Category: ঢাকা বিভাগ

  • সাটুরিয়ায় ঋণের টাকা থেকে বাঁচতে অপহরণ নাটক !

    সাটুরিয়ায় ঋণের টাকা থেকে বাঁচতে অপহরণ নাটক !

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ঋণের টাকা থেকে বাঁচতে অপহরণ নাটক সাজিয়ে পুলিশের হাতে ধরা পড়েন এক ব্যবসায়ী। বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে টাঙ্গাইলের রাজমনি হোটেল থেকে তাকে আটক করে পুলিশ। ভবিষ্যতে এমন করবে না মর্মে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

    পুলিশ জানায়, ঋণের টাকা শোধ করতে না পেরে নিজেকে অপহরণের নাটক সাজিয়েছেন সাটুরিয়ার শিমুলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী (৩০)। পরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তদন্ত কর্মকর্তা মানবেন্দ্র বালোর (ওসি তদন্ত) নেতৃত্বে একটি টিম টাঙ্গাইলের রাজমনি হোটেল থেকে তাকে আটক করে সাটুরিয়া থানায় নিয়ে যান। রাতে পরিবারের জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

    পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ফেব্রুয়ারি শিমুলিয়া গ্রামের নজর আলীর পুত্র ব্যবসায়ী ইদ্রিস আলী বিকেলে পাওনাদারের দেড় লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। পরে আর ফিরে আসেননি।এ সময় তাহার ব্যবহৃত ফোন বন্ধ পায় পরিবারের লোকজন। পরদিন বিকেলে ইদ্রিস আলীকে কল করেন তার ভগ্নিপতি আমিনুর। অপরপ্রান্ত থেকে কে বা কাহারা ফোন রিসিভ করে অপহরণের কথা জানান এবং ব্যাংকের মাধ্যমে আট লাখ পঁচিশ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে আমিনুর এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা মানবেন্দ্র বালো (ওসি তদন্ত) বলেন, ‘অভিযোগ পাওয়ার পর বাদীর দেওয়া তথ্যে ধারণা করি এটি অপহরণের মামলা নয়। এভাবে তদন্ত করে বিভিন্ন লোকেশনে অভিযান পরিচালনা করে অবশেষে টাঙ্গাইল শহরের রাজমনি হোটেল থেকে ইদ্রিস আলীকে উদ্ধার করি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর জানতে পারি এলাকায় মানুষের কাছে ঋণে জর্জরিত তিনি।সাটুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, ‘বিভিন্ন দৈনিক পত্রিকায় ব্যবসায়ী অপহরণের সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার চাপে ছিলাম। সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমার কর্মকর্তাদের দিক নির্দেশনা দিয়ে ইদ্রিস আলীকে উদ্ধার করতে সমর্থ হই।

    ঋণের জালে জর্জরিত হয়ে এ রকম একটা ঘটনা ঘটায় সে। এটা যে অপরাধ, বুঝতে পারেনি। মানবিক দিক বিবেচনা করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।’

     

     

  • প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ চলছে না- কাদের সিদ্দিকী

    প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ চলছে না- কাদের সিদ্দিকী

    টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা বেগমের আমন্ত্রণে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কাদের সিদ্দিকী বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ চলছে না।

    নির্বাচন প্রসঙ্গে কাদের সিদ্দিকী বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যা চায় এটা হওয়া উচিত। সাধারণ মানুষ স্বস্তি চায়, শান্তি চায়, ভালোবাসা চায়। ভালোভাবে থাকতে চায়। এখন সবাই কষ্টে আছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কাদের সিদ্দিকী তার দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্ম-কর্তার কার্যালয়ে প্রবেশ করেন। সেখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি ও বাসাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র রাহাত হাসান টিপু, সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান খান, জেলা যুব আন্দোলনের যুগ্ম সম্পাদক ইবনে হাসান টিটু, বাসাইল পৌর যুব আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সমির নাগ, জেলা কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সদস্য রকিবুল ইসলাম মিয়া প্রমুখ।

     

  • গাজীপুর হামলায় নিহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আবুল কাশেমের মরদেহ হস্তান্তর !

    গাজীপুর হামলায় নিহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আবুল কাশেমের মরদেহ হস্তান্তর !

    গাজীপুরে সাবেক মন্ত্রী আ. ক. ম. মোজাম্মেল হকের বাড়িতে হামলায় নিহত বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আবুল কাশেমের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

    বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক দীপিকা রায় ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন।

    পরে রাত ৭টার দিকে শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মনোজ প্রভাকর রায় কাশেমের মরদেহ এলাকার বড় ভাই মো. শাহাদত হোসেনের কাছে হস্তান্তর করেন।

    শাহাদাত হোসেন বলেন,আমরা প্রথমে কাশেমের মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নিয়ে জানাজা করবো। পরে গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের গাছা থানার বোর্ডবাজারের দক্ষিণ কমলপুরে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবা-রিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

    তিনি জানান, কাশেমের বাবা বেঁচে নেই। পরিবারে তার মা ও এক বোন রয়েছে।

  • মানিকগঞ্জে ফসলি মাঠ থেকে যুবলীগ নেতার মরা দেহ উদ্ধার !

    মানিকগঞ্জে ফসলি মাঠ থেকে যুবলীগ নেতার মরা দেহ উদ্ধার !

    মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে ফসলি মাঠ থেকে আমজাদ হোসেন (৩৮) নামে এক যুবলীগ নেতার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার বাল্লা ইউনিয়নের সরফ-দিনগর মাঠ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের নাম আমজাদ। সে সরফদিনগর গ্রামের বেলায়েত হোসেনের ছেলে।

    এ ব্যাপারে বাল্লা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রেজা বলেন, আমজাদকে কে বা কারা ফোনে ডেকে নেয় বলে শুনেছি। স্থানীয় একজনের সঙ্গে শত্রুতা নিয়ে ভাদিয়াখোলায় একবার সমাজিকভাবে বসাও হয়েছে। এছাড়া কয়েক বছর আগে এলাকায় এক পরিবারের সঙ্গে তার মামলাও ছিল, যা শেষ হয়েছে।

    আমজাদের প্রতিবেশী, বাংলাদেশ সুষম উন্নয়ন ফোরামের সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, গতরাতে দুর্বৃত্তরা বাল্লা ইউনিয়ন যুব-লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমজাদকে হত্যা করে মাঠে ফেলে রাখে। আমজাদ আমার গ্রামের ছেলে, এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

    নিহত আমজাদের চাচাতো ভাই জাকির সংবাদ মাধ্যমকে জানান, গতকাল রাত ১০টার পর আমরা একসঙ্গে ভাদিয়াখোলা বাজারে ছিলাম। এসময় দোকান থেকে এক প্যাকেট সিগারেট নিয়ে প্রতিবেশী আলতাফের সঙ্গে বাড়ির দিকে যান আমজাদ। তারপরের ঘটনা নিদারুন। আমরা আমজাদ হত্যার বিচার চাই।

    হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, সকালে স্থানীয়রা খবর দিলে বাল্লা ইউনিয়নের একটি ফসলি জমির সীমানার পাশে ডাঙার পার থেকে আমজাদ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে এটিকে হত্যাকাণ্ড। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।

  • মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পিস্তলসহ যুবক আটক

    মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পিস্তলসহ যুবক আটক

    মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পিস্তলসহ এক যুবকে গ্রেফতার করে পুলিশে সোর্পদ করেছে স্থানীয় জনতা। যুবকের নাম মো. বাবু মিয়া (৩৫)।  রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৫টার দিকে উপজেলার জামির্ত্তা ইউ-নিয়নের চন্দননগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। বাবু মিয়া উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের বকচর গ্রামের মো. জামাল উদ্দিনের ছেলে।

    স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব হোসেন বলেন, চন্দননগর এলাকার আমার বাড়িতে রাত ৪টার দিকে আসামী গরু চুরি করতে গেলে আমি দেখে ফেলি। এক পর্যায়ে পালাতে গেলে লোকজন এসে আটক করেন। এই সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। তার দলের অন্য এক সদস্য পালিয়ে যান।

    এ বিষয়ে সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, আসামীকে স্থানীয় জনতা থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রটির ভিতরে ম্যাগাজিন লক হয়ে আছে।

     

  •  সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক ও রাহাত মালেক এর আয়কর নথি জব্দ 

     সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক ও রাহাত মালেক এর আয়কর নথি জব্দ 

    সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহেদ মালেক ও তার ছেলে রাহাত মালেক এর আয়কর নথি জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন।

    জাহিদ মালেকের আয়কর নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়, জাহিদ মালেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

    জাহিদ মালেক একজন আয়কর দাতা। তার জ্ঞাত-আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার পূর্ণাঙ্গ আয়কর নথি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।

    রাহাত মালেকের আয়কর নথি জব্দের আবেদনে বলা হয়, রাহাত মালেকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা, দন্ডবিধির ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সনের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

    রাহাত মালেক একজন আয়কর দাতা। তার জ্ঞাত-আয়ের সাথে অসঙ্গতি-পূর্ণ সম্পদের সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার পূর্ণাঙ্গ আয়কর নথি জব্দ করা একান্ত প্রয়োজন।

     

  • গাজীপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

    গাজীপুরে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যা

    গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়িতে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে জবাই করে আত্মহত্যা করে স্বামী। শনিবার বিকালে কোনাবাড়ী বাই-মাইল এলাকায় তাদের ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।

    নিহত সোহাগ হোসেন (২৫) সিরাজগঞ্জ জেলার তারাস উপজেলার ধাপ তেতুলিয়া গ্রামের সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে এবং স্ত্রী মৌ আক্তার বৃষ্টি (২০) একই জেলার সান্দুরিয়া গ্রামের মোবারক হোসেনের মেয়ে। তারা বাইমাইল মধ্যপাড়া কাদের মার্কেট এলাকার বাসায় ভাড়া থেকে বসবাস করতেন।

    ওই বাড়ির মালিকের ছেলে দেওয়ান মোহাম্মদ রাসেল বলেন, সকাল থেকে সোহাগ- মৌ দম্পদির ঘরের দরজা বন্ধ দেখে বাড়ির অন্য ভাড়া-টিয়ারা অনেকবার ডাকাডাকি করলেও দরজা খুলেনি। পরে বিকেলে আবারো দরোজার সামনে গিয়ে ডাকাডাকি করে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ দেখে ৯৯৯ ফোন দেয়া হয়।

    পরে পুলিশ এসে দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে মেঝেতে গৃহবধূ মৌয়ের মরদেহ এবং গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলে তার স্বামীর মরদেহ পাওয়া যায়।

    মৃত মৌ আক্তার বৃষ্টির চাচা রতন মিয়া বলেন, গত দুই বছর আগে সোহাগ-মৌয়ের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। মৌ সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে অনার্স সেকেন্ড ইয়ারে পড়াশোনা করতো।

    তার স্বামী সোহাগ কোনাবাড়ী ব্রাক এনজিওতে অ্যাকাউন্স অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চলতি মাসের ১ তারিখে তারা ভাড়া বাসায় উঠেন। এমন ঘটনা কেন ঘটালো বুজতে পারছি না।

    কোনাবাড়ী থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, ৯৯৯ এ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

    প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পারিবারিক কলহের জোর ধরে এমন ঘটনা ঘটেছে। প্রথমে স্ত্রীকে হত্যা করে পরে ওই স্বামী আত্মহত্যা করেছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

     

  • গাজীপুরে ওসি বরখাস্ত ও পুলিশ কমিশনারের ক্ষমা প্রার্থণা

    গাজীপুরে ওসি বরখাস্ত ও পুলিশ কমিশনারের ক্ষমা প্রার্থণা

    গাজীপুরে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান এ কথা জানান। ঘটনার দিন পুলিশের সহযোগিতা চেয়েও সহ-যোগিতা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে ওসির বিরুদ্ধে।

    একই সঙ্গে এ ঘটনায় পুলিশের যথাযথ দায়িত্ব পালন না করার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন গাজীপুরের পুলিশ কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে আমাকে অন্যায়ভাবে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছিল।

    আপনাদের আন্দোলনের সঙ্গে আমিও আন্দোলন করেছি। এ আন্দো-লনের মাধ্যমে দেশকে দ্বিতীয়বারের মতো স্বাধীন করেছি। পুলিশ কমিশনার বলেন, যারা শিক্ষার্থীদের ওপর আঘাত করেছে, তাদের প্রত্যেককে ধরে আইনের আওতায় আনা হবে।

    যেসব পুলিশ সদস্য দায়িত্বে অবহেলা করেছেন, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমাবেশে তিনি সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আরিফুর রহমানকে বরখাস্তের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে শিক্ষার্থীদের জানান।

    উল্লেখ্য, শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে গাজীপুরের ধীরাশ্রম এলাকায় সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী ও গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ ক ম মোজাম্মেল হকের বাড়িতে হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

    তখন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালান।এতে আহত হন ১৫ জন। এরমধ্যে গুরুতর পাঁচজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

  • ৭২’এর সংবিধান একটি অবৈধ সংবিধান-আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের

    ৭২’এর সংবিধান একটি অবৈধ সংবিধান-আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের

    শরীয়তপুর প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি ডা: সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন যারা সংবিধান রচনা করেছিলেন তারা পাকিস্তান গণপরিষদের নির্বাচিত সদস্য ছিলেন।

    এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন ছিল গণভোটের। তারা সেটাও করেন নাই। যাত্রাই শুরু করেছি আমরা অবৈধ ভাবে। সুতরাং সেই সংবিধান কি ভাবে বৈধ হতে পারে? তাই ৭২’এর সংবিধান অবৈধ অংবিধান।

    ৭২’এর সংবিধান আমাদের চেতনার সাথে সম্পৃক্ত ছিল না। সংবিধান রচনা করতে হবে এদেশের মানুষের চিন্তা চেতনা ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকে।

    অন্তর্র্বধসঢ়;তী সরকারের কাজ সংবিধান প্রণয়ন করা নয়। তবে নির্বাচনের জন্য নূন্যতম সংস্কার করতে হবে। যেখানে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবে।

    এমন কিছু মৌলিক সংস্কার করে নির্বাচন করতে হবে। আজ শনিবার বিকেলে শরীয়তপুর পৌরসভা মাঠে জেলা জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, বাংলাদেশ এমন এক দেশ, যেখানে কখনোই স্বাধীনতা পরিপূর্ণতা পায়নি। ১৯৪৭ এর স্বাধীনতা পরিপূর্ণ হয়নি, ১৯৭১ এ সংগ্রাম করতে হয়েছে। ১৯৭১ সালে পৃথিবীর বুকে একটি স্বাধীন ভূখ- সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সেই স্বাধীনতা পূর্ণতা অর্জন করেনি।

    এরপর ২০২৪ এর স্বাধীনতা বা দ্বিতীয় স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়েছে। এর কারণ, আমরা অনাকাঙ্ধিসঢ়;ক্ষত ভাবে অযোগ্য নেতৃত্ব পেয়ে ছিলাম। তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক লড়াইয়ের অংশ হিসেবে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল।

    কিন্তু ভুল নেতৃত্বের কারণে আমরা দেখলাম, গণতন্ত্র হত্যা করে তারা বাকশাল কায়েম করল। বাকশালের পরিণতি যে কি হয়েছিল তা এ দেশের মানুষ দেখেছে।

    শেখ মুজিবকে হত্যা করা হয়েছে, জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে, আন্দোলনের মুখে এরশাদের পতন হয়েছে। বিগত ১৫ বছরে আমরা জেল জুলুমের শিকার হয়েছি, তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহর কাছে বলেছি, আল্লাহ হাসিনার পদত্যাগ চেয়েছি। কিন্তু আল্লাহ আমাদের ধৈর্য্যর ফল হিসেবে শুধু পদত্যাগ না দেশত্যাগ করিয়েছেন।

    তিনি বলেন, এখন অনেকে বলে, এবার জামায়াতকে ক্ষমতায় আনব। আমরা চেয়েছি পদত্যাগ, কিন্তু আল্লাহ মিরাকেল দেখিয়ে করিয়েছেন দেশত্যাগ। এখন যদি সবাই বলে একবার জামায়াতকে দেখব। আল্লাহর মিরাকেলে জামায়াত ক্ষমতায় যেতেও পারে ইনশাআল্লাহ। কেননা বাকশাল শেষ, ৬ দফা শেষ, ১৮ দফা পারে নাই, ১৯ দফা পারে নাই।

    সোনার বাংলা, সবুজ বাংলার স্লোগান বাংলার মানুষের কোনো ধরণের সমস্যার সমাধান করতে পারে নাই। এবারের দফা এক দফা। সেই দফা হলো আল্লাহর আইনকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য একবার জামায়াতে ইসলামীকে ক্ষমতায় বসানো।

    বাংলাদেশের ভাইয়েরা ৫৪ বছর ধরে নির্যাতিত হয়েছেন, ঠকেছেন। আমাদেরকে একবার বিশ^াস করে দেখেন, ইনশাআল্লাহ ঠকবেন না। তাতে না হয়, ৫৪ সাথে আর ৫ যোগ হবে, এই তো।

    কিন্তু একবার আমাদেরকে দেন। দেখুন, যদি জামায়তে ইসলামী নৈতিকতা ও কল্যাণের ভিত্তিতে আদর্শ রাষ্ট্র তৈরী করে নারীর অধিকার, পুরুষের অধিকার, শ্রমিক, মেহনতি, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, মুসলিম সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তাহলে জামায়াতে ইসলামকে ক্ষমতা দিয়ে দেখেন। ইনশাআল্লাহ আমরা আপনাদের আমানত রক্ষা করব।

    শরীয়তপুর জেলা জামায়াতের শুরা সদস্য ও ডামুড্যা পৌরসভা আমীর আতিকুর রহমান কবীর এবং জেলা শুরা সদস্য মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের পরিচালনায় জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবদুর রব হাশেমীর সভাপতিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন,জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম খান মিলন, শরীয়তপুর-১ আসনে জামায়াতের মনোনিত প্রার্থী ড. মোশারফ হোসেন মাসুদ, শরীয়তপুর -২ আসনে জামায়াতের মনোনিত প্রার্থী অধ্যাপক মো: মাহমুদ হোসেন, শরীয়তপুর-৩ আসনে জামায়াতের মনোনিত প্রার্থী মো: আজহারুল ইসলাম, ফরিদপুর টিম সদস্য মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, শামসুল ইসলাম আল বরাটি।

    অন্যান্যদের মধ্যে ফরিদপুর টিম সদস্য ও শরীয়তপুর জেলা জামায়া-তের সাবেক আমীর মাওলানা খলিলুর রহমান, গোপালগঞ্জ জেলা আমীর অধ্যাপক রেজাউল করিম, মাদারীপুর জেলা আমীর মাওলানা মোখলেছুর রহমান, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য ও শরীয়তপুর জেলা জামা-য়াতের নায়েবে আমীর কে এম মকবুল হোসাইন, শরীয়তপুর জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মাসুদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

  • মানিকগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের কমিটি গঠন

    মানিকগঞ্জে হেফাজতে ইসলামের কমিটি গঠন

    মানিকগঞ্জ জেলা হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কমিটি গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জেলার কেন্দ্রীয় মসজিদে এ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবীকে প্রধান উপদেষ্টা, মুফতি শাহ সাঈদ নূরকে সভাপতি ও মুফতি শামসুল আরিফীন খান সাদীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

    এই সময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা আহমদ আলী কাসেমি, সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব মাওলানা জুনায়েদ আল-হাবীব, যুগ্মমহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশির উল্লাহ ও কেন্দ্রীয় সদস্য মাওলানা আলী আকব কাসেমিসহ জেলার নেতৃবৃন্দ, উলামায়ে কেরাম ও সাধারণ দ্বীনদার মানুষ।

    নবগঠিত কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন মাওলানা শেখ মুহা. সালাহউদ্দিন। কমিটির অন্যান্য দায়িত্বশীলরা হলেন- সহ-সভাপতি মাওলানা আবদুল ওয়াহাব (সিংগাইর), যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মুফতি আবদুল হান্নান, মুফতি আবদুল্লাহ আল-ফিরোজ ও মাওলানা শামসুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা জুবায়ের হুসাইন ফয়জী, প্রচার সম্পাদক মাওলানা কারী ওবায়দুল্লাহ, সহ-প্রচার সম্পাদক মাওলানা রমজান মাহমুদ, অর্থ সম্পাদক মাওলানা শেখ মাহবুবুর রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাওলানা আরিফ, সহ-আইন বিষয়ক সম্পাদক মো. ওমর ফারুক।

    কমিটি সূত্রে জানা যায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে আটটায় খানকায়ে নুরিয়া আখতারিয়ায় ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হবে ।