বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
বাংলাটপনিউজ২৪.কম-এ দেশব্যাপী জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে। সরাসরি যোগাযোগ করুন -banglatopnews24@gmail.com. মোবাইল-০১৭৪৩৯৯৮৭৪১.

নাচোলে দশম শ্রেণির ছাত্রকে বেধড়ক পিটিলো ছয় শিক্ষক !

Reporter Name
  • আপডেটের সময়: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১০ সময় দেখুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এ তুচ্ছ ঘটনায় অফিস কক্ষে শাস্তির নামে এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে অমানবিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানের ছয়জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থী জেলা হাসপাতালে কয়েকদিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা নেয়। বর্তমানে চিকিৎস-কের পরামর্শে বাড়িতে চিকিৎসাধিন রয়েছে ওই শিক্ষার্থী।

তবে তার মাথায় এবং ঘাড়ে সমস্যা চলমান। থেকে থেকেই সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলছে এবং অচেতন হয়ে ভুল-ভাল কথা-বার্তাও বলছে। এতে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন অভিভাবক ও স্বজনরা।

সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়তে ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এ আবাসিক শাখায় ছেলেকে ভর্তি করে এমন অমানষিক নির্যাতন এবং সন্তানের শারিরিক এমন অবস্থায় ক্ষুদ্ধ শিক্ষার্থী আবির এর বাবা আবু তাজিম মো. সাদরুল হক (বাবু) ও তাঁর পরিবার এবং স্বজনরাও। নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থীর নাম আবু আব্দুল্লাহ আল জাহিদ আবির (১৬) ওই প্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্র। আবির কে ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এ ২০২৫ সালে নবম শ্রেণীতে ভর্তি করা হয়।

নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থী আবির, অভিভাবক ও স্বজনদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জানুয়ারি/২৬ গভীর রাতে ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এর একাদশ শ্রেণির ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহদাদ-হুমকি দিয়ে (রাত ২টার সময়) ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা আবিরকে হোস্টেলে নবম শ্রেণীর এক ছাত্র অর্পণ কে ডেকে নিয়ে আসতে বলে।

আবির এতে অস্বীকৃতি জানালে ওই শিক্ষার্থী (মেহদাদ) হাতে পাইপ নিয়ে ভয় দেখিয়ে আবিরকে বলে, “ডেকে নিয়ে আয়, না গেলে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হবে”। ভয়ে আতঙ্কিত হয়ে আবির বিষয়টি ওই শিক্ষার্থীকে জানায় এবং ডেকে নিয়ে আসতে বাধ্য হয়। পরে ওই শিক্ষার্থী অর্পণ বিষয়টি এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানালে, এঘটনায় দোষী মেহদাদ কে কিছু না বলে-উল্টো ভুক্তভোগী আবিরকেই ডেকে নেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ০১ ফেব্রুয়ারি/২৬ রোববার দুপুরে কলেজের অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে ছয়জন শিক্ষক বেতের লাঠি ও চড়-থাপ্পড় দিয়ে আবিরকে নির্মমভাবে মারধর করেন। একপর্যায়ে আবির মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মাটিতে পড়ে যায়।

তারপরও কোন্ধসঢ়; অজ্ঞাত কারনে আবিরের উপর বেধড়ক মারধর করে ওই ছয় শিক্ষক। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর লালচে ফোলা ও আঘাতের চিহ্ন সৃষ্টি হয়। মাথার বিভিন্ন স্থান ফুলে যায়।

বাবা জানলে আবারও বাবার শাষনের ভয়ে আবির অসুস্থ হয়ে পড়লে রাজশাহীতে তার বন্ধুর কাছে চলে যায়। সেখানে প্রাথমিক কিছু ঔষধ খেয়ে কোন উপকার হয়নি। শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে তার পরিবারকে বিষয়টি জানায় আবির এর সেই বন্ধু। বাবা আবু তাজিম মো. সাদরুল হক এঘটনা শুনে বিচলিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত আবিরকে বাড়িতে নিয়ে এসে চিকিৎসার জন্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপা-তালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আঘাতের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেন। চিকিৎসকের পরামর্শে আবিরের মাথার ‘সিটি স্ক্যান’সহ বিভিন্ন পরীক্ষাও করা হয়।

পরীক্ষার রিপোর্ট দেখে চিকিৎসক আবিরের বেশ কিছু সমস্যার কথা জানান আবিরের অভিভাবককে। শিক্ষকদের নির্যাতনে সন্তানের এমন অবস্থায় চিন্তিত আবিরের আবু তাজিম মো. সাদরুল হক। আবির হাসপাতালের ৮ নম্বর কেবিনে কয়েকদিন চিকিৎ-সাধীন ছিলো।

পরবর্তীতে স্কুল কর্তৃপক্ষ আবিরের পিতাকে তার ছেলে প্রতিষ্ঠানে নেই এমন খবর দিলে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রাম থেকে নাচোল প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জানতে চান, তার ছেলের অপরাধ কী?।

আবিরকে কেন এমন অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছে। আমার ছেলে অপরাধ করে থাকলে- আমি তার অভিভাবক, আমাকে জানাতে পারতেন, কিন্তু আমাকে কোন কিছু না জানিয়ে আবিরকে নির্যাতন চালানো হয়েছে কেন?।

তবে অভিযোগ অনুযায়ী, কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট জবাব না দিয়ে বলেন, “আপনার ছেলেকেই জিজ্ঞেস করুন, আমাদের কিছু বলে লাভ হবে না।” নিরুপায় হয়ে বাবা আবু তাজিম মো. সাদরুল হক তার ছেলেকে নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে যান।

সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আঘাতের কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার নির্দেশ দেন। আবির হাসপাতালের ৮ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন থাকে।

বিষয়টি নিয়ে ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এর সার্বিক তত্বাবধানকারী পরিচালক মোঃ ইশাহাক এর সাথে কথা বলেন আবিরের বাবার ঘনিষ্ঠজন ও স্বজন রাকিবুল ইসলাম বাবু। আবিরের উপর অমানুষিক নির্যাতন ও পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও দায়ি শিক্ষকদের বিষয়ে দীর্ঘক্ষন কথা হলে তিনিও (পরিচালক ইশাহাক) বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর উপর কোনভাবেই কোন শারিরিক বা মানষিক নির্যাতন করা যাবে না, কোন শিক্ষার্থী অন্যায় করে থাকলে ওই শিক্ষার্থীর অভিভাবককে জানানো এবং প্রতিকার করার ব্যবস্থা করা উচিৎ।

পরিচালক আবিরের স্বজনকে আরও বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানে এমন টা হওয়ার কথা নয়, যদি এমন কোন কিছু ঘটনা হয়ে থাকে, তাহলে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

এমন কথা বললেও এখন পর্যন্ত দায়ীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া তো দূরের কথা, এমন ঘটনায় অসুস্থ ও আতঙ্কিত আবির এর কোন খোঁজ পর্যন্ত নেই নি ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ কর্তৃপক্ষ। নুণ্যতম কোন মানবতাও দেখায়নি, অভিভাবকের সাথেও কোন আলোচনা বা সান্তনাও দেয়নি।

আবিরের বাবার ঘনিষ্ঠজন ও স্বজন রাকিবুল ইসলাম বাবু বলেন, একজন সন্তানকে তার অভিভাবক ভালো শিক্ষার্থী এবং মানুষের মতো মানুষ করার জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে থাকে।

আবিরের বাবাও তেমনই আবিরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে অভিষ্যৎ গড়ে তোলার জন্য ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এর আবাসিক বিভাগে ভর্তি করেন। সেখানে আবির যদি কোন অন্যায় বা অপরাধ করে থাকে, তাহলে তার বাবাকে জানাতে পারতো প্রতিষ্ঠান প্রধান বা কর্র্তৃপক্ষ।

এভাবে তো একজন শিক্ষার্থীকে অমানষিক নির্যাতন করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, একদিকে আবিরকে নির্যাতন করার কারণে আবির ভয়ে কোনভাবে তার বন্ধুর কাছে চলে যায়, কিন্তু প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা পরিচালক উল্টো বলছেন, আবির পালিয়ে গেছে।

তারপরও একজন শিক্ষার্থীর এমন ঘটনার কোন বিষয়ে অপরাধ বোধ বা করনীয় বলতে কিছুই করেন নি প্রতিষ্ঠানের প্রধান, দোষী শিক্ষকরা কিংবা প্রতিষ্ঠানের পরিচালক। তাহলে এমন প্রতিষ্ঠানে সন্তানরা কি শিখবে?। অভিভাবকদের কস্ট করার সফলতাই বা কি।

তিনি বলেন, আবিরের শারিরীক অবস্থা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। চিকিৎসকের কথা মোতাবেক আবিরকে দীর্ঘদিন চিকিৎসার মধ্যে থাকতে হবে এবং রীতিমত সাবধানে থাকতে হবে। এব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মরিয়ম খাতুন এবং পরিচালক মোঃ ইশাহাক আলীর সাথে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেন নি তাঁরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিভাবক আবিরের বাবা আবু তাজিম মো. সাদরুল হক অভিযোগ করে প্রতিবেদককে বলেন, বিষয়টি প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ মরিয়ম খাতুনকে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ বা নুন্যতম সান্ত¡নামূলক কথাও বলেননি তিনি।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তির নামে এ ধরনের অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত দের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন আবিরের বাবা। তিনি ক্ষোভের সাথে আরও বলেন, এ নির্যাতনই নয়, গত ২৪ জানুয়ারী/২৬ শরীরে জর-মাথাব্যাথা থাকায় আবির ঔষধ খাওয়ার জন্য ক্লাশরুম থেকে নিজ রুমে যায়।

‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এর শিক্ষক আব্দুল্লাহ আবির কে ক্লাসে না পেয়ে রুম থেকে ডেকে নিয়ে এসে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারপিট করে। লাঠির আঘাতে আবির এর বাম হাতের কনিষ্ঠ আঙ্গুল ফেটে যায় এবং চামড়াসহ মাংস উঠে যায়।

এঘটনায় এক্সরে করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। একটু সুস্থ হলে আবিরকে আবারও কোনভাবে বুঝিয়ে ৩০ জানুয়ারী/২৬ ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এ পাঠানো হয়। তবে যাওয়ার আগে আবির তার মাকে বলে “মা আমাকে আর ওই প্রতিষ্ঠানে পাঠাইও না-ওরা আমাকে মেরে ফেলবে”।

ছেলের এ কথা শুনেও গুরুত্ব না দিয়ে আবিরকে পাঠানো হয় প্রতিষ্ঠানে। তারপরই এ ঘটনা। আবারও আবিরকে তুচ্ছ ঘটনায় অমানষিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। বর্তমানে আবির কে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছি। আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে। তিনি আবারও এঘটনার বিচার দাবী করেন।

এ ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নাচোলের এক শিক্ষক ও অভিভাবক জানান, ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ এ এর আগেও শিক্ষার্থীদের উপর শারিরীক ও মানষিক নির্যাতনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে।

কিন্তু প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শিক্ষার্থী নির্যাতনের ঘটনাগুলো ভেতর ভেতর মিটিয়ে নিয়েছেন, এজন্য বাইরের কেউ বিষয়গুলো জানতে পারেনি বা জানতে দেয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের উপর এমন নির্যাতন কোনভাবেই কাম্য নয়। এমন ঘটনার তদন্ত করে অবশ্যই বিচার হওয়া প্রয়োজন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোলে এশিয়ান স্কুল এ্যান্ড কলেজের অফিস কক্ষে আবু আব্দুল্লাহ আল জাহিদ আবির কে অমানবিক নির্যাতনের বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল মতিন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সরকার ছাত্র ছাত্রীদের পড়া লেখা শেখানোর জন্য প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দিয়েছে। কাউকে নির্যাতন করার জন্য নয়। বিষয়টি শুনলাম তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান জেলা শিক্ষা অফিসার।

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার নাচোল পৌরসভা এলাকায় চেয়ারম্যানপাড়ায় ‘এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে একটি আবাসিক ও অনাবাসিক প্রতিষ্ঠান ২০০৮ সালে গড়ে উঠে। ‘

এশিয়ান স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ টি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাঠদানের অনুমতি পেলেও এখনও এমপিও ভূক্ত হয়নি। নিজস্ব অর্থায়নেই পরিচালিত হয়ে আসছে।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © ২০২৫ বাংলা টপ নিউজ ২৪
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD