Category: রাজশাহী বিভাগ

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৯

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার ৯

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পুলিশের চালানো বিশেষ অভিযানে আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের স্থানীয় পর্যায়ের নেতাসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

    জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। শিবগঞ্জ থানার একটি দল অভিযান চালিয়ে উপজেলার বাগান টুলি এলাকা থেকে গ্রেফতার করে মোঃ সফিউল ইসলাম ওরফে ‘কানা নিরব’ (২৭) নামের এক ব্যক্তিকে, যিনি শিবগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

    এদিকে, নাচোল থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে ইসলামপুর গ্রামের মৃত বেলাল আনসারীর ছেলে মোঃ মঞ্জুর আনসারী (৪২), যিনি নাচোল পৌর ছাত্রলীগের সদস্য এবং ঘিওন ডাউনপাড়া গ্রামের মোঃ অমিত হাসান, উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের একজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে।

    অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের অভিযানে হুজরাপুর এলাকার মৃত আঃ মালেকের ছেলে শহিদুল ইসলাম ও মহারাজপুর ইউনিয়নের দুরুল হুদা নামের আরেক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়।

    তবে কী কারণে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত কোনো তথ্য জানায় নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে জেলা পুলিশ। অভিযান পরিচালনা করে সদর, শিবগঞ্জ ও নাচোল থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি রয়েছেন।

    পুলিশ বলছে, জেলা জুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযান চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ রুহুল আমিন, জেলা আওয়ামীলী গের সহ-সভাপতি ও গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ হুমায়ুন রেজা এবং জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও স্বাচিপ এর জেলা সভাপতি ডাঃ গোলাম রাব্বানী কে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে পুলিশ।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ রুহুল আমিন ও ডাঃ গোলাম রাব্বানী কে সদর মডেল থানার মালখানা লুটের মামলায় এবং গোমস্তাপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ হুমায়ুন রেজা কে বিস্ফোরক মামলায় তদন্ত প্রাপ্ত অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা।

    অন্যদিকে, গোমস্তাপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক জামান উদ্দীন ভেন্ডার কে বুধবার বিকেলে নিমতলা কাঠাল মাদ্রাসা মোড়ে আটক করে পুলিশ।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ও বজ্রপাতে ৩ শিশুর মৃত্যু

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে নদীতে ডুবে ও বজ্রপাতে ৩ শিশুর মৃত্যু

     

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে ৬ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীর এবং একই উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের উত্তর মাঝাপাড়া এলাকায় পদ্মা নদীর শাখায় গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

    রবিবার (২০ জুলাই) সকালে এবং দুপুরে পৃথক স্থানে এই দূর্ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুরা হচ্ছে, বজ্রপাতে নিহত শিশু শ্রী রহিত সিংহ (৬) শ্রী রাজু সিংহের ছেলে। সে চৌকা খড়িয়াল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    ডুবে মারা যাওয়া দুই শিশু হলো-উত্তর উজিরপুর মাঝাপাড়ার ওমর আলীর ছেলে আব্দুল আলিম (১১) ও একই গ্রামের মুকুল আলীর মেয়ে মিম (১১)। স্থানীয় ও জনপ্রতিনিধি সুত্রে জানা গেছে, রবিবার (২০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের চৌকা প-িতপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান জানান, সকাল ১০টার দিকে ক্লাস চলা-কালীন সময়ে শিক্ষককে বলে বাইরে যায় রহিত। বিদ্যালয়ের সামনের একটি আমগাছের নিচে হঠাৎ বজ্রপাত হলে সে গুরুতর আহত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে শিক্ষক ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সেলিম রেজা শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন।

    এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বজ্রপাতে নিহতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়ে থাকে। আবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    অন্য দিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদীর শাখায় গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (২০ জুলাই) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের উত্তর মাঝাপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া দুই শিশু হলো-উত্তর উজিরপুর মাঝাপাড়ার ওমর আলীর ছেলে আব্দুল আলিম (১১) ও একই গ্রামের মুকুল আলীর মেয়ে মিম (১১)।

    শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি (তদন্ত) এসএম শাকিল হাসান ও ইউপি সদস্য সাদিকুল ইসলাম জানান, দুপুরে উত্তর উজিরপুর মাঝাপাড়ার পুরান সুভান উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে পদ্মা নদীর শাখায় গোসল করতে গিয়ে দুই শিশু ডুবে যায়।

    স্থানীয়রা অনেক খোঁজাখুঁজির পর নদী থেকে দুজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে আটক-৩

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে অভিযান চালিয়ে আটক-৩

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সোনামসজিদ সীমান্তে বিজিবি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে মাদকদ্রব্য ও নগদ টাকাসহ ৩ জন আটক হয়েছে।

    আটককৃতরা হচ্ছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার সোনামসজিদ পিরোজপুর গ্রামের মোঃ হাবিবুর রহমানের ছেলে মোঃ আমীর হোসেন ও মোঃ বাহাদুর হোসেন (২৫), একই এলাকার মোঃ জমির হোসেনের স্ত্রী মোসাঃ জেসমিন (২৫)। ৫৯ বিজিবির এক প্রেসনোটে জানানো হয়, সোমবার (২১ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে অত্র ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ সোনামসজিদ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ১৮৫/ ২-এস হতে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানাধীন শাহাবাজ পুর ইউনিয়নের পিরোজপুর গ্রামস্থ মোঃ আমীর হোসেন এর বাড়ীতে বিজিবি এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান চালাানো হয়।

    অভিযানে ৩ জনকে আটকসহ ৮৯ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল, ৫৬৫ পিস ইয়াবা এবং নগদ ১১ লক্ষ ২৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। আসামীসহ জব্দকৃত মাদকদ্রব্য এবং নগদ টাকার ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে মহানন্দা ৫৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় অপারেশনাল কার্যক্রম বৃদ্ধি করাসহ প্রয়োজনে আরো অধিক পরিমাণে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির ফাঁকা গুলি ॥ ১০ মহিষ জব্দ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির ফাঁকা গুলি ॥ ১০ মহিষ জব্দ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখের আলী সীমান্তে চোরাকারবারীদের ধরতে গিয়ে দুই রাইন্ড ফাঁকা গুলি করেছে ৫৩ বিজিবি সদস্যরা। এ সময় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলে সেখান থেকে ১০টি মহিষ জব্দ করা হয়।

    মঙ্গলবার রাত ৯ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফাহাদ মাহমুদ রিংকু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    ৫৩ বিজিবি অধিনায়ক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাতে সদর উপজেলার বাখের আলী সীমান্তের পদ্মা নদীর আলিমের ঘাটে অভিযান চালায় বিজিবি সদস্যরা। এ সময় সেখানে সংঘবদ্ধ চোরা-কারবারিদের দেখতে পায়।

    চোরাকারবারীরা অত্যন্ত সংঘবদ্ধ অবস্থায় থাকায় বিজিবি সদস্যরা তাদের ছত্রভঙ্গ করতে ২ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। গুলির শব্দে চোরাকারবারীরা পালিয়ে যান। পরে সেখান থেকে ১০ টি মহিষ জব্দ করা হয়। সেগুলো ভারত থেকে অবৈধ পথে আনা হয়েছিল।

    বিজিবি অধিনায়ক আরও জানান, দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে চোরকারবারীদের বেশি দূর ধাওয়া করতে পারেনি বিজিবি সদস্যরা। ফলে তাদের কাউকে আটক করা যায়নি। এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসি’র অভিযানে হেরোইন-ইয়াবাসহ আটক-৩

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডিএনসি’র অভিযানে হেরোইন-ইয়াবাসহ আটক-৩

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পৃথক ২টি অভিযানে ইয়াবা ও হেরোইনসহ তিনজন চিহ্নিত মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদক ও নগদ অর্থ।

    সোমবার (১৪ জুলাই) সকাল সাড়ে আটটা ও ৯টা ২০ মিনিটে পরপর দুটি অভিযান চালানো হয় গোমস্তাপুর ও চৌডালা ইউনিয়ন এলাকার জাহিদ নগর ও নন্দলালপুর এলাকায়। আটক ব্যক্তিরা হচ্ছে, জাহিদ নগর গ্রামের মোঃ এনামুল হকের দুই ছেলে মোঃ সামিউল হক (৪০) ও মো: মাহিদুর (৩৮)।

    সোমবার গভীর রাতে বিষয়টি এক প্রেসনোটে নিশ্চিত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধি-দপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়। অন্যদিকে, নন্দলালপুর গ্রামের মোঃ জাহিরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা: পানতারা বেগম (৩৫)। তাদের মধ্যে সামিউল ও মাহিদুর দুই ভাই, যারা এলাকায় আগে থেকেই মাদক কারবারে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।

    উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের মধ্যে রয়েছে, আসামী সামিউলের কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট: ৪০০ পিস, মাহিদুরের কাছে হেরোইন০১ গ্রাম, পান-তারার কাছে ৩৫ গ্রাম হেরোইন ও নগদ অর্থঃ ৭,৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান। বিশেষ করে পানতারা বেগমের বাড়িতে হেরোইনের চালান মজুদের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।

    অভিযানে নেতৃত্ব দেন পরিদর্শক মোঃ ইলিয়াস হোসেন এবং উপ-পরিদর্শক মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান। আটককৃতদের বিরুদ্ধে গোমস্তাপুর থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী অভিযানে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা।

    এই অভিযানকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এলেও অনেকে বলছেন, গোম-স্তাপুর সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় এখানে মাদক পাচারের একাধিক রুট সক্রিয় রয়েছে। মাঝে মধ্যেই এমন বড় চালান ধরা পড়ছে, কিন্তু মূল গডফাদাররা থেকে যাচ্ছে ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

    মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বলেন,“মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। এই অভিযান তারই অংশ। জেলা জুড়ে মাদক নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে।

  • ককটেল বিষ্ফোরণ-সংঘর্ষ-মামলা পাল্টা মামলায় উত্তপ্ত  ইসলামপুর

    ককটেল বিষ্ফোরণ-সংঘর্ষ-মামলা পাল্টা মামলায় উত্তপ্ত ইসলামপুর

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ দীর্ঘদিন পর আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসের জনপদ চরাঞ্চলের ইসলামপুর। তবে, পূর্বের গ্রাম্য রাজনীতির নেতাদের বদলে উদয় হয়েছে নতুন নেতৃত্বের। শুরু হয়েছে তান্ডবের। চলছে একে অপরের উপর দোষ চাপিয়ে ফায়দা লুটে নেয়ার চেষ্টা।

    রাজনৈতিক ক্ষমতার বিষয় না হলেও কেউ সাংবাদিকতার দাম্ভিকতায় ক্ষমতাবান, কেউ স্থানীয়ভাবে। কিন্তু আবারও পূর্বের সেই সন্ত্রাসের জনপদের মতই আতংকগ্রস্থ ও নিষ্পেষিত এলাকার সাধারণ মানুষ। ভয়ে ভীত, কখন যানি কার উপর দায় চেপে যায়। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে অনেক সাধারণ পরিবার।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের তেররশিয়া পোড়াগ্রাম ও লক্ষীনারায়ণপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ককটেল বিস্ফোরণ, রক্তাক্ত সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি মামলা আর উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পুরো অঞ্চল। সাংবাদিক ফারুক আহমেদ বনাম ইউপি মেম্বার জিয়া-এই দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে জনজীবন এখন অতিষ্ঠি এবং আতঙ্কিত।

    এই আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার এবং পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে রাজনৈতিক গোজামিল সৃষ্টির মাধ্যমে ফায়দা হাসিলের চেষ্টার বিষয়ে সোমবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে এগারোটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন পুলিশ সুপার মোঃ রেজাউল করিম বিপিএম সেবা।

    পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রায় ছয় থেকে নয় মাস আগে মহানন্দা ও পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি ও বালি উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক ফারুক ও জিয়া মেম্বারের মধ্যে প্রথম বিরোধ শুরু হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে এসব অবৈধ বালু ও মাটি উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হলে উভয় পক্ষ নতুন করে সংঘাতে জড়ায়।

    সংঘর্ষের একপর্যায়ে আহত হয় সাংবাদিক ফারুকপন্থী শিমুল, অপরদিকে হামলার শিকার হন জিয়া মেম্বারের ভাই কোরবান ও সমর্থক শহিদুল ইসলাম। ঘটনার পর থেকে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ, হামলা ও মামলা-পাল্টা মামলার ঘটনায় পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সদর মডেল থানার পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তৎপর হয়।

    পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই ও ১১জুলাই দুই পক্ষ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়। সাংবাদিক ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৫টি মামলা বিচারাধীন/তদন্তাধীন রয়েছে।

    পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে আরো বলা হয়, ফারুক আহমেদ চৌধুরী তার জামিনে থাকা অবস্থায় পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত তথ্য প্রকাশ করে প্রশাসনকে চাপে ফেলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তার গ্রুপে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের সম্পৃক্ততা থাকলেও এই ঘটনা পুরোপুরি স্থানীয় আধিপত্যকে কেন্দ্র করে সংঘটিত, এটি কোনো রাজনৈতিক সংঘাত নয়।

    পুলিশ সুপার দৃঢ়কন্ঠে বলেন, অপরাধী যে পক্ষেরই হোক না কেন, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। চাঁপাইনবাবগঞ্জে ককটেল রাজনীতি নয়, আধিপত্যের দৌড় প্রতিহত করবে প্রশাসন! “এটি কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নয়।

    ফারুক ও জিয়া, উভয় পক্ষেই বিভিন্ন দলের অনুসারী রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষভাবে সব মামলার তদন্ত করছে,” বলেন পুলিশ সুপার। সচেতন মহলের দাবী, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা প্রদান এবং সন্ত্রাসী কর্মকান্ড বন্ধের। এসময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

    এদিকে, এসব অস্বীকার করে সাংবাদিক ফারুক গণমাধ্যমকর্মীদের জানিয়েছেন, এসপি মহাদয়ের পুরো বক্তব্যে আমাকে ভিকটিম বানানো হয়েছে। ঘটনাস্থল আমার দাদার বাড়ি এলাকা। যেখান থেকে আমরা ৩০ বছর আগেই চলে এসেছি। আমি শহরে বসবাস করি প্রায় ১৫ বছর ধরে। ইসলাম-পুরের কোন বিষয়ে আমি সুবিধাভোগী বা গ্রাম্য রাজনীতিতে আমার কোন সম্পৃক্তা নেই।

    তিনি গণমাধ্যমের সামনে আমাকে ভিলেজ পলিটিক্সের একটি পক্ষের নেতা বানিয়ে দিয়েছেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা আমার চাচা-চাচাতো ভাই। আমি তাদের নেতা নই। সাংবাদিক ফারুক আরও বলেন, এঘটনায় এলাকার পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। এর দায় কে নিবে?।

    পুলিশের দেয়া তথ্য মোতাবেক এই আধিপত্যের বিষয়-প্রায় ৬-৯মাস পূর্বে সাংবাদিক ফারুক আহমেদ ও নাসির মেম্বার মহানন্দা নদী থেকে, আর ৬-৭ মাস আগে জিয়া মেম্বার পদ্মা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু-মাটি উত্তোলন শুরু করেন। প্রশাসনের নজরে এলে সদর ইউএনও ঊীপধাধঃড়ৎ জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্য নাজিমের জিম্মায় রাখেন।

    কিন্তু ১৫-২০ দিন পর ফারুকের লোকজন গোপনে পুনরায় উত্তোলন শুরু করে। পুলিশ আসার খবরে পালানোর সময় ট্রাক্টরের নিচে পড়ে ফারুক গ্রুপের শিমুল (৩৬) গুরুতর আহত হন।

    প্রথম মামলা নং: ৫৮, তারিখ: ২৫-০৩-২০২৫, ধারা: ৩২৩/৩২৫/৩০৭/৫০৬(২)/১১৪ পেনাল কোড, বাদী: শিমুল (ফারুক গ্রুপ) অভিযুক্তঃ জিয়া মেম্বারসহ ১১ জন এজাহার-নামীয় ও ১৫-২০ জন অজ্ঞাত। ২য় ঘটনা ও কোর্ট মামলাঃ কিছুদিন পর কোরবান নামের এক যুবককে চায়ের দোকানে একা পেয়ে লোহার রড দিয়ে মারধর ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ফারুক গ্রুপ।

    বাদী: কোরবান, আসামি: সাংবাদিক ফারুক আহমেদ ও তার সহযোগীরা (মামলা কোর্টে চলমান)। ৩য় মামলাঃ- তারিখ: ১৫-০৬-২০২৫ ঘটনা: রাত ১০টায় তেররশিয়া জুম্মা মসজিদের সামনে শহিদুল ইসলামকে ধারালো অস্ত্রে কুপিয়ে জখম করে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ফারুকের লোকজন।

    বাদী: কামরুল ইসলাম (ভাই), মামলা নং: ২৭, তারিখ: ২০-০৬- ২০২৫। ধারাঃ ১৪৩/ ৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৭৯/১১৪ পেনাল কোড ও বিস্ফোরক আইন ৩/৪/৬ অভিযুক্তঃ ফারুক আহমেদসহ ১১ জন।বর্তমান অবস্থা: ৫ জন আদালত থেকে জামিনে মুক্ত।

    ৪র্থ মামলা (পাল্টা): বাদী: মো. অসিম আলী (ফারুক গ্রুপ), মামলা নং: ৩৯, তারিখ: ২৩-০৬-২০২৫, ধারাঃ ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩৭৯/১১৪ পেনাল কোড ও বিস্ফোরক আইন ৩/৪/৬, অভিযুক্ত: জিয়া মেম্বার ও তার অনুসারীরা, অবস্থা: জিয়া মেম্বারের ছেলে নিশানসহ ৩ জন জামিনে।

    ৫ম মামলা:-তারিখঃ১০-০৭-২০২৫, ঘটনাঃ শহিদুল ও কামরুলকে মামলা তুলে নিতে চাপ, না মানায় হুমকি, ৫টি ককটেল বিস্ফোরণ। পরদিন ১১ জুলাই সকাল ৬:৩০ টায়: ৩৫-৪০ জন ফারুক গ্রুপের লোক ৬-৭টি বাড়িতে হামলা, পাল্টা ককটেল বিস্ফোরণ জিয়া গ্রুপের।

    বাদী: সামিরুল ইসলাম (জিয়া গ্রুপ), মামলা নং: ১৭, তারিখ: ১১-০৭-২০২৫, ধারা: ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৪২৭/৫০৬(২)/১১৪ ও বিস্ফোরক আইন ৩/৪/৬, অভিযুক্ত: ফারুক আহমেদসহ ২২ জন এজাহারনামীয় ও ২০-২৫ জন অজ্ঞাত। ৬ষ্ঠ মামলা (পাল্টা):-বাদী: মো. অসিম আলী (ফারুক গ্রুপ) মামলা নং:২০, তারিখ: ১২-০৭ -২০২৫, ধারা: ১৪৩/৪৪৭/৪৪৮/৪২৭/৩৭৯/৫০৬(২)/১১৪ ও বিস্ফোরক আইন ৩/৪/৬, অভিযুক্ত: জিয়া মেম্বারসহ ২৭ জন।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধর্ষক শ্বশুরসহ আটক ৪

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ধর্ষক শ্বশুরসহ আটক ৪

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাঞ্চল্যকর পূত্রবধুকে ধর্ষন মামলার এজাহার নামীয় পলাতক আসামী শ্বশুর টুলু আলী (৫০) কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা। গ্রেফতারকৃত আসামী টুলু জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার মোঃ গাজলুর রহমান এর ছেলে।

    র‌্যাবের এক প্রেসনোটে জানানো হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল ধর্ষন মামলার এজাহারনামীয় পলাতক আসামী মোঃ টুলু আলী কে ১৩ জুলাই রাত এক টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার কানসাট ডোবরা এলাকা হতে গ্রেফতার করে।

    গ্রেফতারকৃত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাব আরও জানায়, ভিকটিম বয়স-১৮ এর প্রায় ০৫ বছর পূর্বে আসামী মোঃ টুলু আলী এর পুত্র মোঃ মাসুদ রানা এর সহিত বিয়ে হয়।

    বিবাহের পর হতে ভিকটিমের শ্বশুর আসামী মোঃ টুলু আলী এর লোলুপ দৃষ্টি পড়ে পুত্রবধুর উপর। আসামী টুলু আলী সুযোগ বুঝে বিভিন্ন সময় ভিকটিমকে অশ্লীল কথাবার্তা বলে উত্যাক্ত করত এবং কুপ্রস্তাব দিত। বিষয়টি ভিকটিম তার স্বামীসহ তার বাড়ীর লোকজনদের জানালে আসামী দিন দিন বে-পরোয়া হয়ে উঠে।

    গত ২ জুন/২৫ বাড়ীতে ভিকটিমের স্বামী ও শ্বাশুড়ী না থাকার সুযোগ আসামী টুলু আলী পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে সন্ধ্যা আনুমানিক ৭ টার দিকে জোর পূর্বক ০৪টি ট্যাবলেট ঔষধ ভিকটিমকে সেবন করায়। ঔষধ খাওয়ানোর পরে ভিকটিম তার শয়ন ঘরে বিছানায় ঘুমিয়ে পড়লে আসামী ভিকটিমকে ধর্ষন করে।

    রাত আনুমানিক ১২:০০ ঘটিকায় ভিকটিমের ঘুম ভাঙ্গলে আসামী আবারো জোর পূর্বক ভিকটিমকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে দফায় দফায় ধর্ষন করে এবং উক্ত ঘটনার বিষয়ে কাউকে কোন কিছু না বলার জন্য বলে এবং প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

    ০৪/০৬/২০২৫ তারিখ ভিকটিম তার নানা-নানির বাড়ীতে গিয়ে আত্মীয় স্বজনদের কে আসামীর কু-কর্মের কথা বলে। একই তারিখ আসামী ভিকটিমকে তাদের বাড়ীতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভিকটিমের নানা-নানির বাড়ীতে গেলে তাকে আটক করে ৪নং মোবারকপুর ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেয়।

    ঘটনার বিষয়ে জানাজানি হলে আসামীর পরিবারবর্গ আত্মীয় স্বজন মীমাংসার কথা বলে ইউনিয়ন পরিষদ হতে আসামীকে নিয়ে যায়। তারপর হতে আসামী আত্মগোপন করে। উল্লিখিত ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানায় ধর্ষন মামলা দায়ের করে।

    অন্যদিকে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানার চৌডালা বাজার এর অর্ন্তগত চৌডালা মাদ্রাসা মোড় হতে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধারসহ ০৩ জন মাদক ব্যবসায়ী কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জে ক্যাম্পের একটি দল।

    গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১২ জুলাই বেলা ১১টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানাধীন চৌডালা বাজার এর অর্ন্তগত চৌডালা মাদ্রাসা মোড়ে জনৈক শ্রী লক্ষণ ঘোষ এর হোটেলের সামনে পাকা রাস্তার উপর র‌্যাব-৫ সিপিসি-১, চাঁপাইনবাবগঞ্জ এর একটি আভিযানিক দল চেকপোষ্ট ও অভিযান পরিচালনা করে মাদক ব্যবসায়ী ১। মোঃ রবিউল (৩২), পিতা-মোঃ শফিকুল ইসলাম, ২। মোঃ সাদ্দাম হোসেন (৩৩), পিতা-মৃত তাশির উদ্দিন, উভয় সাং-মনোহরপুর ৩। মোঃ বেনজির (৪২), পিতা-মোঃ আব্দুল খালেক, সাং- শাহাপাড়া, সর্ব থানা-শিবগঞ্জ, জেলা-চাঁপাইনবাবগঞ্জ দেরকে গ্রেফতার করে এবং তাদের হেফাজত হতে ১০০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে। এ ঘটনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর থানায় মামলা করা হয়েছে।

     

  • শিবগঞ্জের আ’লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া গ্রেফতার

    শিবগঞ্জের আ’লীগ নেতা গোলাম কিবরিয়া গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া (৫৯) কে গ্রেফতার করা হয়েছে। গোলাম কিবরিয়া (৫৯), শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের চন্ডিপুর গ্রামের মৃত খোশ মোহাম্মদ এর ছেলে।

    চাঁপাইনবাব গঞ্জের শিবগঞ্জে রাজনীতির মাঠ কাঁপানো নেতা গোলাম কিবরিয়া এবার গ্রেফতার! আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া (৫৯)–কে রোববার (১৩ জুলাই) সকালে শিবগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে আটক করে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ। শিবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) এস এম শাকিল হাসান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়।

    দীর্ঘদিন ধরেই তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও, এবার শিবগঞ্জ থানার একটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তবে শুধু এখানেই শেষ নয়, ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলাতেও তিনি আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে আওয়ামীলীগের এই নেতাকে।

    পুলিশ জানায়, শিবগঞ্জ থানার মামলা ছাড়াও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও এতদিন আইনের নাগালের বাইরে ছিলেন তিনি। তবে শেষ রক্ষা আর হয়নি। তাকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।

    দীর্ঘদিন ধরে শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এই নেতার গ্রেফতারকে ঘিরে দলের অভ্যন্তরেও নানামুখী প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, দীর্ঘদিন ধরে যিনি মামলার আসামি, তিনি এতদিন ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে কেন? এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের মুখে মুখে।

    আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, মামলা হওয়ার পর থেকে তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলমান ছিলো। জেলার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া (৫৯) কে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম কিবরিয়া।

  • সোহাগ হত্যার প্রতিবাদে রাবিতে মানববন্ধন

    সোহাগ হত্যার প্রতিবাদে রাবিতে মানববন্ধন

    চাঁদা না দেওয়ায় রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে প্রকাশ্যে ব্যবসায়ী সোহাগকে নৃশংসভাবে হত্যা করে যুবদলের কর্মীরা। এই নির্মম ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষা ও শিক্ষার্থী অধিকার আন্দোলন।

    শনিবার (১২ জুলাই) বিকেল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে তারা মানববন্ধন কর্মসূচিটি পালন করে।

    এসময় রাবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মেহেদী হাসান মারুফ বলেন, ‘গত ৯ই জুলাই একজন যুবদল নেতা কর্তৃক আরেক যুবদল নেতা খুন হয়েছেন। এছাড়াও জুলাই পরবর্তী সময়ে চাঁদাবাজি, ধর্ষণ ও মানুষ হত্যার সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

    দেশে সরকার, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে তাদের কাজ কী? সাধারণ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে না পারলে, জনগণের টাকায় এসি রুমে বসে তাদের কাজ কী?’

    তিনি আরও বলেন, ‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তাহলে তাকে অতি দ্রুত ব্যর্থতার দায় নিয়ে পদত্যাগ করতে হবে। ২৪-এর অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে এসব অরাজকতা মেনে নেওয়া হবে না।’

    ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আল শাহরিয়া শুভ বলেন, ‘২৪-এর অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না। কেউ যদি নতুন করে হাসিনা বা আওয়ামী লীগ হওয়ার চেষ্টা করে, তবে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হবে। এখনই সময়, নব্য ফ্যাসিবাদের লাগাম টেনে ধরার।’

    এসময় মানববন্ধনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রায় অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

  • অনলাইন জুয়া ও মোবাইল গেমিংয়ে আসক্ত শিশু-কিশোররা

    অনলাইন জুয়া ও মোবাইল গেমিংয়ে আসক্ত শিশু-কিশোররা

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ অনলাইনে জুয়া ও মোবাইল গেমিংয়ে আসক্ত হয়ে পড়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫টি উপজেলা ও ৪টি পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে শিশু-কিশোর এবং বিভিন্ন বয়সী যুবকরাও। জেলার শিশু-কিশোররা পড়াশোনা বাদ দিয়ে দিনের সিংহভাগ সময়ই তারা ব্যয় করছে গেমিংয়ের পিছনে।

    এছাড়া অনলাইনের রেটিং সাইট গুলোতেও রয়েছে তাদের অবাধ চলাচল। অনেকেই জুয়ার-টাকা যোগাড় করতে অল্প বয়সেই পড়াশোনা বাদ দিয়ে জড়িয়ে পড়েছে চুরি, ছিনতাই সহ নানা অপকর্মে। শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শহর থেকে গ্রামের প্রায় সবখানেই কিশোররা দল বেঁধে মোবাইলে ঝুঁকি থাকার দৃশ্য।

    যে বয়সে মাঠে খেলাধুলা করার কথা, সেখানে তারা ডুবে    রয়েছে মোবাইল গেমের নেশায়। শিশু-কিশোরদের প্রচন্ড আসক্তি বেড়েছে মোবাইল গেমিংয়ের প্রতি। বাবা-মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে ঘণ্টার পর ঘন্টা সময় কাটাচ্ছে মেবাইল গেমের পিছনে।

    মোবাইলে গেম খেলতে গিয়ে কেউ কেউ খরচ করছে হাজার হাজার টাকাও। অনলাইন বাজি খেলার সংখ্যাটাও কম নয়। বিভিন্ন ধরনের রেটিং সাইট তৈরি হচ্ছে কিশোরদের টার্গেট করে। দ্রুত সময়ে কয়েকগুণ টাকার প্রলোভনে পা দিচ্ছে অনেকেই এই গেইমে।

    মোবাইল গেমিং ও জুয়ায় আসক্ত একাধিক তরুণ জানায়, গেমিংয়ের আপডেট ভার্সন ইন্সটলেশনের জন্য তারা মোটা অংকের অর্থ ব্যয় করে থাকে। টপ-আপ করার নামে ধাপে ধাপে অর্থ ব্যয় করে কিনতে হয়। গেমসের এক একটি ফিচার সুবিধা।

    এসব টাকা যোগাড় করতে অনেকে পড়াশোনা ছেড়ে কাজে নেমে পড়েছে। কেউ কেউ দামি মোবাইল কেনার আশায় পাড়ি জমিয়েছে রাজধানী ঢাকায়। উঠতি বয়সীদের এমন মোবাইল আসক্তিতে শংকায় অভিভাবকরাও।

    আগামী প্রজন্মকে শারীরিক ও মানসিক ভাবে অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষায় সরকারী পদক্ষেপের দাবি অভিভাবকদের। তাদের বেশিরভাগ মোবাইল গেম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হলেও, ভিপিএন নামের একটি সফটওয়ারের মাধ্যমে তাতে যুক্ত থাকে এসব শিশু-কিশোর ও কিশোরিরাও।

    একজন অভিভাবক জানান, অনলাইন জুয়া বা মোবাইল গেমিংয়ে আসক্ত হয়ে শিশু-কিশোর তাদের মেধা শক্তি হারাচ্ছে।  নতুন এ মোবাইল গেমিং আতংক থেকে ‘রক্ষা’ পেতে স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর নজরদারী প্রয়োজন বলে মনে করেছেন ওই অভিভাবক।

    এদিকে, অনেকেই এ খেলায় আসক্ত হয়ে বসতবাড়ি, জমিসহ সব কিছু খুঁইয়েই ঋণের বোঝা নিয়ে গাঁ ঢাকা দিয়েছে অনেকেই।