Category: সারাদেশ

  • সবার প্রতি সম্মান রেখেই সংশোধন প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে-জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

    সবার প্রতি সম্মান রেখেই সংশোধন প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে-জাতীয় ঐকমত্য কমিশন

    রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য ও অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সংশোধন প্রস্তাব তৈরি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তবে বিতর্ক এড়াতে সতর্ক থেকে অনেক কিছুই বাদ দিয়ে কমিশন এগোচ্ছে বলেও তিনি জানান।

    সোমবার (৭ জুলাই) ঢাকার ফরেন সার্ভিস একাডেমির দোয়েল হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বিতীয় পর্যায়ের ১০ম দিনের উদ্বোধনী বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

    ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি বলেন, “কোনো কিছু চাপিয়ে দেওয়া নয়, বরং দলগুলোর মতামত বিবেচনায় রেখে সুপারিশ করা হচ্ছে।”

    এ সময় কমিশনের সদস্য ইফতেখারুজ্জামান, বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

    আলী রীয়াজ বলেন, “জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল নিয়ে ভিন্ন দলগুলোর ভিন্ন অবস্থান রয়েছে। তাই একাধিক প্রস্তাব রাখা হয়েছে যাতে সর্বোত্তম সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়।”

    রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে আমরা সতর্ক এবং অনেক কিছু বাদ দিয়েই এগোচ্ছি। আলোচনার গতি বজায় রাখতে সবাইকে আন্তরিক সহযোগিতা করতে হবে।”

    আজকের আলোচনায় নির্বাচনি এলাকা নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং রাষ্ট্রপতির ক্ষমা প্রদর্শনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে বলেও তিনি জানান। এছাড়া, উপজেলা পর্যায়ে অধস্তন আদালতের সম্প্রসারণ, জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়েও মতবিনিময় হবে।

    এদিন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিসহ মোট ৩০টি রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি আলোচনায় অংশ নেন।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে এনসিপি’র জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে এনসিপি’র জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ “সীমান্তে আগ্রাসন হলে লংমার্চ ঘোষণা করা হবে” এ হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, সীমান্তে বারবার নিরীহ বাংলাদেশীদের হত্যা করা হচ্ছে, যা মেনে নেওয়া যায় না। সীমান্ত রক্ষায় দেশের জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।

    রবিবার (৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটায় জুলাই পদযাত্রায় ষষ্ঠ দিনে কর্মসূচীর অংশ হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মোড়ে এনসিপির উদ্যোগে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি। ‘বিচার, সংস্কার ও দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে জনতার দুয়ারে জুলাই’ স্লোগানে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’র ষষ্ঠ দিনে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চাই। সকল জেলা থেকে বৈষম্য দূর করতে হবে। মৌলিক সংস্কার ও বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নতুন বাংলাদেশে রাজনৈতিক বৈষম্যের সুযোগ থাকবে না।” এনসিপি আহবায়ক আরও বলেন, “চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে কোনো আগ্রাসন বরদাশত করা হবে না।

    ইতিমধ্যেই এই জেলার সাহসী মানুষ সীমান্ত আগ্রাসন প্রতিহত করেছে”, তিনি বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কার, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন, অতীতের গণহত্যার বিচার এবং জনগণের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠাই জাতীয় নাগরিক কমিটির মূল লক্ষ্য।” তিনি আরও বলেন, “দেশের জনগণ এখন সচেতন ও সংগঠিত। তারা আর অন্যায় সহ্য করবে না। সীমান্তে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা দখলচেষ্টা রুখে দিতে জনগণ প্রস্তুত।”

    ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর সমালোচনা করে নাহিদ বলেন, সীমান্তে বিএসএফ আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে গ্রেনেড মারে, এখানে বোমার বিষ্ফোরণ ঘটনায়। আমরা কিন্তু এইসব আগ্রাসন আর মেনে নিবোনা। সীমান্তে অনেক বাহাদুরি করেছেন দাদারা, সেই দিন শেষ হয়েছে। আবার আগ্রাসন চালানো হলে, আমার ভাইদের হত্যা করা হলে আমরা লং মার্চ ঘোষনা করবো।

    আমাদের সীমান্ত আমরাই রক্ষা করবো। তিনি আরও বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী দীর্ঘদিন ধরে ট্রেনের জন্য আন্দোলন করছেন। আমরা এই সভা থেকে আপনাদের দাবির প্রতি পূর্ণ সমর্থন করছি। সরকার যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর এই দাবি পুরণ করেন। পথসভায় আরও বক্তব্য দেন এনসিপি সদস্য সচিব আখতার হোসেন।

    তিনি বলেন, “আমরা আর রাজনৈতিক বৈষম্য দেখতে চাই না। নতুন সংবিধান চাই, নতুন পথচলা চাই। জুলাই সনদ ও ঘোষণাপত্র চাই, যাতে ভারত, আমেরিকা কিংবা চীন কেউ আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে না পারে।

    ” সভায় দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ডা. তাসনুভা জাবিন বলেন, “জনতাই ক্ষমতা। আমরা স্বপ্ন দেখি এক গণমুখী ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রের। ভুল-ত্রুটি থাকলে আপনারা তা ধরিয়ে দেবেন।” পথসভায় সভাপতিত্ব করেন এনসিপির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক আলউল হক।

    বক্তব্য রাখেন দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা, আসিফ মোস্তফা জামাল (নেহাল)। এর আগে নওগাঁ থেকে সড়ক পথে দুপুর ২টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা চাঁপাইনবাবগঞ্জে পৌঁছান। এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় নেতাদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

    পরে শান্তি মোড় থেকে শুরু হয় ‘জুলাই পদযাত্রা’। পদযাত্রাটি শহরের বাতেন খাঁ মোড়, নিমতলা মোড়, বড় ইন্দারা মোড়, গাবতলা মোড়, ক্লাব সুপার মার্কেট চত্বর প্রদক্ষিন করে নবাবগঞ্জ সরকারী কলেজ চত্বরে পথসভায় মিলিত হয়।

    পদযাত্রায় নেতৃত্ব দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। পদযাত্রার সময় নেতারা বিভিন্ন স্থানে থেমে জনতার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। সভা শেষে ফিতা কেটে এনসিপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ে উদ্বোধন করেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। শেষে মিষ্টি মুখ করেন। দলটির নেতারা জানান, “এই সফর হচ্ছে এনসিপির জাতীয় গণসংযোগ কর্মসূচির অংশ।

    দেশের নানা অঞ্চলে জনগণের প্রত্যাশা ও অভিমতকে গুরুত্ব দিয়েই গড়ে তোলা হবে দলের কর্মপন্থা ও ইশতেহার। আগামী ইশতেহারে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বৈষম্যের শিকার সব অঞ্চলের মানুষের মুক্তির কথা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হবে। এনসিপির দাবি, জুলাই আন্দোলন শুধু ইতিহাস নয়, এটি একটি নতুন বাংলাদেশের সূচনার পথ। সেজন্য তারা ‘জুলাই ঘোষণা’কে দেশের রাজনীতির নতুন দিকনির্দেশনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

    পদযাত্রা ও পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের সঞ্চালনায় সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক সাইফুল্লাহ হায়দার, আসাদুল্লাহ আল গালিব ও আবু সাঈদ লিয়ন, উত্তরাঞ্চলের সংগঠক নাজমুল হাসান সোহাগ, দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা আলম মিতু ও মোহাম্মদ আতাউল্লাহ, সদস্য ফিহাদুর রহমান দিবস।

    পদযাত্রা ও পথসভায় জেলার এনসিপির বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থী, সাধারণ নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে এনসিপির চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয় উদ্বোধন শেষে রাজশাহীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন এনসিপির নেতৃবৃন্দ।

  • মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ৪

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার ৪

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকসহ ৪ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে সাটুরিয়া থানা পুলিশ। আজ সোমবার বিকেলে উপজেলার বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,উপজেলার হরগজ ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোশাররফ হোসেন বাকা (৪৬), পিতা মৃত- আলেপ মোল্লা, সাটুরিয়া ইউনিয়নের উত্তর কাওন্নারা গ্রামের উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক(৪৫), পিতা মৃত-মৃত ফজলুর রহমান, সাটুরিয়া ইউনিয়নের চামুটিয়া গ্রামের মৃত তোলা মাষ্টার ছেলে (আওয়ামী লীগ নেতা) মো: হেলাল উদ্দিন (৪৮) ও কাওন্নরা গ্রামের আছর উদ্দিন ছেলে রাব্বি মিয়া(২৩)।

    থানা সূত্রে জানা যায়,সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পুলিশের দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামলায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও ৬০/৭০ জন অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

    সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শাহিনুল ইসলাম জানান, মামলায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় তাদের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সাথে এনসিপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য স্বাক্ষাৎ !

    মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সাথে এনসিপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য স্বাক্ষাৎ !

    মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক জনাব ড. মনোয়ার হোসেন মোল্লার (উপ-সচিব) সাথে সৌজন্য স্বাক্ষাৎ করেছেন জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতৃবৃন্দ। আজ সোমবার সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই স্বাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। এনসিপির পক্ষ থেকে এই স্বাক্ষাতের নেতৃত্ব প্রদান করেন, মানিকগঞ্জ জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক এ্যাড. জনাব জাহিদুর রহমান তালুকদার।

    স্বাক্ষাতে জুলাই বিপ্লবে এসিপির অবদানের কথা স্মরণ করে জেলা প্রশাসক বলেন, দেশ ও জাতির কল্যাণে এসিপির অবদান অবি-স্মরনীয়। এই সময় তিনি দেশের ক্রান্তিলগ্নে,  যে কোন সমস্যা সমাধানে এনসিপিকে এগিয়ে আশার আহ্ববান জানান। তিনি বলেন, দেশও জাতির গঠণে ছাত্রসমাজ ও তরুন নেতৃত্বের বিকল্প নাই।

    জেলা প্রশাসক মহোদ্বয়কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে এনসিপির নেতা জনাব এ্যাড. জাহিদুর রহমান তালুকদার বলেন, মূলতঃ দেশ ও জাতি গঠণের অঙ্গিকার নিয়েই জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপির) জন্ম হয়েছে। ঔপনিবেশিক শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আন্দোলন চলমান থাকবে।

    তিনি আরো বলেন, আমাদের লক্ষ্য ‘শুধু শাসকের পরির্বতন নয়, আমরা গোটা শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তন চাই। আমরা দেশের সকল প্রকার দুনীর্তি, সন্ত্রাস, দখলবাজী, অপ-রাজনীতি ও রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের বিলোপ চাই। আমরা একটি সাম্য, সমতার বাংলাদেশ চাই। সকল পেশা ও সকল শ্রেনীর মানুষের সমান অধিকার ও সহ-অবস্থান চাই।

    এই সময় তিনি, আগামী ১৭ই জুলাই এনসিপির উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের মানিকগঞ্জ সফর সম্পর্কে জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন এবং এই ব্যাপারে সর্বাত্বক সহযোগিতা কামনা করেন।

  • মানিকগঞ্জে ৩০ হাজার ইমাম ভক্তের অংশগ্রহণে হবে তাজিয়া মিছিল

    মানিকগঞ্জে ৩০ হাজার ইমাম ভক্তের অংশগ্রহণে হবে তাজিয়া মিছিল

    শতাব্দী প্রাচীন মানিকগঞ্জের গড়পাড়া ইমাম বাড়িতে প্রতিবারের মতো এবারো যাথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র আশুরা উদযাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

    রবিবার (৬ জুলাই) সকাল থেকেই হাজারো ভক্ত আর দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ইমামবাড়ির প্রাঙ্গণ। বিকেলে প্রায় ৩০ হাজার ইমাম ভক্তের অংশগ্রহণে বের হবে তাজিয়া মিছিল।

    আজ সকাল থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে গড়পাড়া ইমাম বাড়িতে জড়ো হতে শুরু করেছেন মানুষ। ‘হায় হোসেন’ ‘হায় হোসেন’ ধ্বনিতে ইমাম বাড়ি আঙ্গিনা ও মাঠে মাতম করতে দেখা গেছে তাদের।

    কারবালার স্মৃতিকে স্মরণ করে গতকাল শনিবার রাতভর চলে জারি, সারি ও মার্সিয়া মাতমসহ নানা আনুষ্ঠানিকতা। আয়োজকরা জানান, তাজিয়া মিছিলে ইমাম হোসেনের ঘোড়া দুলদুলের প্রতিকৃতি এবং কারবালার স্মৃতির সঙ্গে জড়িত লাল-সবুজ নিশান হাতে নিয়ে অংশগ্রহণ নেবেন ইমাম হোসেনের ভক্তরা।

    ইমাম বাড়ি থেকে বের হওয়া তাজিয়া মিছিল শেষ হবে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ মাঠে। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

    গড়পাড়া ইমাম বাড়ির পীর শাহ আশিকুর রহমান বাবু জানান, গড়পাড়া ইমাম বাড়িতে বংশপরম্পরায় প্রায় শত বছর ধরে পবিত্র আশুরা পালন করে আসছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে হাজারো মানুষ সমবেত হন। যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ইমাম ভক্তরা মার্সিয়া মাতমসহ নানা আয়োজনে অংশ নেন।

    মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোছা. ইয়াছমিন খাতুন বলেন, তাজিয়া মিছিলকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে জেলা পুলিশ। গড়পাড়া ইমাম বাড়িসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    ১০ মহররম বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ দিন। দিনটি পবিত্র আশুরা নামে পরিচিত। আশুরা শব্দের অর্থ দশম। মহররম অর্থ সম্মানিত। হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে যুদ্ধ করতে গিয়ে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.) এবং তার পরিবারের সদস্যরা কারবালার প্রান্তরে ফোরাত নদীর তীরে নির্মমভাবে শহীদ হন।

    ইমাম হোসেনের আত্মত্যাগ ও সপরিবারে শহীদ হওয়ার ঘটনাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে আসছে মানিকগঞ্জের গড়পাড়া ইমাম বাড়ি।

  • আমেরিকা পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দল করেছেন ইলন মাস্ক

    আমেরিকা পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দল করেছেন ইলন মাস্ক

    মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক একটি নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করছেন।মাস্ক তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানিয়েছেন, তিনি আমেরিকা পার্টি নামের একটি নতুন দল প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তার দলকে রিপাবলিকান এবং ডেমোক্রেটিক পার্টির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হিসাবে অভিহিত করেছেন।

    তবে দলটি মার্কিন নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত কিনা তা স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে জন্ম নেওয়ায় মাস্ক মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার অযোগ্য। দলের নেতৃত্বে কে থাকবেন তা জানাননি এখনো মাস্ক।

    ট্রাম্পের সাথে তার প্রকাশ্য বিরোধের সময় মাস্ক দল গঠনের সম্ভাবনা উত্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বের হয়ে সাবেক মিত্রের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।

    বিরোধের সময় মাস্ক এক্স-এ একটি জরিপ পরিচালনা করেছিলেন। সেখানে ব্যবহারকারী দের জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একটি নতুন রাজনৈতিক দল থাকা উচিত কিনা।

    শনিবার তার পোস্টে সেই জরিপের কথা উল্লেখ করে মাস্ক লিখেছেন, “২-১ এর ব্যবধান, আপনারা একটি নতুন রাজনৈতিক দল চান এবং আপনারা তা পাবেনেই! যখন অপচয় ও দুর্নীতির মাধ্যমে আমাদের দেশকে দেউলিয়া করার কথা আসে, তখন আমরা গণতন্ত্র নয়, একদলীয় ব্যবস্থায় বাস করি।

    আজ, আমেরিকা পার্টি আপনাকে আপনার স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য গঠিত হয়েছে।”শনিবার পর্যন্ত ফেডারেল ইলেক্টোরাল কমিশন দলটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধিত করার নথি প্রকাশ করেনি।

  • সাটুরিয়ার দিঘলীয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন

    সাটুরিয়ার দিঘলীয়া ইউনিয়ন বিএনপি’র সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচি উদ্বোধন

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র প্রাথমিক সদস্যপদ সংগ্রহ ও সদস্য নবায়ন কর্মসূচি সুষ্ঠভাবে হয়েছে। শনিবার ২৮ জুন বিকাল ৪ ঘটিকায় সাটুরিয়া উপজেলাধীন ২নং দিঘলীয়া ইউনিয়ন  বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে অত্র ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা বিএনপির সদস্য জনাব আব্দুল কদ্দুস খান মাখন মিয়া। সভায় সভাপতিত্ব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রিন্সিপাল জনাব মশিউর রহমান হেলালী।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কদ্দুস খান মাখন বলেন, ২০০৯ সারা বাংলাদেশে সদস্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তারই প্রেক্ষিতে জেলা উপজেলা ইউনিয়ন ওয়ার্ড সকল কমিটির গঠন করা হয়েছিল। বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন কারণে আর সদস্য সংগ্রহ করা হয় নাই। এখন আবার সারাদেশে সদস্য সংগ্রহ করার কার্যক্রম চালু হয়েছে। এর এই প্রেক্ষিতে আগামীতে সকল কমিটি গঠন করা হবে।

    তিনি আরো বলেন, কোনভাবে যাতে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের এসব সদস্য সংগ্রহ ফরম পূরণ করতে না পারে সেই দিকে আপনাদের দৃষ্টি রাখতে হবে। আপনারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে সদস্য সংগ্রহের কাজ চালিয়ে যাবেন।

    ইউনয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক জনাব আব্দুর রহমান বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার  দীর্ঘ নির্যাতন ও নিপীড়ন করেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তিকে দমাতে পারে নাই। ভবিষ্যতেও  আর কোন অপ-শক্তি আমাদেরকে দমাতে পারবে না ।

    তিনি আরো বলেন, আমরা তরুন প্রজন্মের অহংকার ভবিষ্যৎ দেশকান্ডারী তারেক রহমানের ডাকে সর্বদাই অবিচল থাকবো। নতুন সদস্যদের প্রতি আমার প্রাণ ঢালা অভিনন্দন থাকলো। আসুন, সম্মিলিত প্রয়াসে আমরা আরো একবার আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে মানিকগঞ্জের  মানিক আফরোজা খান রিতা আপার হাতকে শক্তিশালী করি।

    এই সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সংগ্রামী সাংগঠণিক সম্পাদক জনাব আব্দুর রহমান, পাকুটিয়া বিসিআরজি কলেজের প্রদর্শক মোঃ রফিকুল ইসলাম (রাজা মিয়া)  কোষাধ্যক্ষ মোঃ খোরশেদ আলম নোমান, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি জনাব জসীম উদ্দিন মাষ্টার, বিএনপির নেতা সানোয়ার হোসেন সানু ও  অঙ্গ-সংগঠণের নেতৃবৃন্দ।

  • সিংগাইরে বালু ফেলে দোকান বন্ধ ! ভোগান্তিতে ব্যবসায়ীরা

    সিংগাইরে বালু ফেলে দোকান বন্ধ ! ভোগান্তিতে ব্যবসায়ীরা

    মানিকগঞ্জের সিংগাইরে চান্দহর বাজারে একটি বিরোধপূর্ণ জমির দখল নিতে রাতের আঁধারে একটি দোকানের সাটার বন্ধ করে বালু ফেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। গত ৩০ জুন গভীর রাতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়।

    ভুক্তভোগী দোকান মালিক প্রবাসী রবিউল ইসলাম খান মুঠোফোনে জানিয়েছেন, জমিটি তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন এবং প্রায় ২৫ বছর ধরে সেখানে দোকান নির্মাণ করে ব্যবসা করছেন ও জমি ভোগদখল করছেন। এই জমি নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান আছে। তিনি আরও জানান, এর আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশি বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ, গত ৩০ জুন রাতে বিপক্ষের লোকজন দোকানের সামনে ট্রাকভর্তি বালু ফেলে দোকান বন্ধ করে দেন। ভাড়াটিয়ারা বালু সরানোর কথা বললে মনির সরদার ক্ষতি করার হুমকি দেন। এই হয়রানির সুষ্ঠু বিচার ও সমাধান চেয়েছেন তিনি।

    রবিউলের স্ত্রী শারমিন আক্তার জানান, তার স্বামী প্রবাসে থাকায় তিনি বাদী হয়ে শান্তিপুর তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ করেছেন, কিন্তু পুলিশ কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।

    ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা রবিউল ইসলামের কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করেন। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর থেকেই মনির সরদার তাদের দোকান ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছেন। মঙ্গলবার সকালে দোকানে এসে তারা দেখেন, রাতের আঁধারে বালু ফেলে দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তাদের দোকানের ভেতরে প্রয়োজনীয় ও মূল্যবান মালামাল আটকা পড়েছে, যা তারা বের করতে পারছেন না। তারা এই জোর করে রাস্তা বন্ধ করে ব্যবসা দখলের চেষ্টা মেনে না নেওয়ার কথা জানিয়ে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

    অভিযুক্ত মনির সরদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি। তার শাশুড়ি রহিমা বেগম বালু ফেলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেছেন, “জমিটি আমাদের। রবিউল আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে এতদিন জবরদখল করে রেখেছিল। এখন আমরা আমাদের জমি দখলে নেব। জমি নিয়ে আদালতে মামলা হয়েছে। আদালত যে রায় দেবেন, আমরা সেটাই মেনে নেব।”

    এই ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।

    এ বিষয়ে শান্তিপুর তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ বাসুদেব সিনহা বলেছেন, অভিযোগ পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন এবং বালু সরিয়ে নিতে বলা হয়েছিল। পরে জানতে পারেন, এখনো বালু সরানো হয়নি। তিনি জানান, এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ইলিশের মূল্য নির্ধারনে বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি ব্যবসায়ীদের !

    ইলিশের মূল্য নির্ধারনে বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি ব্যবসায়ীদের !

    ইলিশের মূল্য নির্ধারণ হলে বিক্রি বন্ধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এমনিতে আড়তে ইলিশ কম আসছে মূল্য নির্ধারণ হলে সেটি আরও কমে যাবে বলে শঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

    এদিকে ইলিশের বাজার নিয়ন্ত্রণে ১৭ জুন চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠি পাঠান। সেই চিঠির আলোকে ২৬ জুন মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ বিষয়টি প্রধান উপদেষ্টার নিকট উপস্থাপন করেন এবং মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব সম্মতি দেন প্রধান উপদেষ্টা।

    এদিকে ইলিশের মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব চূড়ান্ত হওয়ার খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মাঝে। ক্রেতারা দাম নির্ধারণে সাধুবাদ জানালেও বিক্রেতারা বলছেন বিষয়টি একেবারে অযৌক্তিক। ইলিশের দাম নির্ধারণ করে বিক্রি করা একেবারে অসম্ভব। যার কারণে সরকারের এ সিদ্ধান্ত কখনোই বাস্তবায়ন হবে।

    শহরের বিপনীবাগ বাজারের বিক্রেতা জাকির হোসেন বলেন, ‘মাছ ধরা পড়লে এমনি দাম কমে যাবে। কিন্তু দাম নির্ধারণ করে কী বিক্রি করা সম্ভব হবে? আমরা আড়ত থেকে কেজি হিসেবে কিনে আনি, তারপর বিক্রি করি। ইলিশতো এমনিতেই নেই। তার ওপর দাম নির্ধারণ করে দিলে বেচা সম্ভব নয়।’

    চাঁদপুর বড় স্টেশন মাছঘাটের ব্যবসায়ী মনছুর আহমেদ বলেন, ‘দাম নির্ধারণ করে বিক্রি হবে এটা কীভাবে সম্ভব? আগে এ মৌসুমে ইলিশ ভরা থাকতো কিন্তু এখন আড়ত খালি। ইলিশ কী বাড়িতে বানায় যে নির্ধারণ করে বিক্রি হবে। দাম কমবে শুধু ইলিশের সরবরাহ বাড়লে। সরকার যদি দাম নির্ধারণ কোনো কাজে আসবে না।’

    অন্যদিকে ইলিশের মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব অনুমোদনের খবর শুনে খুশি ক্রেতারা। দ্রুত ইলিশের দাম নির্ধারণ বাস্তবায়ন চান ক্রেতারা।

    বৃহস্পতিবার জেলার বিপনীবাগ বাজার, পালবাজার ও ওয়ারলেস বাজারে একাধিক ক্রেতাদের সঙ্গে কথা হয়। ইলিশের দাম নির্ধারণ হলে বাজারের স্বস্তি ফিরে আসবে এমনটা প্রত্যাশা করছেন ক্রেতারা।

    বিপনীবাগ বাজার ইলিশ কিনতে আসা মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর হলেও এখানে ইলিশের দাম অনেক বেশি। বাজারে এসে ইলিশ কিনতে ভয় করে। আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি, সরকার ইলিশের মূল্য নির্ধারণ করে দিবে। পদক্ষেপটি বাস্তবায়ন হলে আমরা খুশি হব।’

    পূজা নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘ইলিশের দাম যে বাড়ছে আর কমার নাম নেই। অনেক দরদাম করে ছোট সাইজের দুটি ইলিশ কিনেছি। এভাবে চলতে থাকলে আর ইলিশ কিনতে পারবো না।’

    চাঁদপুর বড়স্টেশন মৎস্য বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শবে বরাত সরকার বলেন, ‘ইলিশ সরবরাহের ওপর দাম নির্ধারণ হয়ে থাকে। সরকার নির্দিষ্ট দাম করে দিলে বিক্রি করা সম্ভব না। কারণ কাঁচামাল অগ্রিম মূল্য নির্ধারণ করা যায় না। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে চাঁদপুরসহ সারাদেশে ইলিশ নেই তাহলে কীভাবে মূল্য নির্ধারণ করে দিবে।’

    এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মহসীন উদ্দিন বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা ইলিশের দাম নির্ধারণে সম্মতি দিয়েছেন। তবে এখনো দাম নির্ধারণের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা চূড়ান্ত হয়নি। দাম নির্ধারণে আড়তদার, জেলে, ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করা হবে।’

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রতিবন্ধীদের মাঝে উন্নতমানের হুইল চেয়ার বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) বিকেলে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে, ১৫ জনের মাঝে এই হুইল চেয়ার বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: নুরুল ইসলাম।

    এ সময় তিনি বলেন, অটিষ্টিক শিশুদের প্রতি অনুগ্রহ কিংবা করুনা নয়, তাদের জন্য প্রয়োজন আন্তরিকতা ও সঠিক পরিচর্যা। কারণ তাদের মাঝেও লুকিয়ে আছে সম্ভাবনা। প্রতিবন্ধীরা সমাজের বোঝা নয়, সম্পদ। সহযোগীতা পেলে তারাও দেশের সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

    তিনি আরো বলেন, প্রতিবন্ধীরা বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। অনেকে আবার উদ্যোক্তাও হচ্ছেন। আজ দেশের প্রতিটি এলাকার প্রতি-বন্ধীরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। প্রতিমাসে তারা পাচ্ছেন ভাতা।

    এতে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আজহারুল ইসলাম, সমাজসেবা কর্মকর্তা কাঞ্চন কুমার দাস ও উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবদুল অহাবসহ অন্যরা। ২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচী (এডিপি) এর আওতায় এই হুইল চেয়ারগুলো বিতরণ করা হয়।