Blog

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ !

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ !

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডায়রিয়া রোগীর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আগের দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন ৪৫ জন রোগী।

    নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ৪৬ জন। সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১২ জন। সব মিলিয়ে বর্তমানে হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন মোট ৭৯ জন রোগী।

    হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জানায়, শীত মৌসুম শেষে আবহাওয়ার পরিবর্তন, বিশুদ্ধ পানির অভাব এবং অপরিচ্ছন্ন খাবার গ্রহণের কারণে ডায়রিয়ার ঝুঁকি বাড়ছে। শিশু ও বয়স্ক রোগীর সংখ্যাই বেশি, তবে বিভিন্ন বয়সী মানুষও আক্রান্ত হচ্ছেন।

    এবিষয়ে জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মোঃ আব্দুস সামাদ বলেন, “ডায়রিয়া একটি পানিবাহিত রোগ। বিশুদ্ধ পানি পান না করা, রাস্তার খোলা খাবার খাওয়া এবং ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে রোগের প্রকোপ বাড়ছে। আমরা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করেছি। রোগীরা সময়মতো হাসপাতালে এলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।”

    তিনি আরও বলেন, “ডায়রিয়া হলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং ঘরে ঘরে ওআরএস ব্যবহারে সচেতন হতে হবে।” স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে সাধারণ জনগণকে সব সময় ফুটানো বা বিশুদ্ধ পানি পান করা, হাত পরিষ্কার রাখা এবং খাবার ঢেকে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    একই সঙ্গে ডায়রিয়ার উপসর্গ দেখা দিলে নিজে নিজে ওষুধ না খেয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

  • আমার দেখা (ইউপি-কৃষকদলের সভাপতি) একজন রজ্জব আলীর চেতনা !

    আমার দেখা (ইউপি-কৃষকদলের সভাপতি) একজন রজ্জব আলীর চেতনা !

    আধিপত্যবাদী স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের কঠিণ সময় গুলোতে আমাদের রজ্জব আলী বিদেশের মাটিতে ছিলো। মাঝে মধ্যে সেখান থেকে ফোনে আমার এবং এলাকার মানুষের নানাবিদ খোজঁ-খবর নিতো। রজ্জব আলী আমার সম-সাময়িক না হলেও তার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল ব্যক্তিক যা বয়সের ফ্রেমে বাধাঁর নয়। সে প্রায়ই বলতো-ভাই বিদেশে আমি তেমন ভালো করতে পারছিনা। দেশে এসে কিছু করতে চাই।

    অবশেষে সকল দ্বিধা-দ্বন্দ্ব উপেক্ষা করে, রজ্জব আলী অনেক আশা নিয়ে (আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ বছরে) চাচিতারা গ্রামে (নিজ গ্রাম) এসেছিলো। সে লেখা-পড়া কম জানলোও, সামাজিক অনেক বিষয়ে-ই তার সরল-মানবিক চিন্তা ছিলো চোখে পড়ার মতো; যা আজ-কাল শিক্ষিত সমাজের মধ্যেও অনুপস্থিত। গ্রামে এসে, দাতেঁ দাতঁ চেপে রজ্জব আলী আওয়ামী পাতি-নেতারদের নানাবিদ বৈরিতা সহ্য করতো। সহন-শীল, রজ্জব আলী ব্যক্তিগত ভাবে বিএনপি দলের একনিষ্ঠ ভক্ত ছিল। তার অকুন্ঠ ধারনা ছিল বিএনপি সরকার গঠণ করলেই সব সমস্য সমাধান হয়ে যাবে।

    জুলাই বিপ্লবে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে আওয়ামীলীগ সরকারের পতন হলে-অঘোষিত ক্ষমতার মালিক বনে গেল বিএনপি। কিন্তু রজ্জব আলীদের কল্পনা, কল্পনাই থেকে গেল। রাজনৈতিক হাত বদলে শুধু নতুন চাদাঁবাজদের দৌরাত্বই বৃদ্ধি পেল। তদুপরি, বিএনপি দলের প্রতি তার অফুরন্ত ভালবাসার গারতি হলো না।

