ভূমিধস বিজয়ে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী হলেন মানিকগঞ্জ-৩ (সদর ও সাটুরিয়া) আসনে জন-নন্দিত নেত্রী আফরোজা খানম রিতা। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে তিনিই মানিকগঞ্জের প্রথম মহিলা মন্ত্রী ও এমপি। জন-নন্দিত এই নেত্রী আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নেন। আফরোজা খান রিতা মন্ত্রী হওয়ায় জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীসহ মানিকগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষ আনন্দিত ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে।
আফরোজা খান রিতা প্রয়াত শিল্পপতি হারুণার রশিদ খান মুন্নুর মেয়ে। হারুণার রশিদ খান মুন্নুর ছিলেন মানিকগঞ্জ-২ এবং মানিকগঞ্জ-৩ আসনে চারবারের সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী। বাংলাদেশের শিল্পোয়নের স্বপ্নদ্রষ্টা। মূলতঃ বাবার হাত ধরেই রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন আফরোজা খান রিতা ।
বিশেষ করে বিগত স্বৈরাচার সরকারের আমলে জেলার নির্যাতিত বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠণের নেতৃবৃন্দদের কাছে তিনি ছিলেন ত্রার্নকর্তা। দুর্রাচারদের রাজনৈতিক ছোবল থেকে তিনি দলীয় নেতা-কর্মীদের মাতৃস্নেহে আগলিয়ে রেখেছিলেন। দলের প্রতি তার দীর্ঘ আনুগত্য এবং কর্মীদের প্রতি সহনশীল-মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে সফলতার চূড়ান্ত সীমায় পৌছিঁয়ে দিয়েছে।
আফরোজা খান রিতা ২০১০ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরের বছর ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অদ্যম স্পৃহাতে তিনি লুটেরা শাসকদের আমলে বেশ কয়েকবার গণতন্ত্রের বিজয়ের জন্য জাতীয় পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ নেন।
২০২১ সালে দলের কাউন্সিলের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ ভোট পেয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২রা ফেব্রুয়ারি আফরোজা খানমকে আহ্বায়ক করে জেলা বিএনপির সাত সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে বিএনপি। মূলতঃ তার নেতৃত্বেই এ জেলায় বিএনপি ঘুরে দাঁড়ায় ।

জেলা বিএনপিতে আফরোজা খান রিতার একজন পরীক্ষিত নেত্রী। এই ব্যাপারে জেলা বিএনপির কার্যনিবার্হী পরিষদের সদস্য এ্যাড. নূর তাজ আলম বাহার বলেন, আফরোজা খানম রিতা মন্ত্রী হয়েছেন, এ খবরে শুধু দলের নেতা-কর্মীই নন, পুরো জেলাবাসীই আনন্দিত ও গর্বিত। আমি মনে করি উঁনি মন্ত্রী হওয়াতে মানিকগঞ্জ জেলায় প্রচুর উন্নয়ন মূলক কাজ হবে। মানিকগঞ্জ ঢাকার খুব কাছের জেলা হয়েও বিগত সময়ে কোনো উন্নয়ন হয়নি। আমরা দৃঢ়চিত্তে বলতে পারি, আফরোজা খানম রিতা অবহেলিত এই জেলাকে একটি মডেল জেলা হিসাবে গড়ে তুলবেন’।
উল্লেখ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম পেয়েছেন ১ লাখ ৬৭ হাজার ৩৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদ সাঈদ নূর পেয়েছেন ৬৪ হাজার ২৪২ ভোট।