মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় তৈরি লুঙ্গি ও শাড়ির চাহিদা সারাদেশে। কিন্তু দফায় দফায় সুতাসহ অন্যান্য উপকরণের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে ভারতীয় শাড়ির সহজলভ্যতার কারণে এক সময়ের প্রাণচাঞ্চল্যময় সাটুরিয়ার তাঁতপল্লিতে এবার ঈদের আগেও নেই ব্যস্ততা। কারিগররা ঈদ মৌসুমেও অলস সময় পার করছেন।
উপজেলার সাভার, চাচিতারা, জালশুকা ও নতুন ভোয়া এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্রিটিশ আমলে গড়ে ওঠা শতবর্ষ পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এ তাঁতপল্লী ঈদ এলেই তাঁতের খটখট শব্দ, আর ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠত। তবে এবারের চিত্র ভিন্ন। এতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে।
কিছুদিন আগেও দক্ষ কারিগরের নিখুঁত হাতে বুননের জন্য এখানকার তাঁতের তৈরি লুঙ্গি ও শাড়ির ব্যাপক কদর ছিল। কিন্তু করোনা মহামারির পর দফায় দফায় সুতার দাম বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকট ও দেশীয় বাজারে ভারতীয় শাড়ির সহজলভ্যতায় তাঁতপল্লির অস্তিত্ব এখন হুমকির মুখে। লোকসান গুনে গুনে দিশেহারা হয়ে এরইমধ্যে অনেকে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছেন। পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন অনেক কারিগর।
সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ সাভার তাঁতপল্লিতে কাজ হাবিল মিয়া। তিনি বলেন, কিছু কিছু কাজ পাই। চাচিতারা থেকে ২ কিলোমিটার পথ হেটেঁ আগ-সাভারে কাজে আসি বেশি সমযই কাজ পাই না। হাটে কেনা-বেচার পরিস্থিতি খুব খারাপ। তাই মালিক নিয়মিত বিল দিতে পারে না। তাই ভাবছি অন্য পেশা বেছে নিবো। ঈদের পর চাকরি খোঁজার জন্য ঢাকায় যাবো।
চাচিতারা গ্রামের তাতঁ ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বলেন, করোনার পর থেকেই আমাদের তাঁত ব্যবসা নেই বললেই চলে। সারা বছরে দুই মাস ভালো গেলেও, এখন পুরোদমে মন্দা চলছে। এই ব্যবসায় আর টিকতে পাছি না। সামনে ঈদ। হাতে কোন টকা পয়সা নাই। কি খাবো? বাচ্চাদের কি কিনে দিবো? নানান টেনশনে আছি। তাই স্থির করছি, ব্যবসা ছেড়ে প্রবাসে গিয়ে দিন মজুরের কাজ করবো।