অবৈধভাবে মাটি কাটায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদী তীরবর্তী এলাকায় নদীভাঙন ও
পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। পদ্মা নদীতে অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। অভিযানে একজনকে গ্রেফতার করে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
এছাড়া অভিযানে অপরাধীদের ৩ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। স্থানীয় ও প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নে পদ্মা নদীর ৬, ৭ ও ৮ নং স্পার বাঁধ এলাকা থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহনের দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি মাটি বহনকারী একটি ট্রাক্টরের ড্রাইভারকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।
সোমবার (৯ মার্চ) মধ্যরাতে ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় বিএমএইচ ব্রিকস (হিরো ইটভাটা)’র সামনে এই অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ ইকরামুল হক নাহিদ। আরও জানা গেছে, মধ্যরাতে পদ্মা নদী হতে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলনের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ভূমিদ্যসুরা অভিযানের সংবাদ পেয়ে পালিয়ে যায়।
তবে মাটি পরিবহনরত অবস্থায় ইসলামপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকায় বিএমএইচ ব্রিকস (হিরো ইটভাটা)'র সামনে থেকে একটি মাটিভর্তি ট্রাক্টরসহ সাকিব রানা (১৯) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সাকিব রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে সে ৮নং স্পার বাঁধ এলাকায় পদ্মানদী হতে মাটি উত্তোলন করে বিএমএইচ ব্রিকসে (হিরো ইটভাটা)'য় পরিবহন করছিলো বলে জানায়।
বিষয়টি উক্ত ইটভাটার ম্যানেজার আলহাজ্ব এনামুল হক (৬১) অকপটে স্বীকার করেন। তাদের উভয়ের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে সাকিব রানা (১৯) কে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ এর ১৫ ধারায় ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিামান এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫ ধারায় ৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড সর্বমোট ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ করা হয়।
এছাড়াও ইটভাটার ম্যানেজার আলহাজ্ব এনামুল হককে এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়। এব্যাপারে সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবেই এই অভিযান উপজেলা প্রশাসন পরিচালনা করছেন। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আইনের এমন কঠোর প্রয়োগে নদী ভাঙ্গন একাকার মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও সন্তোষ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, অবৈধ মাটি কাটার কারণে নদীভাঙন ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান হলে এসব অনিয়ম বন্ধ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের দাবী, এলাকার কিছু বালু ও মাটি খেকোরা রাতের বেলার নদী রক্ষা বাঁধ এলাকা থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এসব মাটি ইটভাটায় বিক্রি করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু এই মাটি কেটে নেয়ার ফলে প্রতিবছরই দেখা দিচ্ছে নদী ভাঙ্গন। ক্ষতি হচ্ছে পরিবেশেরও।
সন্ধ্যা হলেই যেন মাটি খেকোদের উৎসব শুরু হয়, রাতের বেলায় শতাধিক ট্রাক্টর দিয়ে চলে মাটি বহনের কাজ।
স্থানীয়ভাবে এসব বন্ধের জন্য অনুরোধ জানানো হলেও কোন মাথাব্যাথা নেই ওই চক্রটির। তারা আরও জানায়, এসব কাজের সাথে এক শ্রেণীর অসাধু জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। দীর্ঘদিন থেকেই এই চক্রটি অবৈধভাবে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে বলেন, অভিযান চালানো হয় ঠিকই, কিন্তু অভিযানের ২/১দিন পরই আবার শুরু হয় মাটি কাটার মহোৎসব। অজ্ঞাত কারনে দেখেও না দেখার ভান করে সংশ্লিষ্টরা। ফলে একবার অভিযান চালানোর পর আরও জোরে সোরে চালায় মাটি কাটার কাজ।
এসব মাটি কেটে নেয়ার ফলে জমির উপরিভাগের অংশ কেটে নেয়ায় জমির উর্বরতা হারাচ্ছে। জমির মালিক হারাচ্ছে ফসলও। এভাবে মাটি-বালু কেটে নেয়ার ফলে হুমকীর মুখে পড়ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা নদী তীর সংরক্ষন বাঁধ।
স্থানীয় ভূক্তভোগীদের দাবী পদ্মা তীরবর্তী বাঁধ এলাকা থেকে স্থায়ীভাবে মাটি কাটা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।