সারা দেশ যখন শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুতে শোকাহত এবং সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে শোক পালন করছে, ঠিক সেই মুহূর্তে হাদির হত্যাকারীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিতর্কিত মন্তব্য করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার সুভাষ রাজবংশী নামে এক যুবক। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন যুবলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত।
জানা গেছে, ওসমান বিন হাদিকে গুলি করার পরপরই সুভাষ রাজবংশী তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেইজে ঘাতকদের প্রশংসা করে বাপের বেটা লিখে একটি স্ট্যাটাস দেন। বিষয়টি প্রবাসে অবস্থানরত আলোচিত কন্টেন্ট ক্রিয়েটর পিনাকী ভট্টাচার্য তার পেজে শেয়ার করে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও এখন পর্যন্ত সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসন বা থানা পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুভাষ রাজবংশী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি প্রকাশ্যে না থাকলেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সক্রিয় থেকে উসকানিমূলক মন্তব্য করে যাচ্ছেন।
এই বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটি, সাটুরিয়া উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী নজরুল ইসলাম বলেন,সাটুরিয়ায় আওয়ামী লীগের অনেক কর্মীই এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন। যারা অতীতে কোনো অপরাধের সাথে জড়িত ছিলেন না, তাদের নিয়ে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। কিন্তু সুভাষ রাজবংশীর মতো ব্যক্তিরা,যারা প্রকাশ্যে ঘাতকদের বাহবা দেয়,তারা যেকোনো সময় বড় ধরনের অঘটন ঘটাতে পারে। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধারা তাদের কাছে নিরাপদ নয়।
স্থানীয়দের দাবি শরিফ ওসমান বিন হাদির মতো একজন ব্যক্তিত্বের প্রয়াণে যেখানে সারা দেশে শোকের ছায়া, সেখানে এই ধরনের উসকানিমূলক ও ধৃষ্টতাপূর্ণ মন্তব্যের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সাটুরিয়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।