বর্তমান বিশ্বের সর্বত্রই ক্ষমতা ও শক্তির জয়ধ্বণি চলছে। যা মানুষ ও মানবতার জন্য অশনি সংকেত। এতে করে হাজার বছরের গবেষণায় অর্জিত বিশ্বসভ্যতা মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। বিশ্বজোড়ে এই পৈশাচিকতা ও হীনমান্যতায় ধবংশ হয়ে যেতে পারে ‘বিশ্ব-মানবিক’ জনপথগুলো। সভ্যতার এই চারণ ভূমিতে আবার জেগে উঠতে পারে আইয়ামে জাহিলয়াত যুগের হিংস্র দানবেরা। একজন স্বাধীনচেতা বাঙ্গালী হয়ে অন্তত ব-দ্বীপের এই বাংলায় কোন ভাবেই আমরা এমনটি আশা করি না।
ভৌগলিক অবস্থানগত কারণেই বাংলাদেশ একটি ‘বাফার স্টেট (Buffer State)। যার রাজনৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। পৃথিবীর একমাত্র দেশ হিসাবে আমরাই বঙ্গোপ সাগরের (Bay of Bengal) পথ ধরে সরাসরি আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সার্বিক প্রভাব বিস্তারে সক্ষম। যা বিশ্বের কম রাষ্ট্রই পারে। তাই বিশ্ব পরাশক্তি গুলোর নজর এখন আমাদের উপর।
ঐতিহাসিক ধারা ও নৃত্ত্বাতিক পরিচয়ে, বাঙ্গালী জাতি একটি সহানুভূতিশীল ও মানবিক জাতি। প্রাচীনকাল থেকে এখানকার মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সহ-অবস্থানে বিশ্বাসী। সংস্কৃতিক ঐক্যতা ও বহুজাতিক-সহজাত মনোভাবের কারণেই এখানে বহুধর্মের বিকাশ ঘটেছে। কিন্তু বহুজাতিক ধারাকে সমুন্বত রাখতে এখানে অদ্যাবধি সু-ধারার কোন রাজনৈতিক দল গড়ে উঠেনি।
এ্যালান অক্টোভিয়ন হিউমের হাত ধরে ইংরেজ শানামলে গড়ে উঠা ‘সর্ব-ভারতীয় কংগ্রেস’ যেমন হিন্দুত্ববাদীদের ‘ও্যাঁ’ স্লোগানে সামাবদ্ধ হয়েছে, তেমনী নব-মুসলিম চেতনার মুসলিমলীগও ধর্মের বেড়াজালে আটকা পড়েছে। তাদের জাতি-বৈরিতার টানাটানি ও স্বার্থবাদী চেতনা থেকেই ‘ভারত’ ও ‘পাকিস্তান’ নামক দুটি রাষ্ট্রের জন্ম হলেও প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা বঞ্চিত হয়েছে এ দেশের সাধারন মানুষ।
কালের কলিতে, হিন্দুত্ববাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৭১ সালে ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রের জন্ম হলেও বিগত ৫৪ বছরেরও এই রাষ্ট্র সাবালক হতে পারে নাই। দৈণ্যতার-সাগু আর পরাধীনতার ফিটারের খেয়ে খেয়ে স্বাধীনদেশের রাজনীতিকরা শুধু মাত্র নিজেদের পেটই বড় করেছে।
অদ্যাবদি পুষ্টিহীন, বৃহৎদাকৃতির এই পেটে -রক্ত খাওয়া কৃমিরের উৎপাত ও তাদের বংশ বিস্তার ক্রমাগত বেড়েই চলছে। যা দিন দিন জাতিকে (মাতৃভূমির) র্জীন থেকে র্জীনতর করে ফেলছে।
একথা সত্য যে, জাতি হিসাবে আমরা এখন অসুস্থ্য-চেতনা নিয়ে সার্জারীর টেবিলে অবস্থান করছি। ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবে পর এখন একটি সার্জিক্যাল ষ্ট্রাইকের সময় এসেছে। ন্যায় ও ইনসাফের ছুড়ি দিয়ে বদহজমযুক্ত বৃহৎদাকৃতির পেট অপারেশন করে অপ্রয়োজনীয় কৃমিগুলোকে ফেলে দিতে হবে। গড়ে তুলতে হবে শোষনমুক্ত সহ-জাত, সম্প্রীতি এবং একটি সত্যিকারের স্বাধীন বাংলাদেশ।
তাই আসুন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোটের তিক্ষ্ণ ছুড়ি দিয়ে দেহের এই অপ্রয়োজনীয় কৃমিকে অপসারন করে স্বক্রিয় সত্ত্বায় একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র গড়ে তুলি। ইনকিলাব জিন্দাবাদ।