মানিকগঞ্জ প্রতিনিধিঃ মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মো: বিপ্লব হোসেনের ছেলে রাহাতুল ইসলাম হৃদয়।
আজ (১৯ মার্চ) বুধবার সকালে প্রতারণা প্রতিকার চেয়ে উপজেলার গোপালপুর বাজারে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার। মানববন্ধন শেষে পুলিশ সুপার,সাটুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার গোপালপুর গ্রামের হতদরিদ্র বিপ্লব হোসেন ছেলে রাহাতুল ইসলাম হৃদয় (১৭) কে একই উপজেলার মজিবর কারীর ছেলে আব্দুল কাদের (৫৫), মৃত খোরশেদ আলীর ছেলে মো: নাসির উদ্দিন (৫০) নাসিরের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন শিল্পী।
বাংলাদেশ রেলওয়েতে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে ১০০ টাকার তিনটি ষ্টাপ ও ব্যাংকের চেক জমা দিয়ে নগদ ১২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। কিছু দিন পর নাছির ও কাদের সহ প্রতারক চক্ররা রাহাতুল ইসলাম হৃদয়কে বাংলাদেশ রেলওয়ে যোগদানের জন্য গত ০২/১২/২০২৪ ইং একটি ভুয়া জাল নিয়োগপত্র প্রদান করে।
দুই প্রতারক নাছির ও তার সহযোগী আব্দুল কাদের
নিয়োগপত্র ভুয়া বিষয়টি জানতে পারলে নাছির ও তার সহযোগিদের কাছে রাহাতুল ইসলাম হৃদয়ের মা রত্না আক্তার উক্ত ঘোষের টাকা ফেরত চাইলে নাছির ও কাদের ক্ষিপ্ত হয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি সহ মিথ্যা মামলা ভয় দেখায় এবং ১২ লক্ষ টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করেন।
অপর দিকে তার ধারাবাহিকতায় টাকা আত্মসাৎ কারীরা নিজেদের বাঁচাতে আব্দুল কাদের বাদী হয়ে ভুক্তভোগী ও সাক্ষীসহ ১৩ জন কে আসামী করে বিজ্ঞ ১ নং সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত মানিকগঞ্জে একটি সি আর মামলা দায়ের করে। যাহার মামলার নং ৮৯ (সাটু)২০২৫ যাহা তদন্ত প্রক্রিয়াধীন আছে। উল্লেখ্য প্রতারক নাছির উদ্দিন আব্দুল কাদেরের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আছে।
ভুক্তভোগীরা মানবেতরে জীবন যাপন করছি। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।
এ সময় ভুক্তভোগীদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন,মো: হোসেন আলী মো: জিয়াউর রহমান,মো: হাবিবুর রহমান,মো: ইমরান হোসেন,আব্দুর রহমান,মো: জালাল অহম্মেদ,হুসনেরা আক্তার ও করিমন বেগম প্রমুখ। এসময় প্রায় তিন শতাধীক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: শাহিনুল ইসলাম বলেন,এ বিষয়ে লেখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।