আগামী নির্বাচনে প্রথম ব্যালটে দেওয়া ভোট পাঁচ বছরের প্রতিনিধি নির্ধারণ করবে, আর গোলাপি ব্যালটে দেওয়া ভোট ৫০ বছরের জন্য জাতির ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করবে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।
আজ সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকালে মানিকগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে (বিজয় মেলার মাঠে) গণভোটের প্রচারণা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
এই সময় তিনি আরো বলেন, আমরা এমন কোন বিরোধী দল চাই না, যাদের জেলে থাকতে হয় বা ১০১টি মামলা নিয়ে ঘরছাড়া থাকতে হয়। পরাজিত প্রার্থীরাও নিজ নিজ দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন—এমন একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আমরা চাই, যা বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে রয়েছে।
তিনি বলেন, আগামীতে এক ব্যক্তি বা একদলীয় শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, কার্যকর বিরোধী দল এবং উচ্চকক্ষের মাধ্যমে দায়িত্বশীল সরকার গঠনের প্রত্যাশা করছি।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের এই উপদেষ্টা আরো বলেন, এলপিজি ব্যবসার ৯৮ শতাংশই বর্তমানে বেসরকারি খাতে পরিচালিত হচ্ছে, সরকারের হাতে রয়েছে মাত্র ২ শতাংশ।
এলপিজি সমস্যা সমাধানে ‘এলপিজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের’ সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে পূর্বে ব্যবহৃত জাহাজে এলপিজি আনা সম্ভব না হওয়ায় জাহাজ সংকট তৈরি হয়েছে, যার ফলে সাময়িক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এটি অচিরেই নিয়ন্ত্রনে আসবে বলে আশা করছি।
গণভোট ও নির্বাচন প্রসঙ্গে এই উপদেষ্টা বলেন, আমরা হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচার করছি এবং এর যৌক্তিকতা তুলে ধরছি। আমরা কাউকে হ্যাঁ বা না ভোট দিতে বাধ্য করছি না। অন্তর্বর্তী সরকারের ভিত্তি তিনটি—বিচার, নির্বাচন ও সংস্কার। বর্তমান পরিবর্তন না এলে আগামী নির্বাচন ২০২৯ সালে অনুষ্ঠিত হতো এবং সেটিও কেমন হতো তা জনগণ জানে।
তিনি আরও বলেন, এবার নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ উন্মুক্ত, অবাধ ও সুষ্ঠু। জনগণ নির্ভয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। বর্তমান সরকার জনগণের অধিকার নিশ্চিতকরণকে সার্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
এই সময় অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা এবং পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, (বিপিএম)সহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।