ইরানের বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর দমন-পীড়নের জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।
বিষয়টি নিয়ে ইইউ সদস্যদের মধ্যে বহুদিনের বিভাজন থাকলেও, বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হয় জোটটি।
ইইউয়ের এই সিদ্ধান্ত সম্ভব হয়েছে ফ্রান্স তাদের দীর্ঘদিনের আপত্তি তুলে নেওয়ার পর। ফরাসি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাঁ-নোয়েল বারো এক্সে লিখেছেন, ইরানি জনগণের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের বিরুদ্ধে অসহনীয় দমন আর উত্তরহীন থাকতে পারে না।
ফ্রান্সসহ কয়েকটি দেশ আশঙ্কা করেছিল, আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী ঘোষণা করলে কূটনৈতিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ও ইরানে থাকা তাদের নাগরিকদের স্বার্থ ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
তবে এ সিদ্ধান্তকে ‘বড় কৌশলগত ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্স-এ লেখেন, এ মুহূর্তে বহু দেশ সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়াতে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইউরোপ বরং আগুনে ঘি ঢালছে।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর প্রতিষ্ঠিত আইআরজিসি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির প্রতি আনুগত্যশীল একটি অভিজাত প্যারামিলিটারি বাহিনী। পৃথক নৌ ও বিমান বাহিনীসহ এর স্থলবাহিনীর সদস্য সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার।
এদিকে, রাশিয়া বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সতর্ক করে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো সামরিক পদক্ষেপ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করবে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, বলপ্রয়োগ শুধু বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে ও আঞ্চলিক নিরাপত্তায় ভয়ংকর প্রভাব ফেলবে।
তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান