিস্ফোরণের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।’’

    এনসিপির বগুড়া জেলা সমন্বয়কারী সদস্য সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘‘জেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে আমাদের পূর্ব নির্ধারিত সভা ছিল। সেখানে সারজিস আলম, সাকিব মাহদীসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ বাইরে ককটেল বিস্ফোরণ হয়।

  • মানিকগঞ্জ জলাশয় থেকে বৃদ্ধার মরাদেহ উদ্ধার: ছেলে ও ছেলের বউ আটক ​

    মানিকগঞ্জ জলাশয় থেকে বৃদ্ধার মরাদেহ উদ্ধার: ছেলে ও ছেলের বউ আটক ​

    ​মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় একটি জলাশয় ডুবা থেকে লক্ষ্মী রানী রাজবংশী (৮৫) নামের এক বৃদ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত এই বৃদ্ধা দীর্ঘদিনের প্যারালাইসিস রোগী ছিলেন।

    ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের ছেলে রঞ্জিত রাজবংশী এবং ছেলের স্ত্রী পারবতী রাজবংশীকে আটক করেছে।

    নিহতের নাতি পিয়াস রাজবাড়ী পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে। আজ ২০ (অক্টোবর)​ সোমবার উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়নের দরগ্রাম মাঝিপাড়া এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। লক্ষ্মী রানী রাজবংশী ছিলেন মৃত যোগেশ রাজবংশীর স্ত্রী।

    স্থানীয় ও এলাকাবাসী ​সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দরগ্রাম মাঝিপাড়া গ্রামে লক্ষ্মী রানী রাজবংশীর ছেলে ও ছেলের স্ত্রীরা ঠিকমতো দেখাশোনা না করার করনে তিন মেয়ের বাড়িতে থাকতেন।

    সম্প্রতি লক্ষ্মী রানী রাজবংশী ছেলের বাড়িতে আসেন। ছেলে ও ছেলের স্ত্রীরা ঠিকমতো দেখাশোনা না করে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃদ্ধার নিথর দেহ রাতের অন্ধকারে বাড়ির পাশের একটি ডুবায় ফেলে রেখে যায়। ​খবর পেয়ে সাটুরিয়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থন থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়।

    লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ​অপর দিকে ঘটনার খবর পেয়ে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোচ্ছা: ইয়াসমিন খাতুন,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো: সালাউদ্দিন এবং সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: শাহিনুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ​

    সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান,জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছেলে ও ছেলের বউকে থানায় আনা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।