শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৪২ পূর্বাহ্ন
বিজ্ঞপ্তি :
বাংলাটপনিউজ২৪.কম-এ দেশব্যাপী জেলা-উপজেলা পর্যায়ে সংবাদকর্মী নিয়োগ চলছে। সরাসরি যোগাযোগ করুন -banglatopnews24@gmail.com. মোবাইল-০১৭৪৩৯৯৮৭৪১.
শিরোনাম :
চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গন্ধযুক্ত স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ ! সমতার বিচারে আসছে শহরেও লোড সিডিং ! শাহবাগ থানার মুখোমুখি অবস্থানে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির ! মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বাঁশঝাড় হতে মহিলার মরাদেহ উদ্ধার ! মানিকগঞ্জে অবৈধ মজুদদারী কারণে দুই তেল ব্যবসায়ীকে জরিমানা ! পঞ্চগড় সীমান্ত থেকে দুই বাংলাদেশিকে ধরে নেওয়ার অভিযোগ বিএসএফের বিরুদ্ধে ! চাঁপাইনবাবগঞ্জে টাস্কফোর্স এর অভিযানে হেরোইনসহ গ্রেফতার ২ জনগনের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে আফরোজা খানম রিতা ! সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনিত চুড়ান্ত তালিকা ১১ দলীয় জোট হতে সংরক্ষিত মহিলা আসনে মনোনয়ন পেলেন যারা

চাঁপাইনবাবগঞ্জে দুর্গন্ধযুক্ত স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে অসুস্থ ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ !

Reporter Name
  • আপডেটের সময়: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ সময় দেখুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিনামূল্যে সরকারের দেয়া স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২০ শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়েছে। ফিডিং কর্মসূচির দুর্গন্ধযুক্ত পাউরুটি খেয়ে বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে পেট ব্যথা, বমি ও চোখমুখ জ্বালাপোড়া দেখা দেয় শিক্ষার্থীদের।

এসময় বিভিন্ন শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। তবে জেলা প্রথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য মতে ৮ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ বলছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষকদের কক্ষেই বিনামূল্যে সরকারের দেয়া স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটির স্তুপমেঝেতে পড়ে আছে। প্রথমে শিক্ষার্থীরা ডাস্টবিনে এসব পাউরুটি ফেলতে গেলেও শিক্ষকরা নিষেধ করলে ছাত্রীরা তাদের টিফিনের জন্য বরাদ্দ হওয়া এসব পাউরুটি মেঝেতে ফেলে দেয়।

স্কুল ফিডিংয়ের এসব দুর্গন্ধযুক্ত নিম্নমানের পাউরুটি খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে এভাবেই পাউরুটিগুলো ফেলে দেয় শিক্ষার্থীরা। জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিনামূল্যে দেয়া টিফিন খেয়ে বমি, পেট ব্যথা ও চোখমুখে জ্বালাপোড়া শুরু হয় শিক্ষার্থীদের।

এতে দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য শিক্ষার্থীদের মাঝেও। এসময় ব্যাপক ছোটাছুটি ও কান্নাকাটি শুরু করে তারা। খবর পেয়ে অসুস্থ শিক্ষার্থীদের অনেককেই তাদের অভিভাবকরা বাসায় নিয়ে যায়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ব্যাপক দুর্গন্ধ ও নিম্নমানের পাউরুটি দেয়া হয়েছে তাদের। চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী লাবিবা আফরিন সাংবাদিকদের জানাই, প্রথমদিকে দেয়া খাবারের মান বেশ ভালোয় ছিল। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে খুবই নিম্নমানের খাবার দেয়া হচ্ছে।

কিন্তু আজকে (বুধবার) যে পাউরুটি দেয়া হয়েছে, তা খুবই দুর্গন্ধযুক্ত ও খাওয়ার অনুপযোগী ছিল। পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রী মাশরুফা খাতুন জানায়, টিফিনের বিরতিতে পাউরুটি খাওয়ার পরপরই আমার মতো অনেকেরই পেট ব্যথা শুরু হয়। কারো কারো বমিও হয়। চোখমুখ জ্বালাপোড়া শুরু হয়।

বিষয়টি শিক্ষকদের জানিয়ে পাউরুটিগুলো ডাস্টবিনে ফেলতে গেলে বাধা দেয় এবং শিক্ষকদের রুমে রাখতে হবে। নিম্নমানের খাবার খেয়ে অসুস্থ হওয়ার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ জানানঅভিভাবকরা। অভিভাবক রানী আক্তার বলেন, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। কারন সরকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার দিচ্ছে।

উল্টো এসব খাবার খেয়ে যদি তারা অসুস্থ হয়, তাহলে বিষয়টি হতাশাজনক। প্রশাসনের নিকট আবেদন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি অভিভাবকদের। বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ওইদিনও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাউরুটি, দুধ, কলা ও ডিম বিতরণ করা হয়।

