Category: জাতীয়

  • ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যু নিয়ে ভারতের দেওয়া বক্তব্য ভিত্তিহীন- প্রেস সচিব

    ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যু নিয়ে ভারতের দেওয়া বক্তব্য ভিত্তিহীন- প্রেস সচিব

    দিনাজপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভারতের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশ। ভারতের দাবি, এটি সংখ্যালঘুদের ওপর ‘সংগঠিত নিপীড়নের ধারাবাহিকতা’র অংশ। তবে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

    শনিবার (১৯ এপ্রিল) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম স্পষ্টভাবে বলেন, “ভবেশের মৃত্যু নিয়ে ভারতের যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।”

    তিনি বলেন, “বাংলাদেশ এমন একটি দেশ নয়, যেখানে সংখ্যালঘুরা সরকারের সমর্থনে বৈষম্যের শিকার হন। সরকার সব ধর্মের নাগরিকদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

    ভবেশ চন্দ্র রায়ের মৃত্যু নিয়ে প্রেস সচিব বলেন, “এই নির্দিষ্ট ঘটনায় আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ভুক্তভোগী পূর্বপরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে বাইরে গিয়েছিলেন। তার পরিবারও কারো সঙ্গে যাওয়া নিয়ে কোনো সন্দেহ প্রকাশ করেনি। ময়নাতদন্তে শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।” মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে ভিসেরা বিশ্লেষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং রিপোর্ট পাওয়ার পর উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

    ছাত্র-জনতার গণ আন্দোলনে ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট বাংলাদেশে পট পরিবর্তনের পর থেকে হিন্দু ও সংখ্যালঘুদের উপর ‘নির্যাতন’ চালানো নিয়ে সোচ্চার ভারত সরকার। এ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক পর্যায়ে পাল্টাপাল্টি বিবৃতি পাল্টা বিবৃতির ঘটনাও ঘটেছে।

    ভবেশ চন্দ্রের ছেলে স্বপন চন্দ্র রায় জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে তার বাবা এলাকার পরিচিত কয়েকজনের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে পাশের বাজারে যান। এরপর রাত ৮টার দিকে রতন নামের একজন ফোন করে বাবার অসুস্থতার কথা জানান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    হাসপাতাল থেকে তার মৃত্যুসনদে লেখা হয়, হাসপাতালে আনার আগেই ভবেশ চন্দ্র মারা যান। সুরতহালে ভবেশ চন্দ্রের শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি বলেও জানায় পুলিশ।

     

     

  • সারাদেশে কাফনের কাপড় পরে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    সারাদেশে কাফনের কাপড় পরে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

    দেশের বিভিন্ন স্থানে ছয় দফা দাবিতে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ করেছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

    পটুয়াখালী: জুমার নামাজের পর দুপুর আড়াইটায় পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে মিছিল বের করেন। মিছিলটি জামে মসজিদ থেকে শুরু হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে দিয়ে শহিদ হৃদয় তরুয়া চত্বরে আসে।

    এরপর সেখান থেকে শিক্ষার্থীরা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মূল ফটকে গিয়ে কিছু সময় অবস্থান করেন। আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা মিছিলে অংশ নেন। এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বিকেলে জেলার বিজয়নগর উপজেলার ইসলামপুর এলাকায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ক্যাম্পাস থেকে কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ মিছিলটি বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ইসলামপুর এলাকার বিভিন্ন পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে। পরে মহাসড়কের এক পাশে বসে তারা প্রতিবাদ জানান।

    খুলনা: দুপুর ৩টার দিকে নগরীর খালিশপুরের খুলনা সরকারি পলিটেকনিক ক্যাম্পাস থেকে মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলে শিক্ষার্থীদের অনেকে কাফনের কাপড় পরে অংশ নেন।

    নরসিংদী: নরসিংদীতে দুপুর ৩টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। শাহে প্রতাব এলাকার পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় শিক্ষার্থীরা ছয় দফার বাস্তবায়ন, সচিবালয়ে ‘নাটকীয়’ বৈঠক ও কুমিল্লায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানান।

    ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহে দুপুর আড়াইটার দিকে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বৃষ্টি উপেক্ষা করে মিছিলে শতাধিক শিক্ষার্থী মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অংশ নেন। ছয় দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা।

    বুধবার (১৬ এপ্রিল) তারা রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে কর্তৃপক্ষ। তবে আলোচনায় সন্তুষ্ট না হয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন শিক্ষার্থীরা।

