সারাদেশের ন্যায় সাটুরিয়া উপজেলার পরিবেশ ও পরিস্থিতি আস্তে আস্তে রাজনীতির চূড়াবালুতে নিমজ্জিত হচ্ছে । মুলতঃ স্বৈরাচার আওয়ামীলীগ সরকারের হাত ধরেই অত্র উপজেলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি খাদে পড়ে।
অযোগ্য নেতৃত্ব ও সন্ত্রাসী মনোভাবের কারণে এখানকার সার্বিক পরিস্থিতির বিপর্যয় ঘটে। পালা বদলের রাজনীতিতে যা আস্তে আস্তে রাজনৈতিক কুষ্টি-কালচারে পরিনত হয়েছে।
প্রায় এক লক্ষ বিশ হাজার লোকের আবাসস্থল এই উপজেলা। সহজ সরল জীবন-যাপনে অবস্থ্য এখানকার মানুষগুলো আজ প্রত্যক্ষ, না হলেও পরোক্ষ ভাবে রাজনীতির চাতাকলে পৃষ্ঠ। বলা যায়, সামাজিক না হলেও কূট-নীতিক মারপ্যাচে তারা রাজনীতিতে অবস্থান করছে। এটি মূলতঃ আওয়ামী দুঃশাসনের সর্বগ্রাসী ফসিল।
ছাত্র-জনতার শুভ-প্রয়াসী আনন্দোলনে দুরাচারেরা আজ নির্বাসিত। কিন্তু থেমে নেই তাদের দেখানো পথ ও নিয়ম-নীতির গল্পকথা। পালা বদলের রাজনীতিতে নতুনেরা তাদের স্থান দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তারা সমাজসেবার নাম করে উত্তসূরীদের মাঠ দখলে আক্রমণাত্বক মনোভাব পোষন করছে।
নব্বই দশকের সেই লাটভাই যেন আবার ফিরে আসছে সামাজ কিম্বা রাষ্ট্র দখলের জন্য। কাজে কর্মে প্রমান করছে লাট ভাইয়েরা মরে না। কর্মের সুবিধায় তারা ইচ্ছামত রুপ বদলায়।
রাজ-গোপালরাও দলীয় শক্তি বৃদ্ধিতে লাটভাইদের বাহবা দিছে-যাও, এগিয়ে যাও, আমরা আছি তোমাদের সাথে। যা সত্যিই সেলুকাস।
বহমান নদীর স্রোতের মত সন্ত্রাসীর এই ধারা ছরিয়ে পড়ছে উপজেলা থেকে ইউনিয়নে। ইউনিয়ন থেকে প্রত্যেকটি গ্রামে কিম্বা পাড়ায় পাড়ায়। বলতে বাধা নাই যে, উপজেলার প্রত্যেকটি গ্রাম কিম্বা পাড়ায় চিহিৃত কিছু দুরাচারেরা এখন সমাজকর্তা সেজেছে।
এতে, দুই-একজন ভালোরা; এখন ভীতির মধ্যে জীবন-যাপন করছে। ভয়াবহ এই ব্যাধি এতোটাই মারাত্বক হয়ে উঠেছে যে, যা এইচআইভি ভাইরাসকে পিছনে ফেলে দিয়েছে।।
খেটে খাওয়া সাধারন মানুষ প্রতিনিয়তই ভীতিসন্ত্রস্ত সময় পার করছে। আধা-মরা যুব সমাজের শুদ্ধ অংশ আজ সত্য সুন্দর পথে এগুতে সাহস পাচ্ছে না। বেকারত্বের যাতাকলে পিষ্ট হয়ে তারা ধর্মী কাজ ও কথায় আগ্রহ হারাচ্ছে। তারা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে লেখা পড়া করে লাভ কি? ভাল থেকে লাভ কি? ইত্যাদি।
প্রাসঙ্গীক, আমার ইউনিয়নে তেরটি গ্রামের প্রায় প্রত্যেকটি গ্রামেই এখন নতুন দুরাচার নেতাদের দখলে চলে গেছে। বড় বড় রাজনৈতিক দলের ভ্রান্ত নীতিতে তারাই লুটপাটের সু-ঘ্রান পাচ্ছে।
রাজনৈতিক দলগুলোও জনসমর্থন বা সমাজ কন্ট্রোল করতে তাদের হাত ধরে এগুতে স্বচ্ছন্দবোধ করছে। দুরাচারা সুযোগ বুঝে সততার মাপকাটি ভেঙ্গে সন্ত্রাসবাদী রাজনীতি চালু করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছে।
সরকারী কাজ (ইউনিয়ন পরিষদ) থেকে শুরু করে গ্রাম্য বিচার, সাংস্কৃ- তিক অনুষ্ঠান, কিম্বা ধর্মীয় সভা- সমাবেশে মত প্রকাশে বল প্রয়োগের আশ্রয় নিচ্ছে। প্রশাসনের দুর্বলতা কথা বলে; তারা অনৈতিক ভাবে ফায়দা লুটছে। সমাজের সৎ ও ভাল চিন্তার মানুষগুলোকে মন্দের দেয়ালে আটকিয়ে ফেলছে।
এখানে জীবনের আকুতি বিড়ম্বনায় হাবুডুবু খাচ্ছে। বেচেঁ থাকার প্রশ্ন জীবন জিজ্ঞাসায় থেমে যাচ্ছে-তাহলে আমরা কোথায় যাব ??