Category: জাতীয়

  • নিউইয়র্ক টাইমসেরপ্রতিবেদন বাস্তবতার সঙ্গে তা অসঙ্গতিপূর্ণ

    নিউইয়র্ক টাইমসেরপ্রতিবেদন বাস্তবতার সঙ্গে তা অসঙ্গতিপূর্ণ

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে সংকটাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করে দেশটি ধর্মীয় উগ্রপন্থার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, বাস্তবতার সঙ্গে তা অসঙ্গতিপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

    মঙ্গলবার (১ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিভাগের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, প্রতিবেদনটি বিভ্রান্তিকর ও একপক্ষীয় বিবৃতিতে নিউইয়র্ক টাইমসের ওই প্রতিবেদন সম্পর্কে বলা হয়েছে, এটি শুধু রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাকে সরলীকৃতভাবে তুলে ধরে না, বরং ১৮ কোটি মানুষের একটি জাতিকে অন্যায়ভাবে কলঙ্কিত করে।

    বাংলাদেশ গত বছর অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধন করেছে, যা এই প্রতিবেদনে উপে-ক্ষিত হয়েছে। বরং, কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিকর ও পক্ষপাতদুষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যা দেশের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে না।

    নিউইয়র্ক টাইমস প্রকাশিত নিবন্ধে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ যখন নিজেকে পুনরুজ্জীবিত করছে, তখন কট্টরপন্থি ইসলামিস্টরা একটি সুযোগ দেখতে পাচ্ছে। তবে ওই প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশের প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরেছে সিএ প্রেস উইং।

    নিবন্ধে ধর্মীয় উত্তেজনা ও রক্ষণশীলতার কিছু দিক তুলে ধরা হলেও, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকটি উপেক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে, নারী উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে, এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নারী সুরক্ষা ও উন্নয়নের প্রতি অত্যন্ত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

     

     

  • ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’- খালেদা জিয়া

    ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে’- খালেদা জিয়া

    সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, আগামীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। একে অপরকে সহযোগিতা করতে হবে। পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে সোমবার (৩১ মার্চ) বাংলা-দেশ সময় রাত ৯টায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের ঈদের শুভেচ্ছা জানান খালেদা জিয়া ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ সময় বিএনপি নেত্রী এ কথা বলেন।

    খালেদা জিয়া বলেন, সবার এত ত্যাগ ও সংগ্রাম বৃথা যায়নি, যাবে না। দেশবাসীর ভোটাধিকার সবাই মিলে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আগামীর পথচলায় দেশবাসীর দোয়া ও আল্লাহর সাহায্য কামনা করছি।

    এই সময় ভার্চুয়ালি এই মিটিংয়ে সংযুক্ত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্বাগত বক্তব্যে ও দলের প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকতউল্লাহ বুলু, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক, গাজীপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কে এম ফজলুল হক মিলন, জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের আহ্বায়ক আফরোজা আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ঢাকা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক প্রমুখ।

     

  • বাংলাদেশকে দুই ভাগ করার হুমকি দিলেন বিজেপি নেতা নুমাল

    বাংলাদেশকে দুই ভাগ করার হুমকি দিলেন বিজেপি নেতা নুমাল

    ভারতের আসাম রাজ্যের বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার ও প্রবীণ বিজেপি নেতা নুমাল মোমিন বাংলাদেশকে দুই ভাগ করার হুমকি দিয়েছেন। তিনি এক অংশে মুসলমানদের এবং অপর অংশে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের মানুষদের রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। মঙ্গলবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেছেন।

    নুমাল মোমিন বলেছেন, আমি বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে মনে করিয়ে দিতে চাই যে, ভারত ১৯৭১ সালে একবার পাকিস্তানকে ভেঙে ফেলেছিল-পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান – (বর্তমানে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ)। ভারত আবারো এই পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে ভেঙে ফেলতে পারে।

    তিনি বলেন, আমার মতামত হলো বাংলাদেশকে দুই ভাগে ভাগ করা উচিত, এক ভাগে বাংলাদেশি মুসলিমদের থাকা উচিত এবং অন্য ভাগে হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ, জৈন, শিখদের বসবাস করা উচিত। তাই, মুহাম্মদ ইউনূসকে ভারতের বিরুদ্ধে মন্তব্য করার সময় খুব সতর্ক থাকা উচিত।

    আমরা চাই না যে, এর ফলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিঘ্নিত হোক। তবে আমাদের সতর্ক করা উচিত যে, উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের বিরুদ্ধে তাদের খেলা উচিত নয়। তাদের উত্তর-পূর্বের মানুষদের বিরুদ্ধে খেলা উচিত নয়।

    কারণ এই উত্তর-পূর্ব আমাদের জাতির একটি অংশ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ আগ্রহ দেখাচ্ছেন। উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের পক্ষ থেকে এটি একটি সতর্কীবার্তা যে, মুহাম্মদ ইউনূসকে এই ধরনের মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

     

  • আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র চলছে: নাহিদ ইসলাম

    আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র চলছে: নাহিদ ইসলাম

    আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের জন্য ষড়যন্ত্র চলছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সোমবার (২৪ মার্চ) বিকেলে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির ইফতার মাহফিলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

    নাহিদ ইসলাম বলেন, সম্প্রতি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র বিভিন্ন দিকে চলছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি এ বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছে। কোনোভাবে ফ্যাসিবাদকে আবার পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে জাতীয় নাগরিক পার্টি তা রুখে দেবে।”

    তিনি বলেন, ‘‘গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগ দেশে বাকশাল কায়েম করেছিল। ১৫ বছরের গণহত্যা, গুম এবং জুলাই হত্যাকাণ্ডের পরে তারা কোনোভাবেই আর রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে না। সরকারের কাছে দাবি জানাই, আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ঘোষণা করে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হোক।

    এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নারায়ণগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

     

  • আগামীতে মার্কা দেখে কেউ ভোট দেবে না- সারজিস আলম

    আগামীতে মার্কা দেখে কেউ ভোট দেবে না- সারজিস আলম

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি, আগামীর বাংলাদেশে কোনো দলের নাম কিংবা মার্কা দেখে কেউ ভোট দেবে না। কোন লোকটা কেমন, সে কেমন কাজ করছে; তার কথার সঙ্গে কাজের মিল আছে কিনা—এসব দেখে মানুষ আগামীতে ভোট দেবে। সোমবার (২৪ মার্চ) দুপুরে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার বিজয় চত্বরে এক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

    সারজিস আলম বলেন, সাধারণ মানুষকে নেতারা বিভিন্নভাবে ব্যবহার করেছে। তারা শুধু ভোটের আগের দিন ভোট চায়। আর ভোটের পরে একটা ভিজিএফ কার্ড, একটা বয়স্ক ভাতার কার্ড করে দেওয়ার আগে হাত পেতে বসে থাকে। এই নতুন বাংলাদেশে এগুলো হতে দেওয়া যাবে না। যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ না করে সাধারণ মানুষকে লুটপাট করবে, তাদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে আর মেনে নেওয়া যাবে না।

    তিনি বলেন, আমরা আপনাদের ভাইয়ের মতো, অনেকের সন্তানের মতো; অনেকের নাতির মতো। আমরা কোনো ভুল করলে শুধরে দেবেন। আমরা আপনাদের সেই কথা শুনতে প্রস্তুত। কিন্তু, আপনারা এইটুকু নিশ্চিত করবেন; এখন থেকে কোনো দলের কোনো মার্কার অন্ধ ভক্ত হবেন না।

    যদি অন্ধ ভক্ত হন, তাহলে আপনার মূল্য কেউ দেবে না। তখন মনে করবে, কিছু দিলেও আছে না দিলেও আছে। সারজিস জেলার পঞ্চগড়ের বোদা, সদর, তেতুঁলিয়া উপজেলায় পৃথক পথসভা করবেন। পথসভায় স্থানীয় নাগরিক কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

