Category: সারাদেশ

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ চোর সর্দার গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০টি চোরাই মোটরসাইকেলসহ চোর সর্দার গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল সহ চোর সর্দার আন্তজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের হোতা মোঃ বারিকুল ইসলাম গ্রেফতার হয়েছে গ্রেফতারকৃত বারিকুল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের মোঃ আকালুর ছেলে।

    জেলা পুলিশের এক প্রেসনোটে রবিবার (২৯ জুন) দুপুরে জানানো হয়, জেলার পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বিপিএম- সেবা এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় শনিবার এসআই(নিঃ) হরেন্দ্রনাথ দেবদাশের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার বারঘরিয়ায় বিশেষ কাজে অবস্থান করছিলো।

    এসময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, সদর মডেল থানার মহারাজপুর ইউনিয়নের মহারাজপুর মেলার মোড়স্থ একটি আম বাগানে কয়েকজন ব্যক্তি চোরাই মটরসাইকেল কেনা- বেচা করছে।

    বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় পুলিশ। ভোর পৌনে ৬টার দিকে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন ব্যক্তি দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে চোর সর্দার মোঃ বারিকুল ইসলাম হাতে নাতে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে।

    এসময় অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি কৌশল দৌড়ে পালিয়ে যায়। অভিযানকালে বারিকুলের হেফাজতে থাকা একটি রেজিঃ বিহীন কালো-লাল রংয়ের উরংপড়াবৎ উঞঝ ১২৫ পপ মটরসাইকেল জব্দ করে পুলিশ।

    জব্দকৃত মটরসাইকেলের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদকালে বারিকুল জানায়, বেশ কিছুদিন আগে থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানাসহ বিভিন্ন থানা এলাকায় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন সময়ে তার সহযোগী মটরসাইকেল চোরসহ কয়েকটি মটরসাইকেল চুরি করেছে।

    চোরাই মটরসাইকেল বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট বিক্রি করলেও আজ উরং পড়াবৎ উঞঝ ১২৫ পপ মটরসাইকেলটি বিক্রির উদ্দেশ্যে এখানে এসেছিলো।

    বারিকুল কে জিজ্ঞাসাবাদে আরো জানা যায়, তার সহযোগী পলাতক আসামীগনসহ পূর্ব থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সদর থানাসহ বিভিন্ন থানা এলাকায় এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বেশ কয়েকটি মটরসাইকেল চুরি করে বিক্রির জন্য শিবগঞ্জ থানা এলাকায় তার নিজ বাড়ীতে মজুদ রেখেছে।

    তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে শিবগঞ্জ থানাধীন দূলর্ভপুর ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে বারিকুল    ইসলাম এর বসতবাড়ীতে অভিযান চালানো হয়।

    এসময় তার  বসতবাড়ীতে রক্ষিত আরও ৯টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে বিভিন্ন কোম্পানীর মোট ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

    উদ্ধার হওয়া বিভিন্ন কোম্পানীর ১০টি মোটর- সাইকেলের মোট মূল্য আনুমানি৭ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা বলেও প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয়েছে। এঘটনা ৩৭৯/৪১৩ ধারায় চাঁপাইনবাব গঞ্জ সদর মডেল থানার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-৪৯, তাং-২৮/০৬/২০২৫ খ্রিঃ।

  • কুচাইপট্টিতে এখনো থামেনি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তান্ডব

    কুচাইপট্টিতে এখনো থামেনি আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তান্ডব

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ চাঁদা আদায়, বাড়ি ঘরে আগুন, সামাজিক অনুষ্ঠান পন্ড, খাবার নষ্ট করা ও নারীদের যৌন হয়রানী আওয়ামীলীগ সরকার পালিয়ে যাওয়ার এক বছরেও থামেনি শরীয়তপুরের গোসাইর হাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের কোলচোরি পাতারচর গ্রামে। সেই গ্রামের নারীরা রয়েছে সন্ত্রাসীদের টার্গেটে।

    অত্যাচার নিপিড়নের শিকার হয়ে কোন নারী বিচার চাইতে গেলে তাকে রত্রি যাপনের প্রস্তাব পেতে হয়েছে সমাজপতির কাছ থেকে। তাদের কথায় রাজী না হওয়ায়া অনেক নারী এলাকা ছাড়া হয়েছেন।

    পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী থেকে বালু উত্তোল করে গ্রামটি ভাঙ্গন ঝুকিতে ফেলাছে চক্রটি। এনম অনেক অভিযোগ এনে রোববার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন করেছে কোলচোরি পাতারচর গ্রামবাসী।

    মানববন্ধনকারীরা জানায়, শরীয়তপুর ও বরিশাল জেলার সীমান্ত এলাকায় কোলচোরি পাতারচর গ্রাম। সেই গ্রামে নির্যাতন ও জুলুম করে স্বেচ্ছাসেককলীগ নেতা সোহেল বেপারী, তার ভাই আওয়ামীলীগ নেতা মোসলেম বেপারী, ডাকাত সরদার মিজান বেপারী ও মাদক স¤্রাট শামীম বেপারীরা। তারা নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজি, নারী নির্যাতন করে থাকে। তাদের অত্যাচারে অনেকে বসত ভিটা বিক্রি করে ঢাকা চলে গেছেন।

    ভুক্তভোগী এক নারী জানায়, এলাকায় সন্ত্রাসীদের একটি চক্র রয়েছে। তারা গ্রামবাসীদের নানা ভাবে অত্যাচার করে। সন্ত্রাসীদের বিষয়ে সমাজ পতির কাছে নালিশ নিয়ে যাই। তখন সমাজ পতি জানায় তার সাথে রাত্রি যাপন করলে সঠিক বিচার করবে। আমরা মান ইজ্জতের ভয়ে সমাজপতির কথায় রাজি হইনি। পরে আমার ও আমার পরিবারের উপর নির্যাতন বেড়ে যায়। তাই বাড়ি-ঘর বিক্রি করে ঢাকায় চলে যাই।

    ওই গ্রামের ছাত্তার মাতুব্বরের ছেলে মহিউদ্দিন মাতুব্বর জানায়, এই সন্ত্রাসীরা এলাকায়, এরা বিগত সরকারের ১৬ বছর শাসনামলে চুরি-ডাকাতি, মাদক বিক্রি, নারী নির্যাতন করতো। এখনও তারা দাপটের সাথে সেই অন্যায় অত্যাচর করতেছে। তার সাথে যোগ করেছে নদী থেকে বালু উত্তোলন। এই বালু উত্তোলনের কারেণ কোলচুরি পাতারচর গ্রাম ভাঙ্গন ঝুকিতে রয়েছে।

    মুক্তিযোদধা মালেক মুন্সি মানববন্ধনে উপস্থিত হয়ে জানায়, তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা চাওয়া হয়। চাঁদা দিতে না পারায় তার গোয়াল থেকে গরু নিয়ে গেছে সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়াও অনেক ক্ষয়ক্ষতি করেছে তার।

    নদী ভাঙ্গন কবলিত ইসমাইল বেপারী জানায়, নদীতে তার বাড়ি ভেঙ্গে যাওয়ায় সে কোলচোরি পাতারচর গ্রামে জমি ক্রয় করে বাড় করে। সেখানে সন্ত্রাসীর তাকে ও তার পরিবারকে অত্যাচার করে। অত্যাচর সহ্য করতে না পেরে বাড়ি বিক্রি করে দেয়।

    সংবাদ পেয়ে সন্ত্রাসীরা তার চোখ-মুখ বেঁধে বিলে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে হত্যার হুমকি দেয় ১ লাখ টাকা চাঁদা চায় সন্ত্রাসীরা। জীবন বাঁচাতে টাকা দিতে রাজি হয় সে। পরে সন্ত্রাসীদের টাকা দিয়ে সপরিবারে ঢাকায় চলে যায় সে।

  • পদ্মা নদীতে এবার ধরা পরলো ৫০ কেজির বাগাইড়

    পদ্মা নদীতে এবার ধরা পরলো ৫০ কেজির বাগাইড়

    রাজবাড়ীর পদ্মায় জেলের জালে বিশাল আকৃতির একটি বাগাইড় মাছ ধরা পরেছে। ওজন দিয়ে দেখা গেছে মাছটির ওজন ৫০ কেজি। শনিবার দুপুরে পদ্মা নদীর রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের কলা বাগান এলাকায় জেলে সিদ্দিক হলদারের জালে মাছটি ধরা পরে।

    এ সময় মাছটিকে স্থানীয় আড়তদার রেজাউল মন্ডলের আড়তে নিয়ে আসলে এক নজর দেখতে ভীড় করে স্থানীয়রা। শোরগোল আর মোবাইলে ভিডিও ধারনে ব্যস্ত হয়ে পরে দর্শনার্থীরা।

    আড়তদার রেজাউল মন্ডল বলেন, মাছটিকে আড়তে নিয়ে আসার পর সেখানে বসে উম্মক্ত নিলাম। সকল মাছ ব্যাবসায়ী ও আড়ৎদারদের অংশ গ্রহনে ১ হাজার ৫৫০ টাকা কেজি দরে মোট ৭৭ হাজার ৫০০ টাকায় মাছটি কিনে নেন মাছ ব্যাবসায়ী আড়তদার চান্দু মোল্লা।

    মাছ ব্যাবসায়ী আড়ৎদার চান্দু মোল্লা বলেন, পদ্মা নদীতে এখন মাঝে মধ্যেই এমন বড় মাছ ধরা পরছে। তবে দুই এক বছরের মধ্যে এটির সবচেয়ে বড় মাছ। এ ধরনের মাছে চাহিদা থাকে বেশি। মাছটিকে ৭৭ হাজার ৫০০ টাকায় কিনে নেওয়ার পর অনলাইনে বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

    তিনি আরো বলেন, মাছটিকে আপাতত দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে পল্টুনের সাথে বেধে রাখা হয়েছে। কেজি প্রতি এক শত টাকা লাভ পেলেই মাছটিকে বিক্রি করা হবে।

  • নাচোলের ভ্যানচালক রাজু হত্যার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩-  পুলিশের প্রেস ব্রিফিং

    নাচোলের ভ্যানচালক রাজু হত্যার প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৩- পুলিশের প্রেস ব্রিফিং

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ভ্যানচালক রাজু আহমেদকে গলাকেটে হত্যার ঘটনায় মূল আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ছিনতাইকৃত ভ্যান ও হত্যাকা-ে ব্যবহৃত ছুরি ও মোবাইল ফোনসহ তিনটি চোরাই ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে।

    শনিবার (২৮ জুন) দুপুরে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ.কে.এম ওয়াসিম ফিরোজ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, হত্যায় সরাসরি জড়িত খাদেমুল ইসলাম ওরফে মধু এবং চোরাই ভ্যান ক্রয়ে জড়িত আমিনুল ও আমানত আলী।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াসিম ফিরোজ জানান, পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বিপিএম-সেবা মহোদয়ের নির্দেশনায় এবং চাঁপাইনবাব গঞ্জ ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ এর তত্বাবধানে ডিবি পুলিশের চৌকস দল ও নাচোল থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে গত ২৬ জুন (বৃহস্পতিবার) রাতে নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ থেকে খাদেমুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে নাচোলের ফতেপুরের মসজিদ পাড়া এলাকার আমিনুল ও আমানতের বাড়ি থেকে ছিনতাইকৃত রাজুর ভ্যান উদ্ধার করা হয়। পুলিশ আরো জানায়, খাদেমুল পেশায় একজন মধু ব্যবসায়ী।

    খাদেমুল ইসলাম মধুর বাড়ি নীলফামারী হলেও নাচোলে বিয়ে করে তিনি সেখানেই ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তিনি নাচোলের বিরেনবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করতেন। খাদেমুল নাচোল বিয়ে করে এখানেই দীর্ঘদিন বসবাস করছিলো। এরই মধ্যে সে তার বউকে ডিভোর্সও দেয় গত কয়েকমাস আগে।

    পরে সে নাচোল রেলস্টেশন এলাকার বসবাস শুরু করে। রাজুর সঙ্গে তার বন্ধুত্ব ছিল এবং তারা নিয়মিত একসঙ্গে গাঁজা ও চুয়ানি সেবন করতেন। জানা যায়, ২২ জুন বিকেলে রাজুকে চুয়ানি খাওয়ানোর কথা বলে বাড়ি থেকে বের করে খাদেমুল।

    পরে রাজুকে অতিরিক্ত চুয়ানি খাইয়ে অচেতন করে ফেলে এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে তার কোমরে থাকা মধু কাটার ধারালো ছুরি দিয়ে রাজুর গলা কেটে ও পিঠে আঘাত করে হত্যা করে।

    এরপর পারিলা এলাকার একটি রাস্তার পাশে মরদেহ ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর খাদেমুল মরদেহের পাশেই ছুরি ফেলে দেয় এবং ভ্যানে থাকা ন্যাকড়া দিয়ে রক্ত মুছে নেয়।

    মোবাইল ফোনটি কাদার মধ্যে ফেলে দিয়ে ভ্যানটি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায় এবং পরদিন সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আমিনুল ও আমানতের কাছে ২০ হাজার টাকায় দরদাম করে ১৪ হাজার টাকায় ভ্যানটি বিক্রি করে।

    বাকি ৬ হাজার টাকা বিকাশে পাঠিয়ে দেয়ার কথা বলে। উল্লেখ্য, ২৩ জুন সকালে নাচোল উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পারিলা গ্রামে সড়কের পাশ থেকে রাজুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

    নিহত রাজু আহমেদ নাচোল সদর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত মোতালেব হোসেন ফাঁকুর ছেলে। পরে রাজুর মা সুলতানা বেগম অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে নাচোল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

    পুলিশ জানিয়েছে, আসামি খাদেমুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে এবং শনিবার তাকে আদালতে হাজির করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত তিনজনকেই আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

  • শিবগঞ্জে হিরোইনসহ কুখ্যাত লালচান ডাকাত গ্রেফতার

    শিবগঞ্জে হিরোইনসহ কুখ্যাত লালচান ডাকাত গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডাকাত লালচান শিবগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে ২০০ গ্রাম হিরোইন সহ গ্রেফতার হয়েছে।

    শনিবার বেলা ১১ টার দিকে কানসাট বাগানবাড়ী এলাকায় শিবগঞ্জ থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে ডাকাতি, ছিনতাই, মাদক-সহ একাধিক মামলার আসামি আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ডাকাত লালচান কে হিরোইন সহ গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত মোঃ লালচাঁন ইসলাম (৩১), চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিবগঞ্জ উপজেলার পলাশবাড়ী গ্রামের মৃত গিয়াস উদ্দিনের ছেলে।

    শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ গোলাম কিবরিয়া জানান, থানা পুলিশের নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে কানসাট বাগান বাড়ি থেকে লালচান ডাকাতকে ২০০ গ্রাম হিরনসহ গ্রেফতার করা হয়েছে। ওসি আরো জানান, ডাকাত লাল চাঁনের বিরুদ্ধে ছিনতাই ডাকাতি মাদকসহ পূর্বের একাধিক মামলা রয়েছে।

    লালচান ডাকাত এই জেলার উদীয়মান কুক্ষাত ডাকাত বলে পরিচিত। হেরোইনসহ আটক লালচান এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ওসি গোলাম কিবরিয়া।

  • ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৪

    ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ৪

    ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন।

    শুক্রবার (২৭ জুন) দিনগত রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটের দিকে এক্সপ্রেসওয়ের হাঁসাড়া হাইওয়ে থানার অদূরে বিপরীত পাশে ঢাকামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হতাহতদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার (২৭ জুন) দিনগত রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটের দিকে যশোর থেকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চর-মোনাইর সমাবেশে অংশ নিতে আসার পথে ‘হামদান এক্সপ্রেস’ নামে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

    শ্রীনগর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার দেওয়ান আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে দুর্ঘটনাস্থলে যাই এবং আটকে পড়াদের উদ্ধার করি।

    ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুইজন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজন মারা যান। এ ঘটনায় আহত ১৪ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

  • পৈত্রিক সম্পত্তিতে গেলেই হত্যার হুমকি

    পৈত্রিক সম্পত্তিতে গেলেই হত্যার হুমকি

    শরীয়তপুর পৌরসভার ৬০ নং পালং মৌজায় আব্দুর রাজ্জাক খান ও শাহজাহান খানদের পৈত্রিক সম্পত্তি রয়েছে। সেই সম্পত্তি দখল করে পাঁকা বানিজ্যিক ভবন নির্মাণ করছেন নুরুল হক খান, শামসুল হক খান ও রমিজ খান। ভবন নির্মাণে বাঁধা দিলেই দখলকারীদের পক্ষ থেকে আসে হত্যার হুমকি।

    এমন অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন আব্দুর রাজ্জাক খান। তিনি বিষয়টি আদালত ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে স্থায়ী সমাধান কামনা করছেন।

    আব্দুর রাজ্জাক খান তার লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ২৫ কোটি টাকা মূল্যমানের পৈত্রিক সম্পত্তি জোর করে দখলে নিয়ে বানিজ্যিক ভবন নির্মাণ শুরু করছেন বিবাদীরা। বিষয়টি স্থানীয় ভাবে সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় দরখাস্তকারী। পরে তিনি আদালতে দেওয়ানী ১০৭/২৪ নং মামলা করেন।

    সেই মামলায় আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন বলেও তিনি দরখাস্তে উল্লেখ করেছেন। আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে বিবাদীরা রাজনৈতিক প্রভাব ও টাকার জোরে নালিশী জমিতে বানিজ্যিক ভবন নির্মাণ কাজ চালু রেখেছেন বলে দাবী করেছেন দরখাস্তকারী আব্দুর রাজ্জাক খান।

    অভিযোগকারী আব্দুর রাজ্জাক খান বলেন, ফায়ার সার্ভিসের সামনে তাদের পৈত্রিক সম্পত্তিতে বিবাদীরা জোর করে বানিজ্যিক ভবন নির্মাণ করতেছে। বাঁধা দেওয়ায় তাকে ঠেলা ধাক্কা দিয়ে জমি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। বিবাদীরা ১৫-১৬ জন সন্ত্রাসী সেখানে সব সময় মজুদ রাখে।

    তাদের ভয়ে সেখানে যেতেও পারেনা দরখাস্তকারী পক্ষ। সেখানে গেলে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হবে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন বিবাদীরা। এখন দরখাস্তকারী আব্দুর রাজ্জাক খান ও তার পরিবারের সদস্যদের জীবন ঝুকিতে রয়েছে।

    তিনি আরো বলেন, বিবাদীরা প্রথমে আব্দুর রাজ্জাক খানকে টার্গেট করে। তার সংসার ধ্বংস করে দিয়েছে। তাছাড়া বিবাদীরা প্রকৃত খারাপ মানুষ। এলাকাবাসীর অনেকের কাছ থেকে দুবাই নেওয়ার কথা বলে টাকা হাতিয়ে নিয়ে একজনকেও দুবাই নেয়নি।

    বিবাদীদের কর্মকান্ডের ফিরিস্তি তুরে ধরে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনা বাহিনী, দুর্নীতি দমন কমিশন ও থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও তিনি দাবী করেন। কোথাও সুষ্ঠু বিচার পায়নি বলেও তিনি জানিয়েছেন। তার ধারণা বিবাদীরা রাজনৈতিক প্রভাব ও টাকার জোরে প্রকৃত সত্য আড়ার করে রাখে।

    এই বিষয়ে নুরুল হক খান বলেন, এই সম্পত্তি আমি আমার সন্তানের নামে বিভিন্ন ওয়ারিশদের কাছ থেকে ক্রয় করেছি। স্থানীয় সালিশীতেও আমার পক্ষে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    আদালতে রাজ্জাক খান মামলা করেছে তবে সে ধার্য তারিখে আদালতে যায় না। আমি দুই বছর ধরে আদালতে ঘুরতেছি। আদালতের রায়ে আমি জমি পেলে ভোগ দখল করব। আদালতের রায় আমার বিপক্ষে গেলে আমি জমি ছেড়ে দিব।

  • জুলাই সনদ ও সংস্কার সুপারিশ চূড়ান্ত পর্যায়ে, চলছে দর কষাকষি

    জুলাই সনদ ও সংস্কার সুপারিশ চূড়ান্ত পর্যায়ে, চলছে দর কষাকষি

    গণঅভ্যুত্থানের জুলাই সনদ ও রাজনৈতিক সংস্কারের সুপারিশমালা চূড়ান্ত করছে জাতীয় ঐক্যমতো কমিশন। দফায় দফায় রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে আলোচনা করে কাছাকাছি সমঝোতায় পৌঁছেছে কমিশন সূত্র জানিয়েছে।

    জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই ঘোষিত হচ্ছে জুলাই সনদ। সংস্কারে শেষ মুহূর্তে সব দলের ঐক্যমতে পৌঁছাতে উভয়পক্ষে বড় বড় ছাড় নিয়ে দর কষাকষি চলছে।

    জাতীয় ঐক্যমতো কমিশন সূত্র জানায় আগামী ১৫ জুলাই কমিশনের মেয়াদ শেষ হবে। এরই মধ্যে দফায় দফায় বৈঠক করে জুলাই সনদ ও রাজনৈতিক মৌলিক কাঠামো চূড়ান্ত করেছে।

    আনুষ্ঠানিক বৈঠক ছাড়াও কমিশনের বিশেষ সহকারি ব্যক্তিগতভাবে রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালীদের সাথে আলোচনা করে কাছাকাছি নিয়ে এসেছেন। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের সর্বসম্মতির মৌলিক কাঠামো ঠিক করার কাজ।

    ৷৷ বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের প্রশ্নে ছাড় দিয়েছে বিএনপি। দলটি আগের অবস্থান থেকে সরে আসা বা অবস্থানের এই পরিবর্তনের কথা বলেছে শর্তসাপেক্ষে। এক ব্যক্তি দুই মেয়াদ বা দশ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকতে পারবেন না, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এই প্রস্তাব মেনে নেবে বিএনপি।

    তবে দলটির শর্ত হচ্ছে, জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাব বাদ দিতে হবে; এ ধরনের কোনো বিধান সংবিধানে যুক্ত করা যাবে না। জাতীয় ঐক্যবোধ কমিশনার এই প্রস্তাবনা থেকে ইতিমধ্যে সরে এসেছে।

    জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিলের প্রস্তাব থেকে সরে এসে ‘সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতেও রাজি নয় বিএনপি এবং এর মিত্র কয়েকটি দল।

    সাংবিধানিক পদে নিয়োগের কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থানের পেছনে বিএনপি নেতাদের যুক্তি, এতে প্রধানমন্ত্রীর হাত বেঁধে দেওয়া হবে; দুর্বল করা হবে নির্বাহী বিভাগকে। বিএনপির পাল্টা অবস্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্বের দল এনসিপিসহ ইসলামপন্থি বিভিন্ন দল।

    তারা বলছে, প্রধানমন্ত্রীর হাতে যাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত না হয়, সেজন্য এ ধরনের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। এছাড়া সংবিধানের মূলনীতির প্রশ্নেও দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক তর্ক-বিতর্ক হয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সর্বশষে বৈঠকে।

    মৌলিক কিছু বিষয় নিয়ে ওই বৈঠকে ব্যাপক বিতর্কের পর ব্যক্তিগত ঐ পক্ষে কাছাকাছি পর্যায়ে ঐক্য পৌঁছেছে। এক ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা দশ বছর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে পারবেন, এরপর ওই ব্যক্তি আর ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করতে গিয়ে বিএনপি ছোট কয়েকটি দল ছাড়া অন্যদের পক্ষে পায়নি।

    জামায়াত, এনসিপিসহ ডান ও বাম-সব ঘরানার দল, এমনকি বিএনপির মিত্রদের মধ্যেও কোনো কোনো দল প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ দশ বছরের বেশি না হওয়ার প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

    এই দলগুলোও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুরে সুর মিলিয়ে যুক্তি তুলে ধরছে। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী পদে এক ব্যক্তি কয় মেয়াদ ক্ষমতায় থাকতে পারবেন, এটা সুনিদিষ্ট না থাকায় কতৃত্ববাদী, একনায়ক বা স্বৈরশাসন প্রতিষ্ঠার সুযোগ রয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের উদাহরণকে তুলে ধরা হচ্ছে।

    বিভিন্ন দলের এমন অবস্থান এবং পরিস্থিতি বিএনপির ওপর প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদের প্রশ্নে এক ধরনের চাপ তৈরি করেছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন।

    আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, সংসদীয় পদ্ধতিতে এক ব্যক্তির সরকার প্রধানের পদে থাকার মেয়াদকাল সুনির্দিষ্ট করা হলে তা জটিলতার তৈরি করতে পারে।

    সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী শাহদীন মালিক বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্র রয়েছে যে সব দেশে, এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বেশির ভাগ দেশেই প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ মেয়াদকাল নির্দিষ্ট করা নেই।

    তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যবস্থায় এক ব্যক্তি টানা দুই মেয়াদের বেশি ওই পদে থাকতে পারবেন না, এই ব্যবস্থা বা বিধান যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে আছে। কারণ রাষ্ট্রপতি শাসন অনেকটা ব্যক্তিকেন্দ্রিক।

    বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, বিধান করে ক্ষমতার সময় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হলেও অনেক সময় তা কাগজে-কলমে থেকে যায়।

    বিশ্লেষকদের বক্তব্য হচ্ছে, কোনো বিধান চাপিয়ে দিলেই কর্তৃত্ববাদী বা স্বৈরশাসন ঠেকানো সম্ভব নাও হতে পারে। সেজন্য বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল নিয়ে যে প্রস্তাব এসেছে, তাতে সব দলের স্বতস্ফূর্ত সমর্থন ছাড়া এর উদ্দেশ্য সফল করা কঠিন হতে পারে।

    বিএনপির নেতারা মনে করেন, সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের জন্য যখন কোনো কাউন্সিল বা কমিটি গঠন করে তা সংবিধানে যুক্ত করা হবে, তখন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা খর্ব হবে।

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মঙ্গলবারের বৈঠকে এর বিরোধিতা করে যুক্তি দিতে গিয়ে বিএনপি নেতারা এ-ও বলেন, এ ধরনের বিধান করা হলে প্রধানমন্ত্রীর হাত বেঁধে দেওয়া হবে।

    দলটি ওই প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে বলা যায়। তারা বিষয়টাকে প্রধান-মন্ত্রীর মেয়াদের প্রস্তাব মেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত হিসেবে এনেছে। দলটি বলেছে, সাংবিধানিক কাউন্সিল বা কোনো কমিটি গঠনের প্রস্তাব বাদ দেওয়া না হলে বিএনপি প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সম্পর্কিত প্রস্তাবে সমর্থন দেবে না।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে বিএনপির অবস্থানকে ব্যাখ্যা করছেন ভিন্নভাবে। তারা বলছেন, নির্বাচন হলে যেহেতু বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, সে কারণে দলটি এখন প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতায় ভাগ বসাতে দিতে রাজি নয়। সে জন্যই বিএনপি সাংবধিানিক পদে নিয়োগে অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ তৈরির প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক পদগুলোয় নিয়োগের জন্য সার্চ কমিটি বা আইনি ব্যবস্থা আছে। সে সব আইনে সংস্কার করা হলে তাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের বিষয়টি তারা মেনে নেবেন না। এটি করা হলে নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা কমবে এবং গণতন্ত্র দুর্বল হবে বলেও উল্লখে করেন বিএনপি নেতা মি. আহমদ।

    বিএনপির এই অবস্থানেরও পাল্টা অবস্থানে রয়েছে জামায়াত, এনসিপি সহ বিভিন্ন দল। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, বেশিরভাগ দল সাংবিধানিক কাউন্সিল গঠনের প্রস্তাবের পক্ষে মত দিয়েছে। বিষয়টাতে তারা আরও আলোচনা করবেন।

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এনসিসির প্রস্তাব থেকে সরে এসেছে। এনসিসিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি থাকার যে প্রস্তাব করা হয়েছিল, নতুন প্রস্তাবিত সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ কমিটিতে তাঁরা থাকবেন না।

    এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের স্পিকার । কমিটি শুধু সাংবিধানিক ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনা করবে। অ্যাটর্নি জেনারেল ও তিন বাহিনীর প্রধানের নিয়োগ এই কমিটির অন্তর্ভুক্ত হবে না।

    এই কমিটি হবে সাত সদস্যবিশিষ্ট, যেখানে সভাপতি থাকবেন নিম্ন-কক্ষের স্পিকার। এছাড়া কমিটিতে থাকবেন—প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার (নিম্নকক্ষ), স্পিকার (উচ্চকক্ষ), বিরোধীদলীয় নেতা, প্রধান বিরোধী দল ছাড়া অন্যান্য বিরোধী দলগুলোর একজন প্রতিনিধি, রাষ্ট্রপতির প্রতিনিধি (আইনের মাধ্যমে নির্ধারিত যোগ্যতাসম্পন্ন), প্রধান বিচারপতি কর্তৃক মনোনীত আপিল বিভাগের একজন বিচারপতি।

    অন্যদিকে, আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে চারটি। সেগুলো হলো–– সুপ্রিমকোর্ট, নির্বাচন কমিশন, পাবলিক সার্ভিস কমিশন ও মহা হিসাব-নিরীক্ষকের কার্যালয়। এর বাইরে সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের বিষয়কেও প্রস্তাবিত কমিটির আওতায় আনার কথা বলা হচ্ছে।

    সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান বলতে বোঝায়, যে সব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনার জন্য আলাদা আইন আছে বা যে সব প্রতিষ্ঠান স্বতন্ত্র আইন দ্বারা চলে। যেমন দুর্নীতি দমন কমিশন, টেলিফোন রেগুলেটরি সংস্থা- এমন আইনভিত্তিক দুশোর বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

    আইনজীবী শাহদীন মালিক মনে করেন, এ সব প্রতিষ্ঠানের নিয়োগের জন্য আলাদা কর্তৃপক্ষ করা হলে নির্বাহী বিভাগে ক্ষমতা খর্ব হবে। তবে ঐকমত্য কমিশনের এসব প্রস্তাব নিয়ে বিএনপিসহ কয়েকটি দল যেহেতু বিরোধিতা করছে, ফলে এটি বাস্তবায়ন করা কঠিন।

    জামায়াত, ইসলামী আন্দোলনসহ ইসলামী দলগুলো ধর্মীয় বিষয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব এনেছে সংবিধানের মূলনীতিতে যুক্ত করার জন্য। মূলনীতি পরিবর্তন করা না করার প্রশ্ন দলগুলো ঐকমত্যের ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, তার সঙ্গে তিনটি বিষয় যুক্ত করার প্রস্তাব করেছে ঐকমত্য কমিশন।

    তাদের সেই প্রস্তাব তিনটি হচ্ছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা, সম্প্রীতি ও পক্ষপাত হীনতা। তবে বিএনপির সঙ্গে সিপিবি,বাসদসহ বামপন্থি দলগুলোর বিরোধ সংবিধানের পঞ্চম ও পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে।

    বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মূলনীতিতে সংশোধনী আনা হয়েছিল।

    সেই সংশোধনী অনুযায়ী সংবিধানের মূলনীতি ছিল, সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, এবং সমাজতন্ত্র অর্থাৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচার, গণতন্ত্র। বিএনপি পঞ্চম সংশোধনীর ওই মূলনীতিতে ফিরে যেতে চায়।

    অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭২ সালে যে সংবিধান প্রণয়ন করা হয়েছিল, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সেই ৭২ এর সংবিধানের মূলনীতি ফিরিয়ে আনা হয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের শাসনের সময়ে। আর এ সংশোধনী অনুযায়ী, সংবিধানের মূলনীতি হচ্ছে, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা। এই চার মূলনীতি এখন বহাল আছে।

    সিপিবিসহ বামপন্থি দলগুলো পঞ্চদশ সংশাধনীর মাধ্যমে ফিরিয়ে আনা ৭২ এর সংবিধানের মূলনীতি বহাল রাখার পক্ষে। তাদের সঙ্গে বিএনপির তুমুল তর্ক-বিতর্ক হয় ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে।

    কমিউনিস্ট পার্টি বা সিপিবির সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ৭২ এর সংবিধানের মূলনীতি কোনো দলের নয়, সেটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ওপর ভিত্তি করে। সে জন্য তারা তা বহাল রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। শেষপর্যন্ত ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি।

    ওই বৈঠকে অংশ নেওয়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, দলগুলো যার যার আদর্শিক অবস্থান থেকে সংবিধানের মূলনীতিতে পরিবর্তন আনতে চাইছে, ফলে বিষয়টাতে শেষপর্যন্ত ঐকমত্য হবে কি না-এ নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।

    আওয়ামী লীগের শাসনের পতনের আন্দোলন বা গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তিতে জুলাই মাসেই সংস্কার প্রশ্নে সনদ ঘোষণা করার কথা রয়েছে। সে জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ রয়েছে ১৫ই জুলাই পর্যন্ত। এই সময় আরও বাড়তে পারে।

    যদিও কমিশন ১০ই জুলাইয়ের মধ্যে জুলাই সনদ চূড়ান্ত করার চেষ্টার কথা বলছে। সেজন্য তাদের হাতে সময় বেশি নেই। কিন্তু সংবিধানের স্পর্শকাতর ও মৌলিক বিষয়ে এখনো দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারেনি। এসব বিষয়ে ঐকমত্য বেশ কঠিন বলে রাজনীতিকসহ সংশ্লিষ্টরাই বলছেন।

    কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংস্কারের যে সব প্রস্তাবে ঐকমত্য হবে, সেগুলো দিয়েই জুলাই সনদ তৈরি করা হবে।

  • মানিকগঞ্জে দোকানিকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত নাসিম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার

    মানিকগঞ্জে দোকানিকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত নাসিম ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার

    মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় আলী আজম নামের এক দোকানির দাড়ি ধরে টানাহেঁচড়া ও চড়-থাপ্পড়ের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। আজ শুক্রবার সকালে সাভারের আশুলিয়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম নাসিম ভূঁইয়া (৪৫)।  তাঁর বাড়ি উপজেলা সদরে ঘিওর এলাকায়। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।গ্রেপ্তার নাসিম ভূঁইয়া মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মোশারফ হোসেন ওরফে বাচ্চু ভূঁইয়ার ছেলে।

    গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ মাহবুব বলেন, ‘তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয়। পরে ঢাকার আশুলিয়া উপজেলার নিশ্চিন্তপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    বর্তমানে সে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হবে।’

  • মানিকগঞ্জে শ্যালিকাকে মদপান করিয়ে ধর্ষণ !

    মানিকগঞ্জে শ্যালিকাকে মদপান করিয়ে ধর্ষণ !

    মানিকগঞ্জে এক তরুণীকে জোরপূর্বক মদপান করিয়ে ধর্ষণ এবং পরবর্তী সময়ে তার অশ্লীল ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ভুক্তভোগী তরুণী মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযুক্তরা হলেন ছত্তার মিয়া (৪০) ও তার স্ত্রী রুনা আক্তার (৩০)। অভিযুক্ত ছত্তার মিয়া ভুক্তভোগীর দুলাভাই এবং তার স্ত্রী রুনা আক্তার ভুক্তভোগীর বড় বোন।

    মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর একদিন সকালে ছত্তার মিয়া ফোন করে জানান, তার স্ত্রী গর্ভবতী। এ উপলক্ষে ভুক্তভোগীকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানান। ওইদিন দুপুরে ওই তরুণী তাদের বাড়িতে যান।

    এর কিছুদিন পর গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর রাতে ছত্তার, তার স্ত্রী রুনা ও আরেক স্ত্রী সোনিয়া মিলে ভুক্তভোগীকে জোরপূর্বক মদ খাইয়ে অচেতন করে ফেলে। সকালে জ্ঞান ফেরার পর ভুক্তভোগী দেখেন, তিনি একটি ঘরে ছত্তার মিয়ার পাশে শুয়ে আছেন। তার শরীরের কাপড় এলোমেলো। তিনি বুঝতে পারেন, তার সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

    অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে ভুক্তভোগী জানতে পারেন, তার অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ছত্তার মিয়া মোবাইলে ধারণ করেছেন এবং সেগুলো অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এরপর থেকে ছত্তার একাধিকবার ভুক্তভোগীকে ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন।

    সবশেষ বুধবার (১৮ জুন) রাত ৮টার দিকে ভুক্তভোগী দেখতে পান, ‘কাঠ গোলাপ’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার কিছু ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি পরে থানায় অভিযোগ করেন।

    এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম আমান উল্লাহ বলেন, এক তরুণী অভিযোগ করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।