Category: ঢাকা বিভাগ

  • রোগী ভোগান্তির অপর নাম ’মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’!

    রোগী ভোগান্তির অপর নাম ’মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’!

    স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা বিগত সরকারের একটি ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপ। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে সারাদেশের ন্যায় মানিকগঞ্জবাসীও আশা করেছিল, এবার বুঝি স্বাস্থ্যসেবা তারা দোরগোড়ায় পাবে। কিন্তু, বাস্তব অবস্থা হয়েছে, তাদের ধারনার সম্পূর্ন বিপরীত।

    খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, অত্র মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকেই নানাবিদ সমস্যায় জড়জড়িত। অভিযোগ রয়েছে, এখানে প্রশাসনিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায়  তৎকালীন সরকার দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায় করা হয়েছে। বিশেষ করে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগে ক্ষমতাসীন দলীয় নেতারা লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এই অযোগ্যদের অনাকাঙ্খীত কাজের ফলে স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ মারাত্বক ভাবে ব্যহত হচ্ছে।

    তা’ছাড়া হাসপাতালের সরকারী বাজেট বন্টনেও (বিভাগ ভিত্তিক যন্ত্রপাতি ও অন্যান্য ক্রয়) রয়েছে চরম অনিয়মের অভিযোগ। পত্রিকায় প্রকাশ, এখানে-পাচঁ টাকার একটি সুই কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত। শুধু প্রশাসনিক স্থান পরির্বতন ছাড়া, অদ্যাবধি দুর্নীতির ধারা প্রবাহ আগের মতই রয়ে গেছে।

    অভিযোগ রয়েছে, এখানে ডাক্তারদের সেবার মান ভাল না। তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন না। রোগীদের সেবায় নার্সরা দিনের আলোতে ‘তাইরে-নাইরে’ করলেও রাতের বেলায় তাদেরকে খোজেঁ পাওয়া যায় না। অতি উৎসাহী ওয়ার্ড বয়-রা নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে নার্সদের দায়িত্ব পালন করে। যার ফলে অহরহ ঘটছে মারাত্বক দুর্ঘটনা।

    তা‘ছাড়া হাসপাতালটিকে কেন্দ্র করে বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে অসংখ্যক ক্লিনিক। ক্লিনিক মালিকদের সাথে গোপন সমঝোতায় ডাক্তাররা রোগীদের অধিকাংশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা নিদিষ্ট ক্লিনিকে করতে বাধ্য করছেন এমন অভিযোগও রয়েছে।

    হাসপাতালের ভিতরের অবস্থা

    এই ব্যাপারে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) জনৈক স্কুল শিক্ষিকা জানান, আব্বাকে নিয়ে তিন দিন আগে হাসপাতালে এসেছি। বর্তমানে উঁনি আইসিইউতে আছেন। এখানে ডাক্তার তো দূরের কথা, নার্সদেরও ঠিকমত পাচ্ছি না। আইসিই্উতে দিনের বেলা, যেমন-তেমন, রাতের বেলায় হাজার হাজার তেলাপোকার আক্রমনে থাকা দায়। নিদিষ্ট সময়ে রোগির যথাযথ সেবা না হওয়ায় আমরা আব্বাকে নিয়ে চরম আতংকে দিন পার করছি।

    একই অভিযোগ সালেহা বেগম নামের অপর রোগীর। তিনি জানান, এখানে সেবার মান অত্যন্ত নিন্ম-মানের। এদোঁ বেলা ডাক্তারা আসলেও প্রয়োজনের সময় নার্সদের খোজে পাওয়া যায় না। ওর্য়াডের পরিবেশ যেমন তেমন, বাথরুমের পরিবেশ অত্যন্ত খারাপ। তাছাড়া যত্রতত্র ময়লার দুর্গন্ধের হাসপাতালে থাকা দায়।

    আনসার সদস্য কর্তৃক রোগী ও তার স্বজনদের মারপিটের অভিযোগ

    উল্লেখ্য, হাসপালতটিতে কর্মরত সেবা প্রদানকারী ডাক্তারও নার্সদের বিরুদ্ধে নানাবিদ অভিযোগ দীর্ঘ দিনের। এখানে প্রশাসনিক অ-ব্যবস্থাপনা যেমন রয়েছে, তেমনী রয়েছে সেবা প্রদানকারীদের অন্যমনস্কতা। এই নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, একাধিকার খরব প্রকাশ করলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

    এমতাবস্থায়, মানিকগঞ্জবাসীসহ দেশের সচেতন মহল বর্তমান সরকারের প্রতি পুর্ণ আস্থা রেখে অত্র হাসপাতালটির সার্বিক সেবার মান উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার জোড় দাবি জানিয়েছেন।

  • মানিকগঞ্জ-সাটুরিয়াবাসীর ভাগ্য বদলের অংশীদার হতে চাই-বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী

    মানিকগঞ্জ-সাটুরিয়াবাসীর ভাগ্য বদলের অংশীদার হতে চাই-বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী

    মানিকগঞ্জ- সাটুরিয়াবাসীর ভাগ্য বদলের অংশীদার হবার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। তিনি আজ ৪ঠা এপ্রিল শনিবার দুপুরে উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের-ছনকা বাজারে ‘ধলেশ্বরী নদীর উপর’ গুরুত্বপূর্ণ ‘রাজৈর সেতুর’ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কালে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এই সময় তিনি বলেন, ধলেশ্বরী সেতুর নির্মাণ শেষ হলে ঢাকা হতে এখানকার দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার কমে যাবে এবং মানুষের ভাগ্য বদলে যাবে।

    তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের বয়স মাত্র দেড়মাস পার হয়েছে। নির্বাচনী ওয়াদা হিসাবে দেশে ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে মানিকগঞ্জ- সাটুরিয়ায় এর কাজ শুরু হবে। এছাড়া ১৪ এপ্রিল থেকে সারোদেশে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু হবে।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, জনগণের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। নির্বাচনের আগে, এলাকার মানুষের প্রধান দাবি ছিল রাস্তাঘাট ও সেতুর উন্নয়ন, যা বাস্তবায়ন করা।

    এই সময় তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান কথা দিয়েছিলেন। তাঁর কথা অনুযায়ী পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি গাছের চারা রোপণ এবং ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

    অনুষ্ঠানে, জন-সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে তিনি আরো বলেন, উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য। আমি দল-মত নির্বিশেষে সবার কাছে সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকাণ্ডে সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।

    তিনি বলেন, আমি আমার নির্বাচনী এলাকার জনগনের কাছে ওয়াদাবদ্ধ। মানিকগঞ্জ-সাটুরিয়ার উন্নয়ণে আমরন কাজ করে যাব।

    তিনি, আগামীতে পদ্মা সেতু আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম এবং সাটুরিয়ায় একটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার উল্লেখ করেন, যা অত্র এলাকার যুবসমাজের কর্মসংস্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতেও তিনি উল্লেখযোগ্য কাজ করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, ধলেশ্বরী সেতুর নির্মাণ সম্পন্ন হলে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া ও দৌলতপুর এবং টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার লাখো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

    এসময় অনুষ্ঠানে, সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইকবাল হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ আলী, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম লুৎফর রহমানসহ জেলা ও উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন ।

     

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ ৩ কারবারী গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে গাঁজাসহ ৩ কারবারী গ্রেফতার

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে র‌্যাবের অভিযানে বিপুল পরিমান গাঁজাসহ ৩ কারবারী গ্রেফতার হয়েছে। আটককৃতরা হচ্ছে, হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর থানার জগদীশপুর ইউপির উত্তর বরক গ্রামের মোঃ ফুল মিয়ার ছেলে মোঃ আলফাজ মিয়া (২৩), রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর থানার ঝালুকা গ্রামের মৃত শাকিল আলীর ছেলে ট্রাক ড্রাইভার মোঃ রকি আহমেদ (২৬) এবং একই উপজেলার নওদা সাহিবার গ্রামের মোঃ বাবর আলীর ছেলে ট্রাক হেলাপার মোঃ সানোয়ার আহমেদ (১৯)।

    বৃহস্পতিবার দুপুরে চালানো অভিযানের বিষয়ে শুক্রবার সকালে এক প্রেসনোটে র‌্যাব জানায়, মালবাহী ট্রাকে অভিনব কায়দায় বহনকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার মহানন্দা সেতু টোল ঘর সংলগ্ন পাকা রাস্তার উপর অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান অবৈধ মাদক গাঁজাসহ ৩ জন মাদক কারবারী গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৫ এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ক্যাম্পের সদস্যরা।

    ০২ এপ্রিল বেলার ১২টার দিকে চালানো অভিযানে ৪৯ কেজি ৫০০ গ্রাম অবৈধ মাদক গাঁজাসহ মাদক কারবারী হবিগঞ্জের মোঃ আলফাজ মিয়া, রাজশাহীর ট্রাক ড্রাইভার মোঃ রকি আহমেদ এবং ট্রাক হেলাপার মোঃ সানোয়ার আহমেদ কে আটক করা হয়। আসামী ও উদ্ধারকৃত আলামত সমূহ পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    র‌্যাব আরও জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে একটি মালবাহী ট্রাক থামানোর সংকেত দিলে সংকেত পেয়ে গাড়িটি থামালে সন্দেহ জনকভাবে আসামীদেরকে ট্রাকের কেবিনের ভিতর হতে আটক করা হয়।

    আসামীদের স্বীকারোক্তি মোতাবেক ট্রাকের পিছন ডালায় ত্রিপলে ঢাকা অবস্থায় ৪টি সাদা প্লাষ্টিকের তুলার বস্তার ভিতর বিশেষ কায়দায় রাখা ৪টি চটের বস্তার ভিতর ১৪টি নীল রংয়ের পলিথিনে কসটেপ দ্বারা মোড়ানো মোট ৪৯.৫০০ কেজি অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা, সাদা রংয়ের প্লাস্টিকের ১৩০ বস্তা গার্মেন্টস ঝুট তুলা (চালাল বিহীন), ০২টি স্যালো মেশিন, মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত ০১টি মালবাহী ট্রাক এবং আসামীদের হেফাজত হতে মাদক কারবারীতে ব্যবহৃত ০৪টি মোবাইল ফোন ও নগদ ১২ হাজার
    ৮’শ টাকা জব্দ করা হয়।

  • সাটুরিয়ায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় গ্রেফতার-১ !

    সাটুরিয়ায় শিশু ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় গ্রেফতার-১ !

    মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ১০ বছরে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টার মামলায় মোঃ খোরশেদ আলম (৬৮) নামের জনৈক ব‍্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে সাটুরিয়া থানা পুলিশ। সে সাটুরিয়া সদর ইউনিয়নের ঘিওর বাজার এলাকার মৃত হামেদ আলী পুত্র।

    অভিযোগ সূত্রের বরাতে জানা যায় যে, গত ৩১ মার্চ) রোজ মঙ্গলবার মধ‍্যাহ্ন‍্যের দিকে ওই শিশুটি তার নিজ বাড়ির পাশেই খেলাধুলা করার জন্য যায়। ঠিক তখনি অভিযুক্ত খোরশেদ আলম (৬০) ওই শিশুটিকে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভুট্টা খেতে নেওয়ার জন‍্যে চেষ্টা করে কিন্তু ব‍্যর্থ হয়ে  তাৎক্ষণিক ভাবে জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুটি চিৎকার দেয়।  এই সময় সিরাজুল ইসলাম নামের জনৈক ব্যক্তি এগিয়ে আসলে  অভিযুক্ত খোরশেদ আলম দ্রুত পালিয়ে যায়।

    এলাকাবাসীর দাবি খোরশেদ আলম ইতিপূর্বেও একাধিকবার এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিল । সে আসলেও লম্পট গোছের লোক।

    সাটুরিয়া থানার এস আই (উপ-পরিদর্শক) সেকেন্ড অফিসার মোঃ আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি আরো বলেন যে, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা রুজু করেছে। আসামীকে গ্রেফতার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

  • শিবালয়ে বালুমহাল দখল নিয়ে গুলিতে নিহত-১

    শিবালয়ে বালুমহাল দখল নিয়ে গুলিতে নিহত-১

    মানিকগঞ্জের শিবালয়ে বালুমহালের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের গোলা-গুলিতে একজন নিহত হয়েছে।  আজ শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার তেওতা ৯ নং ওয়ার্ডের আলোদিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত ব্যক্তির নাম মিরাজ হোসেন (৪০)। মিরাজ পাবনা জেলার বেড়া উপজেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন জাহাঙ্গীর আলম। তিনি উপজেলার আলোকদিয়ার চরের মজিদ হোসেনের ছেলে।

    পুলিশ ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের বালু মহালের ইজারাদার সাত্তার কমিশনারের লোকজন জোরপূর্বক মানিকগঞ্জ জেলার সীমানা তেওতা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের মধ্যে ড্রেজার বসান ও জোর করে মাটি কাটার চেষ্টা করেন। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা বাধা দিলে তাদের ওপরে গুলি চালায়। গুলিতে মিরাজ ও জাহাঙ্গীর নামে ২ জন গুলিবিদ্ধ হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মিরাজ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করে।

    ৮ নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. মোতালেব হোসেন ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাত্তার কমিশনারের লোকজন জোর করে আলোকদিয়ার চর থেকে ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন বাধা দেন। এ সময় সাত্তার কমিশনারের লোকজন গুলি ছুড়লে জাহাঙ্গীর আলম নামে একজন গুলিবিদ্ধ হন। গুলি ছোড়ার পর সাত্তার কমিশনারের লোকজন পালিয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

    শিবালয় থানার কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন জানান, চরে গোলাগুলি বা কোপাকুপির ঘটনা শুনেছি। আমি আমার টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।

    উল্লেখ্য, ওই চরের ইজারা পান ইফতেখার এন্টারপ্রাইজ, মিরাজ হোসেন ইফতেখার এন্টারপ্রাইজ প্রাইজের ম্যানেজার।

  • সাটুরিয়া বাজারের ফুটপাত অবৈধ দোকানীদের দখলে !

    সাটুরিয়া বাজারের ফুটপাত অবৈধ দোকানীদের দখলে !

    মানিকগঞ্জের  সাটুরিয়া উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত বাজার ‘সাটুরিয়া সদর বাজার-এর ফুটপাত দিন দিন অবৈধ দোকানীদের দখলে চলে যাচ্ছে। অবৈধ দোকানীরা যত্রতত্র টংঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে ব্যবসা-বানিজ্য পরিচালনা করছেন যার কারণে সাধারণ  মানুষের চলাচল, মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

    সরজমিনে দেখা গেছে, বাজারের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখল করে গড়ে তুলেছে অসংখ্য অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান। এসব দোকানের কারণে পণ্যবাহি গাড়ী পথচারীদের চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষকে বাধ্য হয়ে মূল-সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হয়ে দাড়িঁয়েছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, মূলতঃ ফুটপাত ও সরকারি জায়গা দখল করেই এসব স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে  করলেও এর কোন স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বে-আইনি দৌরাত্বে প্রশাসনের উদ্যোগ গুলোও  আশার আলো দেখছে না।

    এ ব্যপারে, স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, এসব অবৈধ দোকানপাটের কারণে সাটুরিয়া সরকারি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মাঠের একটি অংশ ময়লা আবর্জনার স্তুপ ভরে গেছে। যার কারণে শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো খেলাধুলা করতে পারছে না, এবং কি বিদ্যালয়টি মারাত্বক ভাবে দূষনের শিকার হচ্ছে।

    এ ব্যাপারে, সচেতন মহলে অতি সত্ত্বর- সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন করেছেন।

  • মানিকগঞ্জে কারখানায় ডাকাতির রহস্য উদঘাটন,  গ্রেফতার-৮

    মানিকগঞ্জে কারখানায় ডাকাতির রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার-৮

    মানিকগঞ্জের ঘিওর এবং শিবালয় উপজেলায় একাধিক কারখানায় চাঞ্চল‍্যকর ডাকাতির ঘটনায় রহস‍্য উদঘাটনসহ ১ কোটি টাকার মামলা সামগ্রী উদ্ধার এবং আন্তজেলার ৮ ডাকাত গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আজ ৩ এপ্রিল রোজ  শুক্রবার মধ‍্যাহ্ন‍্যে জেলা পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলন কক্ষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মহররম আলী।

    তিনি বলেন যে, ঈদু-উল ফিতরের ছুটির আগে এবং পরে গত ২৩ মার্চ গভীর রাতে ঘিওর উপজেলার অ্যাডভান্স অ্যাটোয়ার লিমিটেড নামীয় একটি পোশাক কারখানায় এবং শিবালয় উপজেলায় আসতিয়া বোর্ড এন্ড পেপার মিলে সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দল হানা দেয়। তারপর তারা কর্মচারীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত পা বেঁধে মারধর করে। এরপর কারখানার মূল্যবান যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জামাদি, কম্পিউটার, সিসি ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোনসহ নগদ অর্থ লুটে নেয়।

    এ ডাকাতির ঘটনায় কারখানা কর্তৃপক্ষ থানায় মামলা দায়ের করলে মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় একটি চৌকস বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পরবর্তীতে তথ্য প্রযুক্তি এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে সংঘটিত ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃত ডাকাত দলের সদস‍্যরা হলো:- মোঃ সাগর প্রমানিক, মোঃ আকতার হোসেন, আব্দুস সালাম, মোঃ মাসুদ রানা, মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম ওরফে সাজিদ, মোহাম্মদ আল আমিন, আবু বকর সিদ্দিক ও মোঃ বিল্লাল হোসেন।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, গ্রেফতারকৃত ডাকাতরা একটি সংঘবদ্ধ আন্তজেলা ডাকাত চক্র দলের সদস্য এবং তারা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির সাথে জড়িত। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান ডাকাতির কাজে ব‍্যবহৃত সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া শিল্প কারখানার যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারসহ অন্যান্য মালামাল মিলে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল‍্যের মূল্যবান সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

    আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারের অভিযান চলমান রয়েছে।

  • সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘দন্ত বিভাগে’ রোগী সেবায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ !

    সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘দন্ত বিভাগে’ রোগী সেবায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ !

    মানিকগঞ্জ সাটুরিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘দন্ত বিভাগে’ ‘স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির নামে’ রোগীদের কাছ থেকে স্বাস্থ্য সেবার নামকরে  অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, গত ২৩শে ফেব্রুয়ারি অফিস চলাকালীন সময়ে, দন্ত চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে ‘সরকারী  রসিদ’ দিয়ে ১০০ টাকা করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ডেন্ডাল হাবিবা বেগম।

    চিকিৎসা সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা জানান, আমরা দন্ত বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু এখানকার কর্মরত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট একটি রসিদ ধরিয়ে দিয়ে আমাদের কাছ থেকে ১০০/- (একশত) টাকা নেন।

    সরকারী হাসপাতালে কেন টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে হবে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,  বিভাগ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ও পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কর্মীর জন্য খরচ বাবদ এই ফ্রি  নির্ধারন করা হয়েছে।

    এ ব্যাপারে, সাটুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও প: প: কর্মকর্তা ডা: মামুন উর রশিদ জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ‘ব্যবস্থাপনা কমিটি’ দন্ত বিভাগে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ও কর্মীদের খরচের জন্য, নিদিষ্ট ফ্রি নিধারন করেছে বলে শুনেছি। তারা বিভাগটি দেখাশুনা করেন।

    তিনি আরো জানান, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান, ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার এই বিভাগটির দায়িত্বে আছেন। এই ব্যাপারে তারাই ভালো বলতে পারবেন।

    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার মো: মনিরুজ্জামান জানান, কেউ নির্ধারিত ফ্রি‘র বেশি  নিলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

    সাটুরিয়া উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার মো: সিরাজুল ইসলাম জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী দেখা নিয়ে ‘নির্ধারিত ফ্রি’ আদায়ের বিষয় আমার জানা নেই।

    সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, সরকারি হাসপাতালে নিয়ম বর্হিঃভূত টাকা নিয়ে ‘চিকিৎসা সেবা’ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। কেউ এ ব্যাপারে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

  • গণভোট উপেক্ষা বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে: আ স ম রব

    গণভোট উপেক্ষা বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে: আ স ম রব

    জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির (জেএসডি) সভাপতি আ স ম রব বলেন, রক্তাক্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর জাতীয় সংবিধান বাস্তবায়নের জন্য গণভোটের যে অঙ্গীকার ছিল, তা ছিল স্পষ্ট এবং সকল রাজনৈতিক দল সমর্থিত।

    তিনি বলেন, এই অঙ্গীকার উপেক্ষা করলে তা কেবল রাজনৈতিক মতপার্থক্য নয়, বরং জনগণের সঙ্গে সম্পাদিত ‘সামাজিক চুক্তি’র চরম অবমাননা হিসেবে গণ্য হবে।

    তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের বৈধতা জনগণের সরাসরি সম্মতি ও অংশগ্রহণ থেকে উদ্ভূত। জাতীয় সংবিধান কেবল নীতিপত্র নয়; এটি শ্রমজীবী, কর্মজীবী ও পেশাজীবী জনগণের সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।

    গণভোটকে পাশ কাটিয়ে বা অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় সংবিধান বাস্তবায়নের চেষ্টা অন্তর্ভূক্তিমূলক গণতন্ত্রের পরিপন্থী হবে এবং অভ্যন্তরীণ পরাধীনতার ধারাকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে।

    তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, জনমত উপেক্ষা না করে জাতীয় সংবিধান ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক সততার পরিচয় দিতে হবে।

  • আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই-ডা. শফিকুর রহমান

    আন্দোলন ছাড়া আর পথ নেই-ডা. শফিকুর রহমান

    বুধবার (১ এপ্রিল) সংসদে চলমান ‘জুলাই জাতীয় সংবিধান সংস্কার আদেশ-২০২৫’ সংক্রান্ত বিরোধীদলীয় নোটিশের ওপর দুই ঘণ্টার আলোচনা শেষে স্পীকারের কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “আমরা সংসদের ভিতরেই সমাধান চেয়েছিলাম।

    জনগণের চূড়ান্ত রায়কে সম্মান জানাতে চাইছিলাম। কিন্তু স্পিকার ও সরকারি দল তা গ্রহণ করেননি। আমাদের ওয়াকআউটের কারণ হলো জনগণের অভিপ্রায়কে অবমূল্যায়ন করা। এখন আমরা সেই রায় জনগণের কাছে নিয়ে যাব।”

    ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “গত তিনটি গণভোটে জনগণের রায় যথাযথভাবে গ্রহণ করা হয়েছিল। এ প্রথমবার যেখানে সরকারি দল ও বিরোধীদল উভয়ই একমত ছিল, কিন্তু তা উপেক্ষিত হলো।

    তিনি আরও যোগ করেন, “সংসদে থাকবো না আমরা, এটা আমরা বলিনি। ওয়াক আউট করেছি, কিন্তু গিভ আপ করিনি। জনগণের সঙ্গে নিয়ে গণভোটের দাবি আদায়ের জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করব। আমাদের ১১টি দল বসে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে ইনশাআল্লাহ।”