     

  • ৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

    ৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

    ঈদের পর আগামী ৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রবিবার (২৩ মার্চ) নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

    এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২০ মার্চ) তিন এপ্রিলের ছুটি ঘোষণা সংক্রান্ত প্রস্তাব উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়।

    এতে এবার ঈদে ২৮ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ৯ দিনের ছুটি পেলেন সরকারি চাকরিজীবীরা।

  • আমরা সংলাপের মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব- আলী রীয়াজ

    আমরা সংলাপের মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব- আলী রীয়াজ

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান আলী রীয়াজ বলেছেন,রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ ও মতপার্থক্য থাকলেও অনেকে একই মতামত পোষণ করেন। সবার মতামত শোনা হবে। আমি আশা করি আমরা সংলাপের মাধ্যমে একটি জাতীয় ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারব।

    আজ শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে খেলাফত মজলিসের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকের শুরুতে সবাইকে ঐকমত্য কমিশন ও প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়ে আলী রীয়াজ বলেন, সংলাপ শুধু তাদের দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, এতে অন্যান্য রাজনৈতিক দলও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

    এ সময় খেলাফত মজলিসের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের বলেন, সংস্কার নিয়ে দ্বিমত থাকা বিষয়গুলোতে এই বৈঠকের মাধ্যমে ঐকমত্য আসবে। সব রাজনৈতিক দলকে সম্পৃক্ত করে সংলাপের মাধ্যমে দ্রুত জাতীয় ঐকমত্য গঠন করা সম্ভব মন্তব্য করে আলী রীয়াজ বলেন, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আপনারা (খেলাফত মজলিস) অংশগ্রহণ করছেন। আমরা অল্প সময়ের মধ্যে আমাদের কাজ শুরু করেছি এবং বেশি সময় দিতে পারিনি।

    তবে আপনারা যে আন্তরিক মতামত দিয়েছেন তার ভিত্তিতে আমরা আমাদের আলোচনা চালিয়ে যাব। এর আগে, ২০ মার্চ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সঙ্গে প্রথম সংলাপ করে কমিশন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এই সংলাপ শুরু করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

    এতে, সংবিধান সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশন ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশগুলোর আলোকে রাজনৈতিক দলগুলোর দেওয়া মতামত গ্রহণ করে কমিশন।

    এরপরে, কমিশন স্প্রেডশিট আকারে ৩৮টি রাজনৈতিক দলের কাছে সুপারিশের একটি কপি পাঠায়। ১৩ মার্চের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সুপারিশের ওপর সুনির্দিষ্ট মতামত জানতে চায় কমিশন।

  • হাসনাত আব্দুল্লাহর স্ট্যাটাসে সারাদেশে তোলপাড় !

    হাসনাত আব্দুল্লাহর স্ট্যাটাসে সারাদেশে তোলপাড় !

    ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনতে সেনা প্রশাসন চাপ দিচ্ছে বলে দাবি করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

    অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক এই সমন্বয়ক বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে এক ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ১১ মার্চ দুপুর আড়াইটায় তিনিসহ ৩ জনের কাছে সেনানিবাস থেকে ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের প্রস্তাব দেওয়া হয়।”

    ওই বৈঠকে ৪০ বছরের বেশি সেনাবাহিনীতে কর্মরত এমন একজন সেনা কর্মকর্তার সঙ্গে তাদের মতবিরোধ ও বচসা হওয়ার কথা তুলে ধরে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেছেন, এক পর্যায়ে বৈঠক শেষ না করেই তাদের চলে আসতে হয়েছে।

    শুক্রবার মধ্যরাতে ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ লেখেন-১১ই মার্চ,সময় দুপুর ২:৩০।কিছুদিন আগে আমি আপনাদের বলেছিলাম যে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে।

    এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।আমিসহ আরো দুইজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ই মার্চ দুপুর ২:৩০এ।

    আমাদেরকে প্রস্তাব দেওয়া হয় আসন সমঝতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই।আমাদেরকে বলা হয়-ইতোমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে-তারা শর্ত সাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে।

    একটি বিরোধীদল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধীদল থাকা না-কি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনি দেখবেন গত দুইদিন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেওয়া শুরু করেছে।

    আমাদেরকে আরো বলা হয়-রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে।

    আমাদেরকে এই প্রস্তাব দেওয়া হলে আমরা তৎক্ষণাৎ এর বিরোধিতা করি এবং জানাই যে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করুন।

    এর উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোন ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং আওয়ামী লীগ মাস্ট কাম ব্যাক।

    আলোচনার এক পর্যায় বলি-যেই দল এখনো ক্ষমা চায় নাই, অপরাধ স্বীকার করে নাই, সেই দলকে আপনারা কিভাবে ক্ষমা করে দিবেন!অপরপক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডোম এন্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর এটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ছাড়া ইনক্লুসিভ ইলেকশন হবে না।

    উত্তরে বলি, আওয়ামী লীগের সাথে কোন ইনক্লুসিভিটি হতে পারে না।আওয়ামী লীগকে ফেরাতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে ফেরাতে হবে। আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা করা হলে যে সংকট তৈরি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে।পরে মিটিং অসমাপ্ত রেখেই আমাদের চলে আসতে হয়।

    জুলাই আন্দোলনের সময়ও আমাদের দিয়ে অনেক কিছু করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কখনো এজেন্সি কখনো বা ক্যান্টনমেন্ট থেকে নানা ধরনের প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করতে চাপ দেওয়া হয়েছে। আমরা ওসব চাপে নতি স্বীকার না করে আপনাদের তথা জনগণের উপরেই আস্থা রেখেছি। আপনাদের সাথে নিয়েই হাসিনার চূড়ান্ত পতন ঘটিয়েছি।

    আজকেও ক্যান্টনমেন্টের চাপকে অস্বীকার করে আমি আবারও আপনাদের উপরেই ভরসা রাখতে চাই। এ পোস্ট দেওয়ার পর আমার কী হবে আমি জানি না। নানামুখী প্রেশারে আমাকে হয়তো পড়তে হবে হয়তো বিপদেও পড়তে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোন ধরনের আপস করার সুযোগ নাই।

    জুলাইয়ের দিনগুলোতে জনগণের স্রোতে ক্যান্টনমেন্ট আর এজেন্সির সকল প্রেসক্রিপশন আমরা উড়িয়ে দিয়েছিলাম। আজ আবারও যদি আপনাদের সমর্থন পাই, রাজপথে আপনাদের পাশে পাই তবে আবারও এই আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের ভারতীয় ষড়যন্ত্রও আমরা উড়িয়ে দিতে পারবো।

    আসুন, সকল যদি কিন্তু পাশে রেখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারলে জুলাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমাদের শহীদদের রক্ত আমরা বৃথা হতে দিবো না। ৫ আগস্টের পরের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কামব্যাকের আর কোন সুযোগ নাই বরং আওয়ামী লীগকে অবশ্যই নিষিদ্ধ হতেই হবে।

    হাসনাত আব্দুল্লাহর স্ট্যাটাসে সরব ছাত্রনেতারা হাসনাত আব্দুল্লাহ রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ‍ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে বলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার পরই সরব হয়েছেন ছাত্র নেতারা।

    স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের অন্যতম সমন্বায়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া শুক্রবার তার ভেরিফাইড ফেসবুকে বলেছেন, নির্বাচন পিছিয়ে যাবে, অনিশ্চয়তা তৈরি হবে এসব শঙ্কার কথা বলে কেউ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে জনতার ঐক্যে ফাটল ধরাতে আসবেন না।

    মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস স্পষ্টভাবে বারবার বলছেন ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে ইলেকশন হবে। আমি নিশ্চয়তা দিতে চাই সরকার এই কথা রাখবে। সুতরাং নির্বাচন নিয়ে কোন অনিশ্চয়তা নেই।”

    জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, লড়াইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায়ের জন্য আমরা প্রস্তুত। গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ পর্যন্ত এ লড়াই চলবে।”

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিবিরের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম শুক্রবার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বলেন, “আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের অপচেষ্টা রুখে দিতে ছাত্র-জনতা আবারও প্রস্তুত। রক্তের দাগ শুকায় নাই। এই রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আমার ভাইয়ের খুনিদের ফেরানোর কোন চেষ্টা আমরা সফল হতে দিবো না।”

    জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সমন্বয়ক ও চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক হান্নান মাসউদ তার ফেসবুকে স্ট্যাটাসে বলেন, “জলপাই রঙ কিংবা ইন্ডিয়া যারাই আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে, তা জুলাইয়ের মতোই প্রতিহত করা হবে।”

    জাতীয় নাগরিক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেছেন, “আমি বিএনপি, জামায়াতসহ সকল রাজনৈতিক দল ও সাধারণ জনগণকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই। ছাত্র-জনতা আবারও প্রস্তুত আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের অপচেষ্টা রুখে দিতে।”

     

     

     

  • ‘স্থানীয় সরকার থেকে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়নি’

    ‘স্থানীয় সরকার থেকে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়নি’

    স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। আজ বুধবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানান।

    আসিফ মাহমুদ লিখেছেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ওয়ার্ড প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এখনও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন। তাই নির্বাচনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পূর্বে প্রশাসক নিয়োগের প্রশ্ন অবান্তর।

    তিনি আরও লিখেছেন, জনগণ প্রাত্যহিক নানা সেবার প্রয়োজনে স্থানীয় সরকারের ওপর নির্ভরশীল। সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি ও পৌর ওয়ার্ডগুলোতে জনপ্রতিনিধি না থাকায় এসব সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাই জনগণের প্রাত্যহিক দুর্ভোগ নিরসনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে বারবার বলছি।

    অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসক নিয়োগের এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি দিয়ে স্থানীয় সরকার পরিচালনাই সর্বোত্তম।

  • নির্বাচনের জন্য পুলিশকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    নির্বাচনের জন্য পুলিশকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

    শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পুলিশের প্রস্তুতি ও করণীয় সম্পর্কে এখন থেকেই উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।বুধবার (১৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন। খবর বাসসের।

    প্রধান উপদেষ্টা সোমবার মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই সভায় কর্মকর্তারা তাদের সুবিধা ও অসুবিধার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে জানান। এসব সমস্যা সমাধানে কী করা যেতে পারে তা নিয়ে আজ প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

    সভায় প্রধান উপদেষ্টা আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণসহ তৃণমূল পর্যায়ে যেসব পুলিশ কাজ করেন তাদের কল্যাণে কয়েকটি বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা হলো- ঝুঁকি ভাতার প্রচলিত সিলিং তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা। পুলিশের জন্য নতুন ৩৬৪টি পিকআপ এবং ১৪০টি প্রিজনার ভ্যান কেনার উদ্যোগ নেওয়া।

    পুলিশের চলমান নির্মাণ প্রকল্পের যেগুলোর কাজ ৭০ শতাংশের নিচে সম্পাদিত হয়ে আছে সেগুলোতে অর্থ ছাড় করা। এছাড়া ভাড়া করা ভবনে অবস্থিত ৬৫টি থানার জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থ ছাড় করা। পুলিশের এসআই ও এএসআই র‌্যাংকের মোটরসাইকেল কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণের বিষয়টি বিবেচনা করা।

    সভায় প্রধান উপদেষ্টা জানান, কর্ম সম্পাদনের ফলাফলের ভিত্তিতে জেলা পুলিশকে শ্রেণিভুক্ত করে যাদের পারফরম্যান্স অপেক্ষাকৃত কম, তাদের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে।