দু-একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচনী রোডম্যাপ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, কোনো সংশয় থাকলে আসুন আলোচনা করি। কোনোভাবেই ঐক্যে ফাটল ধরানো যাবে না, আলোচনার মাধ্যমে সংশয় ও দোদুল্যমানতা দূর করতে হবে।
সালাহউদ্দিন বলেন, আগামীতে যেন কেউ গুম না হয় তার জন্য আমরা গণতন্ত্রের সংগ্রাম করে যাচ্ছি। একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে বলছি, জনগণ যদি আমাদের ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ দেয় তাহলে গুম প্রতিরোধ করার জন্য, নিশ্চিহ্ন করার জন্য যা যা করার প্রয়োজন আমরা তাই করবো। আমরা সেই বাংলাদেশের জন্য সংগ্রাম করছি, যে বাংলাদেশে গুমের শিকার হয়ে কারও কোনোদিন রাস্তায় দাঁড়াতে হবে না।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্মরণে মায়ের ডাক আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনা সভায় হুম্মাম কাদের চৌধুরী বলেন, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর গুমের শিকার হওয়া দুই-একজনকে ফিরে পেয়েছি। আশা করেছিলাম আরও অনেককে ফিরে পাবো, কিন্তু পাইনি। বর্তমান সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, তখন তারা অনেক আশা দিয়েছিল। আমাদের বলেছিল-যারা যারা গুম হয়েছে তাদের ফিরিয়ে আনবে। যদি ফিরিয়ে আনতে না পারে তাহলে তাদের তথ্য আমাদের দেবে। তথ্যের পর সরকার বিচার শুরু করবে। এখন পর্যন্ত কিছুই পেলাম না।
গুম থেকে ফেরত আসা শায়রুল ইসলাম বলেন, আমাকে গুম করা হয় ২০১৭ সালের মার্চে। তখন গুমের শিকার হওয়া আরও চারজনের সঙ্গে পরিচয় হয়। একসঙ্গে মোট ৫ জন আমরা গুম ছিলাম। তাদের মধ্যে আমরা দুইজন ফেরত আসি। বাকি ৩ জন এখনো ফেরত আসেননি।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবরে বিএনপির আন্দোলন চলাকালে আটক হন রাজধানীর মুগদা থানার ৭ নং ওয়ার্ড শ্রমিকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. ফজলুর রহমান কাজল। এরপর পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু হয় তার।
কাজলের ছেলে সজল বলেন, আমার বাবার চায়ের দোকান ছিল। চায়ের দোকান থেকে ২৮ তারিখে বাবাকে তুলে নিয়ে যায়। মুগদা থানা থেকে পল্টন থানার একটি মামলায় চালান করে। এরপর কেরানীগঞ্জের কেন্দ্রীয় কারাগারে যোগাযোগ করেও তিন মাসের মধ্যে বাবার সঙ্গে দেখা করতে পারিনি।
পরে শুনি কাশিমপুর কারাগারে বাবাকে পাঠানো হয়েছে। আমার মা-অচল, পায়ে সমস্যা। এই অবস্থায় আমরা কাশিমপুর কারাগারে যাই। সেখানেও বাবার খোঁজ পাইনি। পরে ফোন দিয়ে হাসপাতালে যেতে বলে পুলিশ। আমরা হৃদরোগ হাসপাতালে যাই। যাওয়ার এক ঘণ্টা পর বাবা মারা যান।
মারা যাওয়ার আগে আমার বাবা বলেন- তিনদিন ধরে কিছু খাইনি। কারাগারের ভিতরে অনেকে নির্যাতন করছে। কথাগুলো বলতে বলতে কান্নায় ভেঙে পড়েন সজল। কান্না করতে করতে বলেন, চায়ের দোকান থেকে ধরে নেওয়ার সময় থেকে বাবাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আটকের পর আমারা বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ পর্যন্ত করতে পারিনি।