তবে খাবার গ্রহণের কিছুক্ষণের মধ্যেই বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের মধ্যে বমি বমি ভাব, পেটব্যথা ও চোখে জ্বালাপোড়াসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা জানায়, গত কয়েকদিন ধরেই তাদের নিম্নমানের ও দুর্গন্ধযুক্ত খাবার দেওয়া হচ্ছিল। বুধবার সেই খাবার খাওয়ার পর হঠাৎ করেই প্রায় ২০ জন অসুস্থ হয়ে পড়ে।

এদের মধ্যে ২-৩ জন বিদ্যালয়ে ফিরে এলেও অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ি বা চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান বেশকিছু অভিভাবকগণ ক্ষোভের সাথে অভিযোগ করে বলেন, নিম্নমানের খাবার সরবরাহের কারণে শিশুদের এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত মানসম্মত ও নিরাপদ খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান।

অভিভাবকরা আরও বলেন, শুধু জরিমানা করলেই হবে না, এসব অফিসের কর্মকর্তা ও প্রাথমিক অধিদপ্তরের যে বা যারা এই অনিয়মের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁরা আরও বলেন, আমাদের সন্তানদের জীবন এতই তুচ্ছ নয়, একজন শিক্ষার্থীর প্রাণ চলে গেলে কি এরা ফিরিয়ে দিতে পারবে?

এক্ষেত্রে এঘটনায় জড়িত খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে খাবার সরবরাহ বন্ধ করা জরুরী। জেলার কোন কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া গেলে, তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানান ক্ষুদ্ধ অভিভাবকরা।

শংকরবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শওকত হোসেন ও মোসাঃ শামসুন্নাহার খাতুন জানান, রাজশাহী বিস্কুট বিপণন থেকে আসা পাউরুটি আমরা উৎপাদন ও মেয়াদ শেষের তারিখ দেখে পাউরুটি গুনে বুঝে নি। ভিতরে কি আছে সেটা আমরা বলতে পারি না। তবে পাউরুটিগুলো নরম ছিলো।

এরপরও বুধবার খাবার অনুপযোগী পাউরুটি সরবরাহ করায় বিভিন্ন শ্রেণীর অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। এমনকি বাকিরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। তাদের অনেকের পেট ব্যথা ও বমি হয়েছে। বেশ কিছু শিক্ষার্থীকে বাসায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

এঘটনার পর বৃহস্পতিবার থেকে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার বন্ধ আছে। খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গ্রাম উন্নয়ন কর্ম-গাকের সিনিয়র প্রোগ্রামারের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এঘটনায় তদন্তকাজ শুরু হয়েছে জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রকল্প পরিচালক বরাবর একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে বলে জানান জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ঘটনাটি জানার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে তদন্ত করতে সরেজমিনে পাঠানো হয়েছিল। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের গাফেলতি বা অনিময় পাওয়া গেলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে প্রতিবেদক কে জানান, এঘটনায় ‘গাক’ এর বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালতে জারিমানা করা হয়েছে এবং এঘটনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রতিবেদন পাঠানো হচ্ছে।

খাবার বিতরণ বা খাবারের মান নিয়ে তদারকি বিষয়ে তিনি বলেন, খাবারের মান বিষয়ে তদারকির দায়িত্ব মনিটরিং টিমের, এছাড়া প্রকল্প কমিটি এসব বিষয়ে দেখভাল করে থাকেন।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কোন গাফলতি বা জোগসাজস বিষয়ে তিনি বলেন, এখানে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কোন কর্মকর্তার গাফলতি বা জোগসাজস এর কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ এমন অভিযোগ করে থাকেন, সেটার কোন সম্ভাবনা বা ভিত্তি নেই।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ আনিসুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানার সাথে সাথে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কে স্কুল ফিডিংয়ের খাবার খেয়ে শংকর বাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অসুস্থর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে সরজমিন তদন্ত করে প্রকল্প পরিচালক বরাবর প্রতিবেদন পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবিষয়ে প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোঃ হারুনুর রশীদের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ না করে লাইন কেটে দেন।

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ২১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গ্রাম উন্ময়ন কর্ম-‘গাক’ ৪১ হাজার ১৩৮ জন শিক্ষার্থীর জন্য দৈনিক স্কুল ফিডিংয়ের খাবার সরবরাহ করে। এছাড়াও জেলার মোট ৭০৬ টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৬১৮ টি বিদ্যালয়ে খাবার সরবরাহ করে থাকে গ্রাম উন্ময়ন কর্ম-গাক বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলাম।

অনুগ্রহ করে এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

এই বিভাগের আরও খবর...
© All rights reserved © ২০২৫ বাংলা টপ নিউজ ২৪
ESAITBD Sof-Lab UAE/BD