শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ নড়িয়া উপজেলার মানাখান গ্রামের আব্দুল হাকিম দেওয়ান জমির বিরোধ নিস্পত্তির জন্য তারা মিয়াদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী আদালতে মামলা করে। বিরোধ নিস্পত্তি না হতেই আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ভোররাত থেকেই নালিশী জমিতে মাটি কাটতে শুরু করে তারা মিয়া।
ফসলি জমির শ্রেণি ও আকৃতি নষ্ট করে পুকুর করায় সেখানে উপস্থিত হয় পুলিশ ও গণমাধ্যম কর্মীরা। এক পর্যায়ে পুকুর খননে ব্যর্থ হয়ে শ্রমিকদের বিদায় করতে বাধ্য হয় তারা মিয়া খন্দকার।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নড়িয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে চলমান দেওয়ানী ৩৬০/২০২৩ নম্বর মামলার বিবাদী তারা মিয়া খন্দকার ৩৫ জন শ্রমিক ভাড়া করে ২১ মার্চ ভোররাত থেকে নালিশী জমির মাটি কাটতে শুরু করে। বাদী পক্ষের লোকজন বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শণ করা হয়। এক পর্যায়ে বাদী পক্ষ থানা ও গণমাধ্যম কর্মীদের দ্বারস্ত হয়।
মামলার ১ নম্বর বাদী হাকিম দেওয়ানের মৃত্যু পরবর্তী তার পুত্রবধু খাদিজা বেগম মামলা পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি জানান, তারা মিয়া খন্দকাররা ৭ ভাই ইতালি থাকে। তার বাবা ফটিক খন্দকার ছিলেন একজন প্রভাবশালী। সেই প্রভাবে রাতের অন্ধকারে ৪০-৫০ জন শ্রমিক নিয়ে নালিশী জমিতে মাটি কাটা শুরু করে।
ভোরে তারা মিয়া লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে হুমকি দিয়ে বলেছে জমির কাছে কেউ গেলে খুন করবে। চার দিকে নারী ও পুরুষরা লাঠি, দা, ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পাহারায় ছিল। যাতে জমিতে আমরা যেতে না পারি।
জমি নিয়ে মামলা চলমান রয়েছে। আদালত যাদের পক্ষে রায় দিবেন তারাই জমি ভোগ দখল করবে। এখন যদি জমিতে পুকুর করে রাখে আর আদালতের রায় আমরা পেলে সেই জমি দিয়ে কি করব।
বিবাদী তারা মিয়া খন্দকার জানায়, ১৯৭৫ সাল থেকে ক্রয় সূত্রে সে জমির মালিক। তার কাছে জমির দলিল রয়েছে। তবুও তাদের বিরুদ্ধে দেওয়ানী ও ফৌজদারী আদালতে ৬টি মামলা করেছে বাদী পক্ষ।
এই কারণে তার ইতালি যাওয়ায় বিলম্ব হয়েছে। তাছাড়া মাটি কাটতে আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা না থাকায় সে লেকজন নিয়ে মাটি কাটছেন। তবে বাদী পক্ষকে কোন ভয়ভীতি প্রদর্শণ করা হয়নি বলে তিনি দাবী করেন।