মানিকগঞ্জ জেলার ঘিওর থানার বানিয়াজুরী এলাকার মোঃ ইউসুফ আলীর ছেলে হেলো- বাইক চালক মোঃ রফিককে গলাকেটে হত্যা করেছে তার বন্ধুরা। গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে প্রেস-ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলা পিবিআই পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে তাদের ধারনা মাদকের টাকা বণ্টন নিয়ে এই ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে।
মানিকগঞ্জ পিবিআই পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ মার্চ রাতে তারই ঘনিষ্ঠ বন্ধু নির্মাণ শ্রমিক রিপন, আরমান ও সজিবসহ ৩ জনে কিছু অনৈতিক লোভ দেখিয়ে ঘিওর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের বারইলে কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে তাকে নিয়ে যায়। সেখানে নেওয়ার পর পূর্ব পরিকল্পনা অনুসারে আরমান বাইক চালক রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে সজুড়ে আঘাত করলে তাৎক্ষণিক সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
তারপর বন্ধু রিপন, ধারালো দাঁ দিয়ে রফিকের গলা কেঁটে শরীর থেকে মাথা বিছিন্ন করে ফেলে। এ সময় সজিব তার পা ও আরমান তার হাত ধরে রাখে। পরবর্তীতে তারা তার পেট ফেড়েঁ সারা শরীর ও মাথা নদীতে ফেলে দিয়ে বাড়িতে চলে যায়। আর রিপন ভোর রাতে রফিকের অটো বাইকটি নিয়ে সাভারে চলে আসে।
রফিকের খোঁজ কবর না পেয়ে তার পরিবার ওই দিনই থানায় যোগাযোগ করেন। এরই মধ্যে ২৫ মার্চ বিকেলে কালিগঙ্গা নদীতে গলাকাঁটা লাশ ভেসেঁ উঠার পর তা দেখে এলাকাবাসী পিবিআই পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মস্তক বিহীন লাশ উদ্ধার করেন ও লাশের মস্তক উদ্ধারে অভিযানে নামেন।
প্রযুক্তির সহযোগিতায়, গত ২৬ মার্চ বেলা ২টার দিকে ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে বাইকসহ রিপনকে চিহ্নিত করে তাকে আটক করেন। রিপনের দেওয়া তথ্য মোতাবেক হত্যায় ব্যবহৃত ধারালো দাঁ এবং হত্যা কাজে সহযোগি আরমান ও সজিবকে গ্রেফতার করেন।
এ দিকে নদীতে ফেলে দেওয়া রফিকের মস্তকটি এখন পর্যন্ত খোঁজে পাওয়া যায়নি। তবে, খোঁজাখুজি অব্যাহত রয়েছে। আজ শনিবার সকালে প্রেস ব্রিফিংয়ে গণমাধ্যমকে এসব ঘটনা জানিয়েছেন, মানিকগঞ্জের পিবিআই পুলিশের এসপি জয়িতা শিল্পী।