Blog

  • জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হলে দেশে মহাসংকট নেমে আসবে

    জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হলে দেশে মহাসংকট নেমে আসবে

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ছাত্র-জনতা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগানে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন ও রক্ত দিয়ে জাতিকে নতুন বাংলাদেশ এনে দিয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব তাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গঠন করা।

    দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত নেতৃত্ব জাতিকে উপহার দিতে ব্যর্থ হলে জুলাই বিপ্লব ব্যর্থ হবে। এই বিপ্লব ব্যর্থ না করে দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত নেতৃত্ব জাতিকে উপহার দিতে হবে। তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শুধু বক্তৃতা দিয়ে নয় জাতির সামনে শপথ করুন, একটি বৈষম্য মুক্ত, দুর্নীতি, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ মুক্ত বাংলাদেশ গঠনে ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখবেন।

    আর এটা যেই রাজনৈতিক দল পারবে না, তাদেরকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বয়কট করতে হবে। তিনি আরো বলেন, দেশ ও জাতি গঠনে যুবকেরা উদ্যমী সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সমাজের পরিবর্তনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে পারে। নিজের জীবন ও রক্ত বিলিয়ে দিতে পারে।

    এই যুব সমাজই পারে একটি আলোকিত সমাজ গঠন করতে। তবে এজন্য তাকে নৈতিকতা ও আদর্শ এবং মানবিক গুণাবলী অধিকারী হতে হবে। একজন মানুষের দায়িত্ব হচ্ছে, সত্য এবং সুন্দরের প্রতিনিধিত্ব করা। এই সুন্দর ও সত্য প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলামী সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

    যুবকদেরকে যদি নৈতিক শক্তিতে তৈরি করা না যায়, তবে এই যুব শক্তি সমাজের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। যুবকরা সমাজ আলোকিত করতে পারে আবার অন্ধকারও করতে পারে। আমাদের যুব শক্তিকে আলোকিত করতে হবে।

    সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার বাসু-দেবপুর ইউনিয়নের এক যুব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, আজকের সমাজ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। কারণ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট অপশক্তি যুব সমাজের হাতে গাঁজা তুলে দিয়েছিল। হেরোইন, মদ, নারী আর বেহায়াপনায় যুবকদের রাষ্ট্রীয় মদদে লিপ্ত করা হয়েছে।

    প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ষড়যন্ত্রে আজ আমাদের দেশের কোটি কোটি যুবক বেকার। এই যুবকদের যদি মানব সম্পদে পরিণত করা হতো তাহলে বাংলাদেশ হতো বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী জাতি। জামায়াতে ইসলামী রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে যুব সমাজকে মানব সম্পদে পরিণত করা হবে, করতে হবেই। এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।

    বাসুদেবপুর ইউনিয়ন আমীর অধ্যাপক আবদুল মতিনের সভাপতিত্বে হাতনাবাদ মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিত যুব সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন আদর্শ শিক্ষক পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি ড. ওবাইদুল্লাহ্।

    এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা আমীর হাফেজ আব্দুল আলিম, সেক্রেটারী আব্দুর রহমান, পৌর আমীর গোলাম রাব্বানী সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

     

  • জুলাই-আগস্টে পুলিশ বৃষ্টির মত গুলি করেছে- ইউনিসেফ

    জুলাই-আগস্টে পুলিশ বৃষ্টির মত গুলি করেছে- ইউনিসেফ

    বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স বলেছেন, জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনা সম্পর্কে জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের প্রতিবেদনটি হৃদয়বিদারক। প্রতিবেদনে অনুমান করা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১৪০০ জন নিহত হয়েছে। তাদের মধ্যে শতাধিক শিশু ছিল। আমরা তাদের প্রত্যেকের জন্য শোক প্রকাশ করছি।

    জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থান চলাকালে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশন প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে এ বিবৃতি দেন রানা ফ্লাওয়ার্স।

    বিবৃতিতে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউনিসেফের প্রতিনিধি বলেন, প্রতিবেদনে লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতা, শারীরিক আক্রমণ ও ধর্ষণের হুমকিসহ, নথি-ভুক্ত করা হয়েছে। যার উদ্দেশ্য ছিল নারীদের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখা। সে সময় শিশুরা রেহাই পায়নি। তাদের হত্যা করা হয়, পঙ্গু করা হয়, নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হয়, অমানবিক অবস্থায় আটক করা হয় এবং নির্যাতন করা হয়।

    একটি ভয়াবহ ঘটনায় ধানমন্ডিতে ১২ বছর বয়সী এক বিক্ষোভকারী ২০০টি ধাতব গুলির কারণে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে মারা যায়। আরেকটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে নারায়ণগঞ্জে। ছয় বছর বয়সী এক কিশোরী, যে তার ছাদ থেকে সংঘর্ষ পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ৫ আগস্ট, বিক্ষোভের সবচেয়ে মারাত্মক দিনগুলির মধ্যে একটি।

    আজমপুরে একটি ১২ বছর বয়সী বালক অন্তত এক ডজন মৃতদেহের সাক্ষী। সে ‘বৃষ্টির মতো’ পুলিশের গুলি চালানোর বর্ণনা দিয়েছে। এই ঘটনাগুলো অবশ্যই আমাদের সকলকে আতঙ্কিত করে তুলবে এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের শিশুদের সঙ্গে ‘আর কখনো হবে না’ তা নিশ্চিত করার জন্য দেশটির কাছে আবেদন করছে।

    ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতি আহ্বান জানায়, সহিংসতা, অপব্যবহার, এবং শিশুদের বে-আইনি আটকের সমস্ত ঘটনা স্বাধীন তদন্ত করতে হবে। বিচার খাতের সংস্কার করতে হবে, যা শিশু সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের আইনি কাঠামোকে সারিবদ্ধ করে। ভবিষ্যৎ আইনের লঙ্ঘন প্রতিরোধ করার জন্য শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা, যার মধ্যে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।
    বাংলাদেশ এখন বড় আশা, পরিবর্তন ও রূপান্তরের মুহূর্তে রয়েছে।

    সংস্কার কমিশনগুলো বর্তমানে পুলিশ বিভাগ, আদালত ও বিচার ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ পুনর্নির্মাণ এবং পুনর্নির্মাণের উপায়গুলো খুঁজছে। তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ, আরও ন্যায়সঙ্গত পরিবেশ তৈরি করার সুযোগ রয়েছে।

    আসুন আমরা এই মুহূর্তটিকে অর্থপূর্ণ সংস্কারের জন্য কাজে লাগাই এবং নিশ্চিত করি যে বাংলাদেশের কোনো শিশু, পরিবার এবং সম্প্রদায়কে আর এ ধরনের ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে যেতে হবে না।

     

  • গাজীপুর হামলায় নিহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আবুল কাশেমের মরদেহ হস্তান্তর !

    গাজীপুর হামলায় নিহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আবুল কাশেমের মরদেহ হস্তান্তর !

    গাজীপুরে সাবেক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হকের বাড়িতে হামলায় নিহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আবুল কাশেমের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক দীপিকা রায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।

    পরে রাত ৭টার দিকে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনোজ প্রভাকর রায় কাশেমের মরদেহ এলাকার বড় ভাই মো. শাহাদত হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেন।

    শাহাদাত হোসেন বলেন,আমরা প্রথমে কাশেমের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে জানাজা করবো। পরে গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজারের দক্ষিণ কমলপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবা-রিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

    তিনি জানান, কাশেমের বাবা বেঁচে নেই। পরিবারে তার মা ও এক বোন রয়েছে।

  • জীবন

    জীবন

    বন্ধু, দেখ চেয়ে ঐ ‘চন্দ্রিমা’
    -অন্ধকারে নির্ভয়
    হাত নেড়ে বার বার,
    জীবনের কথা কয়।।

    গিয়াছ কি তুমি ভুলে?
    -ভাললাগা কাকে বলে!
    বিবসনে ছল-ঢলে,
    ভিজাইয়া আখিঁ-দ্বয়।।

    মিটে নাই আশা
    -বহুরুপির ভালবাসা
    ঘৃনা আর ক্লান্তি,
    পেয়েছ উপহার।।

    জীবনে চেয়েছ যাহা
    -পেয়েছ কি তাহা?
    হিসাব কষে দেখ এইবার,
    আপন মনে মনে ।।

    সময় অতি কম
    -ফেলনা দীর্ঘ দম
    হাত বাড়িয়ে ডাকে ঐ
    কালের কেতন।।

    বুকে রেখে হাত
    বল; বিশ্বাসের সাথ
    বন্ধগলির অন্ধপথ
    কার ভাল লাগে??

    শুন, বন্ধু মহাশয়
    বিভূতিভূষণ, মনস-কামনা
    শ্রী চৈতন্যের,
    চরণ তলে রয়।।

    ঠুটে, মুখের ফাকাঁ বুলি
    -যাকে ভালবাসা বলি
    আসলে, সবই মিথ্যে,
    – জীবনের পরাজয়।।

    বন্ধু, যদি ইচ্ছে হয়
    -ছেড়ে দিয়ে লাজ-ভয়
    নির্ভেয় বুকে রাখ,
    যাকে তুমি ভালবাস, নিশ্চয়।।

    কি হবে ভাবনায়?
    -সময় হলে পার
    অচলার বিনিময়,
    হয় কি বার বার ।।

    বিনিত এই আখিঁ
    -বন্ধুর চরণে রাখি
    শান্তির পরশ খোঁজ
    ভব জ্বালা জুড়াবার।।

    এ, সংসার মায়াপুরি
    -ফাকাঁ তালে ঘুরে মরি
    ভাললাগা-ভালবাসা,
    হয় না, যার তার।।

    ভালবাসা কাছে আসা
    -ক্ষনে ক্ষণে অভিমান
    বিনে সূতোয় বাঁধা মন,
    এতো, জীবনের জয় গান।।

    https://forum.daffodilvarsity.edu.bd/index.php/topic,63432.0.html

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬১ কৃষকের মাঝে কৃষি ঋণ বিতরণ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৬১ কৃষকের মাঝে কৃষি ঋণ বিতরণ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ ‘এসো দেশ বদলায়-পৃথিবী বদলায়’ স্লোগানে চাঁপাইনবাবগঞ্জে নতুন বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রকাশ্যে কৃষি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

    সকল সদস্য, জেলা কৃষি ঋণ কমিটির অংশ গ্রহনে জেলা প্রশাসন ও লিড ব্যাংক (অগ্রহণী ব্যাংক পিএলসি)’র আয়োজনে বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত মঞ্চে কৃষকদের মাঝে কৃষি ঋণের চেক তুলে দেওয়া হয়।

    কৃষি ঋণ বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সামাদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন রাজশাহী বিভাগের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) তরফদার মোঃ আক্তার জামীল। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক রাজশাহী শাখার উপ-পরিচালক মোঃ রবিউল ইসলাম।

    এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নাকিব হাসান তরফদার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ তাছমিনা খাতুন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আঞ্জুমান সুলতানা, রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের ডি.জি.এম শওকত শহীদুল ইসলাম।

    অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অগ্রহণী ব্যাংক চাঁপাই নবাবগঞ্জ জোনাল অফিসের প্রিন্সিপাল অফিসার মোঃ নাজির হাসান। এসময় অগ্রণী ব্যাংকের অঞ্চল প্রধান মোঃ রফিকুল ইসলাম ৩৫টি ব্যাংকের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

    ৩৫টি ব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় অগ্রণী ব্যাংক পিএসসি’র ১১লক্ষ টাকাসহ প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার কৃষি ঋণের চেক ৬১জন কৃষকদের মাঝে তুলে দেন অতিথিগণ।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে ক্রিকেট টূর্ণামেন্ট

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে ক্রিকেট টূর্ণামেন্ট

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ তারুণ্যের উৎসব উপলক্ষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আয়োজনে টি টেন ক্রিকেট টূর্ণামেন্ট এর উদ্বোধন হয়েছে।

    বুধবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্টেডিয়ামে টি টেন ক্রিকেট টূর্ণামেন্ট এর উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুস সামাদ ও পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বিপিএম সেবা।

    উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নাকিব হাসান তরফদার, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহবায়ক মোঃ রাহিম, সদস্য সচিব মোঃ সাব্বিরসহ অন্যরা।

    উদ্বোধনী খেলায় অংশ নেয় চাঁপাই নবাবগঞ্জ পলিটেকনিক ও চাঁপাই নবাবগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা দল। টূর্ণামেন্টে এক্সিম ব্যাংক বিশ্ববিদ্যালয়সহ জেলার মোট ১০টি কলেজ ও মাদ্রাসা অংশ নিচ্ছে।

    এসময় ক্রীড়ামোদী দর্শক ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। ১৪ ফেব্রুয়ারী টূর্ণামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।

  • জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্গন করেছে শেখ হাসিনা সরকারঃ জাতিসংঘ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্গন করেছে শেখ হাসিনা সরকারঃ জাতিসংঘ

    জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ। এতে বলা হয়েছে, গত আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের আগে, তার সরকার বিক্ষোভকারী ও অন্যান্যদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে, যার মধ্যে ছিল শত শত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড।

    জাতিসংঘ বলছে, গত ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১৪০০ জনের ও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ সময় আহত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। আহতরা বাংলাদেশের নিরাপত্তাবাহিনীসমূহের দ্বারা গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১২- ১৩ শতাংশ ছিল শিশু।

    বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে যে, তাদের ৪৪ জন কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। প্রতিবেদনে জাতিসংঘ আরো বলেছে, বাংলাদেশের সাবেক সরকার এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গত বছর ছাত্রদের বিক্ষোভের দমনে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিসের প্রতিবেদন বলছে, বাংলাদেশের সাবেক সরকার, তার আওয়ামী লীগ দল এবং বাংলাদেশি নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার সহিংস উপাদানগুলোর দ্বারা সংঘটিত এই কথিত অপরাধগুলো বিক্ষোভকারী ও অন্যান্য বেসামরিক নাগরিকদের ওপর একটি ব্যাপক এবং পদ্ধতিগত আক্রমণের অংশ ছিল।

    প্রতিবেদনে নারীদের বিক্ষোভে অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যে ধর্ষণের হুমকিসহ লিঙ্গ-ভিত্তিক সহিংসতাও নথিভুক্ত করা হয়েছে।প্রতিবেদনে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের কর্মকর্তা বা সমর্থকদের বিরুদ্ধে ‘লিঞ্চিং এবং অন্যান্য গুরুতর প্রতিশোধমূলক সহিংসতা’ তুলে ধরা হয়েছে।

    জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার ভলকার তুর্ক বলেন, “এই নৃশংস প্রতিক্রিয়া ছিল সাবেক সরকারের একটি পরিকল্পিত এবং সমন্বিত কৌশল, যা জনতার বিরোধিতার মুখে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে চেয়েছিল।

    বিক্ষোভ দমনের কৌশলের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারে নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক এবং নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসঙ্গত কারণ রয়েছে।

  • আয়নাঘর পরিদর্শন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

    আয়নাঘর পরিদর্শন করলেন প্রধান উপদেষ্টা

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আয়নাঘর পরিদর্শন করেছেন। এই সময় তার সঙ্গে ছিলেন দেশ-বিদেশের গণমাধ্যমের প্রতিনিধি ও ভুক্তভোগীরা।

    কুখ্যাত আয়নাঘর নামে পরিচিত শেখ হাসিনা সরকারের টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহৃত তিনটি গোপন বন্দিশালা পরিদর্শন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ছিলেন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, গুম তদন্ত কমিশন ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরাসহ আয়নাঘরে গুম হওয়া ভুক্তভোগীরা।

    বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ঢাকার কচুক্ষেত, আগারগাঁও এবং উত্তরা এলাকার তিনটি গোপন কারাগার পরিদর্শন করেন।

    পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টাসহ উপস্থিত প্রতিনিধিরা সেখানে ইলেকট্রিক চেয়ারসহ নির্যাতনের জন্য ব্যবহৃত উপকরণ দেখতে পান। ভুক্তভোগীরা তাদের নির্যাতনের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

  • আজ থেকে যমুনা রেল সেতু দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু

    আজ থেকে যমুনা রেল সেতু দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু

    আজ থেকে যমুনা রেল সেতু দিয়ে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল চালু হচ্ছে। এর মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে যমুনা রেল সেতু প্রকল্পের পরিচালক আল ফাত্তাহ মাসউদুর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি জানান, বুধবার (১২ জানুয়ারি) সকাল থেকে নিয়মিত ট্রেন চলবে নতুন যমুনা রেল সেতুতে। রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা সিল্কসিটি এক্সপ্রেস ট্রেনটি প্রথম চলাচল করবে। সকাল ১০টায় ওই ট্রেন যমুনা রেল সেতু অতিক্রম করার সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে।

    রাতে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, বুধবার সকাল ৭টায় সিল্কসিটি ট্রেন ছেড়ে আসবে, ১০টার দিকে ওই ট্রেনটি সেতু অতিক্রম করবে। পর্যায়ক্রমে সিডিউল অনুযায়ী বাকি ট্রেনগুলো যাবে। ৪.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ যমুনা রেলসেতুতে দুটি লাইন থাকলেও প্রথমে একটি লাইন দিয়েই উভয়দিকে ট্রেন চলাচল করবে। ঢাকা থেকে যেতে ডান পাশের লাইন, অর্থাৎ সেতুর উত্তর পাশের লাইনটি দিয়ে ট্রেন চলবে।

    জানা গেছে, আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে যমুনা রেল সেতুর। যোগাযোগ উপদেষ্টাসহ কর্মকর্তারা ওই অনুষ্ঠানে থাকবেন।

    রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে ডুয়েলগেজ ডাবল ট্র্যাকের এ রেলসেতু ব্যবহারের জন্য ৭.৬৬৭ কিলোমিটার রেলওয়ে অ্যাপ্রোচ এমব্যাংকমেন্ট এবং লুপ, সাইডিংসহ মোট ৩০.৭৩ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করা হয়।

  • স্মৃচি চারণে একজন এ্যাড. মজিবর আওয়ামী নেতা !

    স্মৃচি চারণে একজন এ্যাড. মজিবর আওয়ামী নেতা !

    ১৯৯২ সাল, আমি তখন সরকারী ভিকু মেমোরিয়াল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র। প্রফেসর সাইদুর রহমান স্যারের বাংলা (আওয়ামীলীগ নেতা) ক্লাস শেষ করে, বর্তমান কলেজের পুকুর সংলগ্ন টিনসেট ঘরের চিপায় প্রস্রাব করতে ছিলাম। তখন কলেজটির অবস্থা তেমন ভাল ছিল না। চিপা-চাপায় বসেই প্রস্রাবের কাজ সাড়া যেত। আমিও তাই করছিলাম। যদিও এটি ছিল সম্পূর্ণ অন্যায়।

    সবেমাত্র কলেজে পা, তাই একটু আনাড়িও ছিলাম বটে। যা হোক, প্রকৃতির কাজ সারতে গিয়ে দেখি লকলকে তিন যুবক মুকুট বিড়ির প্যাক খুলে দেদারে ফুকঁছে। আমি উচ্ছুকতা বসতঃ কাছে যেতেই বিকট আওয়াজ তুলে ধমক খেয়ে –ভয়ে দৌঁড়িয়ে পাশ্ববর্তী আধাভাঙ্গা টিনের ঘরে আশ্রয় নিলাম। প্রায়  ঘন্টা খানেক পালিয়ে থাকার পর বন্ধুর সহযোগিতায় বেড়িয়ে-ই, ভূ-দৌঁড়।

    এই ঘটনার তিন দিনপর আবার সেই ছেলেদের দেখলাম-ওয়াসরুমে, অনেকটাই অপ্রকৃতিস্থ  অবস্থায়। তারপর আমার এক বন্ধু কাছ থেকে জানলাম ওরা ‘নেতা’ এমনই। সম্ভবতঃ তিনের লম্বাজনের নাম মজিবর। জাতীয় পাটি করে। ওদের অনেক ক্ষমতা।

    সেই সময় থেকেই আমি মজিবর নেতাকে চিনতাম। মনে মনে ভাবতাম বিড়ি খোড়রাই বুঝি নেতা হয়। পরে তথ্য নিয়ে জেনেছিলাম-দরগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মহুম এলাহী বক্স তাদের বিড়ির অর্থ যোগন দিতেন।

    মজিবরের সাথে সুটাম দেহের মস্তান টাইপের আরও একটা ছেলে ছিল- যার নাম  আতিকুর রহমান। সে প্রায়ই কলেজ গেটে পানির বোতল হাতে দাড়িঁয়ে থাকতো আর ছাত্র-ছাত্রী দেখলেই বোতল উঁচু করে দুইহাত নিচে মাথা রেখে গদগদ করে অভিনব কায়দায় পানি খেয়ে সবায়কে অবাক করে দিত। পরে দুইজনই দরগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা হয়েছেন।

    আমি ১৯৯৪ সালে এইচএসসি পাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। তারপর দীর্ঘ সাত বছর পরে আবার আমি মজিরব নেতাকে দেখি-এড্যাভোকেট মজিবর ভাই হিসাবে। অনুসন্ধানে জানি, এলাহী বক্স মরে যাবার পরে মজিবর দুই-দুইবার বিএনপিতে নাম লেখালেও শৃংখলা ভঙ্গের কারণে দলে স্থায়ী হতে পারে নাই।

    জাতীয় পার্টির নেতা কর্ণেল মালেক সাহেব আওয়ামীলীগে যোগ দিলে পুনরায় মজিবরদের কদর বাড়ে। বিশেষ করে জাহিদ মালেক স্বপনের সময় তারা রাতারাতি নেতা বনে যান। একের পর এক বিতর্কীত কাজের নেতৃত্ব দিয়ে জাহিদ মালেক স্বপনের দৃষ্টি আকষর্ণে সক্ষম হন। মজিবর-দের অপর অ্যাডভোকেসি নেতা ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল মজিদ ফটো।

    মূলতঃ জাহিদ মালেক স্বপনের সাথে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় আব্দুল মজিদ ফটো এলাকার ছেলে হিসাবে মজিবরদের কাছে টানেন এবং বিভিন্ন প্রকার রাজনৈতিক সুবিধা দিয়ে নিজের বলয় বড় করার চেষ্টা করেন। কিন্তু হঠাৎ করেই জাহিদ মালেক স্বপন মন্ত্রী বনে গেলে মজিব-রেররা রাতারাতি রং বদলিয়ে ফেলে। পদ-পদবী দখলে মরিয়া হয়ে ফটো সাহেবের পক্ষ ত্যাগ করে মন্ত্রীরপক্ষ অবলম্বন করে।

    জাহিদ মালেক স্বপন ক্ষমতাকে চিরস্থায়ী করতে বিতর্কীত মজিবরদের বড় বড় পদে আসিন করে সন্ত্রাসী রাজনীতি কায়েম উঠে-পড়ে লেগে যান। যার ফলে সমাজে তথাকথিত মজিবর নেতাদের উত্থান ঘটে।

    উল্লেখ্য যে, এই সময় হতেই মজিবর মানিকগঞ্জ জেলাধীন সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মানিকগঞ্জ জজ কোর্টের আইনজীবীর পরিচিতি লাভ করেন। তার আইন পেশায় পরিচিতির অন্যতম হুতা অঘোষিত মানিকগঞ্জের বলরাম জনাব আব্দুল মজিদ ফটো ভাই। রাজনৈতিক ও আইন পেশাকে কাজে লাগিয়ে মজিবর, আশা-পাশের কয়েক ইউনিয়নের ‘বিচারক’ বনে যান-দুলে দুলা ভাবেই।

    ছাত্র-জনতার আন্দোলনে লুটেরাগণ আত্মগোপনে চলে গেলে মজিবর-দের বিতর্কীত কর্ম জনতার চোখে ধরা পড়ে। ফলে তার বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠতে থাকে ।

    মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় মজিবর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২ আদালতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর মামলায় হাজিরা দিতে আসলে বিচারক রাহুল দেব শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করে মজিবর কে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

    উল্লেখ্য তার বিরুদ্ধে ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে (১৩ আগস্ট মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার) বিজয় মিছিলের সময় দড়গ্রাম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়।

    বিএনপির নেতা মো. শাহিন খান বাদি হয়ে আওয়ামী লীগ ও তার সহ-যোগী সংগঠনের ৩৮ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ্যসহ অজ্ঞাত ২০/২৫ জনকে আসামি করে সাটুরিয়া থানায় এই  মামলাটি দায়ের করেন।

    উক্ত মামলার এজাহারে ২ নম্বর আসামি অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহের ডিরেকশন শেষে স্যারেন্ডার করে জামিন চাইতে আজ আদালতে হাজিরা দিতে আসলে বিচারিক আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

    তথাকথিত অতিকথনের এই রাজনীতির খেলায় মজিবরেরা আসবে যাবে এটি  সাময়িক দৃশ্যপট মাত্র। রাজনীতির ধারাপরিক্রমায় ওরাও একদিন হারিয়ে যাবে এটা যেমন সত্য; ঠিক তেমনী সত্য মজিবরদের রুখতে রাজনীতির চিরাচরিত এই ধারাপট পরির্বতন একান্তই জরুরী।