    চারিদিকের বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে-অনেক দৌঁড়-ঝাঁপ করে রজ্জব আলী শেষ-অব্দি ২নং দিঘলীয় ইউনিয়ন কৃষকদলের ‘সভাপতি’ নির্বাচিত হলো। কিন্তু রাজনীতি করতে গেলে যে, সকল চামচামী গুণ থাকা দরকার তা রজ্জব আলীর ছিল না। তাই শেষ পযর্ন্ত রজ্জব আলী রাজনীতি ধারাসূত্রকে দূরে ঠেলে আবার বিদেশ যাবার মনস্থ্য করলো।

    গত ১৬ জানুয়ারী সকালবেলা আমাদের প্রিয় রজ্জব আলী এসো বলল, ভাই বিদেশ চলে যাচ্ছি। আমি কৌতুহল করেই বললাম কেবল রাজনীতিতে প্রবেশ করলা, এখন-ই বিদেশে কেন? রজ্জব আলীর উত্তর ছিল, ভাই রাজনীতি গরীবের জন্য নয়। রাজনীতি চাদাঁবাজদের দখলে চলে গেছে। এখন নেতা-নেতৃত্ব টাকা হলেই কিনতে পাওয়া যায়। এগুলো আমার কাজ না। তার চেয়ে বরং বিদেশে গিয়ে গায়ে খেটে-বৌও-বাচ্চাদের বাঁচার একটা উপায় বের করি।

    ১৭ই জানুয়ারী ২নং দিঘলীয়া ইউনিয়ন (সাটুরিয়া-মানিকগঞ্জ) কৃষকদলের সভাপতি রজ্জব আলী সৌদি আরবের উদ্দেশ্য চাচিতারা গ্রাম ছেড়েছে। রজ্জব আলী যাবার আগে ২নং দিঘলীয়া ইউনিয়ন কৃষকদলের সকল সদস্য ও নেতৃবৃন্দদের শুভেচ্ছা ও আন্তরিক ভালবাসার কথা জানিয়ে গেছে।

    স্নেহের রজ্জব আলীর প্রতি দিঘলীয়াবাসীর পক্ষ থেকে আমাদের শুভ-কামনা রইল। রজ্জব আলীর ভবিষ্যৎ উজ্বল হোক, চিরাচরিৎ রাজনীতির উর্ব্ধে উঠুক তার দেশপ্রেম ও মনস-মানবিকতা এই প্রত্যাশা আমাদের সকলের।

    -মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, প্রধান সমন্বয়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি, সাটুরিয়া উপজেলা শাখা ।
  • মাদারীপুরে পরকীয়ার জেরে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিল স্ত্রী

    মাদারীপুরে পরকীয়ার জেরে স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে দিল স্ত্রী

    মাদারীপুরে পরকীয়ার অভিযোগে ইতালিফেরত যুবকের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ভোরে মাদারীপুর সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের দিয়াবাড়ি মাতুব্বর বাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত যুবকের নাম হাবিব মাতুব্বর (৩৫)।

    পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই পরকীয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে হাবিব মাতুব্বর ও তার স্ত্রীর মধ্যে কলহ চলছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশি বৈঠক হলেও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।

    শুক্রবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথাকাটাকাটি হয়। স্ত্রী শিউলি বেগম ক্ষুব্ধ হয়ে ভোররাতে ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কেটে দেন। হাবিবের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মাদারীপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

    শিউলি বেগমের দাবি, তার স্বামী পরকীয়ায় আসক্ত ছিলেন এবং একাধিক নারীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বলতেন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় তিনি তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। ক্ষোভের বশেই তিনি এ কাজ করেছেন।

    মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেছেন, “অভিযুক্ত স্ত্রী শিউলি বেগমকে আটক করা হয়েছে। ব্লেড জব্দ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

  • গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা রাষ্ট্রের জন্য ‘ফরজে ক্বেফায়া’

    গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা রাষ্ট্রের জন্য ‘ফরজে ক্বেফায়া’

    গণভোটে ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা চালানো রাষ্ট্রের জন্য ফরজে ক্বেফায়া বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম।

    শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে গণভোট নিয়ে আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    এ সময় তিনি বলেন, “সংবিধান, উচ্চ কক্ষ বা নিম্ন কক্ষ বুঝানো লাগবে না, নাগরিকের প্রাত্যহিক জীবনে গণভোট কী প্রভাব রাখবে তা বুঝিয়ে হ্যাঁ-এর পক্ষে জনমত তৈরি করতে হবে।” এই সময় তিনি নির্বাচনে অধিকহারে জনগণকে সম্পৃক্ত করার কথা উল্লেখ করেন।”

    মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এর সঞ্চালনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান ছাড়াও সিলেটে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

  • মানিকগঞ্জ–৩ নং আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি

    মানিকগঞ্জ–৩ নং আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি

    স্টাফ  রিপোর্টার : মানিকগঞ্জ–৩নং  (সাটুরিয়া–সদর) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন স্থানীয় জনগণ ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জ–৩ আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী শাহ মোহাম্মদ সাঈদ নূরকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই ঘোষণার পরপরই নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে ভোটারদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়, যা পরবর্তীতে অসন্তোষে রূপ নেয়।

    এলাকাবাসীর অভিযোগ, বর্তমান প্রার্থী এলাকায় তেমন পরিচিত নন এবং দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকায় সাধারণ ভোটারদের আস্থা অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছেন। ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের জন্য এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন তারা।

    স্থানীয় ভোটার ও নেতাকর্মীরা বলছেন, “আমরা এমন একজন প্রার্থী চাই, যিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনীতি করছেন, মানুষের সুখ–দুঃখে পাশে থেকেছেন এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য।” এ প্রেক্ষাপটে তারা জামায়াতে ইসলামীর নেতা মাওলানা দেলওয়ার হোসেনকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার দাবি জানান।

    তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, মাওলানা দেলোয়ার হোসেন এলাকায় সুপরিচিত ও সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। তাঁকে প্রার্থী করা হলে জোটের ভোটব্যাংক আরও সুসংহত হবে এবং নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা জোরদার হবে।

    এ বিষয়ে ১১ দলীয় জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় পর্যায়ের এই ক্ষোভ ও দাবি দ্রুত আমলে না নিলে নির্বাচনী রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

  • ঢাকায় ৬টিসহ ২৭টি আসনে প্রার্থী দেবে এনসিপি

    ঢাকায় ৬টিসহ ২৭টি আসনে প্রার্থী দেবে এনসিপি

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক জোটগুলোর মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আপাতত ২৭টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে।

    ১১ দলীয় জোট সূত্রে জানা গেছে, জোটভুক্ত দলগুলোর মধ্যে মোট ২৫৩টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে এনসিপির জন্য প্রাথমিকভাবে ২৭টি আসনের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও দলটিকে মোট ৩০টি আসনে নির্বাচন করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত রয়েছে।

    প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, এনসিপি যেসব আসনে প্রার্থী দিতে পারবে তার মধ্যে রয়েছে— পঞ্চগড়-১, দিনাজপুর-৫, রংপুর-৪, কুড়িগ্রাম-২, নাটোর-৩, সিরাজগঞ্জ-৬, পিরোজপুর-৩, টাঙ্গাইল-৩, ময়মনসিংহ-১১ ও মুন্সীগঞ্জ-২।

    রাজধানী ঢাকা মহানগরীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনেও এনসিপি প্রার্থী দেবে। এসব আসনের মধ্যে রয়েছে— ঢাকা-৮, ঢাকা-৯, ঢাকা-১১, ঢাকা-১৮, ঢাকা-১৯ ও ঢাকা-২০।

    এ ছাড়া তালিকায় আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে— গাজীপুর-২, নরসিংদী-২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, কুমিল্লা-৪, নোয়াখালী-২, নোয়াখালী-৬, লক্ষ্মীপুর-১, চট্টগ্রাম-৮, বান্দরবান এবং নারায়ণগঞ্জ-৪।

    ১১ দলীয় জোটের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, বাকি আসনগুলো নিয়ে আলোচনা এখনও চলমান রয়েছে। সমঝোতা চূড়ান্ত হলে এনসিপির জন্য ঘোষিত আসনের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

  • জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ অনুমোদন

    জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশ অনুমোদন

    অন্তর্বর্তী সরকারের আইনবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা ও দায়মুক্তি নির্ধারণ আইন অনুমোদন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক ইস্যুতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক প্রতিরোধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সরকার প্রত্যাহার করবে। নতুন করে মামলা করা হবে না।

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে কোথাও কোনো মামলা হয়েছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা।

    তবে ওই সময় ব্যক্তিগত, সংকীর্ণ স্বার্থে কোনো হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হলে তার বিচার হবে। এ বিষয়ে মানবাধিকার কমিশন তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবে। এরপর সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান আইন উপদেষ্টা।

    এর আগে, ৮ জানুয়ারি এক ফেসবুক পোস্টে আইন উপদেষ্টা জানিয়েছিলেন ‘দায়মুক্তি অধ্যাদেশ’-এর খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের বীরদের ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের হাত থেকে নিরাপদ রাখতে এবং তাদের প্রতিরোধমূলক কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি দিতেই এই উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

     

  • ‘ছন্দে ফিরছে ঝিনাইদহ জেলা’

    ‘ছন্দে ফিরছে ঝিনাইদহ জেলা’

    স্টাফ রিপোর্টার, ঝিনাইদহ- ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে ঝিনাইদহ জেলা, প্রায় একযুগ পর ঝিনাইদহবাসি পেল এক সফল জেলা প্রশাসক। একের পর এক ঝিনাইদহ শহর দখলমুক্ত করছেন সফল জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এর বিভিন্ন প্রকার জনবান্ধব কর্মকান্ডে অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলার আমজনতা।

    সরেজমিনে ঝিনাইদহ শহর ঘুরে দেখা গেছে প্রায় এক যুগ পর বর্তমান নয়া জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ একের পর এক জেলা শহরের ট্রাক-টার্মিনাল, বাস টার্মিনাল, শহীদ মিনার ও চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, শহরের ‘ট’ বাজার সহ শহরের বিভিন্ন এলাকার অলি গলি দখলমুক্ত করছেন। এতে করে শহর জুড়ে অবাধ ও নির্বিঘে চলাচলের সুযোগ পাচ্ছেন সাধারন জনগন।

    ধীরে ধীরে ঝিনাইদহ শহর একটি মডেল শহর হিসাবে গড়ে উঠছে। তীব্রশীতের মধ্যে অসহায় দুঃস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণসহ কম্বল বিতরনের কার্যক্রমসহ বিভিন্ন প্রকারের জনহীতকর কার্যক্রম চলমান রেখেছেন জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ। ফলে প্রায় এক যুগের পর সফল জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এর এসব কর্মকান্ডে অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলার সাধারন মানুষ।

    এছাড়া জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ দায়িত্ব গ্রহন করার পর পরই ঝিনাইদহের আদালত চত্ত্বর, সদর হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএসহ একের পর এক সরকারী প্রতিষ্ঠান দালাল মুক্ত ও দুর্নীতি মুক্ত করেই চলেছেন। বিভিন্ন প্রকার প্রকল্পের মধ্যে টিআর, কাবিটা, কাবিখাসহ নয়া প্রকল্প সমুহের সার্বিক দেখভাল করার কারনে এসব প্রকল্পের কার্যক্রম ধীরেধীরে দুর্নীতি মুক্ত হয়ে উঠছে।

    তাছাড়া আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনসহ অবৈধ ভাবে আবাদী জমির মাটি কেটে শ্রেনী পরিবর্তন ও মাটি কেটে ভাটায় বিক্রি করা ও সরকারী গাছ কর্তন, জেলার বিভিন্ন সরকারী অফিসে দূর্নীতি বন্ধকরন, ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমের ত্বরান্বিত করাসহ জনগনের মৌলিক চাহিদা পূরণে বদ্ধপরিকর ভুমিকা রেখে ইতিমধ্যে জেলার আমজনতার মধ্যে অভুতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছেন সফল জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ।

    সফল জেলা প্রশাসক জনাব মো: আব্দুল্লাহ আল মাসউদ বর্তমান কর্মকান্ডের ন্যায় আগামিতেও রাজনীতির মারপ্যাচের উর্দ্ধে উঠে একনিষ্ঠ ভাবে আপন দায়িত্ব পালন করে যাবেন, এমনটায় আশা করছেন জেলার আমজনতা।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবির অভিযানে মানবপাচার চক্রের ৪ সদস্য  গ্রেপ্তার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবির অভিযানে মানবপাচার চক্রের ৪ সদস্য  গ্রেপ্তার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মানব পাচার রোধে সফল অভিযান পরিচালনা করেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এক মানব পাচারকারীসহ চারজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে ৫৩ বিজিবি সদস্যরা।

    আটক ব্যক্তিরা হলেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বগচর গ্রামের এবাদুল ইসলামের ছেলে মোঃ শাহিন (মানব পাচারকারী), রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার দূর্গাপুর গ্রামের মৃত মনছুর আলীর ছেলে মোঃ তারাজুল ইসলাম (৩১), রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া থানা এলাকার মৃত বেলায়েত হোসেনের ছেলে মোঃ শফিকুল ইসলাম মুন্না (৩৭), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মৃত টুপু আলীর ছেলে মোঃ মিজানুর রহমান।

    বিজিবি সুত্র জানায়, বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বকচর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। শূন্যরেখা থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরআলাতলী ইউনিয়নের বকচর গ্রাম থেকে তাদের আটক করা হয়।

    আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মানব পাচারকারী মোঃ শাহিনের সহায়তায় তারা অবৈধভাবে ভারতের চেন্নাই প্রদেশে রাজমিস্ত্রির কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    এবিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান, পিএসসি বলেন, বিজিবি সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণসহ মানব পাচার, চোরাচালান ও সকল প্রকার অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

     

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে সংবাদ সম্মেলন

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারে সংবাদ সম্মেলন

    আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু ঃ অবৈধভাবে ভারতে গরু চোরাচালানের সময় পদ্মা নদীতে নিখোঁজ হওয়া গোলকাজুল ওরফে কাজলকে কেন্দ্র করে নিরাপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত মামলা প্রত্যাহার, পুলিশি হয়রানি বন্ধ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। বৃহস্পতিবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে অবিলম্বে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলা প্রত্যাহার, পুলিশি হয়রানি বন্ধ এবং গোলকাজুল নিখোঁজ ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।  একই সঙ্গে প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়।

    এই সময় উপস্থিত ছিলেন, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য রফিকুল ইসলাম, আসামী নুরুল ইসলামের ভাই সোহেল রানা, আসামীর চাচা নাজমুল হোসেন, আটক কৃত কামরুল ইসলামের স্ত্রী সাবানা বেগম, আসামী নেজামের স্ত্রী পারুল বেগমসহ অন্যান্যরা।

    এসময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, আমরা সংবাদ সম্মেলন ডেকেছি-চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সীমান্ত বর্তী এলাকায় সংঘটিত একটি নিখোঁজ ঘটনার প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন, সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলার প্রতিবাদ এবং নির্দোষ স্থানীয় মানুষ ও পরিবারগুলোর ওপর চলমান হয়রানি বন্ধের দাবিতে।

    এই সংবাদ সম্মেলনের উদ্দেশ্য কোনো রাজনৈতিক নয়, ঘটনার প্রকৃত বিবরণ এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য আপনাদের সামনে তুলে ধরা-যাতে সত্য উদঘাটিত হয় এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত হয়।

    সম্মেলনে ঘটনার প্রকৃত বিবরণ তুলে ধরে বলা হয়, গত ৩ জানুয়ারি/২৬ আনুমানিক রাত ৩টার দিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের নারো-খাকি এলাকায় পদ্মা নদীতে একটি নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় গোলকাজুল ওরফে কাজল (৩৫) নামের একজন ব্যক্তি নিখোঁজ হন।

    তিনি মৃত আলতাফ হোসেন ওরফে ফিরোজ মেম্বারের ছেলে। তার বাড়ি চাকপাড়া গ্রাম, ইউনিয়ন- চরবাগডাঙ্গা, থানা ও জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর। ঘটনাটি পরদিনই দেশের একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

    একই সাথে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও নৌকাডুবির ঘটনায় একজন নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ঘটনার সময় যিনি নিখোঁজ ব্যক্তির সঙ্গে ছিলেন ও কোনোরকমে প্রাণে বেঁচে ফিরে এসেছেন-তার বক্তব্য ও প্রত্যক্ষ তথ্যের ভিত্তিতে আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, ঘটনার রাতে সেখানে মাত্র দুইজন ব্যক্তি ছিলেন।

    নিখোঁজ ব্যক্তি গোলকাজুল ওরফে কাজল এবং তার সহযোগী বাচ্চু বাংলাদেশি সীমান্ত সংলগ্ন পদ্মা নদী দিয়ে একটি ছোট, আনুমানিক ১০ ফুটের ডিঙ্গি নৌকায় অবৈধভাবে ভারতীয় জলসীমার দিকে রওনা হন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নদীপথ ব্যবহার করে ভারত থেকে গরু আনা। নৌকাটি নদীর গভীর অংশে পৌঁছানোর পর প্রচণ্ড ঝড়ো বাতাস ও তীব্র স্রোতের মুখে পড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়।

    ঘটনাটি পদ্মা নদীর ভারতীয় জলসীমার গভীর অংশে ঘটে বলেও জানা যায়। নৌকায় থাকা বাচ্চু কোনোরকমে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে বেঁচে যান। অপরদিকে, গোলকাজুন ওরফে কাজল ভারী জ্যাকেট ও কাপড় পরিহিত অবস্থায় পানিতে তলিয়ে যান এবং আর উঠে আসতে পারেননি। এই ঘটনার প্রত্যক্ষ বর্ণনা বাচ্চুর দেয়া জবানবন্দী আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। এই ঘটনা একমাত্র বাচ্চুই প্রত্যক্ষ করেছেন।

    স্থানীয়ভাবে বহু মানুষ এই ঘটনার প্রকৃত বিবরণ জানে এবং পুরো এলাকা শুরু থেকেই বিষয়টি অবগত। ঘটনার পরদিন প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে অসংশ্লিষ্টভাবে বাচ্চুসহ চারজনের নামে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়। পরবর্তীতে কোনো নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্ত ছাড়াই ঘটনার সাত দিন পর কল্পিত কাহিনি সংযোজন করে একটি মামলা রেকর্ড করা হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের দোসর, রাজশাহীর সাবেক সিটি মেয়র ও নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের দুর্ধর্ষ নেতা খায়রুজ্জামান লিটনের কুখ্যাত ও দুধর্ষ ক্যাডার ও উত্তরবঙ্গের আতঙ্ক, উত্তরবঙ্গের কুখ্যাত মাদক সম্রাট, পাঁচটির অধিক হত্যা মামলার আসামি-বাংলাদেশে বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধভাবে আসা ইয়াবা, হেরোইনসহ ভয়ংকর মাদক আমদানির মূল হোতা হিসেবে পরিচিত মো শাহীদ বানা টিপু ওরফে ইয়াবা টিপু ওরফে ল্যাংড়া টিপু দীর্ঘদিন ধরে মাদকের গডফাদার ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে কুখ্যাত, একই সঙ্গে খুনি, অবৈধ মাদক ব্যবসা, অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালান, বালু মহলের গদফাদার ও আন্ডার গ্রাউন্ডভিত্তিক সন্ত্রাসী অপরাধচক্রের গডফাদার হিসেবে পরিচিত।

    বর্তমানে তিনি দুবাইয়ে পলাতক অবস্থায় থেকেও আন্ডারগ্রাউন্ড কার্যক্রম, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধী নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে যাচ্ছেন। আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করছি-এই নিখোঁজ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া অপহরণ মামলাটি মূলত মাদক সম্রাট শাহীদ রানা টিপুর স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

    তিনি তার প্রতিপক্ষ ও এলাকার সাধারণ মানুষকে জড়িয়ে নিজের ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট অপরাধের কারণ ছাড়াই শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে সাতটির অধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা পুলিশ নির্বিঘ্নে রেকর্ড করেছে।

    এই প্রেক্ষাপটে আমরা উদ্বেগজনকভাবে জানাতে চায়, শহীদ রানা টিপুর নামে যখন পাঁচটির অধিক হত্যা মামলাসহ অস্ত্র বিস্ফোরক সন্ত্রাসবিরোধী ও মাদক আইনে একাধিক গুরুতর মামলা বিদ্যমান, তখন তাকে কীভাবে নির্বিঘ্নে দেশ ত্যাগ করতে দেওয়া হলো।

    ৫ আগস্টের পর দীর্ঘ সময় প্রকাশ্যে ও প্রভাবশালীভাবে চলাফেরা করার পরেও কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হলো না? কীভাবে এবং কার সহায়তায় সে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেল-এই প্রশ্নগুলোর কোনো জবাব আজও আমরা পাইনি।

    একজন চিহ্নিত অপরাধ জগতের গডফাদার এর ক্ষেত্রে যখন কার্যকর বিচার, গ্রেপ্তার কিংবা জবাবদিহি দেখা যায় না, তখন সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার নিয়ে গভীর হতাশা গ্রস্থ। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, এই মামলাটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার (ওসি) মোঃ নূরে আলম, ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হরেন্দ্রনাথ দেবদাশ, সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) তাদেরকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিয়ে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। শাহীদ রানা টিপুর নিজ দলীয় লোকজন ও নিকটাত্মীয়দের সূত্রে আমরা এ বিষয়ে নিশ্চিত।

    একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী মো মিজানুর রহমান ওরফে মিজান এবং তার মাদক সিন্ডিকেট ও দলীয় লোকজনকে সামনে রেখে একটি নাটক সাজানোর অপচেষ্টা চলছে।

    এদিকে, শাহীদ রানা টিপু ও তার সহযোগীদের মতো প্রভাবশালী অপরাধীরা থেকে যাচ্ছে আইনের বাইরে, অথচ সাধারণ মানুষকে বারবার মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলার শিকার হতে হচ্ছে।

    চালানো হচ্ছে ভয়ভীতি, নির্যাতন ও মানসিক চাপ- যার কোনো প্রতিকার আমরা পাচ্ছি না। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এই নিখোঁজ ঘটনাটিও একই ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের অংশ- যার মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধী ও মাদকচক্র আড়ালে থেকে যাচ্ছে এবং এলাকায় ভয়, আতঙ্ক ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি জিইয়ে রাখা হচ্ছে।

    এ ধরনের অপচেষ্টা পুরো এলাকার শান্তি, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার ব্যবস্থাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। এই নিখোঁজ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাটি নিয়ে ইতোমধ্যেই এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্ট হয়েছে।

    ঘটনার পর থেকে দফায় দফায় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিরপেক্ষ তদন্তের জোরালো দাবি তুলেছে। এসব প্রতিবাদ কর্মসূচিতে স্থানীয় জনগণের পাশাপাশি সচেতন মহলও প্রকাশ্যে একাত্মতা ও
    সংহতি প্রকাশ করেছে।

    আমরা এই সংবাদ সম্মেলন থেকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই-এই মামলায় যেসব নির্দোষ মানুষকে আসামি করা হয়েছে, গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া সব ধরনের শাস্তিমূলক ও হয়রানিমূলক ব্যবস্থা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।

    প্রাথমিক তদন্ত, সরেজমিনে ঘটনা যাচাই এবং প্রকৃত সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ না করেই, কেন তাড়াহুড়ো ও কোন্ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এই মামলাটি নথিভুক্ত করা হলো? কেন ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস্তবতা যাচাই না করে, প্রত্যক্ষ সাক্ষীদের বক্তব্য গ্রহণ না করে, একটি গুরুতর মামলা এত দ্রুত রেকর্ড করা হলো?

    এই মিথ্যা মামলা যারপরিকল্পিতভাবে করেছে, যারা তদন্তকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করেছে এবং যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্দোষ মানুষদের ফাঁসিয়েছে-ওসি হোক বা অন্য যে-ই জড়িত থাকুক, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

    স্বৈরাচার সরকারের দোসর ও প্রভাবশালী মহলের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে তরিঘড়ি করে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ৫ আগস্টের আগে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যে অনাস্থা ও ভয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল, এই ঘটনার মাধ্যমে সেটিই আবার নতুন করে ফুটে উঠেছে। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই।

    আমরা কোনো অপরাধীকে রক্ষা করতে বলছিনা। যদি কেউ দোষী হয়, তবে তাকে অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হোক এবং আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা হোক। কিন্তু প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন না করে, প্রভাবশালী অপরাধী চক্রকে আড়াল করে এবং নির্দোষ মানুষদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে যেন হয়রানি করা না হয়। প্রশাসনের কাছে জোরালোভাবে আবেদন জানাই, এই নিখোঁজ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

    প্রকৃত অপরাধী যদি চিহ্নিত হয়, তার বিরুদ্ধে মামলা হোক, শাস্তি হোক-এটাই আমাদের অবস্থান। কিন্তু একজন ডুবন্ত মানুষ ও একটি নিখোঁজ লাশকে কেন্দ্র করে রাজনীতি করা হচ্ছে, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। বিষয়টির আমরা তীব্র প্রতিবাদ জানাই।

    এই মিথ্যা ও সাজানো মামলার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তারা যেই হোক না কেন-তাদের সবাইকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

    একই সঙ্গে মিথ্যা মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে, নির্দোষ মানুষদের হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই-নির্দোষ মানুষ যেন আর মিথ্যা মামলার শিকার না হয়।