মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার উপর দিয়ে হঠাৎ বয়ে যাওয়া চৈত্র-কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে এবার ভুট্টাচাষীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার (১৯ই মার্চ) ইফতারের আগ-মূহুর্ত থেকে হঠাৎ শুরু হওয়া এই ঝড় ও শিলা বৃষ্টিতে উপজেলার উল্লেখযোগ্য ভুট্টাচাষীদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।
খোজঁ নিয়ে জানা গেছে, এবার উপজেলার কয়েক হাজার হেক্টর জমিতে ভূট্রার চাষ হয়েছে। গত কয়েক বছর ধরে উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণোদনা, পরামর্শ ও সহযোগিতায় কৃষকরা স্বল্প খরচে- অল্প সময়ে ভুট্টা চাষ করে বেশ লাভবান হয়েছে। কিন্তু এবার হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে তাদের কপাল পুড়তে বসেছে। বিশেষ করে এই চৈত্র-কালবৈশাখী ঝড়ে অত্র উপজেলার হরগজ, তিল্লি, দরগ্রাম ও দিঘলীয়া ইউনিয়নের চাষীরা ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির শিকার হয়েছেন।
এই ব্যাপারে দিঘলীয়া ইউনিয়নের ভূট্রাচাষী তারা মিয়া জানান, আমি এবার একশতক জমিতে ভূট্রার চাষ করেছিলাম। ভূট্রার ফলনও ভাল হয়েছিল কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে, সবেমাত্র কলা আসা প্রায় ষাট্রশতক জমির ভূট্রার মাটিতে নেতিয়ে পড়ে । যার ফলন তো দূরের কথা গরুরে খাওয়াতে পারবো কিনা সন্দেহ! একই অভিযোগ অত্র এলাকার ভূট্রাচাষী শামীম, মেছের আলী, নাছিরুদ্দিন আমিনুর ও রিপন মিয়ার।
শুধু দিঘলীয়া না, তিল্লি, হরগজ ও দরগ্রাম ইউনিয়নের কয়েক শত কৃষকের এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে তিল্লি ইউনিয়নের কৃষক সাবু মিয়া জানান, এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এবার ভুট্টা চাষ করেছিলাম । চল্লিশ শতক জমির সব ভূট্রাই ঝড়ে মাটির সাথে নেতিয়ে পড়ে গেছে। অধিকাংশ ভূট্রার গোড়া ভেঙ্গে গেছে। খেতে পানি থাকায়, পড়া ভূট্রার গাছগুলো গরুরে খাওয়াতে পারছিনা সন্দেহ করছি।
এ ব্যাপারে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. তানিয়া তাবাছুম জানান, এবার উপজেলার প্রায় চারহাজার চারশত হেক্টর জমিতে ভুট্টার চাষ হয়েছে। ফলনও ভাল হয়েছে। আমাদের জানামতে. গতকালের হঠাৎ চৈত্র-কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার প্রায় একশত হেক্টর জমির ভূট্রার ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরো জানান, আমরা উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের সার্বক্ষণীক খোজঁ-খবর রাখছি। ক্ষতিগ্রস্থ্য চাষিদের একটি তালিকা প্রস্তুত করে কৃষি বিভাগ পাঠানোর আশা রাখছি। আমাদের বিশ্বাস, কৃষকদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উধ্বর্র্তন কর্তৃপক্ষ ভাল কোন সিন্ধান্ত নিবেন।