ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালে বিরোধী দলের প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে সংসদ অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বিরোধী দলের এই অবস্থানের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিরোধী দলের নেতারা ৫ ও ৬ আগস্ট আলোচনা করেছিলেন এবং যার উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা শপথ নিয়েছিলেন, আজ সেই রাষ্ট্রপতিকেই কেন অস্বীকার করা হচ্ছে—এই প্রশ্নের উত্তর তাদেরই দিতে হবে।
তিনি বলেন, “যে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে তারা ৫ আগস্ট বিকেলে এবং ৬ আগস্ট আলোচনা করেছেন, যাদের উপস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নিয়েছে—সেই রাষ্ট্রপতিকে আজ কেন অস্বীকার করা হচ্ছে? তাদের দলের দু-একজন তো এই সংসদের সদস্য হিসেবেও শপথ নিয়েছেন। এই স্ববিরোধিতা কেন, সেটি তাদেরই ব্যাখ্যা করা উচিত।”
তবে সংসদীয় গণতন্ত্রে ওয়াকআউটকে একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এমন ঘটনা নতুন নয়।
এর আগে বিকেলের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানালে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধীদলীয় সদস্যরা প্রতিবাদ শুরু করেন। এ সময় তাদের হাতে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’ ও ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’—এমন স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। পরে হট্টগোলের একপর্যায়ে তারা অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন।
ওয়াকআউটের পর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের সময় রাষ্ট্রপতি নীরব ছিলেন এবং তিনি ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী’ ছিলেন। এ কারণে সংসদে তার ভাষণ দেওয়ার নৈতিক অধিকার নেই বলে দাবি করেন তারা।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করে বলেন, সংসদ শেষ পর্যন্ত অর্থবহ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, “জাতীয় সব সমস্যা ও ইস্যুর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে এই সংসদ। আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে যাব।”
তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী যে জাতীয় ঐক্য তৈরি হয়েছে, সেটি ধরে রেখে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।