  • আগামী বাংলাদেশের জন্য নতুন গঠনতন্ত্রের প্রয়োজন-ফরহাদ মজহার

    আগামী বাংলাদেশের জন্য নতুন গঠনতন্ত্রের প্রয়োজন-ফরহাদ মজহার

    আগামী বাংলাদেশের জন্য নতুন গঠনতন্ত্রের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার। আজ শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    ফরহাদ মজহার বলেন, আপনারা অনেকেই বলছেন বিপ্লব, তবে এটা কিন্তু বিপ্লব না এটা গণঅভ্যুত্থান। ফলে এখনকার যে লড়াই হবে সাংস্কৃতিক লড়াই। যেটা অপূর্ণ যা আমরা করতে পারিনি সেটাকে সম্পূর্ণ করার লড়াই।

    আর এ সাংস্কৃতিক আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদেরকে আগামী বৃহত্তর লড়াইয়ের জন্য তৈরি হতে হবে। আর এ বৃহত্তর লড়াইটা হবে নতুন গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা। ছাত্ররা কিন্তু প্রথম থেকেই বলছে বাংলাদেশের জন্য নতুন গঠনতন্ত্র প্রয়োজন, নতুন সংবিধান বা আইন না।

    ফরহাদ মজহার বলেন, গঠনতন্ত্র মানে কিন্তু আইন না, তবে সংবিধান মানে হচ্ছে আইন। আর আমরা কিন্তু ঔপনিবেশিক শাসক না। ইংরেজরা আইন প্রণয়ন করে আর জনগণ গঠনতন্ত্র করে। আর এ পার্থক্যটাই মনে রাখতে হবে।

    তার মানে আপনি যখনই সংবিধান বলবেন আপনি ঔপনিবেশিক একজন শাসক। তখন আপনি লুটেরা মাফিয়াতন্ত্রের ন্যায় একজন শাসক। আপনি একটা আইন দিয়ে গরিবদের শাসন করবেন।

    ফরহাদ মজহার বলেন, আর গঠনতন্ত্র মানে জনগণ নিজেরাই অংশগ্রহণ করবে। তারা পরস্পরের সঙ্গে কীভাবে বাস করবে এটা তারা তৈরি করে।

    আর এখানে তারা সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দেয় এবং সেখান থেকে শিক্ষা নেয়, কোনটাকে বর্জন করবে কোনটাকে রাখবে। আর এটাকেই এ সরকার দুটি বিষয় করে দেখিয়ে দিয়েছে। একটি হচ্ছে চৈত্র সংক্রান্তি এবং অপরটি হচ্ছে নববর্ষ।

     

  • নির্বাচনের আগে তিনটি শর্ত পূরণ হতে হবে- ডা. শফিকুর রহমান

    নির্বাচনের আগে তিনটি শর্ত পূরণ হতে হবে- ডা. শফিকুর রহমান

    বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশ নতুনভাবে স্বাধীনতা পেয়েছে। এ অবস্থায় দেশে নির্বাচন হওয়ার আগে তিনটি শর্ত পূরণ হতে হবে।

    বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর গুলশানে হোটেল ওয়েস্টিনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, অনেক কষ্টে যা এসেছে এতে তিনটি জিনিস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর প্রধান হচ্ছে দৃশ্যমান গ্রহণযোগ্য মৌলিক সংস্কার।

    আমরা তা সংস্কার কমিশনের কাছে দিয়েছি। এসব পরিবর্তন ছাড়া কোনো নির্বাচন হলে তা গণতন্ত্রের কোনো ভিত্তি গঠন হবে না। এ নির্বাচনও তাহলে পূর্বের মতো খারাপ হবে।

    প্রথমত সংস্কারের প্রধান অংশীজন হচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। এতে যদি তারা সহযোগিতা করে তাহলে দ্রুত নির্বাচনে পরিবেশ হবে। তারা যদি সহযোগিতা না করে যদি গতানুগতিক নির্বাচন হয় তাহলে আগের মতো নির্বাচন হবে। যার দায় রাজনৈতিক দলগুলোকে নিতে হবে।

    দ্বিতীয়ত গণহত্যাকারীদের দৃশ্যমান বিচার করতে হবে। যাতে মানুষের আস্থা ফিরে আসে। শহীদের আত্মা যাতে প্রশান্তি পায়।

    তৃতীয়ত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্মানবোধ থাকতে হবে। যাতে এমন না হয়, আমি জিতে গেলেই নির্বাচন সুষ্ঠু, না জিতলে দুষ্ট- এমন মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।

    এর জন্য সবার এনগেজমেন্ট প্রয়োজন। এটি সরকারের তরফ থেকেই হতে পারে, রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্যোগে হতে পারে, সিভিল সোসাইটির উদ্যোগেও হতে পারে।

    জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের আগে শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্ত পূরণ ছাড়া মার্চ ফেব্রুয়ারি কোনো কিছু ঠিক থাকবে কি না নির্বাচনের কমিটমেন্ট ঠিক থাকবে কি না তা আল্লাহই জানে।

     

  • জুলাই মাসে জাতীয় নির্বাচনের অ্যাকশনপ্ল্যান ঘোষণা-ইসি

    জুলাই মাসে জাতীয় নির্বাচনের অ্যাকশনপ্ল্যান ঘোষণা-ইসি

    আগামী ডিসেম্বরের টাইমলাইন ধরেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে জুলাই মাসের মধ্যেই এ নির্বাচনের অ্যাকশনপ্ল্যান ঘোষণা করবে তারা।

    আজ বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

    আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে যেসব তরুণের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে, বিদ্যমান আইন দিয়ে এটা হবে না। এজন্য আইন পর্যালোচনা করে সংশোধন করা হবে। এমন উদ্যোগ প্রথমবারের মতো নেওয়া হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় হবে। এটা জুলাই-আগস্ট হতে পারে। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট যারা আছেন, সবার সঙ্গে মত বিনিময় হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আমরা মতবিনিময় করবো।

     

  • ‘প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ নয়’-মির্জা ফখরুল

    ‘প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ নয়’-মির্জা ফখরুল

    প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

    বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠক শেষে বের হয়ে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    তিনি বলেন, প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের আশ্বাস না পাওয়ায় আলোচনা সন্তোষজনক নয়।

    এর আগে দুপুর ১২টায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল যমুনায় পৌঁছায়।

    প্রতিনিধিদলের ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমেদ ও ইকবাল আহসান মাহমুদ টুকু।

  • সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বৃদ্ধি

    সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা বৃদ্ধি

    ব্যবসায়ীদের বাড়ানো সয়াবিন তেলের দাম মেনে নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। গত রোববার সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৪ টাকা ও পাম তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেন ব্যবসায়ীরা। এর ফলে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) থেকে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম ১৪ টাকা ও পাম তেলের দাম ১২ টাকা বাড়ল।

    নতুন দাম অনুসারে, প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে খরচ করতে হবে ১৮৯ টাকা, যা আগে ছিল ১৭৫ টাকা। পাঁচ লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯২২ টাকা, যা ছিল ৮৫২ টাকা। বোতলজাত তেলের পাশাপাশি খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের নতুন দাম হবে প্রতি লিটার ১৬৯ টাকা, যা ছিল ১৫৭ টাকা।

    এদিকে, এই একই দাম কার্যকর করতে গত রোববার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাক-চারার্স অ্যাসোসিয়েশন। এর একদিন পরে একই দাম ঘোষণা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

    বাণিজ্য সচিবের রুমে ভোজ্যতেলের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করার পরে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিন সাংবাদিকদের ব্রিফিং করে দাম বাড়ানোর কথা জানান।এর আগে ঈদের ছুটির পর ৬ এপ্রিল ও ৮ এপ্রিল তেলের দাম বৃদ্ধি নিয়ে দুই দফা বৈঠক করা হয়েছিল। তবে ওই সময় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    এরপর ভোজ্যতেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৪ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয় ১৩ এপ্রিল। ওই বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষণার পরপর থেকেই নতুন দর কার্যকর হবে জানায় সংগঠনটি।

    চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কেন ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “এটা তারা করতে পারে না। আজ দাম চূড়ান্ত হয়েছে। তারা যদি আগে ঘোষণা দেয়, সেটা বেআইনি।

  • এবার বর্ষবরণে ভিন্নধর্মী আনন্দ শোভাযাত্রা !

    এবার বর্ষবরণে ভিন্নধর্মী আনন্দ শোভাযাত্রা !

    বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ। প্রতি বছরের ন্যায় এই দিনটিকে বরণ করে নিতে ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্যে শুরু হয়েছে আনন্দ শোভাযাত্রা। তবে এবারের আনন্দ শোভাযাত্রায় ছিল বেশ কিছু ভিন্ন ধরনের আয়োজন। ঘোড়ার সওয়ার দিয়ে শুরু হওয়া এই আনন্দযাত্রায় ব্যান্ডের লাইভ গান। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের অংশগ্রহণসহ ভিন্ন মাত্রা এনেছিল এক্রোবেটিক পরিদর্শন।

    সোমবার সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে শুরু হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রাটি শাহবাগ মোড়, টিএসসি মোড়, শহীদ মিনার, শারীরিক শিক্ষাকেন্দ্র ও দোয়েল চত্বর হয়ে পুনরায় চারুকলা অনুষদে এসে শেষ হবে। শোভাযাত্রায় রয়েছে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রসহ ৩০ জন শিল্পীর সম্মিলিতভাবে দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, এদিন সকাল থেকেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে জাতি ভেদাভেদ ভুলে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে রঙিন পোশাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সামনে এসে জড়ো হন সাধারণ মানুষ। পরে তাদের উপস্থিতি ও যোগদানে শুরু হয় বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।

    শোভাযাত্রায় রয়েছ ৭টি বড়, ৭টি মাঝারি ও ৭টি ছোট মোটিফ। বড় মোটিফগুলোর মধ্যে রয়েছে কাঠের বাঘ, ইলিশ মাছ, টাইপোগ্রাফিতে ৩৬ জুলাই, শান্তির পায়রা, পালকি, জুলাই আন্দোলনে নিহত মুগ্ধের পানির বোতল ইত্যাদি।

    বর্ষবরণের আনন্দ শোভাযাত্রা শুরু
    এছাড়াও ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবারের শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে যুক্ত করা হয়েছে তরমুজের মোটিফ, যা সাম্প্রতিক সময়ের এক রাজনৈতিক বার্তাবাহী উপাদান।

    এছাড়াও সুলতানি ও মোঘল আমলের মুখোশ, ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি, রঙিন চরকি, বাঘের মাথা, তালপাতার সেপাই, মাছ ধরার পলো, মাছ ধরার চাই, পাখা, মাথাল, ঘোড়া, লাঙলসহ রয়েছে নানান আয়োজন। একই সঙ্গে আনন্দ শোভাযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের চোখে পরার মতন উপস্থিতিও দেখা গেছে।

  • আজ নতুন বাংলাদেশের প্রথম নববর্ষ- প্রধান উপদেষ্টা

    আজ নতুন বাংলাদেশের প্রথম নববর্ষ- প্রধান উপদেষ্টা

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার সুযোগ এনে দিয়েছে। এ সুযোগ যেন আমরা না হারাই। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়াই হোক এবারের নববর্ষে আমাদের অঙ্গীকার।

    সোমবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দেশবাসীকে নতুন উদ্যমে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, পহেলা বৈশাখ সম্প্রীতির দিন, মহামিলনের দিন। আজকে সবাইকে আপন করে নেওয়ার দিন। এবারের নববর্ষ, নতুন বাংলাদেশের প্রথম নববর্ষ।

    আসুন, আমরা বিগত বছরগুলোর গ্লানি, দুঃখ-বেদনা, অসুন্দর ও অশুভকে ভুলে গিয়ে নতুন প্রত্যয়ে, নতুন উদ্যমে সামনের দিকে এগিয়ে চলি। চলুন, নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলি।

    দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, নববর্ষ ১৪৩২ আমাদের সবার জন্য শুভদিনের সূচনা করুক। নববর্ষ ১৪৩২ আমাদের সকলের জন্য নতুন ও গভীর আনন্দের উন্মোচন করুক—এই কামনা করছি।” তথ্যসূত্র: বাসস

  • সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

    সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার

    আগামী ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। ঐকমত্য কমিশনের দুই সদস্যের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এই তাগিদ দেন।

    শনিবার (১২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, আজ বিকালে প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি প্রফেসর আলী রীয়াজ এবং সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার।প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

    বৈঠকে প্রফেসর আলী রীয়াজ ও ড. বদিউল আলম মজুমদার জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে কমিশনের চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন। তারা জানান, বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের সুপারিশসমূহ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পৃথক পৃথকভাবে আলোচনা চলমান রয়েছে।

    শনিবার পর্যন্ত মোট ৮টি দলের সঙ্গে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার বিএনপির সঙ্গে আলোচনার সময়সূচি নির্ধারণ করা আছে।

    তারা আরো জানান, সংস্কার কার্যক্রমের বিষয়ে জনমত যাচাই এবং সে বিষয়ে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

    এ সময় কমিশনের সভাপতি এবং প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস আগামী ডিসেম্বর মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা তথা সামগ্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেন।